Jump to ratings and reviews
Rate this book

মেঘ ফুল বৃষ্টি

Rate this book
সে ডুবে গেল!
মৃত্যুর পর সে ডুবে গেল গভীর কালো এক অন্ধকারে। এই অন্ধকার থেকে মুক্তির উপায় কারো জানা নেই, যে একটু আগে মারা গেছে তার যে কী ভীষণ যন্ত্রণা ছিল কিংবা তার জীবনের সুখের মাত্রাটাইবা কি ছিল; সেটা ও ছাড়া আর কেউ কখনো জানবে না। পৃথিবীর সবটুকু কালো যখন মানুষটাকে নিজের মধ্যে গ্রাস করে নিল তখন সে বুঝল...
বইটা এখানেই শেষ।
শেষ বলতে এর পরের অংশটুকু নেই। চমৎকার একটি উপন্যাসের শেষটুকু নেই। এর কোনো মানে হয়?
তিনদিন হলো আশরাফ উদ্দিন অফিস থেকে ফিরে বইটি পড়ছেন। আজকে শেষ পাতায় এসে বাধ্য হয়ে তাঁকে থামতে হলো। চমৎকার একটি উপন্যাসের শেষের কিছু পাতা না থাকায় তিনি জানতে পারছেন না কী পরিণতি হয়েছে মার্কের, জানতে পারছেন না পাহাড়ের খাদে নতুন যে বাড়িটি বানিয়েছে মার্লিন দম্পতি তাদের কী অবস্থা এখন; অথবা বিটকেল বুড়োটা নদী থেকে ফিরে কী তুলকালাম করেছে। রাখাল ছেলেটা যে সদ্যবিবাহিত মেয়েটির প্রেমে পড়েছে তারইবা কী হবে?

144 pages, Hardcover

First published February 1, 2023

53 people want to read

About the author

A Bengali Storyteller!

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
14 (33%)
4 stars
22 (52%)
3 stars
6 (14%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 23 of 23 reviews
Profile Image for সালমান হক.
Author 67 books1,992 followers
February 10, 2023
এখন অবধি আমার পড়া লেখকের সেরা বই এটাই। প্রত্যেকেরই কিছু পছন্দের স্টাইল থেকে, যেখানে তার সেরাটা বেরিয়ে আসে৷ আমার মতে মনোয়ার ভাইয়ের সেরা লেখাগুকো হয়তো এই ধারাতেই আসবে। চিত্রপট খুব বেশি বড়ো না, কিন্তু এটুকুতেই অনেকগুলো চরিত্র সুন্দরভাবে হ্যান্ডেল করেছেন লেখক৷ তাদের আবেগের সাথে লীন হতে পাঠকের খুব বেশি কষ্ট হবে না।
Profile Image for Susmita Sarker (বাচ্চা ভূত).
194 reviews11 followers
February 12, 2023
কাঁদতেসি আমি! কেমন বিষণ্ণ সুন্দর বইটা। মানুষের জীবন আর তার চাওয়া পাওয়া নিয়ে কতোইনা হাহাকার:' সাধারণ লেখনীর গুণেই কতকটা অসাধারণ লেগেছে।
Profile Image for নূর.
67 reviews
February 21, 2024
দু ঘন্টার কাছাকাছি লাগছে বইটা পড়তে। এটিকে সামাজিক উপন্যাস বলার চেয়ে রোমান্টিক উপন্যাস বললেই মনে হয় বেশি মানাবে। খুব সুন্দর করে মনোয়ারুল ইসলাম গল্প বলার চেষ্টা করেছেন।
চরিত্রগুলো সবাই বেশ প্রাধান্য পেয়েছে পুরো উপন্যাসে। এটা সম্ভবত মনোয়ারুল ইসলামের স্টাইল। তিনি কোনো চরিত্রকে ছেড়ে দেন না। যাই হোক উপন্যাসের সেরা চরিত্র লেগেছে আশরাফ উদ্দিনকে। তার অপূর্ণতা বইটিতে প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে শেস দৃশ্যের অবতারণায়।
Profile Image for Rehnuma.
449 reviews26 followers
Read
February 14, 2023
বই পড়তে পড়তে হঠাৎ শেষ পাতায় এসে যদি দেখেন বইয়ের শেষ কয়টা পাতা নেই তখন কেমন লাগবে? তাও যদিও আবার বইটা পড়ে আপনার খুব ভালো লাগে। শেষ কী হলো জানার জন্য ছটফট লাগবে না?
আশরাফ উদ্দিন সাহেবের দশাও ঠিক এমন। শেষ কটা পাতা নেই জেনেও ❛Cloud Flower & Rain❜ নামের বইটা কিনেছিলেন। ভেবেছিলেন নিজের মতো সমাপ্তি কল্পনা করে নিবেন। কিন্তু শেষের আগে এসে কিছুই ভাবতে পারলেন না। এখন ছটফট করছেন।
পুলক এক সমুদ্র ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছে রিমির জন্য। কিন্তু সাহস হয় না বলার। যাও একটু সাহস জুগিয়ে সামনে যায় রিমির আচরণে সেটাও উবে যায়। নারীর মন জয় করা ভারী মুশকিল।
পারুল আগাগোড়া সমর্থন দেয় পুলককে তার ভালোবাসার পিছে লেগে থাকার জন্য। পুলকের সবথেকে ভালো বন্ধু সে। ভালো মন্দে পুলকের পাশে থাকে পারুল। কিন্তু পারুল যতটা না থাকে বন্ধুত্বের খাতিরে, তার থেকেও বেশি থাকে হৃদয়ের টানে। এই টান বোঝার ক্ষমতা পুলকের আছে? পুলক তো ডুবেছে রিমিতে।
মাহিন বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বাবা-মায়ের আশা ছেলে তাদের ব্যবসা দেখবে। কিন্তু মাহিনের হাবভাবে তেমন কোন ইঙ্গিত নেই। সকাল সকাল বাইক নিয়ে বেরিয়ে যায় রমনায়। হাঁটার নামে রিমিকে ফলো করে সে। রিমিকে তার চাই। কিন্তু বলার সাহস নাই।
শিউলি আশরাফ সাহেবের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর থেকে দুঃখ পেয়ে ভেঙ্গে পড়েছিলেন। ভঙ্গুর দশা থেকে তাকে কুলে ভিড়িয়েছে শিউলি। বয়সের বিস্তর পার্থক্য স্বত্ত্বেও দুজনের বোঝাপোড়া দারুণ। মেয়ে রিমি এখনও শিউলিকে মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু বাবার প্রতি রিমির অশেষ ভালোবাসা। তাই আশরাফ সাহেব দুইদিক-ই সামাল দিচ্ছেন ভালো করে। স্বস্তির ব্যাপার এই যে শিউলি রিমিকে পছন্দ করে খুব।
রিমি বাবার সেই অসম্পূর্ণ বইয়ের খোঁজ করছে অনেক। কিন্তু লেখক মনে হয় একটা কপি-ই লিখেছিলেন তার বাবার জন্য। শত খুঁজেও হদিস পাওয়া যাচ্ছেনা বইটার।
পারুলের বিয়ের জন্য তার মা তোড়জোড় করছেন। পাত্র সজল। পারুলের খালাতো ভাই। পারুল তো নিজের মন দিয়ে রেখেছে পুলককে। পুলক আবার মজেছে রিমিতে। সজলকে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সে। সেই ছোটোকালে সজল বলে গিয়েছিল, ❛এরপর তোকে নিতে আসবো❜ তাই এসেছে সে।
ত্রিভুজ নয় কাটাকুটি এই প্রেমের গল্পের শেষ আছে কি? না পাতাবিহীন সেই উপন্যাসের মতো এদের জীবনের গল্পগুলোও অসমাপ্ত রয়ে যাবে? আশরাফ উদ্দিন সেই বইয়ের হদিস পাবেন তো?


পাঠ প্রতিক্রিয়া:
বইমেলা ২০২৩ এর প্রথম পঠিত বই।
সাটামাটা কোমল ভাষায় লেখা উপন্যাস ❛মেঘ ফুল বৃষ্টি❜। কতোগুলো মানুষের ভালোবাসা, ভালোবাসা পাওয়া না পাওয়ার গল্প এই উপন্যাস। আর একজন বইপ্রিয় মানুষের একটি অসম্পূর্ণ উপন্যাসের শেষাংশ জানার আকুতির কথাই বলা আছে এই উপন্যাসে।
উপন্যাসের সবথেকে ভালো লেগেছে পিতা-কন্যার মাঝে দারুণ সম্পর্কটা। দারুণ বোঝাপোড়া, একে অপরের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেয়া, একে অন্যকে স্পেস দেয়া পিতা কন্যার এই সম্পর্কটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
ত্রিভুজ প্রেম নিয়ে অনেক বই আছে। তবে এখানে প্রেমের গল্পগুলো ত্রিভুজ না বলে বহুভুজ বলা যায়। আমি যাকে ভালো পাই সে আমাকে পায় না, সে যাকে ভালো পায় তিনি আবার অন্যকে ভালো পায়। কার সাথে মিল হলে আসলে ভালো লাগতো সেটাই দ্বিধার বিষয়।
আমি সামাজিক ঘরনার বই পড়তে পছন্দ করি। এই বইটা সামাজিক ঘরনা থেকে বেশি প্রেমের কাহিনি। রোমান্টিক ঘরানার-ই বলতে পারি। আমার প্রিয় জনরা নয়। তাই প্রেমের অলিগলির ব্যাপারগুলো আমার তেমন ভালো লাগেনি।
উপন্যাসের সবথেকে প্রিয় ব্যাপার লেগেছে আশরাফ উদ্দিনের পাতা মিসিং সেই উপন্যাসের শেষ জানার আকাঙ্ক্ষা। উনার চরিত্রটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। মেয়ের প্রতি ভালোবাসা যেমন ছিল তেমন ছিল তাকে স্বাধীনতা দেয়ার মনমানসিকতা। খুবই শান্ত স্বভাবের একজন ব্যক্তি হিসেবে লেখক তাকে উপস্থাপন করেছেন।
রোমান্টিক ব্যাপারগুলো বেশ মায়া দিয়ে লিখেছেন তিনি। তবে হুট করে রিমির শাড়ি পড়ে ঐ পরিবর্তনটা কেন জানি ভালো লাগেনি। এছাড়াও, পুলক যখন রিমির কাছে ক্লাসনোট চেয়ে ফোন করে তখন পরদিন সেটা ফটোকপি করে নেয়ার ব্যাপারটা সেকেলে লেগেছে। চাইলেই ছবি তুলে মেসেঞ্জারে দিয়ে দেওয়া যেতো। যেহেতু উপন্যাসের প্রেক্ষাপট বর্তমান সময়।
উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা লেখক সুন্দরভাবে করেছেন। তবে উপন্যাসের মাঝে শিউলি আর রিমির সেই কথোপকথনটুকু আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে। উপন্যাসের শেষটুক আসলে কেমন হয়েছে কী করে বলবো? বললে স্পয়লার না হয়ে যায়। বাকিটা আপনি পড়ে দেইখেন।
বইয়ের পৃষ্ঠা যত এগিয়েছে তত আমার বইটাকে ❛চরকি❜ উপন্যাসের সাথে মিল লেগেছে। এক পর্যায়ে ভাবছিলাম এটা হয়তো চরকির দ্বিতীয় কিস্তি বা স্পিন অফ জাতীয় কিছু। একটু পরেই হয়তো চরকি উপন্যাসের কোন চরিত্র এন্ট্রি নিবে।


প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
বইমেলা ২০২৩ এর প্রকাশিত বইগুলোর মাঝে অন্যতম প্রছন্দের প্রচ্ছদ এই বইটির। কালার কম্বিনেশন দারুণ লেগেছে।
টাইপইং মিসটেক ছিলো কিছু।
অন্যধারার বইয়ের বাঁধাই বরাবরই বেশ ভালো হয়। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা।
তবে এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে যখন চরিত্র পরিবর্তন হয়ে গেছে তখন একটু গ্যাপ বেশি দিয়ে নতুন প্যারা শুরু করা যেত। বা নতুন দৃশ্যের আগে কোন চিহ্ন দেয়া যেতো। পড়তে পড়তে হুট করে আরেক ঘটনার অবতারণা হয়েছে ধরতে একটু সময় লেগেছে।
Profile Image for Noyon.
53 reviews8 followers
February 25, 2023
এক কথায় অসাধারণ। লেখকের প্রথম পড়া বই।
বেশ ভালো লেগেছে।
Profile Image for Mesratul Jannat.
36 reviews2 followers
March 27, 2025
#বই_রিভিউ_২০২৫
#মেঘ_ফুল_বৃষ্টি
লেখক: Monowarul Islam
প্রকাশনী: Anyadhara অন্যধারা
মুদ্রিত মূল্য: ৪০০
পৃষ্ঠা: ১৪৪
জনরা: সমকালীন উপন্যাস

মেঘ ফুল বৃষ্টি - বইটার নামের মতোই প্রতিটা পৃষ্ঠায় ঘনকালো বিষাদ মাখা মেঘ, নিম ফুল আর প্রশান্তির বৃষ্টির ঘ্রাণে ভরপুর।
অনেক গুলো চরিত্রের মিশেলে, ঘটনার ঘনঘটায় ১৪৪ পৃষ্ঠার এই বইটাকে জন্ম দিয়েছেন লেখক। প্রতিটা চরিত্র, প্রতিটা সম্পর্ক, প্রতিটা বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনের চাওয়া, একাকিত্বের মিশেলে দারুন এক বিষাদমুখর প্রেমের উপন্যাসই বলা যায়। বন্ধুত্ব, একাকিত্ব, প্রেম, বিষাদ, মৃত্যু, বিচ্ছেদ কি নেই এতে। প্রতিটা চরিত্রই তার নিজের অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তুলে ধরেছে বইয়ের পাতায়।

ত্রিভুজ প্রেমের কথা তো সবাই জানি। কিন্তু এটা ত্রিভুজ প্রেম না। অনেক গুলো ভুজের রেখা এক সাথে আপ্রাণ ছুটে চলেছে অন্য জনকে ছুঁতে। কাটাকুটি প্রেমের এক দারুন গল্প।

আশরাফ উদ্দীনের সেই পুরাতন রেয়ার বইটা- যেটা দারুণ প্লটে পাঠককে ডুবিয়ে রেখে তারপর শেষের কয়েকটা পাতা নেই। পরে কি হবে, হচ্ছে জানার প্রবল তৃষ্ণা...
পুরো বইটার এই চরিত্রটা আমার দারুণ লেগেছে। নিজেকে নিজের ভেতর বন্দী করে জীবনের উথান পতনে নিজেকে মানিয়ে চলছে।
আশরাফ উদ্দীনের শেষ না হওয়া বইটার মতো মনোয়ারুল ইসলামের এই বইটাও শেষ হয় নি। শেষ হয়েও হয় নি। উপন্যাসের প্রতিটা লাইন, প্রতিটা পৃষ্ঠার সাথে জড়িত মানুষগুলোর শেষ পরিণতি কি হলো সেটা জানতে ইচ্ছে করছে বইটার আশরাফ উদ্দীনের মতোই।
প্লট, লেখনশৈলী, চরিত্রের বর্নণা বইটাকে শেষে এসে পাঠক প্রিয় হতে বাধ্য করবে।

আমার একজন অনেক প্রিয় মানুষের থেকে মনোয়ারুল ইসলামের কথা জানতে পারি। সে-ই বলেছিলো এই লেখকের লেখা দারুণ। ধন্যবাদ সেই বিশেষ প্রিয় মানুষটাকে।

📸কালেক্টেড
Profile Image for Sohel Reza.
6 reviews2 followers
February 27, 2023
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মত একটা গল্প। গল্পের শেষটা যে বিয়োগাত্মক হবে, তা আগে থেকেই বুঝতে পারছিলাম। মনোয়ারুল ইসলামের লেখা এই প্রথম পড়লাম। সামনে আরো পড়ার ইচ্ছে রইল।
Profile Image for Xilani.
18 reviews5 followers
March 24, 2023
রেটিং- ৪.৫

কেউ কী আসলে সুখী হতে পারলো? শেষমেশ তো আক্ষেপটা রয়েই গেল...
2 reviews
February 21, 2023
চমৎকার উপন্যাস মনে হয় এটাকেই বলে। গল্পটা অসাধারণ। শেষটুকুতে এসে যে কারো মন খারাপ হয়ে যাবে। মানবজীবনের একটা বড় অংশজুড়ে থেকে আক্ষেপ। আর সেই আক্ষেপ থেকেই মেঘ ফুল বৃষ্টি।
Profile Image for Sakib A. Jami.
346 reviews41 followers
December 26, 2023
হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের শেষটা থাকে কেমন যেন ধোঁয়াশা ঘেরা। এই শেষ হয়েও যেন শেষ হয় না। পরে কী হলো জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। কিন্তু লেখক যে শেষ করেন না। তিনি গল্পের সমাপ্তি পাঠকের কল্পনার উপর ছেড়ে দেন। পাঠক বুঝে নিবে, শেষটা কেমন হতে পারে। নিজের মতো করে সাজিয়ে নিবে পরবর্তী অধ্যায়।

আজ হুমায়ূন আহমেদের গল্প কেন? কারণটা আশরাফ সাহেব। তিনি এমন একটি বই খুঁজে পেয়েছেন যার শেষটা নেই। না, হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখক বইটার সমাপ্তি পাঠকের কল্পনায় ছেড়ে দেননি। "Cloud Flower & Rain" বইটার শেষ কয়েক পৃষ্ঠা হারিয়ে গিয়েছে। পুরানা পল্টন পুরনো বইয়ের দোকানে বইটা খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন না থাকা পৃষ্ঠাগুলোর লেখনী তিনি নিজেই কল্পনা করে নিবেন। এখন আর তা পারছেন না। হাসফাঁস করছেন। শেষ পরিণতি জানার জন্য ব্যাকুলতা পেয়ে বসেছে। এত পুরনো বই, পাওয়া যাবে কোথায়?

এই গল্পে অনেকগুলো মানুষ আছে। পুলক, রিমি, পারুল, মাহিন কিংবা সজল। প্রত্যেকে নিজেদের জীবনে আলাদা হলেও কোথায় যেন এক সুতোয় বাঁধা। এক সুতোর টানে একে অন্যের জীবনে ঝড় ওঠে। টানাপোড়েনে গল্প লেখে নতুন কিছু।

এই যেমন, রিমির জন্য পুলকের ভালবাসায় কোনো কমতি নেই। কিন্তু রিমি কি ভালোবাসে পুলককে? বড়োলোক ব্যবসায়ীর আদরের দুলালী রিমি। কেন সে পুলকের মতো একজনকে ভালোবাসবে? ছেলেদের দ্রুত ভালোবাসতে নেই। সব সহজে পেয়ে গেলে যে এর মূল্য থাকে না।

ওদিকে রিমির জন্য ভালোবাসা জমিয়েছে মাহিনও। কোনো এক বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখেই ভালো লেগেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে যেখানে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করার কথা, সেখানে সাত সকালে বাইক নিয়ে রিমিকে খুঁজতে যায়। খুঁজতে যায় নিজের ভালোবাসাকে। কিন্তু রিমির মনে যে অন্য কিছু খেলে। রিমি কার ডাকে ইশারা দিবে? পুলক, না মাহিন?

পুলক রিমিকে চাইলেও পারুলের সবকিছু জুড়েই যেন পুলক। বেস্ট ফ্রেন্ড থেকে সম্পর্ক কখন যে অন্য পথে হাঁটা ধরেছে বুঝতেও পারেনি পারুল। পুলকও যে বোঝে না। সে এখনো রিমির স্বপ্নে বিভোর। তাই পারুলের অনুভূতি বোঝার কোনো চেষ্টাই নেই তার কাছে। পারুলের নিজেকে অসহায় লাগে। কী করবে ও? কীভাবে বোঝাবে পুলককে নিজের মনের কথা? পুলক কি বুঝবে?

সজল পারুলের খালাত ভাই। অনেক বছর পর দেশে ফিরছে। সেই ভাইয়ের সাথে পারুলের বিয়ের কথা চলছে। পারুলের মা চান, বিয়ে করে সুখে থাকুক মেয়ে। কিন্তু পারুল যে চায় অন্য কিছু। না কি সে কী চায় সেটাই জানে না। বিয়ের জন্য মতও দিতে পারছে না। আবার পুলককে বলতে পারছে না মনের কথা। কী যে দোটানায় এ জীবন!

শিউলি আশরাফ সাহেবের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। কোনো কারণ ছাড়াই যখন প্রথম স্ত্রী চলে গেলেন, তখন একাকীত্বের জীবন ঘোচাতে বিয়ে করেন শিউলিকে। মেয়ে রিমি এখনো বিষয়টা মেনে নিতে পারেনি। তাই শিউলির সাথে পারতপক্ষে কথা বলে না। এই শিউলিও চলে যাবে না তো? আশরাফ সাহেবের যে একাকীত্বকে দারুণ ভয়!

বাবার সেই অসম্পূর্ণ বইয়ের খোঁজে পুরো নীলক্ষেত চষে বেড়িয়েও খুঁজে পায়নি রিমি। লেখক মনে হয় এই একটি মাত্র কপি লিখেছিলেন। আর সেটিই তার বাবার হাতে। আর বোধহয় পাওয়া যাবে না। কিন্তু কী করা যায়? বইটি খুঁজে না পেলে যে বাবার অস্থিরতা কাটবে না।

এই প্রেম, ভালোবাসার গল্প... বহুমুখী প্রেমের উপাখ্যান। কেউ জানে, কেউ জানে না। কেউ নীরবে চোখে হারায় প্রিয় মানুষকে। মানব মনের অনুভূতির এক অদ্ভুত গল্প। এখানে কে যে কার হবে? আদৌ কেউ কারো জীবনে বাঁধা পড়বে? কে জানে?

▪️বই পর্যালোচনা ও পাঠ প্রতিক্রিয়া :

লেখক মনোয়ারুল ইসলামের "মেঘ ফুল বৃষ্টি" যতটা না সামাজিক উপন্যাস, তার চেয়েও বেশি রোমান্টিক উপন্যাস হিসে��ে ধরে নেওয়া যায়। পাঠক হিসেবে আমি এই একটি জনরাকে অপছন্দ করি। ঠিক যেন হজম হয় না। তবুও "মেঘ ফুল বৃষ্টি" কোথায় যেন ভালো লেগেছে। তা লেখকের লেখনশৈলী এর গল্প বলার ধরন। লেখক যেভাবে মায়া দিয়ে লিখেছেন, সেই মায়াতেই বইটি একটানে শেষ করে ফেলা সম্ভব।

"মেঘ ফুল বৃষ্টি" মোটা দাগে প্রেমের উপন্যাস। এক দুইজনের প্রেম নয়। বহুমুখী প্রেমের গল্প। না পাওয়ার হাহাকার জমে ওঠেছে কিছু মানুষের জীবনে। আবার কেউ পেয়েও হয়তো সুখে নেই। কারণ, মন থেকে চাওয়া জিনিসটি তো আর পাওয়া হলো না।

মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ের "মেঘ ফুল বৃষ্টি" উপন্যাসের অনেকক্ষেত্রেই চরকির সাথে সাদৃশ্য পেয়েছি। যেমন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ব্যাচের মধ্যে প্রেম, ভালো লাগা। আবার একজনকে দুইজন পছন্দ করে, তাদের রাস্তায় হুটহাট দেখা হয়ে যাওয়া। চরকিতেও রমনা পার্কের গল্প ছিল, এখানেও আছে। আবার সমাপ্তিও অনেকক্ষেত্রে মিল রেখে যাচ্ছে। তারপরও যদি তুলনা করা যায়, চরকির থেকে তুলনামূলক ভালো ছিল "মেঘ ফুল বৃষ্টি"। আরও পরিপক্ক হয়েছে লেখনশৈলী

মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ের লেখায় বিত্তশালী মানুষের গল্প বেশি আসে। প্রচুর অর্থ আছে, সমাজে প্রভাব আছে এমন কিছু মানুষের গল্প লিখতেই বোধহয় তিনি পছন্দ করেন। আর গল্পে যে মধ্যবিত্ত মানুষের বিচরণ ঘটে, সে শেষবেলায় হারিয়ে যায়।

উপন্যাসের শেষটা বলা প্রয়োজন। শেষাংশের গল্পে কী হলো ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। অনেকগুলো কাহিনি, কোনোটাই যেন পূর্ণতা পায়নি। যেন আশরাফ সাহেবের সেই পৃষ্ঠা হারানো বইয়ের মতো। আশরাফ সাহেব জানেন তিনি বইটি পেলে গল্পের শেষটা জানতে পারবেন। কিন্তু "মেঘ ফুল বৃষ্টি"র পাঠকের সে সুযোগ নেই। সেখানে কল্পনা-ই ভরসা।

▪️চরিত্রায়ন :

চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে লেখকের মুন্সিয়ানার তারিফ করতে হয়। খুব বেশি চরিত্রের বহর "মেঘ ফুল বৃষ্টি"তে ছিল না। যতটুকু ছিল, তার পূর্ণ ব্যবহার করেছেন লেখক। সবগুলো চরিত্র ছিল স্বমহিমায় উজ্জ্বল। চরিত্রের মধ্য দিয়েই গল্প এগিয়ে গিয়েছে।

গল্পের সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র আশরাফ সাহেব। প্রচুর বই পড়া এই মানুষটিকে পছন্দ না করে আসলে উপায় নেই। বইয়ের কয়েক পৃষ্ঠা নাই বলে অস্থিরতা গ্রাস করে তাকে। মানুষ হিসেবেও অমায়িকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মেয়েকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই মেয়ের সাথে সম্পর্ক বন্ধুর মতো। বাবা-মেয়ের এই মধুর সম্পর্ক বেশ মনে ধরেছে।

উপন্যাসে রিমি চরিত্রকে লেখক বারবার দেমাগী, অহংকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। অথচ আমার তা একবারও মনে হয়নি। রিমি স্পষ্টবাদী। কেবল নিজের মনের কথাই শুনে। এই অল্প বয়সে অনেক কিছুর সাক্ষী হওয়ার কারণে তার মধ্যে কাঠিন্য এক ভাব চলে এসেছে। এমন মানুষ আর যাই হোক অহংকারী হতে পারে না।

"মেঘ ফুল বৃষ্টি" বন্ধুত্বের গল্পও। এখানে লেখক পাওয়া, না পাওয়ার আক্ষেপ লিখেছেন। আমরা তো অনেককেই চাই। কিন্তু পাই কয়জন? আমরা যাদের আপন করে পেতে চাই, তাদের চাওয়া হয়তো অন্য কেউ। কেবল প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে নয়, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে।

বইয়ের সবগুলো চরিত্রকে আপন মনে হয়েছে। বিশেষ করে রিমি, পুলক কিংবা পারুলের যে গল্প লেখক বলেছেন; মনে হয়েছে বাস্তবতার মিশেলে তৈরি করা।

▪️কিছু খটকা :

"মেঘ ফুল বৃষ্টি" উপন্যাসে কিছু বিষয় অসামঞ্জস্য মনে হয়েছে। যেমন,

০ শিউলিকে রিমির অপছন্দ করার কারণ আমার কাছে শক্ত মনে হয়নি। বইয়ের শুরুতে বলা হয়েছে, রিমি তার মায়ের চলে যাওয়ার জন্য শিউলিকে দায়ী করে। অথচ তার মা যাওয়ার আগে শিউলির অস্তিত্ব আশরাফ সাহেবের জীবনে ছিল না। আবার বলা হয়েছে, রিমি আগে থেকেই মায়ের সব ঘটনা জানত। দুটি বিষয় আমার কাছে সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে। হিসেব মিলে না।

০ মাহিন যখন আড়তে বসতে চায়, তার কিছুক্ষণ আগে লেখা বাবা অসুস্থ হয়ে বাসায় আসে। মাহিন আড়াল থেকে শুনে মাকে বলে আড়তে বসবে। তখন মা খুশি হয়ে বাবাকে কল দিতে চায়। কিন্তু কল না দিয়ে বাসায় ফিরলে জানাবে। গল্প অনুসারে বাবা তো তখন বাসায় ছিল।

০ আড়তে বসা নিয়ে বাবা-মা কথা বলছিল। তখন বাবা বলে, স্কলারশিপ পেয়ে গেলে চলে যাবে। অথচ মাহিন যখন স্কলারশিপ পায়, তখন লেখা সে বাবা-মাকে না জানিয়ে আবেদন করেছিল। জানালে খুশি হবে কি না, এই সংশয় মাহিনের মনে।

▪️বানান, সম্পাদনা, প্রচ্ছদ :

বানান নিয়ে কিছু বলা প্রয়োজন। বেশ কিছু বানান ভুল লক্ষ্য করেছি। যেমন 'জমজমাট'কে লেখা হয়েছে 'ঝমঝমাট', 'ঝমঝম বৃষ্টি'কে 'জমজম বৃষ্টি', 'কোণ আইসক্রিম'কে 'কোন আইসক্রিম'।

এছাড়া 'কী' এর ভুল ব্যবহার ছিল বইয়ের সবটা জুড়ে। যেখানে 'কি' হওয়া প্রয়োজন, সেখানে 'কী' লেখা ছিল। তাছাড়া দুয়েকটা ছাপার ভুল ছিল। যা বেশ চোখে লেগেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে যাওয়ার কিছু অংশে ফাঁকা জায়গা না রাখা। তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল। দাগ দেওয়া গেলে হয়তো অসুবিধে হতো না।

লেখকের শব্দচয়ন চমৎকার। সবসময় মুগ্ধ করে। তারপরও সংলাপ অংশ ছাড়া কেন 'আর্লি', 'রেডি'র মতো শব্দ বারবার এসেছে জানি না। যেখানে প্রচলিত পারিভাষিক শব্দ ছিল।

এই বইয়ের প্রচ্ছদ দারুণ নজরকাড়া। বেশ মনে ধরেছে। যেন রংতুলিতে আঁকা। প্রোডাকশন কোয়ালিটি দারুণ। এখানে অভিযোগের কিছু নেই।

▪️পরিশেষে, মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ের লেখনীর ভক্ত আমি। তিনি খুব সহজভাবে গল্প বলতে পারেন বলেই তার লেখা মুগ্ধভাব নিয়ে পড়ি। আমার প্রত্যাশা, তিনি তার এই সাবলীল লেখনীতে বিশাল কলেবরের কিছু সামনে নিয়ে আসবেন। যেখানে থাকবে জীবনের গল্প। সব ধরনের মানুষের গল্প। প্রেম থাকবে। তারপরও সমাজের প্রতিটি দৃষ্টিকোণ ফুটে উঠবে। তার শক্তিশালী লেখনীতে এমন কিছু পড়ার অপেক্ষায় আছি। মুগ্ধতার পাল্লা যেখানে আরও ভারী হবে।

▪️বই : মেঘ ফুল বৃষ্টি
▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
▪️প্রকাশনী : অন্যধারা
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৪৪
▪️মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪/৫
Profile Image for Mueed Mahtab.
356 reviews
February 27, 2025
পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে কিন্ত একটাও খারাপ বাবা নেই।🌸
Profile Image for Maruf.
21 reviews
February 21, 2024
মনোয়ারুল ইসলামের সেরা কাজ হলো তার গদ্য। সাবলো আর সহজ ভাষায় তিনি গল্প লিখেন। এই বইটিও তার ব্যতিক্রম না। এই বইটাকে উনার সেরা লেখার মাঝে আমি রাখব। গল্পের ব্যপ্তিটা অনেক না। তবে গল্পের গদ্য এখানে শক্তিশালী। মানুষের কতকিছুর অপূর্ণতা থাকে, আকাঙখা থাকে। না পাওয়ার যে আকুতি মানুষকে কুড়ে কুড়ে নি:শেষ করে দেয় তাই লেখক এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। রেটিং ৪.৫।
Profile Image for Asef.
27 reviews2 followers
April 24, 2024
মেঘ ফুল বৃষ্টি

বইটার শুরু আশরাফ উদ্দিন কে নিয়ে। আশরাফ উদ্দিন থেকে আস্তে আস্তে গল্প এগোতে থাকে। আশরাফ উদ্দিন এর মেয়ে রিমি এই উপন্যাস এর প্রধান একটা চরিত্র।জাবিন আনোয়ার, শিউলি আশরাফ উদ্দিনকে ঘিরে দুটি প্রাণবন্ত পার্শ্ব চরিত্র।
এই উপন্যাস এর আরো কিছু বড় চরিত্র পুলক, পারুল আর মাহিন।
প্রতিটি চরিত্রকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা সুন্দর ভাবে একত্রিত হয়ে উপন্যাস এগিয়ে গেছে।পুলক-পারুলের মধ্যেকার লুকোচুরি সম্পর্ক, পুলক-রিমির প্রেমের সম্পর্ক উঠে এসেছে এই উপন্যাস এ।

কিছু কথা:
সামাজিক উপন্যাস হিসেবে এই বইয়ের গল্পটা খুব ভালো লেগেছে, কিন্তু অনেক জায়গাতে গল্পটা নিষ্প্রাণ লেগেছে।

কিছু জায়গায় মনে হয়েছে গল্পটা খুবই দ্রুত এগিয়ে গেছে।

প্লটগুলো আরো দীর্ঘ করে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা যেত।গল্পটা সুন্দর হওয়ায় উপন্যাসটা আরো দীর্ঘ হলে পাঠকমনকে বেশি আকর্ষণ করতে পারতো ‌বলে আমার মনে হয়েছে।

লেখক ভূমিকা তে বলেছেন তিনি ভারী কিছু লেখেন নি। ভারীর কথা আমি বলতে পারছি না, তবে উপন্যাসটার গভীরতা আমি টের পাই নি। উপন্যাসটাকে আরো আকর্ষণীয় করা যেত, চরিত্র গুলো আরো সরল ও জীবন্ত করা যেতো।

তবে লেখক এর দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস হিসেবে বেশ ভালো।আশা করছি ভবিষ্যতে আরো ভালো উপন্যাস পাবো।

বই: মেঘ ফুল বৃষ্টি
লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশনী: অন্যধারা
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা

নিজস্ব রেটিং: ৬.৫/১০

# Happy Reading‌
Profile Image for Abdullah Wasib.
33 reviews1 follower
January 4, 2024
মেঘ ফুল বৃষ্টি
মনোয়ারুল ইসলাম

কাহিনী সংক্ষেপ!
এক সমুদ্র ভালোবাসা নিয়ে পারুল যখন পুলকের ভালোবাসার জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে, পুলক তখন রিমির ভালোবাসার অতলে হারিয়ে গেছে৷ এ জগতে আমরা সহজে যা পাই তা উপেক্ষা করি, ছুটে চলি অসম্ভবের পিছনে।

মাহিন আবার রিমির জন্যে এক বুক ভালোবাসা নিয়ে পথে পথে ঘুরছে৷ এদিকে পারুলের সাথে সজলের বিয়া হয়ে গেছে৷ গল্পগুলো একটা বিন্দুকে কেন্দ্র করে চারিদিকে ঘুরছে৷ ভালোবাসার চাদরে ঢাকতে চাচ্ছে একজন আরকে জনকে।

আশরাফ সাহেব ব্যবসায় সফল হলেও স্বামী হিসাবে ব্যর্থ। তার প্রথম স্ত্রী দ্বিমুখী উপাখ্যানে, অন্য একজনে বিয়া করে পাড়ি জমিয়েছে বিদেশে। একাকীত্বের সাথে লড়াই করে জিততে পারেন নি৷ একাকীত্ব দুর করতে বিয়ে করেছেন শিউলিকে৷ শিউলকে নিয়ে বর্তমানে তার ভয় হয়, শিউলি আশরাফ সাহেবকে একা দিবে না তো? একাকীত্বকে আশরাফ সাহেব যমের মতো ভয় পান!

পাঠ প্রতিক্রিয়া!
মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ের বই আগেও পড়েছি৷ তার মৃসন সাবলীল লেখা সব সময় আমাকে মুগ্ধ করে৷ এই বইটাও তার ব্যতিক্রম নয়৷ গল্প যে বিয়োগাত্মক হবে তা বহুমুখী প্রেমের উপাখ্যানের জন্য আগেই কিছু আন্দাজ করতে পারছিলাম। লেখকের সাধারণ লেখনীর মাধ্যমে অসাধারণ একটা গল্প উপহার দিয়েছেন৷ যা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে৷ গল্পের মাঝে যদিও ২/১ টা অসামঞ্জস্য তবু গল্পটা বিষন্ন সুন্দর ছিল!

রেটিং - ৪.৫/৫
Profile Image for Motasim Billah  Maheen.
4 reviews
June 8, 2023
মনোয়ার ভাইয়ের এই বইটাও এক বসাতেই শেষ করলাম। এখন কেমন যেন অনেক দু:খবোধের সৃষ্টি হচ্ছে। মনে হচ্ছে চমৎকার এক উপন্যাসের শেষটুকু হারিয়ে গিয়েছে কোথাও। খুব জানতে ইচ্ছে করছে রিমি কোথায় গেল? মাহিনই বা কোথায়? আর পুলক সে কি বাঁচবে? শিউলিকে ছাড়া আশরাফ সাহেবই বা কেমন থাকবেন?

অনেকগুলো প্রশ্ন অথচ উত্তর জানার কোনো উপায় নেই। কারণ উপন্যাসটা যে শেষ। অনেকটা শেষ হয়েও হইল না শেষ। আরো অনেক কিছু জানার আকুতি রয়ে গেল মনের মাঝে। পাঠকের মনে এমন আকুতি টেনে আনতে পারাটাই লেখকের জন্য স্বার্থকতা

যাইহোক উপন্যাসের লেখা অনেক সাবলীল ছিল। চরিত্রায়ন থেকে শুরু করে বর্ণনা সবকিছুই ছিল উপভোগ্য। কোথাও মাত্রাতিরিক্ত বা অতিরঞ্জন লাগেনি কোনো লাইন৷ মনোয়ার ভাইয়ের লেখা দিন দিন আরো ধারালো হচ্ছে তা বলার কোনো অপেক্ষা রাখে না। আর বইতেও তেমন কোনো বানান ভুল চোখে পড়েনি। প্রোডাকশন ও বেস্ট। ওভারঅল বেশ ভালো সময় কাটালাম অনেকদিন পর এই বইটার সাথে। কেউ চাইলে সংগ্রহ করে পড়তে পারেন। আশা করি ভালো সময় কাটবে।
Profile Image for  Sikey.
35 reviews7 followers
December 10, 2023
আমি সাধারণত থ্রিলার জনরার বই বেশি পড়ি। উপন্যাসে একটু একঘেয়েমিতা চলে আসে আমার । কিন্তু এই বইটির ক্ষেত্রে লেখক তার সু্যোগ দেননি। এটি সামাজিক উপন্যাস নাকি রোমান্টিক উপন্যাস জানিনা। আমার কাছে এটাকে রোমান্টিক উপন্যাসই বেশি মনে হয়েছে। উপন্যাসটির প্রত্যেকটি চরিত্রকেই আমার কাছে মনে হয় হয়েছে প্রধান চরিত্র। প্রত্যেকটি চরিত্রের মধ্যেই রয়েছে কিছু পাওয়া, না পাওয়া, ব্যর্থতা, অপূর্ণতা । আশরাফ উদ্দিন, পারুল,মাহিন,শিউলি, রিমি, পুলক, মুরাদ, মিতু সব চরিত্রগুলোই যেন জীবন্ত। পারুল চরিত্রটা আমার কাছে সবথেকে আকর্ষণীয় লেগেছে।
বিরতিহীন ভাবে পড়ে শেষ করার মত একটি বই❤️
Profile Image for Parvez Alam.
310 reviews12 followers
March 30, 2024
বইটা শেষ হয়েও যেন শেষ হয় না। পরে কী হলো জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিলো আমার এখনো আছে। সব ভালোবাসা কি আমাদের চাওয়ার মত করেই আসে আমাদের জীবনে? সবার ভালোবাসাই যার যার কাছে সুন্দর, কারো ভালোবাসাই ছোট না।
Profile Image for Ananna Anjum .
191 reviews11 followers
March 26, 2023
অসাধারণ লেগেছে। অনেক দিন পর, কোন বই দারুন তৃপ্তি নিয়ে শেষ করলাম।মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ার লেখনী চমৎকার, দিন-দিন যেন তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন! এই বছরে পড়া সেরা বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে থাকবে।
Profile Image for Ayrin Jahan.
15 reviews
February 18, 2025
অসাধারণ একটা বই ছিলো।

ওপেন এন্ডিং হওয়াতে মনের মতো করে একটা সুন্দর শেষ বানিয়ে নিয়েছি। মনোয়ার ভাই আপনার উচিত এমন আরো কিছু বই লিখা আমাদের জন্য🌸
Profile Image for Meheran Eshan.
8 reviews
April 4, 2025
"মনোয়ারুল ইসলাম" ভাইয়ার লেখা, আমার পড়া প্রথম উপন্যাস "মেঘ ফুল বৃষ্টি"। একটা উপন্যাসেই যেনো লেখকের লেখার প্রেমে পড়ে গিয়েছি। বইটা বেশ দারুণ ভাবে উপভোগ করেছি। লেখকের জন্য শুভক্ষণের ❤️
Profile Image for Md Sajib.
1 review2 followers
April 5, 2025
এই বইটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।
Displaying 1 - 23 of 23 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.