জংলার ভেতর ছাতিম গাছের নিচে বৃত্তাকারএকটি জায়গা। জায়গাটা খুবই পরিষ্কার, কাঁদামাটি দিয়ে লেপা-পোছা একদম। মতিয়ারার দৃষ্টি এড়ায় না কিছুই, মাটির উপরের আবছা রেখাগুলো গভীরভাবে খেয়াল করলে বোঝা যায়, একটা চোখ আঁকা সেখানে। চোখের ভেতরকার রেখাগুলো স্পষ্ট, রক্তাভ। তন্ময় হয়ে চেয়ে থাকে মতিয়ারা। একসময় সে বুঝতে পারে, মাটিতে শুধু চোখই আঁকা না; আঁকা রয়েছে একটি বিকট দর্শন প্রাণীর ছবি। এমন প্রাণী কী পৃথিবীতে আছে! মতিয়ারা জংলা থেকে ফিরে আসতে চায় তখনই। কিন্তু, পারে না সে। অদ্ভুত মিষ্টি গন্ধটা ছড়িয়ে পড়েছে ততক্ষণে। পেছনে কে এসে দাঁড়িয়েছে মতিয়ারা তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। একটুও নড়তে পারেনি মতিয়ারা। সে দেখল তাকে কয়েকটা হাত প্যাঁচিয়ে ধরেছে। প্রতিটা হাতে অসংখ্য আঙুল আর প্রতিটি আঙুলের নখের ডগায় চোখ!
গল্পের পরিণতি নিয়ে শুধুই একরাশ হতাশা। বইটার ধাম করে এভাবে শেষ হয়ে যাওয়াটা ঠিক মেনে নেওয়ার মতো না। কত্ত কিছুর ব্যাখার প্রয়োজন ছিল সেসবের ধার ও ধারেনি লেখক। শুধু উত্তেজনায় বাড়িয়ে গেছে।
তুই আমাদের সন্তান। আমরা তোকে প্রাণ দিয়েছি। আমাদের টিকে থাকতে হবে...
মানুষের মাধ্যমেই আমাদের টিকে থাকতে হবে। নিজেকে টিকিয়ে থাকার এই লড়াই চলছে সৃষ্টির শুরু থেকে, চলবে শেষ পর্যন্ত। নিজেকে বিলীন করে দেওয়ার সুযোগ নেই। পৃথিবীটা ভালো এবং মন্দের, আলো এবং আঁধারের। এখানে সবাই টিকে থাকতে চায়।
▪️কাহিনি সংক্ষেপ :
রতনের জন্মটা স্বাভাবিকভাবে হয়নি। জন্ম থেকেই কোমড়ের নিচের অংশ নেই। তারপরও রতন বেঁচে আছে। একে একে পঁচিশটি বছর পার হয়েছে। মা মতিয়ারা বেগমের একমাত্র সম্বল হয়ে টিকে আছে। যাকে জন্মের সময়ই ছেড়ে চলে গিয়েছিল তারই বাবা। তারপর থেকে মায়ের বেঁচে থাকার লড়াই। এই লড়াইয়ে প্রধান অস্ত্র রতন। শরীরের নিম্নাংশ না থাকলেও, এই রতনের উপার্জনেই জীবনযাপন চলে। এছাড়া আর যে উপায় নেই।
কায়সারের খুব ইচ্ছে তারই খালাতো বোনকে বিয়ে করে সংসারি হবে। কেমন যেন টান অনুভব করে মেয়েটার প্রতি। সেভাবেই চলছিল। হঠাৎ একদিন জানতে পারে সেই মেয়েটির বিয়ে। এরপর মন ভাঙা এক গল্পের সাক্ষী হয় কায়সারের জীবন। সেই জীবন রাঙিয়ে দিতেই যেন এসেছে টিনা। তখন কায়সার চাকরি করে। প্রমোশন হয়েছে। এখন তাকে চলে যেতে হবে অজপাড়াগাঁয়ে। হেমনগর নামের সেই গ্রামে কী করে থাকবে শহুরে টিনা? তবুও সে কায়সারকে ছাড়া থাকতে পারবে না। গ্রামীণ এক পরিবেশে শুরু হলো তাদের সেই সংসার জীবন। কিন্তু সে জীবনে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়। কিছু একটা ভীত করে তুলছে টিনাকে। সত্য, না কি নিছক কল্পনা? টিনার ভয়ের উৎস কোথায়?
মতিয়ারা বেগমের এমন এক অতীতের সাক্ষী, যেই অতীত বারবার যেন ফিরে আসতে চায়। মতিয়ারা বুঝছে, আবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। কিন্তু কিছুই করতে পারছে না। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সব মিলেমিশে একাকার। সাথে এক অপার্থিব শক্তি। সে শক্তির সাথে লড়াই করে সাধ্য কার?
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
একজন লেখক যখন নিজের লেখার একটি মানদণ্ড তৈরি করেন, তখন বারেবারে তুলনা চলে আসে। লেখক মনোয়ারুল ইসলামের "বকুল ফুল", "বাঁশি" কিংবা "অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন" যেভাবে রচনা করেছেন; সেই মনোয়ারুল ইসলাম স্বাদ "অদ্ভুত আঁধার এক" বইটিতে পাইনি। মনে হয়েছে কোথায় যেন কমতি রয়েছে।
গল্পের শুরুটা সাদামাটা। এই গল্পে প্রেম আছে, ভালোবাসা আছে। আছে স্বার্থপরতার গল্প। আবার নিজেকে সর্বেসর্বা দেখানোর প্রয়াস। আমরা যা চোখের সামনে দেখি, মাঝেমাঝে তা সত্য নাও হতে পারে। এর গভীরে থাকে অন্য কোনো উদ্দেশ্য। যা আমরা দেখি না। যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না।
"অদ্ভুত আঁধার এক" বইটি লেখক লিখেছেন সহজ ও সাবলীল ভঙ্গিতে। যেন কেবল গল্প বলে গিয়েছেন। লেখকের লেখনশৈলি নিয়ে অভিযোগ করার জায়গা নেই। এমন লেখনশৈলিতে হারিয়ে গিয়েছিলাম হেমনগর নামের গ্রামটিতে। মনে হয়েছে, কিছু সময় আমিও যেন সেই গ্রামের বাসিন্দা।
শুরুর আর মাঝামাঝিতে গল্পটা সাদামাটা এক ভৌতিক, গা ছমছমে অবয়ব থাকলেও পূর্ণতা দিতে পারেনি। তবে শেষটা বেশ ভালো লেগেছে। যদিও মনে হয়েছে খুব দ্রুত ঘটনাগুলো ঘটছে। আরো কিছু পৃষ্ঠা থাকলে বোধহয় মন্দ হতো না। বিশেষ করে শেষ সময়ে বেঁচে থাকার যে আকুতি লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দারুণ।
চরিত্রগুলোও একদম খাপেখাপ। আমদের চারপাশের মানুষগুলোর সাথেই যেন পরিচয় করিয়ে দেয়। এছাড়া গল্পের গতিও ছিল বেশ। দ্রুততার সাথেই শেষ করে ফেলার মতো একটি বই।
▪️যা ভালো লাগেনি :
এই বিষয় নিয়ে আমার অনেক অভিযোগ আছে। আজকালকার অনেক লেখককেই দেখি যৌ ন তা নিয়ে রগরগে কিছু বর্ণনার আশ্রয় নেন, যার হয়তো অনেক বিষয়ের দরকারও থাকে না। তারপরও কেন বইয়ে এ জাতীয় লেখা আনতে হবে? অন্যদের বিষয় জানি না, আমার ঠিক পছন্দ হয় না। এগুলোতে বারবার হোচট খেতে হয়। মনোসংযোগ ব্যাহত হয়। গল্পের তাগিদে আনলে ঠিক আছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় মনে হয়।
একটা প্রশ্নের উত্তর বইটিতে পাইনি। যে বিশাল বড়ো মাছ কাটার পর যে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল, তার কারণ কী? তবে কি সেটা মাছ নয়, অন্য কিছু? এছাড়া নীল রঙের বিষয়টাও খোলাসা করা হয়নি।
▪️বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য : "অদ্ভুত আঁধার এক" বইটির সম্পাদনা ছিল দুর্দান্ত। বানান ভুল তেমন একটা দেখা যায়নি। দুয়েকটা ছাপার ভুল ছিল। দুয়েক জায়গায় নামের অদল বদল হয়ে গিয়েছিল। যেমন, কায়সার হয়ে গিয়েছিল রতন।
নালন্দা প্রকাশনীর প্রোডাকশন কোয়ালিটি নিয়ে অভিযোগ থাকার উপায় নেই। বরাবরই সেরা কাজটিই তারা করে। তবে দামের দিক দিয়ে একটু আক্ষেপ থাকে। বর্তমান বাজারে যেখানে সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে কাগজের মান কমিয়ে এনে দাম পাঠকের নাগালে রাখতেই পারে। ১৫০ পৃষ্ঠার বই আমার ৪০০ টাকা অতিরিক্তই মনে হয়েছে। সেই কারণে ইচ্ছে থাকার পরও প্রকাশনীর অধিকাংশ বই-ই কেনা হয় না।
▪️পরিশেষে, "অদ্ভুত আঁধার এক" প্রাপ্তমনষ্কদের জন্য উপযোগী। তাই সেই চিন্তা মাথায় নিয়েই বইটি পড়া উচিত। এক বসায় পড়ার ক্ষেত্রে উপভোগ্য। তবে অতিরিক্ত প্রত্যাশা হতাশার সৃষ্টি করতে পারে।
▪️বই : অদ্ভুত আঁধার এক ▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম ▪️প্রকাশনী : নালন্দা ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৫০ ▪️মুদ্রিত মূল্য : ৪০০টাকা ▪️ব্যাক্তিগত রেটিং : ৩.৮/৫
> *আমরা সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে সাধারণ জিনিস দেখতেই পছন্দ করি বেশি। অনেক সাধারণের মাঝে একটু অসাধারণ হলেই আমাদের চোখ বড়ো হয়ে যায়। হয় সেটাকে আমরা একদম পূজনীয় করে তুলি, নয়তো একপাশে ঠেলে ফেলে দেই। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কথাই ধরা যাক না! অন্যরকম গড়ন কিংবা শারীরিক কোন ত্রুটির ফলে তারা সমাজ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন*।
রতনও মোটামুটি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। খুব কম লোকই আছে তাকে পছন্দ করে, বেশিরভাগই ভয় পায়। ভয় পাবার কারণ তার শারীরিক গড়ন। কোমরের নিচে কিছু নেই, একটা ছোটো লেজের মতো অংশ ছাড়া। তবে কি সে শারীরিক প্রতিবন্ধী?
মা মতিয়ারার একমাত্র সন্তান রতন। জন্মের সময় রতনকে দেখে সে হতবাক হয়ে গেছিল। স্বামী সামাদ মিয়া তো ছেলেকে কোলে নিয়েই ছুঁড়ে ফেলেছিলেন। এরপর থেকে সে গৃহত্যাগী। বিকলাঙ্গ এই ছেলেকে নিয়েই এরপর মতিয়ারার জীবন চলে যাচ্ছে। বয়সের ভারে এখন রতনের আয়ের উপরেই তাকে নির্ভর করে চলতে হয়।
শান্ত স্বভাবের রতনের ইদানিং কী জানি হয়েছে। রেগে যায়, গলার স্বর পরিবর্ত�� হয়ে যায়। মতিয়ারার বড্ড ভয় হয়। পঁচিশ বছর আগের এক ভয়াল সন্ধার কথা মনে পড়ে যায়। আবার কি কোনো শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? এ শক্তি শুভ হতেই পারে না।
চাকরি আর টিউশনি করে কোনমতে চলে যাচ্ছে কায়সারের। মনের মাঝে আশা খালাতো বোন রুমকিকে নিয়ে। নিজের করে পাবে তাকে একদিন। কিন্তু আশা মাত্রই মরীচিকা। কায়সারের মরীচিকা মরীচিকাই থেকে যায়। তবে ঘটনাক্রমে রুমকির বান্ধবী টিনাকে বধূ হিসেবে পায় সে। চাকরির নতুন পোস্টিং নিয়ে টোনাটুনির সংসার বাঁধে হেমনগরে।
নতুন সংসারে ক্রমেই গৃহিণী হয়ে ওঠে টিনা। আশপাশের সুন্দর পরিবেশ সত্বেও কোথায় যেন কিছু একটা ঠিক নেই। ভয় পায় টিনা। পুকুরে দেখা বড়ো মাছ, কিনে আনা মাছের থেকে নীল থকথকে পদার্থ সবকিছুই অস্বাভাবিক।
হেমনগর গ্রামে আবার এ কোন অশুভ শক্তির আনাগোনা শুরু হলো? অতীত কি এভাবেই ফিরে ফিরে আসে? বাতাসে এ কেমন মিষ্টি সুবাস? নিকষ কালো এই অদ্ভুত আঁধারের শেষ কোথায়?
***পাঠ প্রতিক্রিয়া:***
অতিপ্রাকৃত ঘরনার বই** ❛অদ্ভুত আঁধার এক❜**। গা ছমছম ধরনের অনুভূতি হয়তো হবেনা বইটা পড়ে। কিন্তু, গা শিরশির করবে। সেটা ভয় না ঘেন্নায় তা বই পড়েই আপনি ঠিক করতে পারেন।
এ গল্প হেমনগর গ্রামের অদ্ভুত দেখতে ছেলে রতনের। গল্পটা মা মতিয়ারারও। মতিয়ারার গল্পই বলতে হবে। পঁচিশ বছর আগে যার শুরু ছাতিম গাছের তল থেকে।
লেখকের সুন্দর ছিমছাম গল্প বলার ধরনে উপন্যাস পেয়েছে তার নিজস্ব গতি। বিশেষ করে উপন্যাসের শেষাংশটুক আমার কাছে এককথায় অনবদ্য লেগেছে। রহস্য তৈরি করতে পেরেছে যেমন, তেমনি ছিল পরে কী হচ্ছে জানার আকুতি। শেষে এসে রহস্য, ভৌতিকতাকে ছাড়িয়ে গেছে বেঁচে থাকার আকুতি বা আবেগ। শেষটায় এসে আমারও ঐ অশুভের প্রতি কেমন যেন মায়া ধরে গেছে। আমরা যা দেখিনা সচরাচর তা সবসময়েই কি খারাপ আসলে?
তবে উপন্যাসের মূল ব্যাপারটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে আমার কাছে। ছাতিম গাছের তলের রহস্যটা কেন সেটা ব্যাখ্যাহীন রয়ে গেছে। যদি এর কোন পরবর্তী পর্ব আসে আর তার জন্য এখানে রহস্য লুকিয়ে রাখা হয় তবে ঠিক আছে।
মাছের ব্যাপারটা আমি বুঝিনি। মাছটা সেই পুকুরের হলে বোঝা যেত সমস্যা কোথায়। কিন্তু মাছটা নদী থেকে তুলে আনা। এর সাথে নীল পদার্থের সংযোগ কোথায় বুঝিনি।
কায়সার চরিত্রটাকে আমার পছন্দ হয়নি। সে রুমকির প্রেমে হাবুডুবু খায় কিন্তু সাথে টিনার দেহের দিকেও নজর থাকে। এ কেমন প্রেমরে তোর বাবা? ব্যাটা মানুষ!
উপন্যাসের সকল পুরুষের চরিত্র একই রকম কামুক ব্যাপারটাও ভালো লাগেনি। লেখকের বকুল ফুলের বিশাল ভক্ত হওয়ায় এখানেও মশাই জাতীয় কাউকে খুঁজছিলাম তাই হয়তো।
এছাড়াও, উপন্যাসে শুরু থেকেই অনেক রগরগে আবেগের বর্ণনা ছিল। সেগুলো পড়তে আমার খুব একটা ভালো লাগেনি। প্রাপ্তবয়স্ক বা প্রাপ্তমনস্ক ব্যাক্তির বইটা পড়ার জন্য উপযোগী।
***প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:***
নালন্দা প্রকাশনীর বইয়ের মান আমার সবসময়ই পছন্দ। বানান সম্পাদনাও তাদের খুব ভালো। কিন্তু এত দারুণ প্রোডাকশনে একটা ফিতা জুড়ে দিলে হুট করে বই বন্ধ হয়ে গেলে পেইজ নম্বর হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা কমে যায়।
*আচ্ছা, বেঁচে থাকার আকুতি কি শুধু র ক্ত মাংসের মানুষেরই আছে? অন্য কোনো প্রাণের কি বিপদের মুখে নিজেকে বাঁচানোর আকুতি হয় না?*
অতিপ্রাকৃত জনরার। লেখকের আগের বইগুলো পড়ে অনেক আশা নিয়ে বইটি নিয়েছিলাম। আগের বইয়ের সাথে তুলনা করলে পুরোপুরি আশাহত হয়েছি। বইয়ের শুরুতেই যৌনতা দিয়ে শুরু। হতে পারে যে গল্পের প্লটটা এমনই ছিল বলে বিবরণ এসেছে। কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে উপন্যাসে এমন উঠে আসাটা ভালো লাগেনি। আমি পড়তে বিব্রত হয়েছি। লেখকের অন্য বইয়ের তুলনায় এটা আমাকে অনেক আশাহত করেছে।
উপন্যাসে গ্রামে পরিবেশের জন্যেই যা একটু ভালো লেগেছে। আর খুঁড়োর ছেলের মৃত্যুতে খারাপ লেগেছে ।
পাঠ প্রতিক্রিয়া - " অদ্ভুত আঁধার এক " লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম জনরা: অতিপ্রাকৃত রহস্য উপন্যাস নালন্দা আমাদের পৃথিবীটা একটা বিশাল অতিথিশালা। যুগের পর যুগ কেটে যায় কিন্তু অতিথির আসা যাওয়া চলতে থাকে নিরন্তর। এই অতিথিশালায় একবার এলে চলে যেতেই হবে একসময়। কিন্তু সব অতিথি কি আদৌ চলে যায়? নাকি চুপিসারে অন্ধকারে বসে সবার অজান্তে বুনন করতে থাকে এক অমোঘ কালো জাল যেখানে ধরা পড়লেই সর্বনাশ নিশ্চিত। ++++ গল্পের সারসংক্ষেপ: শহর থেকে অনেকটা দূরে এক ছোট্ট অজপাড়া গ্রাম ' হেমনগর '। প্রতিদিন সকালে বেওয়া মতিয়ারা বেগম নিজের সন্তানকে গ্রামের বাজারে রেখে যায় আবার সন্ধ্যাবেলা নিয়ে যায়। ছেলেটা জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ, কোমর থেকে ধর এর বাকিটাই নেই জন্ম থেকে। ছেলেটার নাম রতন। ওর ভিক্ষার টাকা দিয়েই সংসার চলে ওর আর ওর মা'র। হঠাৎ করে রতন আকর্ষিত হতে থাকে মিঙাবাড়ির জংলার দিকে। কী আছে এই জংলায়? গ্রামের লোকে নাকি এই জংলায় দিনের বেলাও আসেনা, তাহলে রাতের বেলায় রতন এই জংলার ধারে কি করে? একটা মিষ্টি গন্ধ! হ্যাঁ এই পাগল করা মিষ্টি গন্ধটা আরও তীব্র হচ্ছে। চাচাতো ভাই সবুজের বৌ শেফালীকে প্রতিদিন দেখে রতন। এক আদিম খিদে ঠিকড়ে বের হয়ে আসতে চায় রতনের দেহ থেকে। প্রতিবার হাতের মুঠোয় সামলে নেয় রতন। শেফালী কি কিছু বুঝতে পারে? - সদ্য বিবাহিত কায়সারের ট্রান্সফার হয় হেমনগর গ্রামে। কায়সারের স্ত্রী টিনা নাকি বাড়ির সামনের পুকুরে মাছ দেখতে পায় বড় সাইজের মাছ। অথচ সবাই জানে ঐ পুকুরে কোন মাছ থাকেনা। কেউ কেউ বলে ঐ পুকুরে নাকি দোষ আছে। গ্রামের ডাক্তার নিরঞ্জন এর স্ত্রীও নাকি কীসব দেখেছে। - এই পুরো গ্রামকে ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলছে বেশ কিছু চোখ। যে চোখ সবখানে বিরাজমান। কি চায় সেই চোখ? কেউ তাকে দেখেনা। শুধু মাঝে সে তার উপস্থিতি জানান দেয় নীল রঙের এক আঠালো পদার্থের মাধ্যমে। দেখলে গা গুলিয়ে উঠলেও সেই পদার্থ থেকে এক তীব্র মিষ্টি গন্ধ ছড়াতে থাকে। . অভিমত: উপন্যাসটি সম্পূর্ণ প্রাপ্তমনষ্কদের জন্য। উপন্যাসের প্লটের প্রয়োজনে বেশ কিছু স্ল্যাং এবং অতিরোমান্টিক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। লেখককে সাধুবাদ জানাই কারণ তিনি অযৌক্তিক যৌ-নতা কিংবা কু-শব্দের ব্যবহার করেননি। গল্পের আবহে পাঠকের এই শব্দগুলো মনেও থাকবেনা। উপন্যাসের চরিত্রবিন্যাস অসাধারণ হয়েছে। প্রতিটা চরিত্রের সাথে ন্যায় করা হয়েছে। গল্পের ভাষা একদম সরল। আমার বরাবরই একটা জিনিস ই মনে হয় আমি আমার মায়ের মুখে কোন এক আরবান লেজেন্ড শুনছি। আমার কাছে সেই লেখাগুলো ভালোলাগে বেশি যা আমি প্রপার ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারি। "অদ্ভুত আঁধার এক " এর হেমনগর থেকে ঘুরে এলাম মনে হচ্ছে। শেষে এসে আমি এক্সপেক্ট করছিলাম যদি আরও কয়েকটি পৃষ্ঠা থাকতো। কিন্তু না, শেষ। . পরিশেষে, অদ্ভুত আঁধার এক শুধুই যে একটা উপন্যাস এমন নয়। এটা একটা জার্নি। যেই সফরে সমাজের বেশ কিছু কঠিন বাস্তবতা দেখতে পাওয়া যায়। মানুষের বিভিন্নরকম রূপ এর সাথে পরিচিত হওয়া যায়। . " অদ্ভুত আঁধার এক " বইটি পাবে ৫/৫ ১ পয়েন্ট একটা অতিপ্রাকৃত গল্পের সকল এলিমেন্ট ঠিকঠাক বজায় রাখবার জন্য, ১ পয়েন্ট প্রতিটা চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দেবার জন্য। ১ পয়েন্ট কিছুকিছু জায়গায় ভয় পাইয়ে দেবার জন্য। ১ পয়েন্ট সমাজের একটা আলাদা রূপ দেখানোর জন্য যা আমরা খালি চোখে দেখেও দেখিনা। ১ পয়েন্ট প্রচলিত কিংবদন্তীগুলোকে সাবলীলভাবে সাধারণ জীবনের সাথে জুড়ে দেয়ার জন্য। সবমিলে দারুণ এক্সপেরিয়েন্স " অদ্ভুত আঁধার এক "। মনে হচ্ছে শেষ হইয়াও হইল না শেষ। হ্যাপি রিডিং❤️
তুই আমাদের সন্তান। আমরা তোকে প্রাণ দিয়েছি। আমাদের টিকে থাকতে হবে... মানুষের মাধ্যমেই আমাদের টিকে থাকতে হবে। নিজেকে টিকিয়ে রাখার এই লড়াই চলছে সৃষ্টির শুরু থেকে, চলবে শেষ পর্যন্ত। নিজেকে বিলীন করে দেওয়ার সুযোগ নেই। পৃথিবীটা ভালো এবং মন্দের, আলো এবং আঁধারের। এখানে সবাই টিকে থাকতে চায় ।
' অদ্ভুত আঁধার এক ' একটি অতিপ্রাকৃত উপন্যাস। লেখক মনোয়ারুল ইসলাম এর বেশিরভাগ অতিপ্রাকৃত উপন্যাসই আমার পছন্দের। এই বইটাও আমাকে হতাশ করে নি। দারুন উপভোগ্য একটা বই ছিল এটা । রাতের বেলা যখন নিজের রুমে একা একা বইটা পড়ছিলাম, ভূত প্রেতে অবিশ্বাস করা আমার গা শিউরে উঠছিল। বইটায় পদে পদে রয়েছে দারুণ রোমাঞ্চকর রহস্য ।
মূল চরিত্র রতন। ছোট বাচ্চারা রতনকে দেখলে ভয় পায়। রতনকে প্রতিদিন দেখে যারা অভ্যস্ত হয়ে গেছে তারা ছাড়া ওকে কেউ স্বাভাবিক ভাবে দেখতে পারে না, সবাই ভয় পায়। কারণ রতনের শরীরের উপরের অংশ মানুষের মতো কিন্তু নিচে পা নেই , আছে লেজের অংশ। রতনের বাবা সর্বপ্রথম ওকে কোলে নিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন, তারপর থেকে আর তার হদিস পাওয়া যায় নি। রতনকে আগলে রেখেছিলেন তার মা মতিয়ারা বেগম। এই মতিয়ারা বেগমকে রতন অনেক ভালোবাসে, মা তাকে প্রতিদিন বাজারে নিয়ে যায় আর নিয়ে আসে, সব কাজে এই মা ছাড়া কেউ সাহায্য করে না। রতনের পরিবারের আরেকজন হলো শেফালি সে রতনের ভাবি। রতনের চাচাতো ভাই এর বউ শেফালি। এই তিন চরিত্র নিয়ে গল্প শুরু হয়ে আস্তে আস্তে এগোতে থাকে। গল্পে দেখা মেলে সেই অদ্ভুত প্রাণ এর । এসময় টিনা আর কায়সার আসে হেমনগরে। নিরঞ্জন ডাক্তারের দাদার বাড়িতে থাকতে শুরু করে তারা। নিরঞ্জন ডাক্তার গ্রামের নামী ব্যাক্তি, গ্রামের সকলে মান্য করে চলে তাকে। টিনা আর কায়সারের নতুন বিবাহিত জীবন শুরু হয় সেখানে। কিন্তু এরপর থেকেই টিনার অদ্ভুত লাগতে শুরু করে। প্রথমকদিন বেশ কেটে গেলেও অস্বস্তি শুরু হয় পরে। বিভিন্ন অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয় টিনা। সন্দেহ ঢুকে যায় কায়সারের মনেও।
এভাবে গল্প এগোতে থাকে। মিজান খুড়ো, নরেন, সুমন সহ আরো কিছু চরিত্রের আগমন ঘটে। কিন্তু চরিত্র গুলো গল্পটাকে যেন আরো প্রাঞ্জল করে যাচ্ছিল। সবমিলিয়ে দারুন একটা অতিপ্রাকৃত উপন্যাস 'অদ্ভূত আঁধার এক' ।
কিছু কথা :
উপন্যাসটা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য । উপন্যাসটায় বেশ কিছু গালাগাল আর কিছু যৌনতার বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু গল্পটাকে ভালো ভাবে তুলে ধরতে এগুলো দরকার ছিল বলেই আমার মনে হয়েছে , এই ছোট ছোট জিনিসগুলো গল্পে মগ্ন হতে সাহায্য করবে।
কিছু জায়গায় অল্প কিছু জিনিস ভুল মনে হয়েছে আমার। যেমন : প্রারম্ভে একটা বাক্য " নিজেকে টিকিয়ে -থাকার- এই লড়াই চলছে সৃষ্টির শুরু থেকে , " আবার ১৯ পেজের প্রথম লাইনে রতনের জায়গায় সবুজের নাম লেখা। " সবুজ অন্যদিনের চেয়ে আজকে দ্রুত ভাত খায়"
কিছু জায়গায় সংলাপের ব্যাবহার বেশি মনে হয়েছে। আর ১৫০ পৃষ্ঠার এই বইয়ের জন্য ৪০০ টাকা বিক্রয়মূল্য অনেক বেশি লেগেছে আমার কাছে।
বই : অদ্ভুত আঁধার এক লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম প্রকাশনী : নালন্দা পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫০ মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা নিজস্ব রেটিং : ৮.৫/১০
#পাঠ_আলোচনা: গতরাতে শেষ করেছি মনোয়ারুল ইসলামের #অদ্ভূত_আঁধার_এক বইটা। অদ্ভুত ছিলো এক মাত্র রতন আর ছিলো সেই জংলায় বাস করা প্রাণীটা। আদৌও প্রাণী না অশরীরী কিছু কে জানে। রতনের শরীরের গড়ন বড়ই অদ্ভুত। ঠিক যেনো আধখানা মানুষ। হ্যাঁ কোমড়ের উপর থেকে সব অঙ্গই আছে নেই শুধু পায়ের অংশ টুকু। তার বদলে আছে একটা লেজ সদৃশ অংশ। হ্যাঁ, তাকে দেখে ছেলে বুড়ো সবাই ভয় পায়। ছোট বাচ্চারা তো ভয়ে অজ্ঞান হয়েই যায়। আর আছে কিম্ভূতকিমাকার ফুটবলের মতো বড় একটা মাথা। আর সেই প্রানী? যা জংলায় থাকে। ও দেখতে ঠিক মাছের মতো। লেজের মাথায় চোখ। কেমন অদ্ভুত। আর আছে কিছু নিষিদ্ধ বাস্তবতার গল্প। যা আমাদের সমাজে ঘটে চলছে আড়ালে আবডালে। নিষিদ্ধ তবুও আদিম বন্যতার কাছে হেরে গিয়ে মানুষ মেতে যায় সেই নিষিদ্ধ খেলায়। লেখক সেই আধখান কিম্ভূতকিমাকার অদ্ভুত প্রতিবন্ধী ছেলেটার শারীরিক অক্ষমতার পাশাপাশি তুলে ধরেছে তার জৈবিক চাহিদা আর সামাজিক দৃষ্টিতে তার অবস্থান। এছাড়াও আরো কিছু চরিত্র আছে যারা সবাই স্বার্থান্বেষী হয়ে জড়িয়ে আছে অন্যায় অবৈধ সম্পর্কে। এসব তো ছিলো বইটার সামাজিক অবস্থান। এই সব এর বাইরেও আরো কিছু আছে যা পাঠকের শরীরে ভয়ের শিহরণ জাগাবে সেই সাথে কৌতুহল ও। আছে মতিয়ারা বেগমের সেই ভয়ে জড়ানো দিনটার কথা, আছে অদ্ভুত দেখতে রতনের জন্মের রাতটার কথা, আছে শেফালির সাথে ঘটে যাওয়া সেই নিকৃষ্ট রাতের কথা আর আছে রতনের মানুষ থেকে অতিপ্রাকৃত কিছু একটা হয়ে উঠার কথা এর বাইরেও আরো কিছু আছে যা পাঠকের পড়ে জেনে নিতে হবে। সাথে আছে আরো একটা দম্পতির কথা যাদের জন্য হেমনগরবাসী সাময়িক সস্তি পায়। আর রয়ে যায় রতনের মৃত্যুতে চেয়ে থাকা অদ্ভুত সুগন্ধের অধিকারী ছাতিমের মগডাল থেকে চেয়ে থাকা সেই একজন আর একজন নবজাতক যে হবে রতনের বংশধর।
#সমালোচনা: সমালোচনা করার মতো তেমন বিষয়বস্তু নেই। তবে লেখক কিছু জায়গায় অনেকটা অংশ পাঠকের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। সেসব জায়গায় বর্নণা করা প্রয়োজন ছিলো। কাহিনি এগিয়েছে সুপার সনিক গতিতে। এক বসায় পড়ে শেষ করার মতো বই। কিন্তু শেষটায় যেনো শেষ হয়েও ঠিক শেষ হয় নি। আর লেখক শেষটায় গিয়ে একটা হৃদয় বিদারক ঘটনা তৈরি করেছে।
এর বাইরেও যা সব আছে, তা পাঠক পড়ে নিলেই জানতে পারবেন। ঘটনার পিছনের কারণগুলো সর্বদা রহস্যময়। আর হ্যাঁ গল্পটা প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।
শেষটা এমন হবে ভাবিনি। বেঁচে থাকা�� অনুভুতি মনে হয় সবারই এক।
অদ্ভুত আঁধার এক। অদ্ভুত সুন্দর বই। লেখনি খুবই সুন্দর। গ্রামের দৃশ্য, মিথ, সমাজের কুসংস্কার ভালোভাবেই লেখক তুলে এনেছেন তার লেখনিতে। লেখকের অন্ধভক্ত বলে বলছি না, লেখকের সবচেয়ে বড়ো শক্তি হল তার গল্প বলার ক্ষমতা। ঝরঝরে গদ্যে লেখক এমনভাবে গল্প বলেন যেন মনে হয় চোখের সামনে সব ঘটছে।
রতন। গ্রাম্য যুবক যার বয়স পঁচিশ হবে। তাকে সবাই মনে করে সে মানুষের সন্তান না। জন্মদাতা পিতাও সন্দেহ করে রতনের জন্ম নিয়ে। এখান থেকেই লেখকের গল্প শুরু হয়ে শেষ হয় লেখকের চিরাচরিত স্টাইল দিয়ে। গল্পের শেষটা আন্দাজ করেছিলাম একভাবে। কিন্তু লেখক ভালোই জানেন তার পাঠকে কীভাবে চমকানো যায়। তিনি তাই করেছেন। এবার বাকি দুটো বই পড়ার অপেক্ষায় আছি।
বইটা যদিও প্রাপ্তমনস্কদের জন্যই, তবুও মনে হয়েছে কিছু কথাবার্তা না যোগ করেও বোধহয় কনটেক্সট বোঝানো যেতো ৷ বইটার প্রতিটা পুরুষ চরিত্র যেন একই রকম, এবং সবারই মেয়েদের দিকে কেবল কামুক দৃষ্টি ৷ একটা বইয়ে প্রতিটা পুরুষ চরিত্রই যখন এমন হয় তখন পড়তে গিয়ে অস্বস্তি লাগেই, এমনকি কায়সারের চরিত্রও এর ব্যতিক্রম নয় ৷ টিনা কী দেখে প্রেমে পড়েছিল, কে জানে?! যাই হোক, হরর ফ্যান্টাসী হিসেবে চিন্তা করলে খুব ভাল একটা আবহ তৈরি করা হয়েছিল, লেখকের লেখার হাত ঝরঝরে, এটা বলাই বাহুল্য ৷ তিনি গল্প এগিয়েও নিয়ে যান সুন্দর মতোই কিন্তু শেষটায় গিয়ে হতাশ হলাম ৷
লেখকের 'রক্তের জবা' বইটা পড়েছিলাম মাসখানেক আগে, সেটার ক্ষেত্রেও শেষে গিয়ে ক্লাইম্যাক্সটা ঠিক জমেনি ৷ এই বইটাতেও সেটাই হয়েছে, হুট করে শেষ হয়ে গেল যেন ৷ আর অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলে নি, যদি কখনো এর সিকুয়েল বা প্রিকুয়েল জাতীয় কিছু আসে এবং লেখক সেখানে পুরোটা সলভ করেন তাহলে আলাদা কথা ৷ নইলে বইটা পড়ে কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা মেলে না ৷
স্পয়লার এলার্টঃ জংলার ভেতর ঐ জায়গাটার ব্যাকস্টোরি কী, এর উৎপত্তি কীভাবে বা এত সহজে কি সে থেমে গেল?- এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায় ৷ নদী থেকে আনা মাছটার সাথেই বা এর যোগসূত্র কোথায়? সামাদকেই বা কেন খুন করা হল? শুধু রতনকে ছুঁড়ে ফেলেছে বা গ্রহণ করেনি তাই? নাকি এর অন্য ব্যাখ্যা আছে?
"কি" এবং "কী" এর ব্যবহার এই বইয়েও এক হয়ে গেছে, সব জায়গায় "কী" এর ব্যবহার চোখে লেগেছে ৷ দুয়েকটা প্রিন্টিং মিসটেকও ছিল ৷ তবে অন্যবারের মতই বইয়ের প্রচ্ছদ সুন্দর ৷ গল্পের বিল্ডাপটা যতটা স্মুথ হয়েছে, শেষটাও যদি ওরকম হতো তাহলে বেশি ভাল লাগতো ৷
মনোয়ার ভাইয়ের লেখা বকুলফুল পড়ার পর এই দ্বিতীয় কোনো বই হাতে নিলাম তার লেখা। এবং সেজন্যই বুঝি সবচাইতে অবাক হয়েছি লেখার অদ্ভুত মেদহীন গড়নের জন্য। ঝরঝরে। এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করার মত বই শুধু এই এক কারণে। লেখক লাভক্র্যাফটিয়ান বললেও আমি একে কেবল অতিপ্রাকৃত উপন্যাসই বলবো। বেশ চমৎকারভাবে কাহিনী এগিয়েছে। চরিত্রগুলো যথাস্থানে ও নিজেদের ভূমিকা ঠিকঠাক পালন করেছে। সমাপ্তিতে মতিয়ারার কাজটা দারুণ মনে ধরেছে। যৌনতার সাবলীল ও স্বাভাবিক উপস্থাপন ভালো লেগেছে।
৪.৫/৫ বইটা আরো ২০/৩০ পাতা বড় হলে ক্ষতি হত না। ব্যক্তিগত অভিমত- এই বইটাতে ভৌতিক ভাইবটা লেখকের অন্যান্য বই থেকে কম। তবে যতটুকু আছে তা পড়ার সময় ঘাড়ের লোম খাড়া হয়ে গেছিল। মনে হচ্ছিল কেউ আমাকেই দেখছে অন্ধকার থেকে।
শুরুটা সুন্দর হলেও পরিনিতিতে একরাশ হতাশা নিয়ে শেষ করতে হয়েছে। পরিণতিতে একটু বর্ণনা করলে আরো ভালো হতো।এবং অনেক অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছেন লেখক। এতটুকু মেনে নিলে গল্পটা ভালো ছিল।