ছোটোবেলা থেকেই রোগে আক্রান্ত কলি হাসান, কানে শুনতে পায় না। বিখ্যাত এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী কলিকে তাই আলাদা যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়। তো বিশেষ এই যন্ত্র যে একদিন অতিপ্রাকৃতের সঙ্গে কলির সংযোগ-সেতু হয়ে উঠবে, তা কে জানত? আর কে-ই বা জানত, নতুন স্যার সায়নের মাঝে এত্ত কিন্তু আছে? আচমকা স্যায়ন স্যারের কুনজরে পড়ে গেল কলি... ...বোঝা গেল, ওকে হত্যা না করা পর্যন্ত থামবে না স্যায়ন স্যার! এদিকে কলি না পারছে কাউকে কিছু বলতে, না পারছে কিছু করতে—প্রমাণ নেই যে! হয়তো সেজন্যই, কলির বাঁচার আকুতি শুনে মুচকি হাসছে সায়ন। জয় হবে কার? অসহায় কলির? নাকি ক্রূর সায়নের?
জন্ম সিরাজগঞ্জে, ১৯৮৮ সালে। এসএসসি. পাশ করেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে, এইচএসসি-রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সমাপ্ত করে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে। বর্তমানে কর্মরত আছেন কক্সবাজার জেলায়।
লেখালেখি শখের বসে, অনুবাদ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রথম প্রকাশিত বই আদী প্রকাশন থেকে-ট্রল মাউন্টেন। সেই সাথে রহস্য পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি।
স্কুলছাত্রী কলি, আর নতুন আসা শিক্ষক সায়ন—মূলত এই দুই প্রধান চরিত্র নিয়ে গল্পটার গোড়াপত্তন আর যবনিকাপাত। রহস্যের সাথে অতিপ্রাকৃতের মিশেলে ছিমছাম একটা নভেলা। এক টানে পড়ে যাওয়ার মতো।
শ্রবণপ্রতিবন্ধী কলির জার্মানির থেকে আনা হেয়ারিং এইডটা স্কুলে নতুন স্পানিশ টিচার সায়ন আসার সাথে সাথেই অদ্ভুত আচরণ শুরু করল। কিসব জানি শুনতে পাচ্ছে কলি যা কাউকেই বলা যাচ্ছে নাহ। ধীরে ধীরে অতি ক্রুর একটা ঘটনা জানতে পারে কলি। ভীষণ বিপদে পড়া কলি এখন কি করবে?
আমি লেখকের বড় ফ্যান। কিন্তু উনি এই বইটা ক্যান লিখল বুঝতে পারলাম নাহ।
খুব বেশি একটা ভালো লাগেনি। বিশেষ করে মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহের লেখা যেমন হয়ে থাকে তার থেকে একটু ভিন্ন মনে হয়েছে। মানে ভাষাটা কেমন যেন একটু অন্যরকম লেগেছে। গল্পটাও তেমন আহামরি কিছু লাগে নাই। আসলেই বইটা এত বড় না হলেও পারতো।,গল্পটা আসলে অত বড় না।
কলি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। যে স্কুলে পড়ে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর সাথে সবচেয়ে বড় কথা কলি হেয়ারিং এইড ছাড়া শুনতে পায় না। কিন্তু এই হেরায়িং এইড যে তার জীবনে এত বড় পরিবর্তন তা কে জানত? এই স্কুলে সদ্য জয়েন করা শিক্ষক মি সায়ন। সে স্কুলে আসার পর থেকেই কলির হেয়ারিং এইড গোলমাল করতে শুরু করে। কলির সাথে শুরু হয় অতিপ্রাকৃত এক জগতের সংযোগ, আর এর সাথে আছে সায়নের এক যোগ।
সায়ন ও বুঝে ফেলেছে, কলি হাসান জানে তার রহস্য। মরিয়া হয়ে উঠেছে কলি কে হত্যার জন্য। কলি কি নিজেকে রক্ষা করবে ? কী রহস্য জানে সে? কলি সব যেমন নিজে বলতে পারছে না, কেউ তার কথা বিশ্বাস করল না। প্রিয় বন্ধু আদৃতা আর নিক্কি কে সে জানালো। কিন্তু তারা কী তার এই অদ্ভুত গল্প মানবে?
কিশোর উপন্যাস বলা চলে এটি। একজন বিখ্যাত লেখকের গল্পের অনুপ্রেরণা আছে গল্পে।
গল্প খুব দ্রুত দৃশ্যপট বদলেছে, চাইলে কিছুটা আগে পরে আরো কিছু যোগ করা যেত। কিছু কিছু ঘটনাকে কিছু সময় নিয়ে লেখা যেত হয়তো। তবে অল্প কিছু চরিত্র দিয়ে পুরো গল্প দারুন এগিয়েছে। মূল দুই চরিত্র সমান স্থান পেয়েছে। কন্সেপ্ট অনুসারে এটা দুর্দান্ত। পাঠকের কাছে অনেক প্রশ্ন রেখে যায়, আমার কাছে মনে হয়েছে কিছু বিষয় পাঠক নিজের মনের মত করে ভেবে নিতে পারবে। কলির চিন্তা ভাবনা কাজ , সাহসিকতা পাঠকের ভালো লাগবে। সে যে সাহস দেখিয়েছে সেটা অনেকেই দেখাতে পারবে না। কোন খুন পারফেক্ট না, তবে আমাদের গল্পের খুনী সত্যিকার অর্থে একটা পারফেক্ট মার্ডার করেছিল। কেউ সেটা জানত না যদি না ……।।
কলির কথা শুনে সায়ন কেন হেসেছিল? এ হাসির অর্থই বা কী? লেখক শেষ পেজে যে প্রশ্ন রেখে গেছে তা কী অন্য রহস্য নিয়ে পরবর্তী গল্পে আসবে?
কলির কথা শুনে সায়ন হাসে মো. ফুয়াদ আল ফিদাহ নামে সংখ্যাটা ১১৪, আর বেনামে যাওয়া লেখাগুলো আমলে নিলে সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি, সুতরাং Dr. Md Fuad Al Fidah-র লেখা নিয়ে কিছু বলাটা বাতুলতা মাত্র। যারা ফিদাহ ভাইয়ের বই পড়েছেন, তারা এই ব্যাপারে সম্যক ওয়াকিবহাল। সম্প্রতি আরেকবার পড়া হলো তার লেখা ‘কলির কথা শুনে সায়ন হাসে। নোভেলা আকারের বই। আলোচনা করতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে। তবে এক কথায় বলতে গেলে চমৎকার একটা বই। নিশ্চিন্তে ভালো একটা সময় কাটার কথা বইটার সাথে। চাইলে আপনার টিন এজ সন্তান কিংবা ভাই-বোনদেরও পড়তে দিতে পারেন; ওই বয়সী ছেলেমেয়েরাও দারুণ উপভোগ করবে গল্পটা। ধন্যবাদ। কাহিনী সংক্ষেপ: ছোটোবেলা থেকেই রোগে আক্রান্ত কলি হাসান, কানে শুনতে পায় না। বিখ্যাত এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী কলিকে তাই আলাদা যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়। তো বিশেষ এই যন্ত্র যে একদিন অতিপ্রাকৃতের সঙ্গে কলির সংযোগ-সেতু হয়ে উঠবে, তা কে জানত? আর কে-ই বা জানত, নতুন স্যার সায়নের মাঝে এত্ত কিন্তু আছে? আচমকা স্যায়ন স্যারের কুনজরে পড়ে গেল কলি... ...বোঝা গেল, ওকে হত্যা না করা পর্যন্ত থামবে না স্যায়ন স্যার! এদিকে কলি না পারছে কাউকে কিছু বলতে, না পারছে কিছু করতে—প্রমাণ নেই যে! হয়তো সেজন্যই, কলির বাঁচার আকুতি শুনে মুচকি হাসছে সায়ন। জয় হবে কার? অসহায় কলির? নাকি ক্রূর সায়নের?
উপন্যাসটা এত বড় না হলেও পারত। লেখক অযথা টেনে বড় করেছেন এমন মনে হল। ছোট গল্প হতে অনুপ্রাণিত, মনে হয়েছে স্টোরিলাইনটা ছোট গল্প হিসেবেই পারফেক্ট, উপন্যাস হিসেবে না।