ঢাকার এক আবাসিক হোটেলে পাওয়া গেল লাশ। খুনের তদন্ত শুরু হতেই সিআইডির ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার জাহিদ মুখোমুখি হলো অবিশ্বাস্য ঘটনার। তার চোখের সামনেই উনিশ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল প্রিয় বন্ধুর ছয় বছর বয়সী ছোটো ভাই জিসান। আজ তারই প্রেতাত্মা যেন জেগে উঠেছে আবার। জিসানের ডিএনএ খুঁজে পাওয়া গেল মার্ডার সিনে। জিসান শুধু নিখোঁজ হলেও হয়তো ল্যাঠা চুকে যেত, কিন্তু তাকে খুনের দায় স্বীকার করে দেড় যুগ ধরে জেলে বন্দী এক সিরিয়াল কিলার!
এদিকে শহর থেকে একের পর এক গায়েব হয়ে যাচ্ছে কেন কিশোরী মেয়েরা? কোথায় যাচ্ছে তারা?
অদ্ভুত সব ঘটনাপ্রবাহ বহু বছর পর একত্রিত করল চার বন্ধুকে। জিসান হারিয়ে যাবার দিন তারা প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিল ওই জঙ্গলে। কী ঘটেছিল আসলে সেদিন? ওরা নিজেরা কি সবাই সত্য বলছে নাকি লুকিয়ে রেখেছে গোপনতম রহস্য?
শুরু হলো এক দুরন্ত যাত্রা, যার শেষে অপেক্ষা করছে এক ভয়াবহ সত্য। তবে তার মুখোমুখি হবার আগে আপনাকে খুঁজে পেতে হবে মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য রহস্য আর প্রশ্নের জবাব।
প্রিয় পাঠক, আপনাকে স্বাগত টুইস্ট মাস্টার হারলান কোবেনের টিভি সিরিজ 'দ্য ফাইভ'র নভেলাইজেশন 'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে'—এ। কথা দিতে পারি, এমন দুরন্ত গতির থ্রিলার আপনি খুব একটা পড়েননি।
বইটা শেষ করে চা খেতে গেছিলাম মোড়ের চায়ের দোকানে। চা খেতে খেতে শেষের পৃষ্ঠাগুলা আবার পড়তেছিলাম। এমন সময় হঠাৎ ঝাঁকরা চুলের বাবড়ি দোলানো জনৈক ব্যক্তি পাশে এসে বসল । - কী পুস্তক পড়ছ, বাছা? জয়কলি বিসিএস গাইড? উত্তর দেয়ার আগে ঝাঁকরা চুলধারীর তাকিয়ে দেখি আর কেউ না, স্বয়ং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আমি কিছু বলার আগেই আবার বললেন, - এখান দিয়েই যাচ্ছিলাম, চায়ের দোকানে তোমাকে পুস্তক পড়তে দেখে কৌতুহলী হয়ে থমকে গেলাম। - জ্বি না, বিদ্রোহী কবি। জয়কলি গাইড না। বইয়ের নাম ‘তবু আমারে দেবনা ভুলিতে’ - আমার রচিত সংগীত বিষয়ক পুস্তক? - জ্বি না, কবি। ইহা একখানা মিস্ট্রি-থ্রিলার ধর্মী উপন্যাস। তবে আপনি ঠিকই ধরেছেন, উপন্যাসের নাম আপনার রচিত গান থেকেই নেয়া হয়েছে। আর উপন্যাসের গল্প নেয়া হয়েছে বিখ্যাত থ্রিলার লেখক হারলান কোবেনের টিভি সিরিজ 'দ্য ফাইভ' থেকে। - বাহ! চমতকৃৎ হলাম। বিদেশি গল্প অবলম্বনে দেশি উপন্যাস। তা কেমন লাগল পাঠ করে? - ভাল ছিল, বেশ ভাল। অত্যন্ত উপাদেয়। লেখক অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে দেশীয় পটভুমিতে রুপান্তর করেছেন। চা খাবেন কাজীদা? - চা খাওয়া যায়। চিনি কম, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তা গল্প টা কী নিয়ে? - ব্যক কাভার থেকেই কাহিনি সংক্ষেপ বলে দেই? ঢাকার এক আবাসিক হোটেলে পাওয়া গেল লাশ। খুনের তদন্ত শুরু হতেই সিআইডির ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার জাহিদ মুখোমুখি হলো অবিশ্বাস্য ঘটনার। তার চোখের সামনেই উনিশ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল প্রিয় বন্ধুর ছয় বছর বয়সী ছোটো ভাই জিসান। আজ তারই প্রেতাত্মা যেন জেগে উঠেছে আবার। জিসানের ডিএনএ খুঁজে পাওয়া গেল মার্ডার সিনে। জিসান শুধু নিখোঁজ হলেও হয়তো ল্যাঠা চুকে যেত, কিন্তু তাকে খুনের দায় স্বীকার করে দেড় যুগ ধরে জেলে বন্দী এক সিরিয়াল কিলার! এদিকে শহর থেকে একের পর এক গায়েব হয়ে যাচ্ছে কেন কিশোরী মেয়েরা? কোথায় যাচ্ছে তারা? অদ্ভুত সব ঘটনাপ্রবাহ বহু বছর পর একত্রিত করল চার বন্ধুকে। জিসান হারিয়ে যাবার দিন তারা প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিল ওই জঙ্গলে। কী ঘটেছিল আসলে সেদিন? ওরা নিজেরা কি সবাই সত্য বলছে নাকি লুকিয়ে রেখেছে গোপনতম রহস্য? - বাহ! কাহিনিতো বড়ই চিত্তাকর্ষক। - আপনি হচ্ছেন বিদ্রোহী কবি, আপনার চিত্ত আকর্ষন তো করবেই। - কোন বিষয়টা বেশি ভাল লেগেছে? - গল্পের গতি। গতি দ্য স্পিড। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক কথায় রোলার কোস্টার রাইড? রোলার কোস্টার চেনেন তো কবি সাহেব? - শুনেছি ওটার কথা, চড়া হয়নি। অত্যন্ত দুরন্ত গতির বিনোদনধর্মী বাহন। - সুযোগ পেলে চড়ে নেবেন। ওটা আপনার জন্যই বানানো। - অবশ্যই। আর কী কী ভাল লেগেছে? - স্টোরি টেলিং ভাল ছিল। আপনাকে একেবারে শুরু থেকেই আটকে রাখবে বইয়ের পাতায়। চরিত্রায়ন গুলোও ছিল যথেষ্ট রিয়েলেস্টিক। আর আছে ট্যুইস্ট। একের পর এক ট্যুইস্ট আপনাকে দম ফেলতে দেবে না। তবে দম ফেলার জন্য হালকা পাতলা হিউমার আর রোমান্সেরও ব্যবস্থা রেখেছেন লেখক। - ভাল লাগেনি এমন কিছু আছে? - সেই অর্থে নেগেটিভ তেমন কিছু পাইনি আমি। তবে, হাজার হোক, মূল গল্পটা একটা বিদেশি পটভূমিতে। কাজেই হালকা পাতলা কিছু বিষয় চোখে লাগতেও পারে। কিছু কিছু ঘটনা একটু বেশিই কাকতালীয়ও মনে হতে পারে। কিন্তু ওভারঅল সবকিছু বিবেচনা করলে, এসব অনায়াসে উপেক্ষা করা যায়। - তোমার কথা শুনে বইটা পড়ার বিষয়ে আগ্রহ বোধ করছি। - এটাই নিয়ে যান কাজীদা । আপনাকে বইটা উপহার দিয়ে আমি ধন্য হই। আর কথা না বাড়ইয়ে স্মিত হাস্য দিয়ে চলে গেলেন বিদ্রোহী কবি। সাথে সাথে চায়ের দোকানদার হান্নান মামা বলে উঠলো, - গেল আরেক জনরে চুনা লাগায়া। - মানে? - ওইটা কবি নজরুল না। পাইকপারার বাতেন ভাই, মসজিদ গলিতে বাসা। কবি নজরুলের ভং ধইরা থাকে। আর সুযোগ পাইলেন লোকজনরে চুনা লাগায়া এইটা ওইটা বাগায়া নেয়। - এ তো সেই ট্যুইস্ট দিলে তুমি। তোমার নাম আজ থেকে ট্যুইস্ট মাস্টার হান্নান করিম। - এই টা আর কি টুইস্ট, উপ্রের দিকে চাইয়া দেখেন, মিস্টার টুইস্টের গোডাউন। আপ্নের ওই টুইস্ট মাস্টারের চাইতে বেশি টুইস্ট আমিই দিবার পারুম। - হুম। - বইয়ের নাম জানি কি কইলেন মামা? - ‘আমারে দেব না ভুলিতে।’ - সাড়ে বারোশো টাকা বাকি আপনের। আপনারে এমন্তেই ভোলা সম্ভব না। এহন বইয়ের নামটা কন।
যেহেতু এটা কোবেনের একটা টিভি সিরিজের নোভেলাইজেশন, লেখকের পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল নিজের কল্পনাকে মেলতে দেয়ার। আর সেটাই করেছেন তিনি। শুরু থেকে শেষ অবধি একদম রোলার কোস্টার রাইড। একটা ব্যাপারই একটু চোখে লেগেছে যে একটা মোটামুটি স্মল টাউন মিস্ট্রিকে একটা মেট্রোপলিটন শহরের আদলে তৈরি করায় কাকতালীয় ব্যাপারটা তুলনামূলক বেশি হয়ে গেছে আরকি। তবে এটা ওভারলুক করাই যায়।
ছোট্ট বেলার বন্ধুদের সাথে রি-ইউনিয়ন সব সময়ই সুখের হয়। অন্তত তেমনটাই ধারণা ছিলো মেহরাব খানের। যে সোনালী সময়গুলো পার করেছে ছোট বেলার বন্ধু জাহিদ, রুমি, নিম্মি’র সাথে, সে সময় হয়তো হারিয়ে গেছে কিন্তু প্রিয় মুখগুলো তো রয়ে গেছে। তাদের সাথে দেখা হলে নস্টালজিয়ায় হয়তো পুরনো দিনগুলোর সেই আনন্দে আবার ভাসবে সে। সেরকম ভেবেই ছোট্টবেলার বন্ধু জাহিদ, যে কিনা এখন সিআইডির ইন্সপেক্টর; যখন ওকে দেখা করার জন্য ডাকলো তখন আর এক মূহূর্তে দেরী করেনি মেহরাব। দুয়েক কথা হতে হতে ডাকার পেছনে মূল কারণ বলা শুরু করলো জাহিদ।
হোটেল ব্লু প্যারাডাইস নামের একটি হোটেলের এক রুমে খু*ন হয়েছে এক নারী। একবারে বিভৎ*স ভাবে। তবে সিআইডি ইন্সপেক্টরের কাছ থেকে খু*নের কথা শুনে খুব একটা অবাক হয়না মেহরাব-রুমিরা। বরঞ্চ একটু অবাক হয় তাদের ডেকে এ ঘটনা বলছে কেন জাহিদ? আর তখনই বোমাটা ফাটায় জাহিদ। ক্রাইমসিনে এমন একজনের ডিএনএ স্যাম্পল পাওয়া গেছে যেটা কোনভাবেই পাওয়ার কথা না। তবে ডিএনএ স্যাম্পলের মালিক হিসেবে যার নাম জাহিদ বলে, তার নাম শুনে পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায় মেহরাবের। মনে পড়ে যায় ১৯ বছর আগের ঘটনা, যেটা ভুলতে চায় সে প্রতিনিয়ত। শুধু মেহরাব না, ভুলতে চায় রুমিও। কারণ সেই স্মৃতিটা মোটেও সুখকর কিছু না।
কিন্তু আবেগকে একপাশে সরিয়ে যদি বাস্তবতার কথা চিন্তা করে ওরা তাহলে প্রশ্ন আসে, যে মানুষটা ১৯ বছর আগেই হারিয়ে গেছে তার ডিএনএ কিভাবে ক্রাইমসিনে আসতে পারে? তবে কি ১৯ বছর আগে যেটা ঘটেছিলো সেটা সত্য না? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোন ঘটনা? এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সবাই সত্য কথা বলছে তো?
এরকম একটা দোদুল্যমান পরিস্থিতি তৈরী করে শুরু হয়ে যায় আবুল ফাতাহ মুন্না’র ‘তবু আমারে দেবো না ভুলিতে’ উপন্যাসটা। একটা সাক্ষাৎকারে বাতিঘরের প্রকাশক, লেখক মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন ভাই বলেছিলেন, কোন লেখকের কোন বইই ১০০ ভাগ পাঠকের ভালো লাগে না। টার্গেট পাঠকের মোটামুটি ৭০ ভাগের কাছ��� ভালো লাগলেই লেখকের খুশি থাকা উচিত। এই কথাটা খুবই সত্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু কিছু লেখক থাকেন যাদের বই আসলে টার্গেট পাঠকের বেশিরভাগেরই ভালো লাগে। আমার কাছে মুন্না ভাইকে তেমন একজন লেখক মনে হয়। চমৎকার ভাষাশৈলী, শব্দের ব্যবহার, গল্পের ফ্লো তৈরীতে তিনি বেশ সিদ্ধহস্ত। ‘তবু আমারে দেবো না ভুলিতে’ও আমার কাছে মুন্না ভাইয়ের সেরকম একটা বইই মনে হয়েছে। এখানে একটা কথা আছে। এই বইটা কিন্তু মুন্না ভাইয়ের পুরোপুরি মৌলিক বই না। এটা লেখা হয়েছে বাংলাদেশের থ্রিলার পাঠক সমাজের হাল আমলের অন্যতম পছন্দের লেখক হারলান কোবেনের ‘দ্য ফাইভ’ টিভি সিরিজ এর ছায়া অনুসারে, যেটাকে মোটাদাগে আমরা বলি অ্যাডাপ্টেশান। যদিও হারলান কোবেন এই গল্পটা স্রেফ সিরিজের জন্যই লিখেছেন (কোন বই নেই এটার), তবুও এই সিরিজে হারলান কোবেন তার সিগনেচার স্টাইল দুর্দান্ত টুইস্ট, পেজ টার্নার সাসপেন্স রেখেছেন। আর মুন্না ভাই সেটার অ্যাডাপ্টেশানে নিজের ষোলআনা কাজ দেখিয়েছেন। অ্যাডাপ্টেশান এতটাই ভালো হয়েছে যে, এটা কোনভাবেই অ্যাডাপ্টেশান মনে হচ্ছে না, মনে হচ্ছে যেন একটা মৌলিক বই। মুন্না ভাইয়ের লেখার একটা স্পেশালিটি হচ্ছে, স্মুথ লেখা। এই ব্যাপারে একটা আইডিয়া দিই।
এই বইটা যখন বেটা রিডিং এর জন্য মুন্না ভাই পোস্ট দিলেন আর সময়ে হিসেবে বেঁধে দিলেন ১ দিনেরও কম সময়, আমি তখন ভীষণ ব্যস্ততার মাঝে আছি। তবুও মুন্না ভাইর লেখা বেটা রিডিং এর লোভ সামলাতে পারলাম না। মনে মাঝে একটা কনফিডেন্স ছিলো, ভাইয়ের লেখা এতটাই স্মুথ হয় যে, একবার হাতে নিতে শেষ না করে ওঠা যায় না। ১৭৬ পৃষ্ঠার বইটা অবশ্য ব্যস্ততার জন্য আমি একবারে শেষ করতে পারিনি, তবে যে টাইমে শেষ করেছি সেটাও আমার জন্য রেগুলার কোন কাজ ছিলো না। এবং শেষ করে আমি একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেছি। এত সুন্দর ফ্লোতে লেখা বইটা যে আপনি চাইলে এক বসাতেই শেষ করতে পারবেন। আমি শেষ কয়েক পাতার আগে টুইস্ট ধরতে পারিনি। আমার ধারণা কেউই পারবেন না। যদি কেউ পারেন প্রমাণ দেখায়েন, আমি আপনাকে কাচ্চি খাওয়াবো (আসলে খাওয়ানো লাগবে না, আপনি যত ভালো রিডারই হোন, কোনভাবেই এই বইয়ের শেষ টুইস্ট ধরতে পারবেন না)।
আমি একেবারে ২-১ জন মানুষ চিনি, যারা আমার রেকমেন্ডশনের ওপর ভরসা রাখেন। তাদের বলছি, এই বইটা আপনি চোখ বন্ধ করে নিতে পারেন। ৩৫০ টাকা মুদ্রিত মূল্যে একদম পয়সা উসুল টাইপ বই। সেই সাথে যারা আমার ওপর আলাদা করে ভরসা করেন না, তাদেরকেও বলছি; আপনি যদি থ্রিলার বইয়ে টুইস্টকে আলাদা করে ভালোবাসেন, পেজ টার্নার সাসপেন্স থ্রিলার বই যদি আপনার পছন্দের তালিকায় থাকে সেই সাথে দারুণ স্মুথ লিখনশৈলীর একটা থ্রিলার বই পড়তে চান, তবে নন্দন থেকে ২রা ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত হওয়া ১৭৬ পেজের ‘তবু আমারে দেবো না ভুলিতে’ বইটা চোখ বন্ধ করে কিনে ফেলুন। গরম গরম বইটা পাওয়া যাবে ‘অমর একুশে বইমেলা’য় ভূমিপ্রকাশের স্টলে (স্টল নাম্বার ১৯৩-১৯৪)।
বিদ্রোহী কবি একদা বলিয়াছিলেন, "আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো, তবু আমারে দেব না ভুলিতে।"
চাইলেই কি চিরতরে দূরে চলে যাওয়া যায়?
কি ভাবছেন, কি রোমান্টিক গাল গপ্প কেন ফেঁদে বসলাম? প্রেমে ট্রেমে পড়েছি নাকি?
নারে ভাই, এ গল্প সম্পূর্ণই ভিন্ন। প্রেম পিরিতির সাথে এই গল্পের যোগসূত্র নেই। বরং যোগসূত্র আছে ভয়ংকর এক দু:খভরা থ্রিলিং অতীতের ঘটনার৷ যে ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ভয়ংকর সাইকোপ্যাথের গল্প। এক ছয় বছরের শিশু বা তার পরিবার পরিজনের গল্প। সময়ের পরিক্রমায় সকল দু:খই একসময় চেপে যায়। কিন্তু চেপে যাওয়া আর ভুলে যাওয়া কিন্তু এক নয়। পুরনো ক্ষততে খোঁচা লাগলে ব্যথা ঠিকই ফিরে আসে।
বেটা রিডার হওয়ার সুবাদে পড়ে ফেললাম Abul Fattah Munna ভাইয়ের 'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে'। হারলান কোবেনের দ্য ফাইভ সিরিজ অবলম্বনে সম্পূর্ণ দেশীয় পটভূমিতে লেখা বইটির নাম দেখে ধোঁকা খেয়ে যাবেন না যেন৷ এই গল্প আপনাকে পরতে পরতে অবাক করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
জিসান। ছয় বছরের এক শিশু। ১৯ বছর পূর্বে নিখোঁজ হয়। ভয়ংকর এক পে ডোফাইল সিরিয়াল কি লারের বক্তব্য অনুযায়ী সেই খু ন করেছে জিসানকে। সেই খুন সহ কয়েকটা খুনের অপরাধে সে প্রায় দেড় যুগ কারাবন্দি। সেধে সেধে তো আর কেউ নিজের কপাল পোড়ানোর জন্য অপরাধ স্বীকার করবে না। তাহলে খুন নিশ্চয়ই সে করেছে। উনিশ বছর আগে যেই ছেলে খুন হয়েছে, বর্তমান সময়ের এক মার্ডার সিনে তার ডিএনও কিভাবে পাওয়া যায়? তবে কি জিসান বেঁচে আছে? নাকি গভীর কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে? এদিকে শহর থেকে একের পর এক মেয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে তারা? এসবের পিছনেই বা কে আছে? জিসানকে শেষ যে চারজন দেখেছে, তারা সবাই কি সত্য কথা বলছে? এদের মধ্যে একজন আবার জিসানের আপন ভাই। ভাই হয়ে কি ভাইয়ের ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলবে? তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে না? হ্যা আমার আপনার মত সিআইডির ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার জাহিদের ব্রেনের ধূসর কোষগুলোতেও জট পাকিয়ে গিয়েছে। কারণ জিসান যেদিন হারিয়ে যায়, সর্বশেষ চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর একজন ছিল কিশোর জাহিদ!
আমি ছোট বেলার থেকে সেবা প্রকাশনীর ফ্যান। তারা বেশ কিছু এডাপ্টেশন এত সুন্দর করে করতো মনেই হত না এটা বিদেশী গল্প। ইউসুফ ফারুকের দ্বীপ বিভীষিকা বইটা যে এন্ড দেন দেয়ার ওয়্যার নান বইয়ের এডাপ্টেশন, ইংরেজি বইটা না পড়লে কেউ আমাকে গু লি করলেও বিশ্বাস করতাম না। সেই বইয়ের অনেকদিন পর কোনো এডাপ্টেশন পড়ে এত মজা পেলাম। তাও সরাসরি সিরিজ থেকে এডাপটেশন করা জন্য কাজটা নিশ্চয়ই কষ্টকর ছিল। মুন্না ভাইয়ের লেখনী নিয়ে আসলে আলাদা করে প্রশংসা করার কিছু নেই। তার লেখা সবসময়ই ভীষণ সুখপাঠ্য। এই বইয়েও সেটা ধরে রেখেছেন। বই পড়তে গেলে মনেই হতে পারে মৌলিক কোনো বই পড়ছেন। কোনো রকম আড়ষ্টতা নেই। জায়গা মত সেন্স অফ হিউমারের ব্যবহার লক্ষণীয়। শব্দের প্রয়োগ আর বাক্যগঠন আলাদা প্রশংসার দাবী রাখে। দারুণ আকর্ষণীয় প্লট, গভীর মাথা ঘুরে যাওয়ার মত রহস্য, বন্ধুত্ব, পরিবার, ভুল বোঝাবুঝি, অতীত এবং বর্তমানের টানাটানি এতটাই আকর্ষণীয়, বইটা হাতে নিলে শেষ করতে সময় লাগবে না। একটা ব্যাপার উল্লেখ না করলেই নয়, লেখক এখানে স্পুন ফিডিং করানোর কোনো চেষ্টাই করেননি। যেখানে যতটুকু দরকার ততটুকুই উল্লেখ করেছেন। চোখে লাগবে এমন অসঙ্গতি চোখে পড়েনি। চরিত্র গঠন করেছেন অনেক বুদ্ধি খাটিয়ে। তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটা গল্প ছিল। রহস্যের পাশাপাশি পারিবারিক টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের গল্প সুন্দর করে ফুটে উঠেছে। লেখকের সবচেয়ে বড় সফলতা তিনি গল্পটিকে সুন্দর ভাবে আপনার মনের কল্পনায় ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। এটা অনেকেই করতে পারে না। স্পয়লার ছাড়া এর চেয়ে বিস্তারিত বলতে পারতেছি না। এ জন্য বাদ বাকি মজা তোলা থাকুক বই পড়ার সময়ের জন্য।
যেহেতু ড্রাফট কপি পড়েছি তাই প্রোডাকশন বা এসব নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। তবে ছবিতে প্রচ্ছদটা দুর্দান্ত লাগে। সামনা-সামনি নিশ্চয়ই আরো ভালো লাগবে। থ্রিলার প্রেমি পাঠকদের জন্য এই বছরের অন্যতম সেরা উপহার হতে যাচ্ছে 'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে'। প্রথম সুযোগেই পড়ে ফেলতে ভুলবেন না এই রোলার কোস্টার রাইড।
বই: তবু আমারে দেবো না ভুলিতে লেখক: Abul Fattah Munna প্রকাশনী: নন্দন
লেখক হারলান কোবেনের টিভি সিরিজ দ্য ফাইভ'র ছায়া অবলম্বনে লেখা রহস্যোপন্যাস 'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে'। রোলার কোস্টার গতির এই বইটা একটানা শেষ করা যায়। লেখক আবুল ফাতাহ'র লেখার স্টাইল মুগ্ধ করে, বইটা দুর্দান্তভাবে লিখেছেন নিজের মতো করে। টুইস্ট মাস্টার হারলান কোবেন যেহেতু আছেন সেহেতু টুইস্ট থাকবেই। এই বইয়েও ছোট বড় বেশ কয়েকটা টুইস্ট আছে এবং সবকিছু মিলিয়ে বইটা ভালো লেগেছে।
বেশ দ্রুত গতির চমৎকার একটা থ্রিলার। এক বসায় পড়ে ফেললাম। লেখকের লেখনশৈলী আমার পছন্দের। তাই বই কেনার ক্ষেত্রে ফ্ল্যাপের লেখা না দেখেই কিনে ফেলি। এই বইটা পড়ে আমি প্লিজড! শেষের টুইস্ট দেখে মুখ হা হয়ে গেছিলো। সুন্দর সময় কাটলো।
হারলান কোবেনের বানানো সিরিজ দ্য ফাইভের এডাপ্টাশন তবু আমারে দেব না ভুলিতে। হারলান কোবেনের জিনিস খুব কমই খারাপ হয়। ব্যতিক্রম ঘটেনি এই বইটার ক্ষেত্রেও। তবে এই বইয়ের ক্রেডিট শুধু কোবেনকে দিলে একটু অবিচার হয়। বাংলাদেশের পটভূমিতে আবুল ফাতাহ মুন্নার এডাপ্টাশনও অনেকটা সফল। কয়েক জায়গায় একটু ঝুল লেগেছিল আরকি। রহস্যের বুনন চমৎকার, আরও চমৎকার হল শেষের একের পর এক টুইস্ট। অনেকটা “মাথা ঘুরানো” টুইস্ট যাকে বলে আরকি। রিকমেন্ডেড।
ওভারল ভালো লাগছে। কিছু প্লট হোল ছিল, তাছাড়া একজন পুলিশ তার গুরুত্বপূর্ণ চলমান কেসের সবকিছু তার বন্ধুদের জানাচ্ছে এটাও যেন কেমন লাগলো। তারপরও অবিশ্বাস ঝেড়ে ফেলতে পারলে বেশ উপভোগ করবেন।
গোজামিল দেওয়া প্লট,অসংখ্য প্লটহোল এ ভর্তি একটা বই।একটা খুনের তদন্ত করতে হলে প্রোটাগনিস্ট এর খুনের তদন্ত এর চেয়ে কাকতালীয় ব্যাপার স্যাপারের উপর যেন বেশি ফোকাস করেছেন লেখক!!আর গল্পের শেষ দিকে পুলিশকে কনফিউজ করার বিষয়ক টা আর নিতে পারলাম না!!এই বইয়ের নাক এত এত পজিটিভ রিভিউ! একটা জিনিস বুঝলাম বাংলাদেশী পাঠকরা বইয়ে যত গোজামিল,প্লটহল থাক না কেন শেষ দিকে গিয়ে টুইস্ট পেলে সেই বই "মাস্টারপিস" অাখ্যান পায়।
কোনো কিছুই বেশি ভাল হওয়া উচিৎ না। বিশেষ করে শুরুতে।কারণ এক্সপেকটেশন থাকে একেবারে আকাশচুম্বী।
যাইহোক , এই বছর এখন পর্যন্ত পড়া আমার সেরা বই "তবু আমাকে দেব না ভুলিতে"
মজা ব্যাপার হল : এইটা যে নভেলাইজেশন এইটা যদি ফাতাহ ভাই উল্লেখ করে না দিতেন তাইলে মৌলিক বলে অনায়াসে চালিয়ে দেওয়া যেত।
রূপান্তর হিসেবেও যদি ধরি একটা অসাধারণ জার্নি ছিল। ফাতাহ ভাই এর লেখনী এমনেই বেশ আকর্ষণীয় তার উপর এই বই এর উনার বর্ণনা আর ও চোখে পড়ার মতন ছিল।
মাস্ট রিড একটা বই এইটা!!
এক কথায় অসাধারণ!!
রেটিং : ৯/১০ (1 কেন কম দিছি সেটা নিচে লিখতেছি , যদি বই টা না পড়ে থাকেন তাহলে আর পরের অংশ পড়িয়েন না রিভিউর)
যা ভাল্লাগেনি : - জাহিদের বাবা জাহিদ কে খুনি হিসেবে স্বন্দেহ করে সব লুকিয়ে রেখেছেন তবে যে ব্যাট টা উনি লুকালেন সেখানে ত ব্লাড স্যাম্পল থাকার কথা। যেহেতু জাহিদকে খুনি ভেবেছেন উনি সেহেতু স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাটে রক্ত থাকার কথা কিন্তু রক্ত পান নি বোধয়।।তাহলে জাহিদ কে স্বন্দেহ করাটা যৌযৌক্তিক ছিল না!!
- আনোয়ার আংকেল কে আগেও একবার গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু কি জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিলো?যেখানে খুনী ধরাই পড়েছিলো? উনাকে স্বন্দেহের কারণ কি? এই কেন'র উত্তর টা পেলাম না!!
১৯ বছর আগে সামান্য একটা ঘটনা থেকে হারিয়ে যায় ছোট্র বালক জিসান। এই এতোগুলো বছর পর একটা মার্ডার সীন এনালাইসিসের সময় পাওয়া যায় সেই হারিয়ে যাওয়া ছেলেটির ডিএনএ প্রিন্ট! রহস্য উদ্ধারে মাঠে নামে সিআইডি অফিসার জাহিদ। এই জাহিদ আর কেউ নয় ১৯ বছর আগে জিসানের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনার অন্যতম কুশীলবদের একজন। তার সাথে ছিলো আরো ৩ জন, মেহরাব, রুমি এবং নিম্মি। মূলত এই ৫ জনকে কেন্দ্র করেই বইয়ের গল্প এগিয়ে যায়।
বইয়ের যেসব বিষয় ভালো লেগেছেঃ
কাহিনী ব্যাপক ফাস্ট পেসড। একেবারে প্রথম লাইন থেকেই শুরু হয়ে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ক্রমাগত ঘটতে থাকা বিভিন্ন ঘটনাবলী এবং সাবপ্লট নিয়ে দূরন্ত গতিতে এগিয়ে যায় গল্প। রহস্যটাও বেশ জমজমাট। একের পর এক শকিং মোড় এবং টুইস্ট আসতেই থাকে গল্পে। পাশাপাশি ফাতাহ ভাইয়ের লিখনশৈলীও ছিলো যথারীতি পড়ার জন্য বেশ আরামদায়ক। বইয়ের মূল যে গল্প অর্থাৎ জিসানের হারিয়ে যাওয়ার গল্পের এন্ডিংটা বেশ ভালো হয়েছে।
বইয়ের যা যা ভালো লাগেনিঃ
উপরে ভালো যা যা বললাম তা আমি সকল পাঠকদের দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছি। আদতে আমি অতোটা টান টান উত্তেজনা অনুভব করিনি। কেনো? কারন হলো এই বইটা অলমোস্ট "খুনে অরন্য" বইটার সকল উপাদান নিয়ে লেখা। দুইটা বইয়ের মাঝে সাদৃশ্য এতো এতো বেশী পরিমাণে যে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে গল্পটা সাজানো হলেও প্রতিটা ঘটনার আউটকাম আমি সহজেই অনুমান করে নিতে পারছিলাম "খুনে অরন্য" পড়া থাকার কারনে। সাদৃশ্যগুলো নিচে উল্লেখ করছি, তবে স্পয়লার থাকবে আগেই বলে দিলাম।
**** স্পয়লার এলার্ট ****
০১। পাঁচ জন মানুষ, তার মাঝে একজনের জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া। ০২। যে হারিয়ে গিয়েছে তার খুনের দায় স্বীকার করে এক সিরিয়াল কিলারের জেলে যাওয়া। ০৩। বাকী থাকা ৪ জনের মধ্যে একজন মেয়ে থাকা, সেই মেয়ের আবার ওই গ্রুপেরই অন্য আরেকজনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকা। ০৪। এই ৪ জনের প্রত্যেকেরই ওই হারিয়ে যাওয়ার ঘটনার দিনের আলাদা আলাদা গোপনীয়তা থাকা। ০৫। একজন কারেক্টারের বাবা আলঝেইমারে ভুগে এবং নিজের সন্তানকেই খুনী ভাবে। ০৬। উনিশ বছর পর আবারও হারিয়ে যাওয়া মানুষের খোঁজে সেই জেলে থাকা খুনীর কাছে যাওয়া। ০৭। খুনীর সম্পূর্ণ এটিটিউট দুইটা বইয়ে সেইম থাকে। ০৮। এক পর্যায়ে যে জঙ্গলে এতোসব ঘটনা ঘটে সেখানে একটা নতুন লাশ আবিষ্কার হয়। দুইটা বইতেই সেই লাশ শেষ পর্যন্ত অন্য আরেকজনের হয়। ০৮। পুরো গল্পের প্রবাহে সবচেয়ে কম সময় থাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চরিত্রের মাধ্যমেই সকল রহস্যের ইতি টানা হয়।
উপরের এই সবগুলো জিনিসই হুবহু সেইম দুইটা বইয়ে। তাহলে দেখা যাচ্ছে কোর কাহিনীর সব এলিমেন্ট সেইম রেখে স্রেফ ভিন্ন সাবপ্লট এবং প্রেক্ষাপটের সহায়তায় কিছু জিনিস এদিক সেদিক করে লেখা হয়েছে এই বইয়ে। যারা খুনে অরন্য আগে পড়েছে তারা এটা পড়ে মজা পাবে না, যারা এটা আগে পড়বে তারা খুনে অরন্য পড়ে মজা পাবে না।
প্রশ্ন আসতে পারে এতো সাদৃশ্য থাকার পরেও একই রকম আরেকটা বই ফাতাহ ভাইয়ের লেখার কি দরকার ছিলো, যেখানে এমনকি আগের বইটার প্রচ্ছদও করেছেন তিনি নিজে!! আমার মনে হয় এখানে দোষটা আসলে ফাতাহ ভাইয়ের নয়, স্বয়ং হারলান কোবেনের। ভদ্রলোক "দ্য উডস" নামে একটা বই বের করেছেন, যেটার উপর ভিত্তি করে মারুফ হোসেন ভাই "খুনে অরন্য" লিখেছেন। এদিকে ফাতাহ ভাই এই বইটা লিখেছেন হারলান কোবেনেরই "দ্য ফাইভ" নামটা একটা টিভি সিরিজ অবলম্বনে। কোবেনের টিভি সিরিজের চিত্রনাট্য যে কোবেন তারই বই থেকে একটু এদিক সেদিক করে লিখে দিয়েছে এটা কোথাও উল্লেখ করা নেই। আমি নিজে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেছি। আর তাই খুনে অরন্য পড়া না থাকায় ফাতাহ ভাইও বুঝতে পারেননি দুইটা যে অলমোস্ট সিমিলার বই। এমনকি কোবেনের দ্য উডস নামে আলাদা পোলিশ একটা টিভি সিরিজও আছে!!
বইয়ে কিছু ওভার ড্রামাটিক ব্যাপার স্যাপার থাকবে সেগুলো আমি মেনে নেই যদি রিডিং এক্সপেরিয়েন্স ভালো হয়। খুনে অরন্য কিংবা ইশতেহারের ক্ষেত্রেও আমি এমন অনেক কিছুই এড়িয়ে গিয়েছি। কিন্তু এই বইতে অতি নাটকীয় ব্যাপার স্যাপার যেমন একটু বাড়াবাড়ি পর্যায়ে ছিলো, তেমনি অনেক গুলো বেশ বড় আকারের প্লটহোলও ছিলো যেগুলো কোনোভাবেই ওভারলুক করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বইয়ের একটা সাবপ্লট পুরোটাই (নোমানের কাহিনী) এবং এন্ডিং এর শেষ প্যারা কোনোভাবেই যৌক্তিক মনে হয়নি।
#ব্যক্তিগত_রেটিংঃ ০৬/১০ (বইয়ের গল্পের বড় বড় সব মোচর কিংবা টুইস্ট আমি অনেক আগে থেকেই বুঝে ফেলতে পেরেছিলাম ওই সামঞ্জস্যতাগুলোর কারনে, আর তাই রেটিংটা আমার দিক থেকে কম। তবে যারা খুনে অরন্য পড়েননি, আর প্লটহোল নিয়ে মাথা ঘামান না, তারা আমার চেয়ে বেশী এনজয় করবেন আমি নিশ্চিত)
#প্রোডাকশনঃ নন্দনের সিগনেচার টপ নচ প্রোডাকশন। চমৎকার বাঁধাই এবং পেইজ কোয়ালিটি। তবে বইটায় বেশকিছু বানান ভুল ছিলো।
#পরিশিষ্টঃ আমি এবং আমার এক ফ্রেন্ড, আমরা আবুল ফাতাহ ভাইয়ের অনেক বড় ভক্ত। উনার বের হওয়া সব বই আমরা কিনে রেখেছি। উনার অভ্র সিরিজ এবং মেজর সাইফ হাসান সিরিজ দুইটাই আমার অসম্ভব প্রিয়৷ কিন্তু এই বইটা আমি মনে করি উনার প্রতি আমাদের যে উচ্চাশা আছে সেটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বইটা আবার বানিজ্যিকভাবে বেশ সফল বলেই জানি। আশা করি ভবিষ্যতে আরো ভালো কাজ উপহার দিবেন উনি আমাদেরকে।
তদন্তে থাকা লোকগুলা এমন বেকুব ধরনের না হলে বইটা আরও উপভোগ্য হইতো। মানুষ নিজেদের সম্পর্কে বিশ্বস্ত থাকলে এত ক্যাচাল তো লাগেই না। যতই ভালো মানুষ সেজে থাকুক, কিছু লোক সুযোগ পাইলে ফায়দা নিবেই। সেটা টিনএজার রুমি আর নিম্মি হোক বা হোক তাদের বাপ মা।
উনিশ বছর! এক দীর্ঘ সময়ের গল্প। যে সময়ে কতকিছুই না পরিবর্তন। মানুষ বদলে যায়, বদলে যায় আমাদের চেনা পরিবেশ। কত মানুষ হারায়, আবার কেউ বা নতুনের খাতায় নাম লেখায়। স্মৃতির পাতায় বিবর্ণ হতে শুরু করে অতীতের দিনলিপি। সেসব পুরনো গল্পে জমা হয় ধুলোর আস্তরণ।
তারপরও কিছু কথা থাকে। কিছু গল্প স্থায়ী হয়ে বাসা বাঁধে মস্তিষ্কের আনাচে কানাচে। চাইলেও ভোলা যায় না। খুব অসময়ে উঁকি দিয়ে জানান দেয় তার অস্তিত্ব। এখানেই হারতে হয়, হারিয়ে যেতে হয়। যেই স্মৃতি ভুলতে চাওয়ার এত আয়োজন, সেই স্মৃতিগুলোই বারবার ফিরে আসে। ভুলে যেতে চাওয়া সেই মানুষের স্মৃতি হয়তো কানের কাছে ফিসফিস করে বলে, "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে"...
▪️কাহিনি সংক্ষেপ :
একটি খু ন বদলে দিতে পারে গল্পের গতিপথ। হোটেল ব্লু প্যারাডাইজের হোটেল কক্ষে লা শ পাওয়া যায় এক নারীর। বিভৎস এ খু নে র কারণ ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। জানা যাচ্ছে না মেয়েটির পরিচয়ও। তদন্ত করতে এলো সিআইডি অফিসার জাহিদ। সঙ্গে সহকর্মী মিথিলা। চলমান এ তদন্ত প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি তেমনটা না হলেও, চমকে যাওয়া এক বিষয় সামনে এলো জাহিদের। যা তাকে নিয়ে গেল উনিশ বছর আগের সেই করুণ দিনগুলিতে। কী হয়েছিল সেদিন? কী এমন রহস্য সামনে এসেছে জাহিদের? যা জানার পর সে শুধু চমকে যায়নি, স্তম্ভিতও হয়ে গিয়েছে।
চার বন্ধু - জাহিদ, রুমি, মেহরাব, নিম্মি। হুট করেই তাদের জীবনটা কেমন যেন বদলে গেল সেই উনিশ বছর আগে। মেহরাবের ভাই হারিয়ে গেল। ছোট্ট এক আবদার রাখা গেল না। রাখলে কী হতো? কত খোঁজা হলো, পাওয়া গেল না। হারিয়ে যাওয়াতে কি শুধু মৃ ত্যু ই সত্য? সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ যে সেদিকে ইশারা করছে। সাইকোপ্যাথ জয়নাল যে খোদ সাক্ষী। সেই উনিশ বছর আগের সময়টা কেউ ভুলতে পারে। সেই যে সুতো কেটে গেল, আর এক হয়ে ওঠা হয়নি। এতগুলো বছর পর ওরা আবারও একসাথে। সাথে পুরনো সব স্মৃতি। যার থেকে নিস্তার বোধহয় পাওয়া যাবে না।
অসহায়, দুঃস্থ মেয়েদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু করেছে রুমি। এমন সব মেয়েদের সাহায্যের জন্য সে এগিয়ে আসে, যাদের এই দুনিয়ায় কেউ নেই। কিংবা কোনো হায়েনার ছো ব লে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে কেউ কেউ। এমনই এক সন্ধ্যায় একটি মেয়ের দেখা পায় রুমি। প্রচণ্ড ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আছে। তাকে নিয়ে আসে নিজের শেল্টার হাউজে। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, মেয়েটি নিখোঁজ হয়েছিল পাঁচ বছর আগে। পাঁচ বছর! এতদিন কোথায় ছিল মেয়েটা? কী ঘটেছিল তার সাথে? একটি খু ন আর একটি অপরিচিত মেয়ের অন্তর্ধান রহস্য। জাহিদ কোনো দিশা পাচ্ছে না। যেই সূত্র ধরেই এগোয়, শেষে এসে আকুল পাথারে পড়তে হয়। কীভাবে সমাধান হবে রহস্যগুলোর?
অনেক প্রশ্ন, অনেক রহস্য... সবকিছুর শেষ দেখতে চাওয়া জাহিদ ও তার বন্ধুরা। উনিশ বছর আগে যেই জায়গা থেকে শুরু হয়েছে তাদের দুঃস্বপ্নের সময়, সেই জায়গাতেই যবনিকাপাত হবে এ রহস্যের। সত্য আর মিথ্যার দোলাচলে অনেক রহস্যই চাপা পড়ে যায়। আড়ালে থাকা গোপন কিছু যখন প্রকাশ পায়, তখন সম্পর্কগুলো কেমন যেন হয়ে যায়। আজ এতগুলো বছর পেরিয়ে সবাই এক কঠিন সত্যের মুখোমুখি... সহ্য করার শক্তি আছে তো?
▪️বই পর্যালোচনা ও পাঠ প্রতিক্রিয়া :
মানুষের জীবনের গল্পে কী থাকে? পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রিয় মানুষ... সব ছাপিয়ে কারো কারো মনে থেকে হারিয়ে ফেলার বেদনা। কোনো এক সময়ে প্রিয় কাউকে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা কুড়ে কুড়ে খায়। সময় যতই পেরিয়ে যাই, স্মৃতিগুলো ঝাপসা হতে থাকে। তবুও কি ভুলে থাকা যায়? বোধহয় যায় না। "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে" একটি থ্রিলার উপন্যাস। রহস্য, মার্ডার মিস্ট্রি, গোয়েন্দাদের তদন্তের ভিড়েও কিছু মানুষের জীবনের গল্প বলে। পরিবার, বন্ধুবান্ধব... সবাই যে সবার সাথে এক অদৃশ্য সুতোর বাঁধন�� বাঁধা পড়ে থাকে। যেই বন্ধন ছুটে বেরিয়ে যাওয়ার সাধ্য কারো নয়।
একটি রোলার কোস্টার গতির বই "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে"। লেখক আবুল ফাতাহর সাবলীল লেখনীতে যেন অন্য এক মাত্রা পেয়েছে। আপনি জানেন, বইটি মৌলিক কিছু নয়। হারলান কোবেনের "দ্য ফাইভ" সিরিজের উপর অ্যাডাপটেশন। তবুও যেন মনে হবে দেশীয় কোনো গল্পে হারিয়ে যাওয়া। যার প্রতিটি অংশ ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রতিটি অধ্যায় আটকে ধরবে বইয়ের সাথে। শেষ পৃষ্ঠার আগে যার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।
"তবু আমারে দেবো না ভুলিতে" যে শুধু রহস্যের উপরে ভেসে ছুটে চলেছে, এমনটি নয়। এখানে ছিল পরিবারের গল্প। পারিবারিক টানাপোড়ন, বন্ধুত্বের মনোমালিন্য, ভুল বোঝাবুঝি, প্রিয়জনকে বাঁচানোর তাগিদ ছিল বইটির মূল আকর্ষণ। অতীত ও বর্তমানের মধ্যে লেখক যেভাবে সংযোগ ঘটিয়েছেন, মনে রাখার মতো। আমিও যেন চরিত্রগুলোর সাথে হারিয়ে যেতাম কখনো বর্তমান, কখনো সুদূর অতীতে।
একজন লেখকের সবচেয়ে বড়ো গুন, পাঠকের সাথে সংযোগ স্থাপন করা। যেই আবেগে লেখক লিখছেন, তা পাঠকের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে" বইয়ের শব্দচয়ন, লেখনীর মাধুর্যতা নিয়ে বলার কিছু নেই। একই সাথে বইয়ের আবেগ যেন বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছিল। কিছু কিছু সংলাপ কিংবা ঘটনায় আমিও একই অনুভূতির সাক্ষী হচ্ছিলাম।
"তবু আমারে দেবো না ভুলিতে" বইটিতে বেশ কিছু কাকতালীয় ঘটনার অবতারণা গিয়েছিল। সেগুলো একপাশে রাখলে বইটি দারুণ। প্লটের বিচারে, লেখনীর বিচারে কিংবা সমস্ত কিছু সাজানোতে লেখক দারুণ কাজ করেছেন�� বই পড়ার সময় কিছু প্রশ্ন মনের মধ্যে উদয় হচ্ছিল, পরক্ষণেই তার উত্তরপাওয়া যাচ্ছিল।
সমাপ্তিটা দারুণ। এমন সমাপ্তির পর আর কোনো অভিযোগ থাকে না। এক তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি হয়। শেষের পরেও কিছু গল্প থেকে। "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে" বইয়ের শেষাংশ পড়ার সময় মনে হচ্ছিল, এখানে তো একটি রহস্যের সমাধান হলো না। সেই সমাধান আনতেই যেন আরেকটি গল্পের শুরু। কিংবা শেষ... কিছু রহস্য থাকুক। যার সমাধান না হলে ক্ষতি কী? হয়তো নতুন কোনো গল্পে বলা হবে সেই রহস্যের কথা।
▪️চরিত্রায়ন :
আমি লেখক আবুল ফাতাহ-এর চরিত্র গঠনের অনেক বড়ো ভক্ত। চরিত্র নিয়ে লেখক কী করতে পারেন "ইশতেহার" বইতে তিনি দেখিয়েছেন। এই বইয়েও ব্যতিক্রম কিছু ছিল না।
আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনে গল্প থাকে, অতীত থাকে। সেগুলো লেখক তুলে এনেছেন কী দারুণভাবে! পারিবারিক বন্ধন, বন্ধুর প্রতি টান, জীবনের প্রতি দায়িত্ববোধ... সব কিছুই যেন চরিত্রগুলোর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। কিংবা জয়নালের মতো নৃশংস কেউ আবার বি ভ ৎ সও হতে পারে।
▪️বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য :
বানান ভুল বলতে দুয়েকটা ছাপার ভুল ছিল। শুরুর অংশে এক জায়গায় নামের অদল বদল দেখা গিয়েছিল। এছাড়া সম্পাদনায় তেমন ত্রুটি ছিল না। প্রোডাকশন কোয়ালিটি দারুণ। দামও নাগালের মধ্যে।
▪️পরিশেষে, "ইশতেহার", না "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে"? আমার কাছে "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে" কিছুটা এগিয়ে থাকবে। যদি এমন এক রাইড পছন্দ হয়, যেখানে প্রতিটি বাঁকে থাকবে চমক, উত্তেজনা; তবে বইটি নিরাশ করবে না। শেষটা যে মন্ত্রমুগ্ধের মতো।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ঢাকার এক আবাসিক হোটেলে খুন হলো এক মহিলা। তদন্তে নামলো সিআইডি'র ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার জাহিদ হোসেন। তার সহকারী হিসেবে আছে মিথিলা। তদন্তের শুরুতেই একটা অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করে জাহিদ রীতিমতো আশ্চর্য হয়ে গেলো৷ ক্রাইম সিনে এমন একজন মানুষের ডিএনএ পাওয়া গেলো, যেটা একেবারেই অস্বাভাবিক। উনিশ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া জিসানের ডিএনএ মিললো ক্রাইম সিনে। নিখোঁজ জিসান ছিলো জাহিদের ছোটবেলার বন্ধু মেহরাবের ছোট ভাই। নিখোঁজের পরপরই পুলিশের হাতে আসে সে সময়ের কুখ্যাত এক সিরিয়াল কিলার। সে স্বীকার করে নিয়েছিলো জিসানকে খুন করার কথা। তাহলে এতোদিন পর সম্পূর্ণ আলাদা একটা ক্রাইম সিনে তার ডিএনএ পাওয়া যাওয়ার পেছনে রহস্য কি?
উনিশ বছর আগে যেদিন জিসান হারিয়ে যায়, সেদিন গাজীপুরের সেই বনে উপস্থিত ছিলো চার বন্ধু। জাহিদ, মেহরাব, রুমি আর নিম্মি। জিসানকে ওরাই শেষবার দেখেছিলো। আজ এতোদিন পর জিসানের ডিএনএ আবিস্কার হওয়ায় ওরা চার বন্ধু আবারো একত্রিত হলো। তবে কি জিসান বেঁচে আছে? ওদিকে এক বিকৃতমস্তিষ্ক সাইকোপ্যাথ কিশোরী মেয়েদেরকে কিডন্যাপ করে দিনের পর দিন তাদের ওপর চালাচ্ছে অবর্ণনীয় পাশবিক নির্যাতন। ওই সাইকোপ্যাথের হাত থেকে পালিয়ে আসা এক কিশোরী জানালো গা শিউরানো কিছু তথ্য। এই কেসটাও এখন দেখতে হবে সিআইডি'র ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার জাহিদকে।
আরেকটা ক্রাইম সিন। সেখানেও পাওয়া গেলো উনিশ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া জিসানের ডিএনএ। তবে কি এই খুনগুলো জিসানই করছে? সে কি কোন সিরিয়াল কিলারে পরিণত হয়েছে? জাহিদ তো বটেই, সেই সাথে অবাক হয়ে গেলো ওর তিন বন্ধুই। সিআইডি'র একজন ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার হিসেবে জাহিদ তো জিসানকে খুঁজছেই, কিন্তু একইসাথে নিজের হারানো ছোটভাইকে খুঁজে চলেছে মেহরাব। এই ব্যাপারটাতে পিছিয়ে নেই রুমি আর নিম্মিও।
জিসানকে নতুন করে খোঁজার এ যাত্রায় ঘটতে শুরু করলো একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনা। উনিশ বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা অনেক ধুলোপড়া সত্যই যেন একে একে উন্মোচিত হতে লাগলো। জিসান যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন আসলে কি ঘটেছিলো? ওই সময়ে ধরা পড়া সিরিয়াল কিলার কি মিথ্যা বলছে, নাকি মিথ্যার সাথে মিশিয়ে সত্য? আর জিসান যদি বেঁচেই থাকে, সে কি চায় এখন? প্রশ্নেরও বোধহয় শেষ নেই। পাজলের টুকরো মেলানোর মতো সব যখন মিলে গেলো, 'অভাবনীয়' শব্দটার ওজন বেশ ভালোভাবেই অনুভব করা গেলো।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ হারলান কোবেনকে বলা হয় টুইস্ট মাস্টার। তাঁকে এমনি এমনি এই খেতাব পাঠকরা দেয়নি। উনার গল্পের বাঁকে বাঁকে পাওয়া যায় অভাবনীয় সব টুইস্টের দেখা। ২০১৬ সালে স্কাই ওয়ান চ্যানেলে প্রচারিত হয় মিস্ট্রি থ্রিলার সিরিজ 'দ্য ফাইভ'। এটার চিত্রনাট্য লিখেছিলেন হারলান কোবেন। অর্থাৎ, 'দ্য ফাইভ' আসলে কোন বই হয়নি। সরাসরি চিত্রনাট্য হিসেবেই এটা লিখেছিলেন হারলান কোবেন। এই সিরিজের কাহিনির ছায়া অবলম্বনে দেশীয় ফ্লেভারে লেখক আবুল ফাতাহ লিখেছেন 'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে'। বইটা সোজা কথায় 'দ্য ফাইভ' সিরিজের নভেলাইজেশন।
বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্লট। উনিশ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক বাচ্চা ছেলে, যার ডিএনএ আবিস্কৃত হয় একটা ক্রাইম সিনে। যেকোন রহস্যপ্রেমী পাঠকের বইটার প্রতি আগ্রহী হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। আমারো বেশ আগ্রহ ছিলো 'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে' পড়ার জন্য। দ্য মিস্ট্রি ম্যানের সৌজন্যে বইটা পেয়ে পড়েও ফেললাম। একটানে শেষ করার মতো রহস্যোপন্যাস এটা। ছোট ছোট অধ্যায়ে ভাগ করে লেখক আবুল ফাতাহ গল্পটা বলে গেছেন। দেশীয় আবহে বেশ রিয়েলিস্টিকভাবেই তিনি পুরো কাহিনিটাকে সাজিয়েছেন। আর সেই সাথে কোবেনিয় টুইস্ট তো ছিলোই। আমার কাছে মোটামুটি একটা জয়রাইডের মতোই ছিলো বইটা। কিন্তু শেষটা আমার খুব একটা পছন্দ হয়নি। এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত।
১০ পর্বের একটা সিরিজের এমন চমৎকার নভেলাইজেশনের জন্য যে দক্ষতার প্রয়োজন, তা লেখক আবুল ফাতাহ'র আছে। এটাতে কোন সন্দেহ নেই। প্রচ্ছদটাও তিনি করেছেন। বেশ ভালো লেগেছে আমার সেটা। আর নন্দন-এর প্রোডাকশনও ছিলো নান্দনিক। আগ্রহীরা চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৭৫/৫ গুডরিডস রেটিংঃ ৪.০৯/৫
#Review_of_2023_11
#Review_TADNV
সমাপ্ত!
(১২ মে, ২০২৩, শুক্রবার, দুপুর ১২ টা ১২ মিনিট; আরএসটি ইউনিভার্সিটি, নাটোর)
অসাধারণ একটি বই। হারলান কোবেনের লেখা "দ্য ফাইভ" সিরিজের অ্যাডাপটেশন এটি। তবে লেখক যেভাবে নোভেলাইজেশন করেছেন, এক কথায় অনবদ্য৷
প্রতিটা পাতায় পাতায় টুইস্ট ছিল, সব সময় মাথায় একটা চিন্তা করার মত বিষয় লেখক ধরিয়ে দিচ্ছিলেন। সেটা সলভ হতে হতে আরেকটা এবং শেষে একটা বড়সড় টুইস্ট পাঠকের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিয়েছেন যা পড়ে এই বইয়ের সিকুয়েল এর আশা জাগে মনে৷
মোটামুটি লেগেছে ২.৫ স্টার।পুরা কাহিনীর কথা বলতে গেলে আমার কাছে অনেক এলোমেলো লে���েছে। দ্রুত সব কিছু একটা ঘটনা শেষ হতে না হতে আরেকটা। শেষ দিকের টুইস্ট ভালো ছিলো কিন্তু রুমির ব্যাপার বুঝি নাই লেখক কি বুঝাইলো।
'চিরদিনের জন্য মনের ওই সিন্দুকটাতে তালা মেরে রাখব যেখানে মানুষ অপ্রিয় সত্যগুলোকে লুকিয়ে রাখে জীবনের প্রয়োজনে, সুখের স্বার্থে….তবুও তোমারে দেব না ভুলিতে।'
তবু আমারে দেব না ভুলিতে লেখক : আবুল ফাতাহ জনরা: থ্রিলার প্রকাশনী : নন্দন প্রকাশনী রেটিং: ৪.৫/৫
পাঠ-প্রতিক্রিয়া: পড়ে ফেললাম বইমেলা ২০২৩ এর তুমুল আলোচিত বই 'তবু আমারে দেব না ভুলিতে'। আমার কাছে বইটার দ্বিতীয় মুদ্রণ আছে। সেজন্য বুঝতেই পারছেন কেমন হাইপ বইটার। হারলান কোবেনের ভক্ত আমি। উনার দ্য ফাইভ সিরিজের নভেলাইজেশন বা এডাপটেশন যাই বলি না কেনো সেটার ঘোষণা আসার পর থেকেই এটা লিস্টে ছিলো। বইটার নাম রোমান্টিক উপন্যাস এর মতো হলেও বইয়ে যে পরিমাণ টুইস্ট আছে তা আপনাকে বইটা শেষ করার পর হাতে সময় নিয়ে মিলিয়ে যেতে হবে। ১৪ তম পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে শেষ অবধি চুলছেড়া টুইস্ট আর সাসপেন্স রেখেছেন লেখক। হারলান কোবেনকে যে টুইস্ট মাস্টার বলা হয় তা এই বই পড়েই বুঝতে পারবেন।
ফাতাহ ভাইয়ের নভেলাইজেশন এতো দুর্দান্ত ছিলো যে মনেই হচ্ছিলো পুরোপুরি মৌলিক বইটা। আর উনার লেখনী চমৎকার। গল্পের ফ্লোয়ের সাথে হঠাৎ ডার্ক হিউমারগুলো অনেক প্রশংসনীয় ছিলো। যখন আপনি মনে করবেন বইটার টুইস্ট গুলো আপনি ধরতে পেরেছেন তখনই আরেকটা টুইস্ট এসে আপনার প্রেডিকশন গুড়ো করে দিবে।
গতানুগতিক থ্রিলারের সাথে এই বইয়ের বড় একটা পার্থক্য হলো লেখকের চমৎকার গল্পবুনন; কারণ আমাদের চারপাশের পরিবেশ থেকেই যে চমৎকার সব থ্রিলার হয় তার একটা উদাহরণ এই বই। কোনো অতিরঞ্জিত চরিত্রের উপস্থিত নেই এই বইয়ে। সকল চরিত্রের এখানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে।
বইটার সমাপ্তি আমার কাছে একদম তৃপ্তিময় ছিলো। এর থেকে ভালো সমাপ্তি এই বইয়ের বোধহয় আর হতো না। অনেক ধন্যবাদ ফাতাহ ভাইকে বইটা এতো চমৎকার ভাবে রুপান্তর করার জন্য।
সম্পর্কের টানাপোড়ন, গ্লানি, খুনের মোটিভ, তদন্ত, প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা, থাকে শেষবার দেখার আকাঙ্খার মিশ্রণ এই বই। কিছু কাকতাল ঘটনা বাদ দিলে ' তবু আমারে দেব না ভুলিতে ' আপনার পড়া সেরা বইয়ের লিস্টে জায়গা করে নিতে পারে।
বইটা পড়তে পড়তে ডুবে গেছিলাম একদম। এই লেখকের দ্য এন্ড বইটা পড়ে উনার লেখনীর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। ছোটবেলায় কাকাবাবু, ব্যোমকেশ, ফেলুদা পড়ে বড় হওয়ায় এখনো থ্রিলারের প্রতি ভালোবাসা অবিরাম। মাঝে বিভিন্ন প্রেশারে বই পড়া একদম কমে গেছিল। কিন্তু এই বইটা এক বসায় শেষ করতে পেরেছি কারণ প্রতিটি পাতায় পাতায় ছিল উত্তেজনা। শেষটা আঁচ করার কোনো সম্ভাবনা-ই ছিল না ঘটনা চলাকালীন সময়ে। সত্যিই মনে রাখার মতন একটি বই!
এবারের মেলার প্রথম কেনাকাটা ছিলো "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে"। সত্যি কথা বলতে এবার হাতে যদি আর টাকাই না আসতো, তবে এটাই একমাত্র কেনা বই হতো।
সেবার যুগ পার হবার পর বর্তমান এই বই ইন্ডাস্ট্রির সেরা সেরা এডাপটেশন মাত্র হাতে গোণা কয়েকটি,
কেউ কেউ কথা রাখে (নাজিম উদ্দীন), খুনে অরণ্য (মারুফ হোসেন), অহিংশের খেল (ফুয়াদ আল ফিদাহ) - এই ক'টিই ছিলো এতোদিন বাংলা থ্রিলারের জগতে এডাপটেশন এর পরিচিত/আধ পরিচিত নাম।
সেই তালিকায় এবার সগৌরবে নিজের আসন পোক্ত করলো গুণী ও সুদক্ষ লেখক আবুল ফাতাহ ওরফে মুন্না ভাইয়ের এই বই "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে"।
উনি যা করেছেন তা বেশ অনেকটাই ব্যতিক্রম।
আমরা বই থেকে নাটক/সিনেমা/সিরিজ হবার গল্প শুনি সর্বদা। মুন্না ভাই হারলান কোবেনের স্ক্রিপ্টে নির্মিত একটা টিভি সিরিজ থেকে প্লট নিয়ে নিজের মতো করে লিখেছেন এই গল্পটি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরো বইটি পড়ে আপনার মনেই হবে না যে এটি বিদেশী কোনো প্রেক্ষাপটে বিদেশী ভাষায় কভু চিত্রিত হয়েছিলো। বইটির এডাপটেশন এর কারিগরি ঠিক যেন সেবা প্রকাশনীর খ্যাতনামা লেখকবৃন্দ রকিব হাসান, কাজী আনোয়ার হোসেন, শেখ আবদুল হাকিম, খসরু চৌধুরী, নিয়াজ মোরশেদ, রওশন জামিল - প্রমুখদের পর্যায়ের।
এটি এডাপটেশন নামক কোনো অনুবাদ নয়। আক্ষরিক অর্থেই স্রেফ একটা কাহিনীর ছায়া অবলম্বন করে, সম্পূর্ণ নিজের দেশীয় হাড়-মাংস জুড়ে বানানো একটা আনকোরা গল্প।
বইটি তাই যতটা হারলান কোবেন এর, ঠিক ততোটাই আবুল ফাতাহ ভাইয়ের।
এবার আসি মুন্না ভাইয়ের লেখনী বা লেখার ধাঁচের কথায়।
বরাবরের মতোই বলতে হচ্ছে "মুন্না ভাইয়ের লেখা পুরা মাখনের মতো স্মুউউদ"। উনার লেখা পড়ার সময় কখনোই বিরক্তি বা একঘেয়ে বোধ হয়না, এমনকি প্রায় কোনো আয়াস-ই ফিল হয়না। পানির স্রোতের মতো গল্প এগিয়ে যেতে থাকে, পাঠকের মনও সেই স্রোতে "অনায়াসে" ভাসতে ভাসতে এক পাতার পর আরেক পাতা উল্টিয়ে যেতে থাকে, পেরিয়ে যায় অধ্যায়ের পর অধ্যায়, পৌঁছে যায় গল্পের সমাপ্তিতে।
মুন্না ভাইয়ের অভ্র সিরিজ এবং মেজর সাইফ হাসান সিরিজের মধ্যে টোন বা আবহের ব্যাপক পার্থক্য। যদি লেখকের নাম খেয়াল না করে কেউ অভ্র আর সাইফ পরপর পড়েন, তবে সম্ভবত বুঝতেই পারবেন না যে একই লেখকের সৃজনী এই দুই জগত।
এই বইয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যাপারটা অন্যরকম ভালো লেগেছে, ইম্প্রেসিভ লেগেছে, তা হলো এটা মুন্না ভাইয়ের সম্পূর্ণ আরেক টোনের একটি লেখা হয়েছে। এতে উনার অন্য সিরিজ, বিশেষ করে সাইফ সিরিজের কোনো শ্যাডো পড়েনি।
আবার একই সাথে, উনার সমস্ত বইয়ের বা লেখার কিছু সিগন্যাচার ব্যাপার আছে, তা ঠিকই এই বইয়ে ছিলো। তার মধ্যে অন্যতম হলো হিউমার বা ডার্ক সিচুয়েশনাল কমেডির ক্ষেত্রে বাংলা প্রবাদ-প্রবচনের ব্যতিক্রমী ব্যবহার।
উনি উনার লেখাগুলোতে আমাদের সকলের চিরচেনা চিরায়ত বাংলা প্রবাদ-প্রবচন ও উপমা গুলোকে ব্যবহার করেই বিভিন্ন সিচুয়েশনের অনুভূতিটা পাঠককে ফিল করাবেন, কিন্তু প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই দেখা যাবে সেগুলোর সাধারণ রুপের চেয়ে খানিকটা ভিন্ন রুপ হয়ে গেছে, অনেকটা মডিফাইড হয়ে গেছে, এবং অবশ্যই অবশ্যই সেই মডিফিকেশনটাকে গল্পের অই মূহুর্তের ���ন্য আপনার সবচেয়ে এক্যুরেট মনে হবে। কখনো সেটা আপনাকে দেবে বেদম হাসির খোরাক, কখনো দেবে তীব্র সাসপেন্স, আবার কখনো দেবে ভীষণ আতঙ্ক কিম্বা ঘৃণার উপলব্ধি।
বলা বাহুল্য, "তবু আমারে দেবো না ভুলিতে" গল্পেও তিনি তার এই স্পেশাল স্টাইলটা জায়গায় জায়গায় ব্যবহার করেছেন। এবং প্রতিটা জায়গাতেই সেগুলো খাপে খাপে বসে গেছে, উপভোগ্য ও বাস্তব করে তুলেছে প্রতিটি সীনকে।
গল্পটার ব্যাপারে কিছু বলতে গেলেই স্পয়লার হয়ে যাবার ভয় আছে। পুরো গল্পটা জুড়ে স্নায়ুরজ্জুতে টানটান উত্তেজনা, ফাস্ট পেস জায়গাগুলোতে উথাল-পাতাল থ্রিল, কমেডির জায়গাগুলোতে নির্মল হাসি আর শেষের দিকের ৩০-৩৫ পৃষ্ঠায় বেদম রোলার কোস্টার রাইডের শেষে এক অদ্ভুত সুন্দর অম্ল-মধুর সমাপ্তি।
আমার "বইচই" এলবামের শুরুটা হয়েছিলো মুন্না ভাইয়েরই অভ্রত্ব বইটার রিভিউ লেখা দিয়ে।
"তবু আমারে দেবো না ভুলিতে" বইটা পড়ে বহুদিন পর অভ্রত্ব পড়ার পরের একটা ফিলিং পুণরায় আসলো একটা বিষয়ের দরুন, সেটা হলো -
"বইটা ছোট। মাত্র ১৭৬ পেইজ। কিন্তু শেষ করে মনে হলো বিশাল একটা বই পড়ে শেষ করলাম"। এমনটা হয়েছিলো অভ্রত্ব শেষেও।
মাত্র ১৭৬ পৃষ্ঠার মধ্যে প্রায় দেড় ডজন খানেক জীবনের গল্পে ভরপুর এক অনবদ্য রোলার কোস্টার রাইড মুন্না ভাই কীভাবে আঁটালেন, তা তিনিই জানেন।
হ্যাঁ, বইটা রহস্যোপন্যাস বটে, কিন্তু রহস্যের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে অনেক গুলো জীবনের গল্প। সেই জীবনের গল্পগুলোতে আছে প্রেম, আছে রক্তের বন্ধনের মায়া, আছে হারিয়ে যাওয়া অতীতের টান, আছে তিক্ততা, আছে বন্ধুত্ব, আছে অপরাধ, আছে অন্যায়, আছে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার, আছে মানব মনের কুৎসিত বিকৃত রুপ, আছে জনক-জননীর শর্তহীন মমতার আখ্যান।
যতটা ইন্টারেস্টিং কোবেনের প্লট, ততটাই চমকপ্রদ মুন্না ভাইয়ের এই চিত্রায়ন।
বুড়ো বয়সেও হয়তো ধুলি পড়া বইয়ের শেলফের এককোণ থেকে এই বইটি বলে উঠবে "#তবু_আমারে_দেবো_না_ভুলিতে"।
- তাওহীদুর রহমান ইউসুফী শুক্রবার সকাল, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩।
❛আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে। (আমি) বাতাস হইয়া জড়াইব কেশ, বেণি যাবে যবে খুলিতে॥❜ চাইলেই সবসময় সবকিছু ভুলে থাকা যায় না। পরিস্থিতি, সময় মাঝেমধ্যে তা মনে করিয়ে দেয় এবং চুম্বকের মতো পিছু লেগে থাকে। অতীতের যে স্মৃতি পো ড়ায়, কষ্ট দেয় সে স্মৃতি সামনে আসলে অনুভূতি সুখকর হয় না। সিআইডি অফিসার জাহিদ তদন্ত করতে যায় হোটেল ব্লু প্যারাডাইজে এক খু নের। সঙ্গে এসআই মিথিলা। কিন্তু সে জানত না এই কেসেই সুপ্ত লাভার মতো ফুড়ে উঠবে দীর্ঘ এক অতীত। ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত প্রমাণ এবং স্যাম্পল থেকে বেরিয়ে আসে এক অনাকাঙ্খিত ব্যক্তির ডিএনএ। মুহুর্তেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। মাথাচারা দিয়ে ওঠে দীর্ঘ উনিশ বছর আগের এক ক্ষত। ছোটোকালে হারিয়ে যাওয়া বা ম রে যাওয়া জিসানের ডিএনএ খু নের স্থানে কেন ভেবে পায় না জাহিদ। একত্র হয় ছোটোকালের চার বন্ধু মেহরাব, জাহিদ, রুমি এবং নিম্মি। জিসান হলো মেহরাবের ছোটো ভাই। উনিশ বছর আগে জঙ্গলে থেকে নিখোঁজ হয় সে। এত বছর বাদে জিসানের এরকম খোঁজ হতবাক করে দিয়েছে সবাইকে। পুরনো স্মৃতি তাড়া করছে তাদের। তদন্ত চলছে। খুব কাছে গিয়েও কী যেন একটা অধরা রয়ে যাচ্ছে। এদিকে শহরে হারিয়ে যাচ্ছে কিশোরীরা। একেবারেই নিখোঁজ। সিরিয়াল কি লারের কাজ হলে তো লা শ পাবার কথা। তাও মিলছে না। এর পেছনে কে বা কারা আছে? অতীতের রহস্য বর্তমানে এসে সবাইকে কোন দোটানায় ফেলে দিচ্ছে? জঙ্গলে সেদিন জিসানকে শেষ কে দেখেছিল? উনিশ বছর ধরে মৃ ত ভেবে আসা জিসানের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে চলছে জাহিদের তদন্ত। থেমে নেই রুমি, মেহরাবও। তারাও তাদের মতো খোঁজ করছে। শেষটা কেমন হবে? পাঠ প্রতিক্রিয়া: বইটা সম্পর্কে এক বাক্যে বলতে হলে বলব, ❛রোলার কোস্টার রাইড❜। লেখকের প্রথম লেখা পড়েছিলাম ❛ইশতেহার❜। খুব দ্রুত গতির বই ছিল। সাবলীল লেখা পড়তে একদিনের বেশি লাগেনি। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এক বেলায় পড়ে ফেলেছি। সাবলীল বর্ণনা এবং গতিময় লেখা এই বইতেও অব্যাহত ছিল। শুরুতেই লেখক বলেছেন বইটা পুরোপুরি মৌলিক নয়। টুইস্ট মাস্টার খ্যাত হারলান কোবেনের ❛দ্য ফাইভ❜ টিভি সিরিজের ছায়া অবলম্বনে লেখা বই ❛তবু আমারে দেবো না ভুলিতে❜। সিরিজের নভেলাইজেশন বলা যায়। কোবেনের লেখা পড়া থাকায় লেখকের টুইস্ট সম্পর্কে ধারনা ছিল। লেখক আবুল ফাতাহ বিদেশী সিরিজকে দেশীয় স্বাদে খুব সুন্দর করে রূপান্তর করেছেন। বইয়ের অ্যাডাপ্টেশনে লেখার বর্ণনা থেকে কিছুটা আঁচ করে লেখা গেলেও চিত্রনাট্য থেকে দেশীয় ঢংয়ে উপন্যাস লিখে ফেলাটা কিছুটা ভারী কাজ। লেখক পটুতার সাথেই সেটা করেছেন। ❛তবু আমারে দেবো না ভুলিতে❜ উপন্যাসে লেখক টুইস্ট, থ্রিল এনেছেন যেটুক প্রয়োজন। এছাড়াও আবেগ, ভালোবাসা এবং ক্ষতময় অতীতের যে সম্মিলিত উপস্থিতি ছিল তা দারুণ লেগেছে। বন্ধুত্বের গল্প, তাদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা, স্মৃতিরোমন্থনের দৃশ্যগুলোর এক্সিকিউশন ছিল বেশ। কিছুক্ষণ পরপর-ই বেশ একটা টুইস্টের ব্যাপার আসছিল আর কিছু পরেই তার একটা যোগ্য সমাধান বের হচ্ছিল। যা পড়ার সময় উত্তেজনার পারদের নড়াচড়া করিয়েছে অনেক। এক রহস্যের সমাধানের মাঝেই নতুন এক রহস্যের দানা বেঁধেছে পুরো উপন্যাস জুড়ে। শেষটা কেমন ছিল? আমার মনে হয়েছে এরথেকে পরিপূর্ণ সমাপ্তি আর হতে পারে না। শেষেরও কিছু শুরু আছে বা রহস্য আছে, বইয়ের সমাপ্তি ঠিক তেমন-ই। তবে অনেক ভালো কিছুরও একটু খেদ থাকে। তআদেনাভু বইতেও তেমন কিছু খেদ বা প্লটহোল ছিল। আমার মনে হয় একে অতিমাত্রার কাকতালীয় বলাই শ্রেয় হবে। গল্পটাকে দারুণ এবং টুইস্টে মুখ হা করিয়ে দিতে গিয়েই হয়তো কাকতাল ব্যাপারগুলো অনেক বেশি এসে পড়ছিল। যেসব না হলে বা সেখানে বর্ণনা আরেকটু বেশি থাকলে পাঠ উপভোগ্য-ই হতো। যেমন, * সালমা পাশের বাড়ির প্লেন দেখতে পেলো কিন্তু তাকে এতদিন যে আটকে রাখলো তার মুখ দর্শন কি করেনি? জাহিদ তার চেহারার বর্ণনা চেয়ে একটা স্কেচ করালেই ল্যাটা অনেকটা চুকে যেতো। * দেয়ালের আয়নার ব্যাপারটাও একটু অতিমাত্রার চিন্তা হয়ে গেছে। রান্দিপ হুডার ❛মা র্ডার ৩❜ সিনেমায়ও এমন একটা ব্যাপার ছিল। সেখানে যার বাসা তা-ই এই হুঁশ আছিল না। সেখানে, তআদেনাভু উপন্যাসে জাহিদ এই ব্যাপারটা আঁচ করে ফেলল? *মেহরাব মুনমুনের যে কেস লড়ছিল তার বিষয়বস্তুর সাথে তার জীবনের এক সত্য আপাতদৃষ্টিতে মিলে যাওয়াটাও বিরাট কাকতাল। যদিও এটা মেনে নেয়া যায়। * রুমি এবং মেহরাবের ষন্ডা লোকেদের কাইত করে দেয়াটাও একটু বেশি বেশি ছিল। এরকম আরো কিছু ব্যাপার ছিল। এগুলোর মাত্রা কম থাকলে উপন্যাসটা পড়তে আরো বেশি ভালো লাগতো। উপন্যাসের চরিত্রায়ন ভালো লেগেছে। মিথিলা চরিত্রটাকে বাকিদের থেকে এগিয়ে রাখবো আমি। তার কাজকর্ম ভালো লেগেছে। বইয়ের প্রচ্ছটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। নামকরণও সুন্দর। সবথেকে ভালো লেগেছে বইয়ের উৎসর্গপত্র। লেখক তার এই বইটি বইপোকাদের আড্ডাখানাসহ বিভিন্ন বইয়ের গ্রুপকে উৎসর্গ করেছেন। ব্যাপারটা খুব ভালো লেগেছে। এজন্য লেখককে বিশেষভাবে ধন্যবাদ।
ঢাকার আবাসিক হোটেলে পাওয়া গেলো এক লাশ। খুনের তদন্ত শুরু হতেই বিস্ময়ের এক ভয়াবহ ধাক্কার মুখোমুখি হলো সিআইডি ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার জাহিদ। মার্ডারসিনে পাওয়া গেলো উনিশ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর ছয় বছর বয়সী ভাই জিসানের ডিএনএ। শুধু হারিয়ে গেলেও ল্যাঠা চুকে যেতে, কিন্তু জিসানকে খুনের দায় স্বীকার করে দেড় যুগ ধরে জেলে বন্দি এক সিরিয়াল কিলার।
অদ্ভুতসব ঘটনাপ্রবাহের সাথে যোগসূত্র হয়ে আছে জিসানের হারিয়ে যাওয়া সেই উনিশ বছর আগের সময়, গাজীপুরের জঙ্গল। অতীতের কীই বা লুকিয়ে রেখেছে সেই গহীন জঙ্গল? কী ঘটেছিলো আসলে সেদিন? সবাই কি সত্য বলছে? না সত্যের আড়ালেও লুকিয়ে আছে কঠিনতম কোনো সত্য? যা সামনে আসলে বর্তমানও ছারখার হয়ে যেতে পারে অতীতের সেই আগুনে! জানতে হলে পাঠক আপনাকেও পড়তে হবে টুইস্ট মাস্টার হারলান কোবেনের টিভি সিরিজ 'দ্য ফাইভ'র নভেলাইজেশন হওয়া, আবুল ফাতাহ'র হাত ধরে আসা 'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে'।
'কেউ হারিয়ে গেলেও তার স্মৃতিগুলো হারায় না, পোড়ায়।' কোনো কারণে একদিন সেই অতীতে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি যদি বর্তমানে আবারও হানা দেয়, তবে তা আগুনে পেট্রোল পড়ার মতো করে জ্বলে উঠে, ছারখার করে দেয় বর্তমানকে।'
'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে' তেমনি এক গল্প, যেখানে ফিরে এসেছে উনিশ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া অতীত, পুরোনো ক্ষতবিক্ষত স্মৃতি। যে স্মৃতি ভেঙে দিয়েছিলো চার বন্ধু মেহরাব, জাহিদ, রুমি ও জাহিদ দের কফি হাউজের আড্ডা, বদলে দিয়েছিলো তাদের পরিবারের অবস্থা। তারপর আবারও এক করেছে সেই পুরোনো ক্ষতবিক্ষত স্মৃতিই।
হারলান কোবেনের গল্প বলার স্টাইল আমার পরিচিত, বেশ কয়েকটা বই পড়ার পর এখন সহজেই ধরতে পারি লেখক আসলে কোন ধরনের টুইস্ট দিতে যাচ্ছেন। তাই গল্প পড়ার সময় যা ধারণা করেছিলাম শেষের দিকে এসে অধিকাংশই যখন মিল যাচ্ছিলো তখন খুব একটা অবাক হইনি। তবে এতে গল্প উপভোগে কোনো অসুবিধা হয়নি আমার।
সম্পূর্ণ গল্পটা চমৎকার, গতিশীল। খুব অল্পতেই লেখক গল্পে রোলার কোস্টারের গতি তুলেছেন, প্রতিটি পার্টের শেষেই ছোটোখাটো ধাক্কা রেখেছেন। চরিত্রগুলোর মোটিভ প্রতিটা ঘটনাপ্রবাহে বদলে দিয়েছেন, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বারবার। এবং বইটা শেষ করার পর তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছি।
এডাপটেশ হয় জানতাম, কিন্তু নভেলাইজেশন জিনিসটা আমার কাছে অপরিচিত। তবে এডাপটেশনের চেয়ে আমার মনে হয় নভেলাইজেশন বেশি জটিল। এখানে নভেলাইজেশনকারীর গল্পের রূপান্তরের পাশাপাশি নিজের ইমেজিনেশনকে বেশি কাজে লাগাতে হয়। টিভি সিরিজে তো আর দৃশ্যপটের বর্ণনা থাকে না। এক্ষেত্রে 'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে' বইয়ে লেখক আবুল ফাত্তাহ সফল ভাবেই কাজটা করেছেন। বইটাকে একটা মৌলিক বই হিসেবে রূপান্তর করেছেন। তার সাথে দেশীয় পটভূমি গল্প উপভোগে অন্য মাত্রা যোগ করেছে। সেই সাথে বইটির নামও যথার্থ হয়েছে, যা বইটা পড়ার সময় বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে।
যারা গতিশীল টুইস্টে ভরপুর থ্রিলার পছন্দ করেন, তাদের জন্য 'তবু আমারে দেবো না ভুলিতে' খুবই উপভোগ্য হবে। আর যারা করেন না তারাও পড়তে পারেন, জীবনের গল্পের মতোই কোনো গল্প পড়ার জন্য, যেখানে লুকিয়ে আছে সত্যের আড়ালেও কিছু সত্য।
হারলান কোবেন আমার খুব প্রিয় লেখক। সে হিসাবে এ্যাডাপশন বইয়ের ঘোষণা পাওয়ার পর বইটার প্রতি আগ্রহ ছিলো সীমাহীন। বেশী এক্সপেক্টেশন থাকার কারনেই হয়তো একটু হতাশও হতে হয়েছে। বইটা পড়তে বসে আমার কাছে মনে হয়েছে যে হঠাৎ করেই যেন গল্পের শুরু হয়ে গেছে। প্লট বিল্ডঅপের আগেই টুইস্ট দেয়া শুরু করে দিয়েছেন লেখক। তাই পাঠক হিসাবে গল্পের দৃশ্যগুলো আত্মস্থ করতে সময় লাগছিলো আমার। তবে লেখক আবুল ফাতাহ'র শৈল্পিক লেখনীর গুণে একটানা পড়ে গেছি।
চরিত্রগুলোর সাথে পাঠকের একটা বন্ধন তৈরী করতে হলে চরিত্রগুলোর পেছনের গল্পটা মাঝে মাঝে তুলে ধরাটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। এখানে সেটার ঘাটতি ছিলো। জাহিদ, মেহরাব, রুমি, নিম্মি এদের অতীতের কিছু গল্প থাকতে পারতো। থ্রিলার মানে এই না যে এটা কাটখোট্টা হিসাবেই লিখতে হবে। সেটার জন্য আর কিছু পেজ বাড়লে মন্দ হতো না।
জাহিদ পুলিশ অফিসার হলেও তার বন্ধু মেহরাব, রুমি এদেরকে বেশী এক্টিভ দেখানো হয়েছে গল্পে। একটা মেয়েকে রাস্তায় খুঁজে পাওয়ার পর হসপিটালে যখন প্রশ্ন-উত্তর পর্ব চলছে সেখানে ইন্সপেক্টর জাহিদ জানেনা কিভাবে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যাবে, বন্ধু রুমি তাকে শিখিয়ে দিচ্ছে! একটা ধনী স্কুলে অভিভাবক সেজে যেতে হবে বলে নিম্মিকে জিনস-টিশার্ট পরে যেতে হবে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন অদ্ভুত যুক্তি আর পাইনি। এদিকে শেষে এসে নিম্মির বিয়ে নিয়ে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কিছুটা খেলো লেগেছে। রোমান্টিক মুভির "হ্যাপি এন্ডিং" না দিলেও চলতো। গল্পে রাতুল চরিত্রের তাও একটা জায়গা ছিলো, যেখান থেকে তার সম্পৃক্ততা গল্পে মেনে নেওয়া সহজ। কিন্তু শেষে যে একজন "এক্স চাচা" আসলেন সেটার আগমনের হেতু অবাক করা! একজন বললো "নিজের সন্তানকে কেউ খুন করতে পারেনা", এই ডায়ালগ শুনে বাংলাদেশের কোন পুলিশ অফিসার ডিএনএ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিবে!?
প্লটহোল, সাবপ্লটের দূর্বলতা এগুলো নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে গ্রুপে, তাই সেদিকে আর গেলাম না। হোটেলে ডেডবডি আবিস্কারের পর রেস্টুরেন্টে চার বন্ধুর আলোচনায় "ডেডবডি বলতে নারীর লাশ বুঝে নেয়া" - ভুলটার কথা অনেক রিভিউতে দেখেছি, লেখক নিজেই কমেন্ট করেছিলেন "পরের এডিশনে ঠিক করে নিবো"। দ্বিতীয় এডিশনের বই পড়লাম, ভুল সংশোধন আর করা হয়নি।
পরিশেষে, এ্যাডাপশন হিসাবে লেখকের প্রচেষ্টাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। দেশীয় প্লটে গল্পকে সাজিয়ে নেয়াটা বেশ কঠিনই বটে। লেখক আবুল ফাতাহ'র কাছে থেকে ভবিষ্যতে আরো ভালো ভালো এ্যাডাপশন ও মৌলিক পাবো আশা রাখি।
আসল রেটিং ৩.৫ । কোবেনের 'দ্য ফাইভ' এর এডাপ্টেশন। এডাপ্টেশন বেশ ভাল হয়েছে। আসলে মূল সমস্যা কোবেন নিযে। কোবনে গল্প ফাঁদে আশাপাশের পরিচিত মানুষ এবং পরিবার নিয়ে। সেখানে বেশ কিছু কনসেপ্ট খুবই কমন। ড্রাগ, পরিচিত মানুষের অন্ধকার অতীত এবং পরিচিয় জাল। ঘুরে ফিরে দেখা যায় এগুলো কিংবা এরকম সিমিলিয়ার কনসেপ্টের ভিতরেই আবদ্ধ থাকেন তিনি। ফলে আপনি প্রথম প্রথম কোবেন পড়লে বেশ লাগে। কিন্তু আট-দশটা কোবেন পড়ে ফেললে জিনিসটা পানসে হয়ে।
কোবেনের গল্পের সমস্যার কথা বাদ দিয়ে যদি চিন্তা করি সেই হিসাবে বইটা বেশ ভালো। লেখক গল্প খুব সুন্দরভাবেই দেশীয় পটভূমিতে এডাপ্টেশন করেছেন। কোন কিছু একদম বেশি না, আবার কম ও না। অভারঅল রিকমেন্ডেশনের মত একটা বই।
'ইশতেহার' এর পর ফাতাহ ভাইয়ের আরেকটি দারুণ কাজ। হারলান কোবেনের যে সিরিজটির ছায়া অবলম্বনে বইটি লেখা হয়েছে,সেটি আমি দেখিনি। তাই সম্পূর্ণ নতুন কাহিনি হিসেবে পড়তে পেরেছি। কোবেনের লেখা আমার বরাবরই ভালো লাগে।দেশী আমেজে কোবেন পড়ার মজা-ই আলাদা।
গল্পটা বেশ ভ���লো। কো���েনের মতোই খানিক পরপর মাপা টুইস্ট ছেড়েছেন লেখক। গল্পের বুনট জোরালো,লেখনশৈলী দারুণ এবং পেজটার্নার। সবমিলিয়ে বলা যায়, কোবেনের ছায়ায় দ্যুতি ছড়িয়েছে 'তবু আমারে দেব না ভুলিতে'।