Title: Boys Without Names
Author: Kashmira Sheth
Publisher: Balzer + Bray (19 January 2010)
Language : English
Hardcover : 320 pages
Dimensions: 13.97 x 2.67 x 20.96 cm
Price: (Paperback)
শিশু ও নারীপাচার চক্র বিশ্ব জুড়ে সক্রিয়। ভারতের মতো উন্নয়নশীল কিন্তু আসলে দরিদ্রের দেশে দেহব্যবসা এবং ভিক্ষাজীবীর সংগঠিত চক্র নিদারুণভাবে সাম্রাজ্য চালায়। কিডনি-পাচার চক্র, এমনকী, মৃতদেহের বেআইনি ব্যবসাও প্রবল আকারে চলে। এ এক অন্ধকার বৃত্ত।
২০১০ সালে প্রকাশিত কাশ্মীরা শেঠ রচিত 'Boys Without Names' এই অন্ধকার জগতের এক নির্মম খন্ডচিত্র মেলে ধরেছেন পাঠকের জন্য।
এই অভাগা দেশের কোটি কোটি নিম্নবিত্ত পরিবারের একটির গল্প বলেছেন লেখিকা। রাতের দুর্ভেদ্য অন্ধকারে গোপাল তার ঋণ জর্জরিত পরিবারের সঙ্গে গ্রাম ছেড়ে পাড়ি দে স্বপ্নমাখা মুম্বাই শহরে।
নিদারুন অর্থাভাব ক্লিষ্ট গতদিনের সুখী পরিবারটির মাথা গোপালের বাবা, গ্রাসাচ্ছাদন সংগ্রহের আশায় মুম্বাইনিবাসী সহোদরের সন্ধান করতে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান পরিবারের থেকে। অচেনা শহরে, বিধাতার নির্মম পরিহাসে বাবার সন্ধান করতে গিয়ে গোপাল শিশু শ্রমিক দালালদের এক চক্রের খপ্পরে আবদ্ধ হয়ে যায়। জীবনের অর্থ, স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ সবটাই পাল্টে যায় ছেলেটার।
মনস্বী পাঠকের হয়তো স্মরণে থাকবে যে , অষ্টাদশ শতকে শিল্পবিপ্লবের পরে গোটা ইউরোপ ও আমেরিকায় কলকারখানা তৈরি হতে থাকে। এই সময় আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যা এবং প্রযুক্তির হাত ধরে বেড়েছিল জনসংখ্যাও। গ্রাম থেকে দলে দলে মানুষ কলকারখানায় আসতেন কাজের খোঁজে।
এই সময়ে মালিকেরা দেখলেন এক জন পূর্ণবয়স্ক শ্রমিককে বেতন দিয়ে কাজ করিয়ে যতটা লাভ হচ্ছে তার থেকে অনেক কম বেতনে শিশু ও মহিলা শ্রমিকদের কাজে রাখা যায়।
এবং তাদের দিয়ে যতক্ষণ ইচ্ছা কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। তাতে লাভ বাড়ে। পাশাপাশি, শ্রমিক পরিবারগুলিও এটা মেনে নিতে বাধ্য হত। কারণ, মূল শ্রমিকের যে সামান্য মজুরি মিলত তাতে ঠিকমতো সংসার চলত না।
ফলে, পরিবারের ছোটদের এক প্রকার বাধ্য হয়ে অমানবিক পরিবেশে কাজে পাঠাতে হত। তথ্য বলছে, শিশু শ্রমিকদের ফি-দিন সামান্য মজুরি দিয়ে ১৬ ঘণ্টার কাছাকাছি কাজ করানো হত।
এর জেরে শিশুরা অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগত। অমানবিক খাটুনিতে শরীরও দ্রুত ভেঙে পড়ত। সেই সময়ের সাহিত্যে, যেমন, চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাসে শিশুশ্রমের এই ছবিটি দেখতে পাওয়া যায়।
এমনই এক অন্ধকার কয়েদখানার বাসিন্দা হয় গোপাল। ছবির ফ্রেমের ওপরে পুঁথি গাঁথার কাজ গোপালের। শিশু শ্রমিকের খুদে হাত ছাড়া এই কাজ সম্পন্ন হয়না। আধপেটা খেয়ে , দিন রাতের হিসাব ভুলে এই একই কাজ করতে থাকে শিশুটি। দিনের পর দিন। সে এক অন্ধকার অস্তিত্ব। ক্ষমতাবানের পারস্পরিক সমীকরণ শেষ পর্যন্ত মানুষকে দু’দলে ভাগ করে রাখে। সর্বহারা আর সর্বময়ক্ষম। গোপালের শৈশব, পড়শি বাড়ি, পড়শি গাঁ, পড়শি রাজ্য — কেউ কারও বন্ধু নয় সেখানে। হীনতা নিজ সংজ্ঞায় সংস্থাপিত। কেউ উদ্ধার করতে আসেনা তাকে।
লেখিকা তাঁর টেক্সটের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন যে শিশুশ্রম এক নিরবচ্ছিন্ন অভিশাপ।
১৯১৮-১৯২০ সালের দিকে আমেরিকায় শিশুশ্রমকে ‘বেআইনি’ ঘোষণার চেষ্টা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৩৮ সালে সরকারি ভাবে শিশুশ্রমিক নিয়োগ বেআইনি ঘোষিত হয়। পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও শিশুশ্রম বন্ধের জন্য নানা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
ভারতবর্ষের প্রচলিত আইন অনুসারে ১৪ বছরের নীচে কোনও শিশুকে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়। তবে তথ্য বলছে, এখনও ভারত, নাইজেরিয়া, মায়ানমার, সোমালিয়া, কঙ্গো, লাইবেরিয়া, পাকিস্তান, চাদ, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া প্রভৃতি দেশগুলিতে কোথাও সরাসরি কোথাও ঘুরপথে শিশু শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়। এর একটি কারণ অবশ্যই দারিদ্র।
দরিদ্র পরিবারে এই কারণে সন্তানের সংখ্যা বেশি হয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। কারণ, পরিবারে সদস্য সংখ্যা বাড়া মানে কাজ করার লোকের সংখ্যাও বাড়া।
এর পাশাপাশি, সচেতনতার অভাব এবং আইনের প্রয়োগের শৈথিল্য তো রয়েই গিয়েছে।
গোপাল নিজের মুক্তি মার্গ নিজের মনের অভ্যন্তরেই খুঁজে পায় অবশেষে।
বাবা মা, পরিবারের সাথে মিলিত হবে কি গোপাল ? অন্ধকারের বুক চিরে আবার আলোর সন্ধান পাবে কি সে ?
পড়ুন এই অসামান্য উপন্যাস।
সমাপতন স্রেফ এইটাই যে আজ ১২ জুন (শনিবার) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। উপন্যাসটির শেষ চল্লিশ পাতার মতো আজকেই শেষ করলাম।
সামাজিক নিরাপত্তা দৃঢ়মূল করে অর্থনৈতিক সাফল্য। সামাজিক সুবিধার সুষম বণ্টন। স্বাধীন ভারতে আজও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলি সুস্থিত নয়। এই ২০২১ সালেও।