শৈলজ শব্দের অর্থ পর্বতজাত কিংবা পাহাড় সম্পর্কীয়। আমার কাছে পাহাড়কে বেশ রহস্যময় মনে হয়। বিরাটকায় শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যেন লুকিয়ে আছে কত কথা, তত্ত্ব, রহস্য। এই বইয়ের গল্প গুলো একটু ভিন্নরকম। সব গল্পের হয়তো ব্যখ্যা নেই, তবে গল্পগুলো পড়তে পড়তে গা শিরশিরে একটা অনুভূতি জাগতে পারে। গল্প লেখার সময় আমার এমন হয়েছিলো আর কি। ‘অতিপ্রাকৃত’ আমার খুব পছন্দের জনরা। এই নয়টি গল্পকে সেই জনরায় ঠাঁয় দেয়া যায় কিনা সে সিদ্ধান্ত প্রিয় পাঠকের হাতেই তোলা রইলো। গল্প গুলো যদি কিছুক্ষণের জন্যও ভাবায়, সেখানেই হবে প্রাপ্তি।
আসল রেটিং সাড়ে তিন। সংকলনের সেরা গল্প 'শামুক', 'শৈলজ' আর 'শিকল'। শামুকের মত সাদামাটা একটা প্রাণীকে মাঝে রেখে বন্ধুত্ব, প্রেম, যৌবন আর অলৌকিকতার চমৎকার একটা গল্প দাঁড় করিয়েছেন লেখিকা। 'শৈলজ' গল্পটা মনের উপর চেপে বসে পাহাড়ের নির্জন পরিবেশে ছড়িয়ে পড়া সর্বগ্রাসী অন্ধকারের মত, শুধু বৈজ্ঞানিক আলাপ একটু কম থাকলে গল্পটা আরো দুর্দান্ত হত। 'শিকল' গ্রামের পুকুর, রাত, গুপ্তধন, স্বপ্ন, মিথ, লোভ, সোনার শিকল আর ভয়ের মিশেলে মুগ্ধ করার মত অতিপ্রাকৃতিক গল্প। এর বাইরে পেঁচা গল্পে মৃত্যুর সাথে পেঁচার ডাকের সম্পর্ক; একাকী লিলি আর তার রহস্যময় বিড়াল এই দুইটা গল্পও লেখার গুণে পড়তে ভালোই লাগে। বাকি গল্পগুলো সাদামাটা লেগেছে।
হরর জন্রার কোন বই হাতে পেলেই মনে হয় আসলে বইটা রাতে পড়া দরকার, যখন সবকিছু চুপচাপ হয়ে যাবে। শুনশান নীরবতার মধ্যেই অতিপ্রাকৃত গল্পের আসল মজা পাওয়া যায়। নূহা চৌধুরীর 'শৈলজ' বই টা একটা অতিপ্রাকৃত গল্পগ্রন্থ। এই গল্পগুলোর বাস্তব ব্যাখ্যা পাওয়া মুশকিল। তবে বাস্তব কখনো কখনো অবাস্তব গল্পের চেয়েও রহস্যময় হয়ে ওঠে।
এই বইটাতে গল্প আছে মোট নয়টা।
পেঁচা নেফ্রোদিতি শৈলজ সে শামুক লিলিথের পরের গল্প প্রতিবিম্ব লিলি এন্ড হার পেট শিকল
প্রথম গল্পটা গ্রামবাংলার একটা কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে যখন সেটার প্রতিফলন ঘটে যায় মানব জীবনে, তখন আর কুসংস্কারটা কুসংস্কার না হয়ে, হয়ে যায় বাস্তব জীবনের কোন ভয়াবহ গল্প।
নেফ্রোদিতির গল্পটা একটু মন খারাপ করা গল্প।
'শৈলজ' গল্পটাকে 'ম্যাকাব্রা'তে ফেলে দেয়া যায়। গল্পের নির্মাণ এবং বর্ননাভঙ্গি চমৎকার। প্লটটার মধ্যে এডগার এলেন পো এর কিছুটা ভাইবও পাওয়া যায়।
'সে' আর 'শিকল' সবচেয়ে পছন্দের গল্প। হয়তো সবচেয়ে ভয়েরও গল্প। পুরোটা বই না হলেও এই দুটো গল্পকে নিশ্চুপ রাতের বেলায় পড়ার অনুরোধ রইলো।
'শামুক', 'লিলিথের পরের গল্প' আর 'লিলি এন্ড হার পেট' এই গল্পগুলো তিনটা ভিন্ন ভিন্ন প্লটে গড়ে উঠেছে। কিন্তু তিনটা গল্পই বেশ চমকপ্রদ। গল্পের শেষ পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত বোঝা কঠিন যে আসলে কি হতে যাচ্ছে। তবে লেখিকার লিলিথ গল্পটা যারা আগে পড়েছেন তারা হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পারবেন।
'প্রতিবিম্ব' গল্পটাকে এই বই এর জন্য কেমন যেনো বেমানান মনে হলো। এই গল্পটাকে 'adorable' বলি? অনেক মায়া মায়া লেখা। যদিও বাস্তবে প্রতিবিম্বের সাথে আমাদের কথোপকথন হয়না। হলে মন্দ হতো না!
লেখিকার লেখা নিয়ে নতুন করে আমার বলার কিছু নেই। বিভিন্ন ধরণের উপমা, কোটেশান আর সহজ সাবলীল ভঙ্গীতে গল্প বলাটাই তার নিজস্ব ভঙ্গী। লেখায় বেশ তথ্যের আনাগোনা লক্ষ্যনীয়। পুরোটা বই পড়ার পর এই গল্পগ্রন্থকে আমি হরর-ফ্যান্টাসি জন্রায় ফেলে দিলাম। ছোট্ট, আশি পৃষ্ঠার একটা বই। পড়তে বিশেষ সময় লাগার কথা না। রিডার্স ব্লকে থাকা পাঠকদের দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করছি। যেহেতু সবই অতিপ্রাকৃত গল্প, এবং প্রত্যেকটা গল্পের পটভূমি ও পরিণতি ভিন্ন, সুতরাং পাঠক নিরেট আনন্দের সহিত বইটা পড়তে পারবেন বলেই আশা করছি। খুব বেশি মাথাও ঘামাতে হবে না, পড়েও আনন্দ পাওয়া যাবে। পাঠক হিসেবে এর চেয়ে বেশি একটা বই এর কাছে আর কি ই বা চাওয়ার আছে!
বই এর প্রচ্ছদটাও বেশ আকর্ষণীয়। গল্পগুলোর সাথে একদম পারফেক্টলি খাপ খেয়ে যাওয়ার মতো। আরো রয়েছে প্রতিটা গল্পের শুরুতেই একটা করে ইলাস্ট্রেশান। ছবিগুলো নজরকাড়া সুন্দর। প্রচ্ছদ আর্টিস্ট ফাইজা ইসলাম। উনার আরো আর্ট দেখেছি। তবে এই বই এর ইলাস্ট্রেশানগুলো বিশেষভাবে প্রিয়।
লেখিকা ও পাঠক উভয়ের জন্যই রইলো শুভকামনা। হ্যাপি রিডিং!
পুনশ্চ, বইটা পাওয়া যাবে বইমেলার 'উপকথা' প্রকাশনে। ঘরে বসে অনলাইনে অর্ডার করা যাবে রকমারি থেকে।
গল্পগুলো বেশ রহস্যময়। লেখিকার কথামত সত্যিই পড়তে গিয়ে গা শিরশিরে অনুভূতি হয়েছে। লেখার ধরন সহজপাঠ্য। এবং প্রতিটা গল্পই তথ্যবহুল। এ ব্যাপারটা ভাল লেগেছে। পেঁচা,শৈলজ,সে, শিকল এই গল্পগুলো সবচেয়ে ভাল লাগলো। 🌺
নূহা চৌধুরীর শৈলজ তার দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ। লেখকের লেখার কথা বলতে গেলে লিখনশৈলী সহজ ও সাবলীল। গল্পগুলো একটানে পড়ে শেষ করার মতো। ছোট গল্প হলো ক্ষুদ্র পরিসরে আর কোনো একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিখা। একটা গল্প পড়া শেষ হলে যদি তা আপনার মনে একটা অনুভুতি তৈরি করে তাহলেই মনে করি লেখা সার্থক। সেক্ষেত্রে শৈলজ এর গল্পগুলো খুব সাধারণ আর প্রেক্ষাপট আমাদের চারপাশের। গল্পগুলো একটা আকর্ষণ তৈরি করে পাঠককে আকৃষ্ট করবে। এত ছোট্ট পরিসরে কতগুলো অনুভূতিই বা প্রকাশ করা যায়। আমার ছোট গল্প ব্যক্তিগতভাবে তেমন পছন্দ না হলেও কিছু গল্প বেশ ভালো লাগে। শৈলজ বইয়ের সবগুলো গল্পই পড়ে ভালো লাগার মতো। প্রতিটা গল্পের প্লটই ভিন্নরকম আর ভিন্ন স্বাদের ছিল। তবে পেঁচা, শৈলজ, শিকল গল্পগুলো আমার খুবই ভালো লেগেছে।
বিচিত্র এই পরিবেশে বিভিন্ন রকম ঘটনা ঘটে থাকে। তার মধ্যে কিছু হয়তো আমরা দেখতে পাই অনুভব করতে পারি আর কিছু আমরা এড়িয়ে যায় বা চোখে পড়ে না। প্রকৃতির কিছু অদ্ভুত জীব বা বস্তু দেখলে আমাদের গা শিরশির অনুভূতি হয় সেটা বাস্তবে হোক বা কল্পনায়। লেখিকা নূহা চৌধুরী তার শৈলজ বইয়ে এরকম কিছু অদ্ভুত ঘটনাকে বলা যায় লেখিকার অনুভূতিকে পাঠককে বলেছেন। লেখিকা এ বিচিত্র গল্পগুলোকে হরর গল্প বললেও পড়ে এমনটা মনে হয় নি। তবে কয়েকটা গল্প বেশ লেগেছে। বেশিরভাগ গল্পই প্রকৃতিকে নিয়ে তাই হয়তো বইটার নাম পর্বতজাত শব্দ শৈলজ রাখা হয়েছে।
কিছু গল্প বোঝা গেলেও কয়েকটি গল্প বুঝিনি তবুও
নিচে দুয়েক লাইনে গল্পগুলোকে ব্যাখা করলাম..
পেঁচাঃ পেঁচা প্রকৃতির এক অদ্ভুত প্রাণী। ছোট বেলায় রাতের বেলা পেঁচা দেখলে বা পেঁচার কথা শুনলে একটু ভয় হতো কারণ পেঁচা অদ্ভুত দেখতে। এখানে পেঁচার সাথে লেখিকা খারাপ সংবাদের সাথে সংযোগ করেছেন। গল্পটার কিছু দিক আগে জানা ছিল।
নেফ্রোদিতিঃ এই গল্পটা ভালো লেগেছে।ভিনদেশের এক রাণী প্রজাপতি নেফ্রোদিতি অর্ণবের প্রতি ভালো লাগাকে কেন্দ্র করে ছোট গল্প। কিন্তু শেষ পরিণতি টাও বিষাদময়।
শৈলজঃ এই গল্পটা একটু অন্যরকম লেখিকা আরেকটু ব্যাখ্যা দিলে আরও ভালো লাগতো। রফিক সাহেব প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসে প্রকৃতির যে ছোট্ট রূপটা দেখেছেন সেটা ভালো লাগল। শেষটা যদিও অদ্ভুত মস আর শৈবাল যেরকম করে রফিক সাহেব আর প্রকৃতিকে গ্রাস করেছে সেটার আরেটু ব্যাখা থাকলে ভালো হতো।
সেঃ দুটি তরুণ তরুণীর ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হওয়া এবং শেষে গিয়ে একটা অতিপ্রাকৃত ঘটনা। নাবিয়া জবানিতে অরূপ আর তার সম্পর্কের সমীকরণ টা ভালো লেগেছে। ছোট গল্প যেমন হয় হুট করে শেষ হয়ে যায়। এটাও ঠিক এমনই।
শামুকঃ এই গল্পে একটু হরর ফিল পেয়েছি। একটু মিথ আরেকটু রহস্য নিয়ে শামুক গল্পটা ভালোই লেগেছে। শেষটাও সুন্দর।
এ ছাড়াও লিলিথের পরের গল্প,সে,প্রতিবিম্ব,শিকল গল্পগুলো পড়ে মিশ্র অনুভূতি পেলাম। তবে লেখিকা চাইলে গল্পগুলো আরেকটু বড় করতে পারতেন। অনেক গল্পই ধোঁয়াশা থেকে গেছে। আর গল্পটা হরর সংকলন মনে হলেও অতিপ্রাকৃত আবহ টা কম ছিল। লেখনশৈলী আর ছোট ছোট প্লটগুলো ভালো লেগেছে।
ফ্ল্যাপ: শৈলজ শব্দের অর্থ পর্বতজাত কিংবা পাহাড় সম্পর্কীয়। আমার কাছে পাহাড়কে বেশ রহস্যময় মনে হয়। বিরাটকায় শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যেন লুকিয়ে আছে কত কথা, তত্ত্ব, রহস্য। এই বইয়ের গল্প গুলো একটু ভিন্নরকম। সব গল্পের হয়তো ব্যখ্যা নেই, তবে গল্পগুলো পড়তে পড়তে গা শিরশিরে একটা অনুভূতি জাগতে পারে। গল্প লেখার সময় আমার এমন হয়েছিলো আর কি। ‘অতিপ্রাকৃত’ আমার খুব পছন্দের জনরা। এই নয়টি গল্পকে সেই জনরায় ঠাঁয় দেয়া যায় কিনা সে সিদ্ধান্ত প্রিয় পাঠকের হাতেই তোলা রইলো। গল্প গুলো যদি কিছুক্ষণের জন্যও ভাবায়, সেখানেই হবে প্রাপ্তি।
পাঠপ্রতিক্রিয়া: নতুন লেখকদের বই আমি একটু কমই পড়ি বলা চলে। একটা ভয় কাজ করে পড়তে বসলে। তাই আমি আমার কমফোর্ট জোনের মাঝে যে লেখকগন আছেন তাদের বই ই বেশি পড়ি। তবুই অতিপ্রাকৃত জনরার বই বলে এটি পড়া শুরু করি। বইটিতে নয়টি গল্প রয়েছে। তবে সবগুলো গল্প যে আমার ভালো লেগেছে তা না। শুধু হাতেগোনা কয়েকটা ভালো লেগেছে। এর মাঝে রয়েছে, ( ১. শামুক ২. লিলি এন্ড হার পেট ৩. সে) বাকি গল্পগুলো মোটামুটি বলা চলে। আমার কাছে তেমন একটা ভালো লাগেনি। বলা চলে যে পুরোপুরি তৃপ্তি পাইনি বইটা পড়ে। কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে লেখিকা তাড়াহুড়া করেছেন। সে যাই হউক।
লেখিকা নূহা চৌধুরীর লেখা এর আগে পড়া হয়নি। এই প্রথম লেখনীর সাথে পরিচয়। "শৈলজ" বইটি উপহার হিসেবে পাওয়া বিধায় হয়তো পড়া হলো। বেশ সাবলীল লেখনী। গল্প জলার ধরন ভালো লেগেছে। সাদামাটা, তবে কেবল গল্প বলে যাওয়ার কারণে বিরক্তি লাগেনি।
"শৈলজ" ছোটো গল্পের একটি সংকলন। এখানে মোট নয়টি ভিন্ন ধারার গল্প আছে। কিছুটা হরর, অতিপ্রাকৃতের মিশেলে লেখিকা গল্পগুলো লিখেছেন। ভালো ছিল, অবশ্যই বলতেই হয়। কিছু গল্পের গভীরে বেশকিছু অন্তর্নিহিত অর্থ রয়েছে।
যেমন শেষ গল্পটির কথা বলা যায়। "শিকল" নামের গল্পটি জানান দেয়, লোভ করা ভালো নয়। লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ তলিয়ে যায়, হারিয়ে যায় গভীর অতলে। কিংবা "লিলি এন্ড হার পেট" গল্পটি জানান দেয়, মানুষের একাকীত্ব এক সময় মানসিক অবক্ষয়ের কারণ। প্রিয় মানুষকে হারালে, সেই প্রিয় মানুষকে খোঁজার চেষ্টা চলে অন্য কোনো সত্তায়। এই গল্পটি আমার বেশ ভালো লেগেছে।
তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে "সে" গল্পটি। সাধারণভাবে শুরু হলেও শেষটা দারুণ। চমকে দেওয়ার উপকরণ ছিল। সাথে ভয়, গা ছমছমে ভাব ছিল। ছোটো গল্পের মতোই শেষ পরিণতি। এরপর কী হলো?
এছাড়া বাকি গল্পগুলো মোটামুটি ভালো ছিল। যেখানে "পেঁচা" গল্পটি জানান দেয়, আমাদের গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার। একবার মনে গেঁথে গেল শিক্ষিত সমাজও যেন বাঁধা পড়ে। আর তাছাড়া যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়। সংকলনের নামকরণ যে গল্প দিয়ে, সেই "শৈলজ" গল্পটি মোটামুটি লেগেছে। শেষটা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম, তাই হয়তো খুব একটা উপভোগ করতে পারিনি। এভাবেই হয়তো কেউ কেউ হারিয়ে যায়, যার খবর কেউ জানে না।
"নেফ্রোদিতি" গল্পটি আরেকটু ভালো হতে পারত। ভালোবাসাময় এই গল্পটি খুব একটা খারাপ লাগেনি যদিও। আমরা তো এমনই। ভালোবাসা সঠিক স্থানে দিতে কার্পণ্য করি। হয়তো ভালোবাসার মৃত্যু ঘটে এখানে, সাথে ভালোবাসার মানুষটিরও। "লিলিথের পরের গল্প" একদমই ভালো লাগেনি। কী হলো, কেন হলো; কিছুই বোধগম্য হলো না। সব যেন ধোঁয়াশা। তেমনই "শামুক" গল্পটি গা ঘিনঘিনে এক আবহ তৈরি করেছিল। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা এক নারীর গল্প। এমনটাও হতে পারে?
"শৈলজ" বইটির সম্পদনাজনিত অনেক ত্রুটি লক্ষ্য করেছি। বেশ কিছু বানান ভুল ছিল। সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিল 'না' স্বতন্ত্র শব্দ হওয়ার পরও শব্দের সাথে জুড়ে দেওয়া। যেমন : জানতামনা, যাবোনা ইত্যাদি। এছাড়া দাড়ি (।) এর পরিবর্তে অনেক জায়গায় এক লম্বা ( | ) চিহ্ন ছিল। এছাড়া কোথায় এন্ড (End) আর কোথায় অ্যান্ড (And) হবে এই বিষয়টি জানা উচিত। একই সাথে হুটহাট কিছু প্রচলিত-অপ্রচলিত ইংরেজি শব্দের ব্যবহারে পড়ার গতি ব্যাহত হচ্ছিল। এগুলো পরিহার করলে খুব কি ক্ষতি হয়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, ৭৯ পৃষ্ঠার ক্রাউন সাইজের একটি বইয়ের মূল্য ২৭০ টাকা আমার কাছে বাড়তি মনে হয়েছে। এত দামের কারণ কী, আমার জানা নেই।