ইমতিয়ার শামীম বহুদিন পর প্রত্যক্ষ সমকালীনতাতপ্ত গল্প লিখে মুগ্ধ করলেন। "তিনটি মেয়ে একা" আমাদের সংগুপ্ত ক্ষরণের গল্প। বইতে উপন্যাসিকা আছে তিনটি (পাথরপ্রপাত, অপার গ্রীষ্মকাল ও পরম্পরা)। কাহিনি তিনটা হলেও আসলে তারা একই বেদনা, একই যন্ত্রণার সন্তান।
"পাথরপ্রপাত" এ মৌলি একটা অর্থহীন স্বপ্ন বারবার দেখে ডাক্তার আশুতোষের কাছে যায়। কিন্তু মৌলির অর্থহীন স্বপ্নের সমাধান হয় না।তার সাথে একই ফ্ল্যাটে থাকা শায়লা,রিক্তার সমস্যারও যেমন সমাধান হয় না। মৌলি পতন ঠেকাতে চায় কিন্তু পতন এগিয়ে আসেই।
"অপার গ্রীষ্মকাল" অন্বেষা আর কেয়ার গল্প।তাদেরকে "পাকা কাঁঠাল" বা "ছুলানো কলা" ভাবা "নীল মাছি"দের আনাগোনা চারপাশে। সেইসাথে গল্পটা হিমেল অথবা অভির অথবা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের যেখানে গ্রীষ্মকালই সদা বিরাজমান।
"পরম্পরা" আনুশকা আর ওর মা মিতার গল্প। হা করে গিলতে থাকা দুর্নীতি আর শান্ত সন্ত্রাস যেখানে আশ্রয়হীন করে মানুষকে।
উপন্যাসিকা তিনটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নয়, বরং সেসব ঘটনা চরিত্রগুলোকে কোথায় ঠেলে দিচ্ছে সেটাই মুখ্য। তাদের অনুভূতি ও তাড়না লেখক অনুপুঙ্খভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পের শুরু আছে,শেষ নেই। এসব গল্প শেষ হয় না আসলে। (যারা প্রথাগত অর্থে নিটোল উপাখ্যান খোঁজেন বইটা তাদের জন্য নয়।)
তিন নারীর চোখ দিয়ে আমাদের চেনা শহর, চেনা পৃথিবীটাও কেমন অচেনা ঠেকে। "তিনটি মেয়ে একা"র নারীরা যেমন তাদের শ্রেণির প্রতিভূ; তেমনি তারা প্রতিনিধিত্ব করে আমাদের যাপিত জীবনের, অসহায়ত্বের, গ্লানির, আমাদের চেতনার।