চিলাপাতার গভীর জঙ্গল, নিকষ অন্ধকার রাত৷ জগুমামার সঙ্গী পট্টনায়ক, আর তরুণী তিতির রায় বর্মন, যার হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী বাবাকে খুঁজতে জগুমামা উত্তরবঙ্গের একমলাটে দু-দুটো জগুমামা-টুকলুর ঘনঘোর রহস্য কাহিনী ‘জঙ্গলে ভয় ছিল’ আর ‘জ্যান্ত পাথর!
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এসসি। শিশু কিশোর ও প্রাপ্তমনস্ক সাহিত্যের ইতিহাস, বিজ্ঞান, রহস্য, হাসিমজা...নানা শাখায় বিচরণ। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচুর লেখালিখি। প্রকাশিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। জনপ্রিয় চরিত্র বিজ্ঞানী জগুমামা ও টুকলু। ১৯৯৫ থেকে কিশোর ভারতী পত্রিকার সম্পাদক। ২০০৭ সালে পেয়েছেন শিশু সাহিত্যে রাষ্ট্রপতি সম্মান। শিশু-কিশোর সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যাসাগর স্মৃতি পুরস্কারে সম্মানিত। মধ্যবর্তী সময়ে পেয়েছেন রোটারি বঙ্গরত্ন, অতুল্য ঘোষ স্মৃতি সম্মান, প্রথম আলো সম্মান ও নানা পুরস্কার
বাংলা সাহিত্যের আত্মীয় সম্পর্কের গোয়েন্দাদের শেষতম চরিত্রদের মধ্যে একজন হচ্ছেন জগুমামা, যার কীর্তিকাহিনি আজও লেখা হচ্ছে। বাকিদের বেশিরভাগই বিদায় নিয়েছেন। কিশোরভারতী থেকে জগুমামা পড়ার সুবিধে এর আগে হয়নি কারণ শারদীয়া কেনার লিস্টে কিশোরভারতী প্রায় কোনোবারেই প্রথম প্রেফারেন্স ছিল না। বই থেকেই তাই প্রথমবারের জন্য জগু - টুকলু - সরখেল - সোমলতা'দের দুটি অ্যাডভেঞ্চার (জঙ্গলে ভয় ছিল, জ্যান্ত পাথর! তারপর...) পড়লাম। সোজাসুজি বললে, জগুমামা অনেকটাই কাকাবাবু গোছের, আবার অনেকটাই নন। কারণ জগুমামার গল্পে রহস্যের অন্যতম উপাদান কল্পবিজ্ঞান, যা কাকাবাবুর কাহিনিগুলিতে সামান্য কয়েকবারই ছিল। গপ্পোতে ফাঁদা ঘটনাক্রম যথেষ্ট আধুনিক। তবে এই আধুনিক থ্রিলারীয় কায়দাই গল্প-বলার সারল্যকে বিদায় জানিয়েছে। পড়া শেষেও তাই কিন্তুকিন্তু ভাব থেকে যাবে। ভালো অথচ কেমন একটা আলগোছে ভাবও রয়েছে। কল্পবিজ্ঞানের অংশগুলো বাকি নব্বইভাগ বাংলা কল্পবিজ্ঞানের মতনই বিজ্ঞানভিত্তিক রূপকথা। গপ্পোর আসল বাহাদুরির জায়গাতেই তাই.... তবে বর্ষীয়ান লেখকদের লেখা পড়ার কয়েকটা সুবিধা হল - স্থান/ইতিহাস সংক্রান্ত ডিটেলিং প্রচুর কারণ এঁরা ভ্রমণ ও পঠনে জীবনের অনেকটা অতিবাহিত করেছেন, পড়ার গতি অনেক বেশি হয় সুপাচ্য লেখনীর কারণে। ওইটুকুই। জগুমামাকে খুব তাড়াতাড়ি আর ভিজিট করার ইচ্ছা নেই।