বাংলা সাহিত্যের আত্মীয় সম্পর্কের গোয়েন্দাদের শেষতম চরিত্রদের মধ্যে একজন হচ্ছেন জগুমামা, যার কীর্তিকাহিনি আজও লেখা হচ্ছে। বাকিদের বেশিরভাগই বিদায় নিয়েছেন।
কিশোরভারতী থেকে জগুমামা পড়ার সুবিধে এর আগে হয়নি কারণ শারদীয়া কেনার লিস্টে কিশোরভারতী প্রায় কোনোবারেই প্রথম প্রেফারেন্স ছিল না।
বই থেকেই তাই প্রথমবারের জন্য জগু - টুকলু - সরখেল - সোমলতা'দের দুটি অ্যাডভেঞ্চার (জঙ্গলে ভয় ছিল, জ্যান্ত পাথর! তারপর...) পড়লাম।
সোজাসুজি বললে, জগুমামা অনেকটাই কাকাবাবু গোছের, আবার অনেকটাই নন। কারণ জগুমামার গল্পে রহস্যের অন্যতম উপাদান কল্পবিজ্ঞান, যা কাকাবাবুর কাহিনিগুলিতে সামান্য কয়েকবারই ছিল।
গপ্পোতে ফাঁদা ঘটনাক্রম যথেষ্ট আধুনিক। তবে এই আধুনিক থ্রিলারীয় কায়দাই গল্প-বলার সারল্যকে বিদায় জানিয়েছে। পড়া শেষেও তাই কিন্তুকিন্তু ভাব থেকে যাবে। ভালো অথচ কেমন একটা আলগোছে ভাবও রয়েছে। কল্পবিজ্ঞানের অংশগুলো বাকি নব্বইভাগ বাংলা কল্পবিজ্ঞানের মতনই বিজ্ঞানভিত্তিক রূপকথা। গপ্পোর আসল বাহাদুরির জায়গাতেই তাই....
তবে বর্ষীয়ান লেখকদের লেখা পড়ার কয়েকটা সুবিধা হল - স্থান/ইতিহাস সংক্রান্ত ডিটেলিং প্রচুর কারণ এঁরা ভ্রমণ ও পঠনে জীবনের অনেকটা অতিবাহিত করেছেন, পড়ার গতি অনেক বেশি হয় সুপাচ্য লেখনীর কারণে। ওইটুকুই। জগুমামাকে খুব তাড়াতাড়ি আর ভিজিট করার ইচ্ছা নেই।