৩.৫/৫
তারাপদ রায় বলে কথা। নাহয় তার আমেরিকা ভ্রমণের সাথে "রম্য" কথাটি যুক্ত হবে কেন? "হাসতে হাসতে আমেরিকা" ঠিক সে অর্থে ভ্রমণকাহিনি নয় অবশ্য। লেখক আর তার স্ত্রী ("গৃহকর্ম নিপুণা, রন্ধন ও কলহ পটিয়সী") মিনতি রায় ছেলের কাছে থাকতে গেছেন, ঠিক "বেড়াতে" নয়। তারাপদ রায়ের গল্পে ঢুকে পড়ে সাতচল্লিশের দেশভাগ, এলিজাবেথ টেইলর, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, গুলিখোর মাতাল, টুইন টাওয়ারে হামলাসহ বিবিধ বিষয়। সেগুলোই বইয়ের মূল আকর্ষণ মনে হোলো আমার কাছে।
সাতচল্লিশে দেশভাগ হয়েছে কিন্তু ভারত বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্ট প্রথা চালু হয় ১৯৫২ সালে।এর আগে দুই দেশের মানুষ অবাধে যাতায়াত করতে পারতো দুই দেশেই। এখন পাসপোর্ট বা "ছাড়পত্র" লাগবে শুনে লেখকের এক ঠাকুরমার মন্তব্য ছিলো "কলকাতায় কি ছারপোকা কম পড়েছে যে সকলকে একটা করে ছারপোকা নিয়ে যেতে হবে?"
তারাপদ রায়ের সহজাত রসবোধের গুণে ভ্রমণপথের নিতান্ত বিরক্তিকর ব্যাপারগুলোও স্বাদু হয়ে ওঠে। সানফ্রানসিসকো নেমে লেখক ওয়াইনে মাত্র দুই চুমুক দিতেই তার মাথা ঘুরে উঠলো। ভাবলেন, কি সাংঘাতিক মদ! ছেলে হেসে জানালো, ওয়াইনের কৃতিত্ব নয়, মাত্রই একটা ভূমিকম্প হয়ে গেলো। সানফ্রানসিসকো ভূমিকম্পের দেশ।
ছেলের বাসায় থাকেন, সময় কাটানোর জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে দোভাষীর কাজ নিলেন। নিয়েই পড়লেন বিপদে। কেউ হয়তো আত্মহত্যা করতে চাইছে, তাকে বোঝাতে হয়।দিনরাত দোভাষীর কাজ করার জন্য কল আসছে।শেষে উদ্ধার পাওয়ার জন্য অফিসের সব কর্তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করলেন বাংলায়। কর্মকর্তারা ভাবলো লেখকের মাথায় ছিট আছে। তাই কাজ থেকে অব্যাহতি পেলেন। এমন অনেক মজার ঘটনা আছে বইজুড়ে। তবে "রম্য" হতেই হবে এই অজুহাতে গল্পে এমন কিছু অংশ যুক্ত হয়েছে যা থাকার কোনো প্রয়োজন ছিলো না।