“একাত্তর অক্টোবর শেষে নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বললেন, শেখ মুজিবকে যদি পূর্ব পাকিস্তানে ছেড়ে দেওয়া হয়, সেখানকার জনগণই তাঁকে হত্যা করবে। কি উদ্দেশ্যে এই ভবিষ্যৎবাণী উচ্চারিত, অথচ কি অমোঘ এই বাক্য! ইয়াহিয়া খান নিশ্চয়ই তার আশেপাশের পা চাটা বাঙালী চামচা দেখে বাঙালী জাতি সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা পোষণ করতেন, বাঙালী গাদ্দার। তাই এমন সহজে বাঙালী জাতিকে পিতৃহন্তা বলেও ভাবতে পারেন তিনি। কি আশ্চর্য এই মূল্যায়ন! নাটোরে যুদ্ধবন্দী পাকসেনাদের সেই চিৎকার এখনও আমার কানে লেগে - 'হম ফির আয়েঙ্গে।'এই চিৎকারকে সেদিন যে সহযাত্রীরা উপহাস করেছিল, তারা আজ কোথায়? 'হম ফির আয়েঙ্গে' - এখন বুঝতে পারি কতভাবেই না ফিরে আসা যায়। ধর্মীয় রাজনীতির পোশাকে সাম্প্রদায়িকতার সড়ক বেয়ে ফিরে আসা যায়, ক্রিকেটপ্রীতির নামে সেই সাম্প্রদায়িকতার বিষটুকুও ধীরে ধীরে সঞ্চারিত করা যায়, কিংবা নতুন খাকী বোতলে পুরোনো মদ ঢেলেও ফিরিয়ে আনা যায় সেই হারানো দিন, সেই হারানো সালতানাৎ। এখন আমাদের পরিচয় সংকট। আমরা আগে বাঙালী, না আগে মুসলমান এই বিতর্ক অমীমাংসিত। আমাদের ঐতিহ্যের মূল শিকড় মাটির নিচে না বালির নিচে, তা নিয়ে কত আত্মানুসন্ধান কত সংশয়। তাই পাকসেনাদের স্বশরীরে ফেরা সম্ভব না হলেও তাদের প্রেতাত্মা আমাদের সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে উপস্থিত।”
―
নাজিম মাহমুদ,
যখন ক্রীতদাস: স্মৃতি ৭১