Ashfaqul Jalil > Ashfaqul's Quotes

Showing 1-7 of 7
sort by

  • #1
    Jibanananda Das
    “তবু তোমাকে ভালোবেসে
    মুহূর্তের মধ্যে ফিরে এসে
    বুঝেছি অকূলে জেগে রয়
    ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয় ।”
    Jibanananda Das, জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা

  • #2
    Jibanananda Das
    “শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে
    বলিলাম: ‘একদিন এমন সময়
    আবার আসিয়ো তুমি, আসিবার ইচ্ছা যদি হয়!–
    পঁচিশ বছর পরে!”
    Jibanananda Das

  • #3
    Jibanananda Das
    “হেঁয়ালি রেখো না কিছু মনে;
    হৃদয় রয়েছে ব'লে চাতকের মতন আবেগ
    হৃদয়ের সত্য উজ্জ্বল কথা নয়,-
    যদিও জেগেছে তাতে জলভারানত কোনো মেঘ;
    হে প্রেমিক, আত্মরতিমদির কি তুমি?
    মেঘ;মেঘ, হৃদয়ঃ হৃদয়, আর মরুভূমি শুধু মরুভূমি..”
    Jibanananda Das
    tags: poems

  • #4
    Jibanananda Das
    “বোধ

    আলো — অন্ধকারে যাই — মাথার ভিতরে
    স্বপ্ন নয়, কোন এক বোধ কাজ করে!
    স্বপ্ন নয় — শান্তি নয় — ভালোবাসা নয়,
    হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়!
    আমি তারে পারি না এড়াতে
    সে আমার হাত রাখে হাতে;

    সব কাছ তুচ্ছ হয়, পন্ড মনে হয়,
    সব চিন্তা — প্রার্থনার সকল সময়
    শূন্য মনে হয়,
    শূন্য মনে হয়!
    সহজ লোকের মতো কে চলিতে পারে!
    কে থামিতে পারে এই আলোয় আঁধারে
    সহজ লোকের মতো! তাদের মতন ভাষা কথা
    কে বলিতে পারে আর! — কোন নিশ্চয়তা
    কে জানিতে পারে আর? — শরীরের স্বাদ
    কে বুঝিতে চায় আর? — প্রাণের আহ্লাদ
    সকল লোকের মতো কে পাবে আবার!
    সকল লোকের মতো বীজ বুনে আর
    স্বাদ কই! — ফসলের আকাঙক্ষায় থেকে,
    শরীরে মাটির গন্ধ মেখে,
    শরীরে জলের গন্ধ মেখে,
    উৎসাহে আলোর দিকে চেয়ে
    চাষার মতণ প্রাণ পেয়ে
    কে আর রহিবে জেগে পৃথিবীর পরে?
    স্বপ্ন নয়, শান্তি নয়,কোন এক বোধ কাজ করে
    মাথার ভিতরে!”
    Jibanananda Das, জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা

  • #5
    Jibanananda Das
    “আবার আকাশের অন্ধকার ঘন হয়ে উঠেছে :
    আলোর রহস্যময়ী সহোদরার মতো এই অন্ধকার।
    যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছে
    অথচ যার মুখ আমি কোনদিন দেখিনি,
    সেই নারীর মতো
    ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়েছে উঠছে।

    মনে হয় কোনো বিলুপ্ত নগরীর কথা
    সেই নগরীর এক ধূসর প্রাসাদের রূপ জাগে হৃদয়ে।
    ভারতসমুদ্রের তীরে
    কিংবা ভূমধ্যসাগরের কিনারে
    অথবা টায়ার সিন্ধুর পারে
    আজ নেই, কোন এক নগরী ছিল একদিন,
    কোন এক প্রাসাদ ছিল;
    মূল্যবান আসবাবে ভরা এক প্রাসাদ;
    পারস্য গালিচা, কাশ্মিরি শাল, বেরিন তরঙ্গের নিটোল মুক্তা প্রবাল,
    আমার বিলুপ্ত হৃদয়, আমার মৃত চোখ, আমার বিলীন স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা;
    আর তুমি নারী -
    এই সব ছিল সেই জগতে একদিন।
    অনেক কমলা রঙের রোদ ছিল,
    অনেক কাকাতুয়া পায়রা ছিল,
    মেহগনির ছায়াঘন পল্লব ছিল অনেক;
    অনেক কমলা রঙের রোদ ছিল;
    অনেক কমলা রঙের রোদ;
    আর তুমি ছিলে;
    তোমার মুখের রূপ কত শত শতাব্দী আমি দেখি না,
    খুঁজি না”
    Jibanananda Das, বনলতা সেন

  • #6
    Jibanananda Das
    “পৃথিবী প্রবীণ আরো হ'য়ে যায় মিরুজিন নদীটির তীরে;
    বিবর্ণ প্রাসাদ তার ছায়া ফেলে জলে।
    ও-প্রাসাদে কারা থাকে? কেউ নেই- সোনালি আগুন চুপে জলের শরীরে
    নড়িতেছে- জ্বলিতেছে- মায়াবীর মতো জাদুবলে।

    সে-আগুন জ্ব'লে যায়- দহেনাকো কিছু।
                            সে-আগুন জ্ব'লে যায়
                            সে-আগুন জ্ব'লে যায়
    সে-আগুন জ্ব'লে যায় দহেনাকো কিছু।

    নিমীল আগুনে অই আমার হৃদয়
                            মৃত এক সারসের মতো।
                            পৃথিবীর রাজহাঁস নয়-
                            নিবিড় নক্ষত্র থেকে যেন সমাগত
    সন্ধ্যার নদীর জলে এক ভিড় হাঁস অই- একা;
    এখানে পেল না কিছু; করুণ পাখায়
    তাই তারা ব'লে যায় শাদা, নিঃসহায়।
    মূল সারসের সাথে হ'লো মুখ দেখা।”
    Jibanananda Das, সাতটি তারার তিমির

  • #7
    Jibanananda Das
    “একদিন মা বেঁচেছিলেন। মা খুব স্নেহ সরসতর মানুষ ছিলেন; কিন্তু তখনই কলকাতায় চাকরি শুরু করে মার সঙ্গে শ্যামবাজারের একটা একতলা বাড়িতে এক কোঠায় যে দিনগুলো কাটিয়েছে সে- প্রত্যেকটা দিনের কথা মনে আছে তার। সহজ কঠিন মৃদু নিরেস, কেমন নির্জলা জলীয় দিনগুলো জীবনের। ভাবত, মাকে মানুষ সূতিকাঘরের থেকেই পায় কি না- রোজই পায়- অনেক পায়- জননীগ্রন্থি কেটে যায় তাই শিগগিরই- নতুনত্ব হারিয়ে যায়। ভাবত, মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন মায়ের মমতা সজলতা এত স্বাভাবিক বলেই আলো-জল-বাতাসের মত সুলভ মনে হয়। একজন অপরিচিত মেয়েকে মনে ধরলে তার সহজ স্বাভাবিক সত্তাকে পায়ের নিচের মাটির, মেটে খুরির জলের মতো সহজ ভেবে নিতে সময় লাগে। কাছে থাকলেও দূর- তার স্বচ্ছ সরল প্রকাশ ভানুমতীর খেলার মতোই আপতিত হচ্ছে কী সহজে- কিন্তু তবুও কীরকম আঁধার, কঠিন, নিবিড়।

    এইসব ভেবে ভেবে কেমন কুন্ঠিত হয়ে পড়ত মাল্যবানের মন; মার কাছে ঘাট হয়েছে বলে তার প্রতি শ্রদ্ধায়, পথে-ঘাটে মনে ধরে গেছে নারীটির প্রতি উদাসীনতায় এবং নিজের প্রতি ধিক্কারে নিজেকে সে সজাগ করে রাখত।”
    Jibanananda Das, মাল্যবান



Rss