Nazrul Islam's Blog
February 23, 2020
অসাধারণ বইয়ের খোঁজে
"তারপর আবার আমাদের চিঠিযুগ ফিরে আসে। চিঠিযুগ ফিরে আসে অনবচ্ছিন্ন কুয়াশার মধ্য দিয়ে, চিঠিযুগ ফিরে আসে শিশিরভেজা পথের মধ্য দিয়ে।""দ্যাখো, মানুষের সত্যিকারের অনুভূতিগুলো কত অসহায়, মানুষের সত্যিকারের ভালোবাসাগুলো কত নির্জন।"
"এদিকে কুয়াশার মত ডাকঘরটা ততদিনে মিলিয়ে গেছে আর বসন্তের উজ্জ্বল আলোতে হলুদ হতে শুরু করেছে আমাদের সব বিলি না হওয়া চিঠি।"
উপরের উক্তিগুলো ইমতিয়ার শামীমের "আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক" এর।
ইমতিয়ার শামীম আমাদের দেশের সাহিত্য অঙ্গনে খুবই কম উচ্চারিত নাম। অথচ তার নাম বেশি উচ্চারণ হওয়ার কথা ছিল। তার বইয়ের কপি এডিশনের পরে এডিশন যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় তার বই প্রথম এডিশন যেতেই লাগে ১০-১৫ বছর। পাঠক হিসাবে এটা আমাদের ব্যর্থতা।
যার লেখাশুধু মুগ্ধতাই ছড়ায়। যার লেখা পড়ে তৃপ্তির একটা ঢেকুর তুলতে হয় ,তেমন একজন লেখক ইমতিয়ার শামীম।
তার সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটা হচ্ছে "আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক"। এই অসাধারণ বইটা অনেকদিন ধরে আউট অফ প্রিন্ট ছিল। এই মেলাতে বইটা কথাপ্রকাশ থেকে বের হয়েছে। গায়ের দাম ২০০ টাকা।
বাংলা সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য ইমতিয়ার শামীমের মত লেখক টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। আপনারা আপনাদের ভাইয়া রাইটারদের বই অবশ্যই কিনবেন, সেইসাথে ইমতিয়ার শামীম সাহেবের বইটিও কিনুন। বিশ্বাস করুন একটি টাকাও বিফলে যাবে না।
বইটি এই মেলায় নতুন প্রকাশ হয়েছে। তাই স্টক বইয়ের অভাব নেই। কিনুন এই বইটি অবশ্যই কিনুন।
February 18, 2020
তারপর একদিন সব গল্প হয়ে যায়
আমি মৃত আজিজুল ভাইয়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকি। আজিজুল ভাই চোখদুটো খোলা। আকাশের দিকে অপলক চেয়ে রয়েছে। যেন দূরে আকাশের মেঘ ভেদ করে আরও গভীরে সেই মধ্যাকর্ষ পর্যন্ত চলে গিয়েছে তার দৃষ্টি। মাছি ভন ভন কছে তার খোলা মুখে। আমার মনে পরে গেলো আজিজুল ভাই আমাকে মাত্র কিছুদিন আগেই বলেছিল "বুঝলি, দেশ স্বাধীন হলে পাকিগুলারে কেমনে মারুম জানোস?ওগো পুটকির ভিত্তে বেয়নেট হান্দাইয়া দিমু। কেমুন হইবো কত তো। ভালো না।"
অথচ আজিজুল ভাই স্বাধীন দেশ দেখে যেত পারল না। আজিজুল ভাই সহ কত নাম্বার হল? এক, দুই, তিন...আমি ভুলে নাই সবার নাম। এই কয়দিনে এত এত লাশ দেখেছি যে হালকা পরিচিত সবার নামই এখন ভুলে গিয়েছে। অথচ কয়েকদিন আগেও ওদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছি।
সাদেক ভাই বলল, "মেশিনগ্যান পাইছোস?"
পাশ থেকে কে যেন না সূচক উত্তর দেয়। রাজাকাররা নিয়ে গিয়েছে। আশ্চর্য! মৃত্যুর পরে মানুষটা আর মুখ্য না একটা মেশিনগান মুখ্য।
হ্যাঁ আমাদের কাছে এখন একটা মেশিনগানই মুখ্য। আজিজুল ভাই আর ফিরে আসবে না, কিন্তু একটা মেশিনগান হাতে থাকলে আরেকজন আজিজুল হক তৈরি হবে। আরকটি পাকিস্তানি মারার মেশন তৈরি হবে। তাই আমাদের কাছে লাশ নয় বরং একটি মেশিনগান খুব গুরুত্বপূর্ণ।
#তারপর_একদিন_সব_গল্প_হয়ে_যায়
#নোভেলা_সামনে_আসবে
#রোম্যান্টিক_মুক্তিযুদ্ধ
অথচ আজিজুল ভাই স্বাধীন দেশ দেখে যেত পারল না। আজিজুল ভাই সহ কত নাম্বার হল? এক, দুই, তিন...আমি ভুলে নাই সবার নাম। এই কয়দিনে এত এত লাশ দেখেছি যে হালকা পরিচিত সবার নামই এখন ভুলে গিয়েছে। অথচ কয়েকদিন আগেও ওদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছি।
সাদেক ভাই বলল, "মেশিনগ্যান পাইছোস?"
পাশ থেকে কে যেন না সূচক উত্তর দেয়। রাজাকাররা নিয়ে গিয়েছে। আশ্চর্য! মৃত্যুর পরে মানুষটা আর মুখ্য না একটা মেশিনগান মুখ্য।
হ্যাঁ আমাদের কাছে এখন একটা মেশিনগানই মুখ্য। আজিজুল ভাই আর ফিরে আসবে না, কিন্তু একটা মেশিনগান হাতে থাকলে আরেকজন আজিজুল হক তৈরি হবে। আরকটি পাকিস্তানি মারার মেশন তৈরি হবে। তাই আমাদের কাছে লাশ নয় বরং একটি মেশিনগান খুব গুরুত্বপূর্ণ।
#তারপর_একদিন_সব_গল্প_হয়ে_যায়
#নোভেলা_সামনে_আসবে
#রোম্যান্টিক_মুক্তিযুদ্ধ
March 7, 2019
আমাদের পাড়ার পাতি মাস্তান
আমাদের পাড়ার পাতি মাস্তান জাহেদ একদিন ধুপ করে মারা গেলো। জাহেদ মারা যাওয়াতে আমরা খুব বেশি অবাক হইনি। যেন জাহেদের মারা যাওয়াটাই ছিল নিয়তি। তবে জাহেদ মারা না গেলেও পারতো। আসলে জাহেদের মারা না গেলেও কোন ক্ষতি ছিল না। যে তো মাস্তানি ছেড়েই দিয়েছিলো।ওদের দলের প্রায় সবাই হয় অক্কা পেয়েছিলো না হয় জেলে পচে মরছে। যেও প্রায় পাঁচ- বছর আগের কথা। জাহেদ অনেক আগেই মাস্তানি ছেড়ে দিয়েছিলো।একা হয়ে যাওয়াতে বিপক্ষ দলের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে গিয়েছিলো এলাকা ছেড়ে। যদিও পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হওয়ার কিছুই ছিল না। বস্তুত পরিস্থিতি অনেক আগেই ঠাণ্ডা হয়ে ছিল। এমনিতে জাহেদ'দের গ্যাং ছিলো ছোট। তার উপর দলের প্রায় সবাই দৃশ্যপট থেকে সরে গিয়েছিলো। সেখানে জাহেদের মতো নিম্ন সারির চ্যালা চামুণ্ডা টাইপের মাস্তানের কোন মূল্যই নেই।তবুও সবাধানের মার নেই ভেবে সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। মাঝে মাঝে রাতের আঁধারে আসতো বৃদ্ধ বাবা মাকে দেখতে। আবার রাতের আঁধারেই চলে যেত। যদিও তার কোন দরকার ছিলো না। কারণ কেউ কোনদিন জাহেদের খোঁজে আসেনি। তাঁরা জাহেদকে গনাতেও ধরেনি। জাহেদ থাকল কি গেলো এনিয়ে তাঁদের কোন মাথা ব্যাথা ছিলো না।তবুও জাহেদ পালিয়ে পালিয়ে থাকতো। আর মনে মনে আশা করে একদিন সে বুক ফুলিয়ে বাসায় যাবে। সেই জাহেদ নতুন সন্তানের মুখ দেখতে চলে এসেছিলো বরাবরের মতোই রাতের।
জাহেদ এলাকায় না থাকলেও নিয়মিত যে বাসায় আসা যাওয়া করে চুপিচুপি সেটা এলাকার সবাই জানে। তাই যখন তার স্ত্রীর পেট ফুলে ঢোল হয়ে যায় কেউ কোন সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায় না। বরং তাঁদের দৃষ্টিতে মিশে থাকে সহমর্মিতা। যেই জাহেদ যখন নব জাতক'কে দেখে ফিরে যাচ্ছিল তার গোপন আশ্রয়ে তখন কেউ একজন তাকে ঠুকে দেয়।
ফজরের সময় লাইনের পানি আনতে কুলসুমের মা কল তলার দিকে যাওয়ার সময় রাস্তায় নিয়ন আলোতে এক পুকুর রক্তের মধ্যে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে "আল্লাগো......" বলে গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে মুর্ছা যায়।তার ডাক শুনে চোর ডাকাত পড়েছে ভেবে আশপাশের নামাজে যাওয়ারত মুসুল্লিরা এগিয়ে আসে।তবুও জাহেদের লাশ পরে থাকে। খুব সকাল বলে মাছিরা তখনও আলাপ পায়নি। সকাল বেলা সবাই আসে তামশা দেখতে। জাহেদের সদ্য প্রসূতি বউও আসে মরা স্বামীর লাশ দেখতে। কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না সে। শুধু নবজাতককে বুকে চেপে ধরে।
আসে যাদের জন্য এলাকা ছেড়েছিলো সেই গ্রুপ। সবাই তাঁদের সন্দেহ করে। কিন্তু তারাও আহা উঁহু করে চলে যায়। ওদের সাথে আবার পুলিশের ভালো সম্পর্ক। লাশ নিতে এসে পুলিশের দারোগা ওদের একজনকে চামে দিয়ে চিপায় নিয়ে জিজ্ঞেস করে খুনটা তারাই করেছে কিনা। কথাটা শুনে হো হো ক্ররে হাসে সে। বলে "ধুর স্যার,এই বালের লাইগা একটা গুলি খরচ করাডাই লস।আমরা মারলে ছুরি দিয়া মারতাম। গুল্লি করতাম না।মাছি মারতে কামান দাগা লাগে না।আর অয় থাকলেও ওরে আমরা মারতান না। হুদাই অয় অতদিন পালাইয়া আছিলো।"
অতপর আর কোন কথা হয় না। পুলিশ লাশ নিয়ে গেলে। শুধু পড়ে থাকে জমাট বাঁধা কিছু রক্ত। তাতে এসে পাড়ার নেড়ি কুকুর মুখ দেয়।
অথচ জাহেদের মরার কোন দরকার ছিলো না।
জাহেদ এলাকায় না থাকলেও নিয়মিত যে বাসায় আসা যাওয়া করে চুপিচুপি সেটা এলাকার সবাই জানে। তাই যখন তার স্ত্রীর পেট ফুলে ঢোল হয়ে যায় কেউ কোন সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায় না। বরং তাঁদের দৃষ্টিতে মিশে থাকে সহমর্মিতা। যেই জাহেদ যখন নব জাতক'কে দেখে ফিরে যাচ্ছিল তার গোপন আশ্রয়ে তখন কেউ একজন তাকে ঠুকে দেয়।
ফজরের সময় লাইনের পানি আনতে কুলসুমের মা কল তলার দিকে যাওয়ার সময় রাস্তায় নিয়ন আলোতে এক পুকুর রক্তের মধ্যে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে "আল্লাগো......" বলে গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে মুর্ছা যায়।তার ডাক শুনে চোর ডাকাত পড়েছে ভেবে আশপাশের নামাজে যাওয়ারত মুসুল্লিরা এগিয়ে আসে।তবুও জাহেদের লাশ পরে থাকে। খুব সকাল বলে মাছিরা তখনও আলাপ পায়নি। সকাল বেলা সবাই আসে তামশা দেখতে। জাহেদের সদ্য প্রসূতি বউও আসে মরা স্বামীর লাশ দেখতে। কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না সে। শুধু নবজাতককে বুকে চেপে ধরে।
আসে যাদের জন্য এলাকা ছেড়েছিলো সেই গ্রুপ। সবাই তাঁদের সন্দেহ করে। কিন্তু তারাও আহা উঁহু করে চলে যায়। ওদের সাথে আবার পুলিশের ভালো সম্পর্ক। লাশ নিতে এসে পুলিশের দারোগা ওদের একজনকে চামে দিয়ে চিপায় নিয়ে জিজ্ঞেস করে খুনটা তারাই করেছে কিনা। কথাটা শুনে হো হো ক্ররে হাসে সে। বলে "ধুর স্যার,এই বালের লাইগা একটা গুলি খরচ করাডাই লস।আমরা মারলে ছুরি দিয়া মারতাম। গুল্লি করতাম না।মাছি মারতে কামান দাগা লাগে না।আর অয় থাকলেও ওরে আমরা মারতান না। হুদাই অয় অতদিন পালাইয়া আছিলো।"
অতপর আর কোন কথা হয় না। পুলিশ লাশ নিয়ে গেলে। শুধু পড়ে থাকে জমাট বাঁধা কিছু রক্ত। তাতে এসে পাড়ার নেড়ি কুকুর মুখ দেয়।
অথচ জাহেদের মরার কোন দরকার ছিলো না।
Published on March 07, 2019 12:16
January 12, 2019
ভাগানো ডট কম (শেষ পর্ব)
আমার বাক্স পেটরা থেকে বের করলাম দা কাঁচি চুরি পিস্তল। মানে আমার বেশ কয়েক গোছা দড়ি,একটা ক্লোরোফর্মের ছোট বোতল আর একটা ছোট ছুরি।
মইন একবার আমার দিকে আরেকবার আমার সহায় সম্পত্তির দিকে তাকিয়ে বলল "শুধু এইটুকু জিনিস নিয়ে আপনি আমাকে উদ্ধার করবেন!"
-"তো কি ভেবেছেন পিস্তল নিয়ে আসবো? আপনারে পিস্তলের মুখে উদ্ধার করবো?"
-"ওইটাই আপনার জন্য সহজ হত।বাইরে দেখেছে অবস্থা? দরজার পর্যন্ত গার্ড। আর বাইরের অবস্থা তো দেখেই এসেছেন।প্রতিটা পয়েন্টে পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে।" মুখ গোমড়া করে বলল মইন।
-"ভেবে দেখি কিছু একটা করা যায় কিনা। আপাতত চুপচাপ থাকেন।"
মইনের ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।দেখি বাইরে দাঁড়ানো গার্ডদের সাথে চেষ্টা করে খাতির জমানো যায় কিনা। এদের যদি কোনভাবে জায়গা থেকে সরানো যায় তাহলে হয়তো কিছু একটা করা যেতে পারে।
বাইরে বেরিয়ে দেখি ষণ্ডা মার্কা গার্ডদের একজন দাঁড়িয়ে আছে। আরেকজনের দেখা নাই। আমি দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডকে একটা সিগারেট অফার করলাম। কে কত দিনের চেনা জানা বন্ধু এমন ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলাম,
"ভাইসাবের ছেলেম্যে কয়জন?"
লোকটা সিগারেটে আগুন ধরিয়ে বলল "বিয়ে করি নাই ভাইজান।"
-"কেন?কেন? পছন্দের কেউ আছে নাকি?"
কথাটা শুনে গার্ড মুচকি হাঁসি দিল। মাই উৎসাহ দিয়ে বললাম।
"আরে পছন্দের কেউ থাকলে বলে ফেলেন।দেরি করতে নাই শুভ কাজে।না হলে আমাকে বলেন।সব সেটেল করে দেই।"
"তার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে" করুণ স্বরে বলল বেচারা গার্ড।
তাহলে চলেন উঠিয়ে নিয়ে আসি। আমি মেয়ে উঠানোয় খুব এক্সপার্ট।
করুণ চেহারা করে তার পিছনের বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে দুখভারাক্রান্ত কন্ঠে বলল "যাকে পছন করি সেই তো আমাকে বুঝল না।"
যা বুঝার বুঝে নিলাম।নিপদ। এর ব্যাটার কাছ থেকে দুরে থাকতে হবে। চলে যাওয়ার জন্য ঘুরছিলাম এমন সময় একটা আইডিয়া মাথায় আসল।আবার ফিরে গেলাম গার্ডটার কাছে। কোনমতে সহ্য করে গার্ডের গায়ে হাত দিয়ে আশ্বস্ত করে বললাম, "আপনি কিন্তু ভুল ধারণা করছেন। আপনি যাকে পছন্দ করেন সেও কিন্তু আপনাকে মানে...... বুঝতেই পারছেন।"
আমার কথা শুনে তড়াক করে লাফিয়ে উঠল গার্ড। প্রায় উড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে পিষে ফেলল গার্ডটি।
-"সত্যি? সত্যি বলছেন?"
হায় খোদা! এই দিনও দেখতে হল? নিজের কাজ করতে এসে এভাবে হেরেস্টমেন্টের শিকার হবো কোনদিন কল্পনা করতে পারি নাই।
পিছলে ফালতু লোকটার কাছ থেকে লাফিয়ে এক হাত সরে গিয়ে বললাম "হ্যাঁ সত্যি।কিন্তু তার তো কোন উপায় নাই। দেখয়েই পাচ্ছ। জোর করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। তবে তুমি যদি চাও আমি ব্যবস্থা করতে পারি।"
আবার আমার দিকে উড়ে এল গার্ডটি। এবার আমি প্রস্তুত ছিলাম। তার চেয়ে তীরবেগে দূরে সরে এলাম। দূর থেকেই বললাম , " তবে সেক্ষেত্রে আপনার সাহায্য লাগবে।"
-"বলুন কি করতে হবে? তার জন্য আমি সব করতে পারি।"
-"আপনার সাথে যিনি গার্ড দেন উনাকে কোনমতে সরিয়ে রাখতে হবে আজকে রাতের জন্য।তারপর আমি আপনার পছন্দের মানুষকে বের করে এনে আপনার হাতে দিবো।শুধু বাড়ির কেউ যাতে টের না পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। "
আমার কথায় গার্ড বাবাজি রাজি হয়ে গেল।
এবার হবে খেলা। আফিফার সাথে যোগাযোগ করলাম। ওকে বললাম আমার প্ল্যান। শুনে বলল, "দেরি করা যাবে না। আজকে রাতেই কাজ সারিতে হবে। আগামীকাল আমার বিয়ে। আমি যাতে বুঝতে না পারি তাই কেউ কিছু বলছে না।কিন্তু আমি জানতে পেরেছি আগামীকাল দেখতে এসেই বিয়েটা হবে।আজকে রাতেই আমি বাড়ি থেকে পালাবো।আমি মইনদের বাড়ির পিছনে থাকবো।আপনার ওকে নিয়ে চলে আসবেন।"
রাতের দ্বিপ্রহরে সবাই যখন গভীর ঘুমে মগ্ন ঠিক তখন সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা অফ করে দিলাম আঞ্জুমের সাহায্যে। ওহ বলতে ভুলে গিয়েছি গার্ডটার নাম আঞ্জুম। আমাকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল বাইরের গেস্ট রুমে।নিঃশব্দ পায়ে চলে এলাম মইনের ঘরের নিচে জানলার পাশে।
পাশে থাকা গার্ডটাকে দানা পানি খাওয়ার উছিলায় ছাদে নিয়ে গেল আঞ্জুম।।এই সুযোগে আমি জানলায় দড়ি দিয়ে উঠে গেলাম। হুক ঠিক মতো চেক করে মইনকে নিয়ে দড়ি বেয়ে বের হয়ে এলাম। কোনদিকে না তাকিয়ে দে এক ছুট। কিছু দূর যেতেই দেখি হই হই করে মানুষ ছুটে আসছে। ধরা পড়ে গেলাম নাকি? আমাদের ধরার আগেই আফিফাকে যেখানে থাকতে বলেছিলাম সেখানে পৌঁছে গেলাম। হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আফিফা।
-"চল চল এখান থেকে সরে যাই।" বলল ও
"ওরা তো খবর পেয়ে গিয়েছে।সেই গার্ডটা যে আমাদের সাহায্য করল তার সাথে অন্তত দেখা করে যাই।"বলল মইন।
এই সেরেছে। ওকে যদি বলি গার্ডের লোলুপ দৃষ্টি পরেচে তার উপর তাহলে নিশ্চয় আর এই কথা বলত না। আমি বললাম,"এই দিকটা আপনার চনাত না করলেও চলবে।আপনারা যান।" তারপর আফিফা দিকে তাকিয়ে বললাম, "আমার কাজ শেষে।আপনার এবার গিয়ে বিয়ে করেন নাকি বাসায় ফিরে যাবেন আপনাদের ব্যাপার।আমার বাকি টাকাটা দিয়ে দিন।"
আমাই দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে বলল "আমাদের অসহায় অবস্থা দেখে একটু মায়া দয়াও হয় না আপনার?একটু সবুর করুন টাকা না দিয়ে যাবচ্ছি না কোথাও।"
-"ব্যবসায় মায়া দয়া দেখালে তো ব্যবসা করতে পারবো না।চ্যারিটি খুলে বসতে হবে।" কাটাকাটা স্বরে উত্তর দিলাম।
-"গার্ড বেচারা আসছে না কেন?বেচারাকে ধরে ফেলল না তো।" পাশ থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করল মইন।
এমন সময় হাঁপাতে হাঁপাতে এসে উপস্থিত হল গার্ড আঞ্জুম।
-"মইন...... আমার মইন..." বলে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল মইনের উপর।
সবর্নাশ। এই গেল। আমি মইনকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলাম। সরিয়ে দিতে চাইলাম যাতে গার্ডের কব্জায় না পড়ে। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে মইন তার চেয়ে জোরে চিৎকার করে দৌড়ে গেল গার্ডটার দিকে "আঞ্জুম......আমার আঞ্জুম বলে।" তারপর দুজনে কে কীর্তিকলাপ শুরু করল আমি তার কথা এখানে বলতে পারবো না।
ঘটনার আকস্মিকতায় আমি আর আফিফা বোবা হয়ে গেলাম।
ও আমার দিকে আমি ওর দিকে তাকাই আরেকবার।
আমি বললাম,"মাল ঠিক আছে কিনা টেস্ট করে নেও নাই আগে?এই তো পচা মাল।"
"কেনার আগে কি করে জানবো মাল পচা না খারাপ?" মেয়েটার উত্তর।সম্ভবত এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
ওদিকে দুই কপত কপতী থুক্কু তুই কপোত নিজেদের মধ্যে মধুর সম্ভাষণ করে চলেছে।
"এখন আর কেউ তোমাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।কেউ না।"
আরেকজন বলল "চল আমরা এখান থেকে দূরে কোথাও পালিয়ে যাই।"
"চল...চল। এখানে আর এই মুহূর্ত নয়।"
আমার তো মাথায় হাত। তাহলে আমার বাকি টাকার কি হবে। আফিফাকে বললাম,"আমি মাল ডেলিভারি দিয়েছি। আমার বাকি টাকা বুঝিয়ে দিন।"
"কখনো না, আমি কি বাতিল মালের জন্য টাকা খবর করবো?"
"সেটা আপনার ব্যপার। আমি কি জানি।"
কথার ব্যাঘাত ঘটল সেখানে মইনের বাবার আগমনে। আমাকে দেখিয়ে বলল "বলেছিলাম না।এরে আমার চোর চোর মনে হয়।ওই তোরা কই..."
পাঁচ ছয় জন ষণ্ডা মার্কা লোক এগিয়ে এল। ভাবলাম এই বুঝি শেষ আমি। কিন্ত ওরা আমাকে ধীরে দুই কপোতকে দুই দিকে টেনে নিচ্ছে।
-"না ওকে ছেড়ে দাও। ছেড়ে দাও ওকে।"
-"তুমি শুধু আমার ।শুধু আমার।"
মইনের বাবা রেগে গিয়ে বললেন ,"রাখ তোর প্রেম। ওর পিরিতি ছুটাইতেছি।বংশের মান ইচ্ছত সব ডূবাইলি।হারামজাদা গার্ড তলে তলে এত কাহিনী কবে করল? হারামজানা তোরে ঘরে বন্দী করেছিলাম আসলাম শেখের পোলার লগে ইটিস পিটিস করার জন্য। আর এখন তুই গার্ড এর সাথেও! তোরে আমি কালকে বিয়ে দিয়েই ছাড়বো।নাইলে আমার নাম.................." এই বলে তিনি টেনে হিঁচড়ে মইনকে নিয়ে গেলেন।
আমি আর আফিফা দুইটি প্রানী যে ছিলাম কেউ মনেও করল না। রাতের আঁধারে দুজনে দাঁড়িয়ে রইলাম।
-"শুনুন আমি বাসায় যেতে পারবো না।বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি।তাছাড়া যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তাকে আমার পছন্দ না। তাই বাসায় যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ।" বলেই আমার দিকে তাকাল আফিফা।
অজানা আশঙ্কায় আমার বুক শুকিয়ে এল। তবে কি? তবে কি? ???
সপাপ্ত
মইন একবার আমার দিকে আরেকবার আমার সহায় সম্পত্তির দিকে তাকিয়ে বলল "শুধু এইটুকু জিনিস নিয়ে আপনি আমাকে উদ্ধার করবেন!"
-"তো কি ভেবেছেন পিস্তল নিয়ে আসবো? আপনারে পিস্তলের মুখে উদ্ধার করবো?"
-"ওইটাই আপনার জন্য সহজ হত।বাইরে দেখেছে অবস্থা? দরজার পর্যন্ত গার্ড। আর বাইরের অবস্থা তো দেখেই এসেছেন।প্রতিটা পয়েন্টে পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে।" মুখ গোমড়া করে বলল মইন।
-"ভেবে দেখি কিছু একটা করা যায় কিনা। আপাতত চুপচাপ থাকেন।"
মইনের ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।দেখি বাইরে দাঁড়ানো গার্ডদের সাথে চেষ্টা করে খাতির জমানো যায় কিনা। এদের যদি কোনভাবে জায়গা থেকে সরানো যায় তাহলে হয়তো কিছু একটা করা যেতে পারে।
বাইরে বেরিয়ে দেখি ষণ্ডা মার্কা গার্ডদের একজন দাঁড়িয়ে আছে। আরেকজনের দেখা নাই। আমি দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডকে একটা সিগারেট অফার করলাম। কে কত দিনের চেনা জানা বন্ধু এমন ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলাম,
"ভাইসাবের ছেলেম্যে কয়জন?"
লোকটা সিগারেটে আগুন ধরিয়ে বলল "বিয়ে করি নাই ভাইজান।"
-"কেন?কেন? পছন্দের কেউ আছে নাকি?"
কথাটা শুনে গার্ড মুচকি হাঁসি দিল। মাই উৎসাহ দিয়ে বললাম।
"আরে পছন্দের কেউ থাকলে বলে ফেলেন।দেরি করতে নাই শুভ কাজে।না হলে আমাকে বলেন।সব সেটেল করে দেই।"
"তার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে" করুণ স্বরে বলল বেচারা গার্ড।
তাহলে চলেন উঠিয়ে নিয়ে আসি। আমি মেয়ে উঠানোয় খুব এক্সপার্ট।
করুণ চেহারা করে তার পিছনের বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে দুখভারাক্রান্ত কন্ঠে বলল "যাকে পছন করি সেই তো আমাকে বুঝল না।"
যা বুঝার বুঝে নিলাম।নিপদ। এর ব্যাটার কাছ থেকে দুরে থাকতে হবে। চলে যাওয়ার জন্য ঘুরছিলাম এমন সময় একটা আইডিয়া মাথায় আসল।আবার ফিরে গেলাম গার্ডটার কাছে। কোনমতে সহ্য করে গার্ডের গায়ে হাত দিয়ে আশ্বস্ত করে বললাম, "আপনি কিন্তু ভুল ধারণা করছেন। আপনি যাকে পছন্দ করেন সেও কিন্তু আপনাকে মানে...... বুঝতেই পারছেন।"
আমার কথা শুনে তড়াক করে লাফিয়ে উঠল গার্ড। প্রায় উড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে পিষে ফেলল গার্ডটি।
-"সত্যি? সত্যি বলছেন?"
হায় খোদা! এই দিনও দেখতে হল? নিজের কাজ করতে এসে এভাবে হেরেস্টমেন্টের শিকার হবো কোনদিন কল্পনা করতে পারি নাই।
পিছলে ফালতু লোকটার কাছ থেকে লাফিয়ে এক হাত সরে গিয়ে বললাম "হ্যাঁ সত্যি।কিন্তু তার তো কোন উপায় নাই। দেখয়েই পাচ্ছ। জোর করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। তবে তুমি যদি চাও আমি ব্যবস্থা করতে পারি।"
আবার আমার দিকে উড়ে এল গার্ডটি। এবার আমি প্রস্তুত ছিলাম। তার চেয়ে তীরবেগে দূরে সরে এলাম। দূর থেকেই বললাম , " তবে সেক্ষেত্রে আপনার সাহায্য লাগবে।"
-"বলুন কি করতে হবে? তার জন্য আমি সব করতে পারি।"
-"আপনার সাথে যিনি গার্ড দেন উনাকে কোনমতে সরিয়ে রাখতে হবে আজকে রাতের জন্য।তারপর আমি আপনার পছন্দের মানুষকে বের করে এনে আপনার হাতে দিবো।শুধু বাড়ির কেউ যাতে টের না পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। "
আমার কথায় গার্ড বাবাজি রাজি হয়ে গেল।
এবার হবে খেলা। আফিফার সাথে যোগাযোগ করলাম। ওকে বললাম আমার প্ল্যান। শুনে বলল, "দেরি করা যাবে না। আজকে রাতেই কাজ সারিতে হবে। আগামীকাল আমার বিয়ে। আমি যাতে বুঝতে না পারি তাই কেউ কিছু বলছে না।কিন্তু আমি জানতে পেরেছি আগামীকাল দেখতে এসেই বিয়েটা হবে।আজকে রাতেই আমি বাড়ি থেকে পালাবো।আমি মইনদের বাড়ির পিছনে থাকবো।আপনার ওকে নিয়ে চলে আসবেন।"
রাতের দ্বিপ্রহরে সবাই যখন গভীর ঘুমে মগ্ন ঠিক তখন সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা অফ করে দিলাম আঞ্জুমের সাহায্যে। ওহ বলতে ভুলে গিয়েছি গার্ডটার নাম আঞ্জুম। আমাকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল বাইরের গেস্ট রুমে।নিঃশব্দ পায়ে চলে এলাম মইনের ঘরের নিচে জানলার পাশে।
পাশে থাকা গার্ডটাকে দানা পানি খাওয়ার উছিলায় ছাদে নিয়ে গেল আঞ্জুম।।এই সুযোগে আমি জানলায় দড়ি দিয়ে উঠে গেলাম। হুক ঠিক মতো চেক করে মইনকে নিয়ে দড়ি বেয়ে বের হয়ে এলাম। কোনদিকে না তাকিয়ে দে এক ছুট। কিছু দূর যেতেই দেখি হই হই করে মানুষ ছুটে আসছে। ধরা পড়ে গেলাম নাকি? আমাদের ধরার আগেই আফিফাকে যেখানে থাকতে বলেছিলাম সেখানে পৌঁছে গেলাম। হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আফিফা।
-"চল চল এখান থেকে সরে যাই।" বলল ও
"ওরা তো খবর পেয়ে গিয়েছে।সেই গার্ডটা যে আমাদের সাহায্য করল তার সাথে অন্তত দেখা করে যাই।"বলল মইন।
এই সেরেছে। ওকে যদি বলি গার্ডের লোলুপ দৃষ্টি পরেচে তার উপর তাহলে নিশ্চয় আর এই কথা বলত না। আমি বললাম,"এই দিকটা আপনার চনাত না করলেও চলবে।আপনারা যান।" তারপর আফিফা দিকে তাকিয়ে বললাম, "আমার কাজ শেষে।আপনার এবার গিয়ে বিয়ে করেন নাকি বাসায় ফিরে যাবেন আপনাদের ব্যাপার।আমার বাকি টাকাটা দিয়ে দিন।"
আমাই দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে বলল "আমাদের অসহায় অবস্থা দেখে একটু মায়া দয়াও হয় না আপনার?একটু সবুর করুন টাকা না দিয়ে যাবচ্ছি না কোথাও।"
-"ব্যবসায় মায়া দয়া দেখালে তো ব্যবসা করতে পারবো না।চ্যারিটি খুলে বসতে হবে।" কাটাকাটা স্বরে উত্তর দিলাম।
-"গার্ড বেচারা আসছে না কেন?বেচারাকে ধরে ফেলল না তো।" পাশ থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করল মইন।
এমন সময় হাঁপাতে হাঁপাতে এসে উপস্থিত হল গার্ড আঞ্জুম।
-"মইন...... আমার মইন..." বলে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল মইনের উপর।
সবর্নাশ। এই গেল। আমি মইনকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলাম। সরিয়ে দিতে চাইলাম যাতে গার্ডের কব্জায় না পড়ে। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে মইন তার চেয়ে জোরে চিৎকার করে দৌড়ে গেল গার্ডটার দিকে "আঞ্জুম......আমার আঞ্জুম বলে।" তারপর দুজনে কে কীর্তিকলাপ শুরু করল আমি তার কথা এখানে বলতে পারবো না।
ঘটনার আকস্মিকতায় আমি আর আফিফা বোবা হয়ে গেলাম।
ও আমার দিকে আমি ওর দিকে তাকাই আরেকবার।
আমি বললাম,"মাল ঠিক আছে কিনা টেস্ট করে নেও নাই আগে?এই তো পচা মাল।"
"কেনার আগে কি করে জানবো মাল পচা না খারাপ?" মেয়েটার উত্তর।সম্ভবত এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
ওদিকে দুই কপত কপতী থুক্কু তুই কপোত নিজেদের মধ্যে মধুর সম্ভাষণ করে চলেছে।
"এখন আর কেউ তোমাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।কেউ না।"
আরেকজন বলল "চল আমরা এখান থেকে দূরে কোথাও পালিয়ে যাই।"
"চল...চল। এখানে আর এই মুহূর্ত নয়।"
আমার তো মাথায় হাত। তাহলে আমার বাকি টাকার কি হবে। আফিফাকে বললাম,"আমি মাল ডেলিভারি দিয়েছি। আমার বাকি টাকা বুঝিয়ে দিন।"
"কখনো না, আমি কি বাতিল মালের জন্য টাকা খবর করবো?"
"সেটা আপনার ব্যপার। আমি কি জানি।"
কথার ব্যাঘাত ঘটল সেখানে মইনের বাবার আগমনে। আমাকে দেখিয়ে বলল "বলেছিলাম না।এরে আমার চোর চোর মনে হয়।ওই তোরা কই..."
পাঁচ ছয় জন ষণ্ডা মার্কা লোক এগিয়ে এল। ভাবলাম এই বুঝি শেষ আমি। কিন্ত ওরা আমাকে ধীরে দুই কপোতকে দুই দিকে টেনে নিচ্ছে।
-"না ওকে ছেড়ে দাও। ছেড়ে দাও ওকে।"
-"তুমি শুধু আমার ।শুধু আমার।"
মইনের বাবা রেগে গিয়ে বললেন ,"রাখ তোর প্রেম। ওর পিরিতি ছুটাইতেছি।বংশের মান ইচ্ছত সব ডূবাইলি।হারামজাদা গার্ড তলে তলে এত কাহিনী কবে করল? হারামজানা তোরে ঘরে বন্দী করেছিলাম আসলাম শেখের পোলার লগে ইটিস পিটিস করার জন্য। আর এখন তুই গার্ড এর সাথেও! তোরে আমি কালকে বিয়ে দিয়েই ছাড়বো।নাইলে আমার নাম.................." এই বলে তিনি টেনে হিঁচড়ে মইনকে নিয়ে গেলেন।
আমি আর আফিফা দুইটি প্রানী যে ছিলাম কেউ মনেও করল না। রাতের আঁধারে দুজনে দাঁড়িয়ে রইলাম।
-"শুনুন আমি বাসায় যেতে পারবো না।বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি।তাছাড়া যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তাকে আমার পছন্দ না। তাই বাসায় যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ।" বলেই আমার দিকে তাকাল আফিফা।
অজানা আশঙ্কায় আমার বুক শুকিয়ে এল। তবে কি? তবে কি? ???
সপাপ্ত
Published on January 12, 2019 10:14
•
Tags:
short-stories
December 22, 2018
আজব চিড়িয়াখানা( ফিলিপ জোসে ফারম্যার)
জীববিজ্ঞানী সম্মানিত অতিথিকে চিড়িয়াখানা এবং ল্যাবরেটরি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাচ্ছিলেন ।
“আমাদের বাজেট এতই সীমিত যে , আমাদের জানা সমস্ত বিলুপ্ত প্রজাতিগুলোকে নতুন করে সৃষ্টি করা সম্ভব নয় ।” সে বলল হাঁটতে হাঁটতে । “তাই আমরা উঁচু স্তরের প্রজাতিগুলোর প্রাণ দেওয়ার চেষ্টা করছি । যে সব সুন্দর প্রাণীগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল পৃথিবী থেকে।আমাদের পাশবিকতা এবং নিষ্ঠুরতার ফলে যে বিরাট ক্ষতি হয়েছিল আমি সাধ্যমত চেষ্টা করছি তা পূরণ করার । নিশ্চিতভাবে বলে দেওয়া যায় বোকা মানুষ যখন প্রানীজগতের প্রজাতিগুলোকে একটা একটা করে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল তখনই তারা সৃষ্টিকর্তা মুখে চপেটাঘাত করেছে । ” এই কথা বলে সে থামল ।
তারপর তারা পরিখার ওপাশে চারণভূমির দিকে তাকাল। সেখানে একটি কোয়াগাকে (আফ্রিকান বন্য গাধা) চক্রকারে ঘুরে টগবগ করে দ্রুত অগ্রসর হতে দেখল । জন্তুটার চামড়া সূর্যের আলোয় চকচক করছে । একটা ভোঁদড় পানি থেকে ভুস করে উঠে তার গোঁফ দেখাতে লাগল । একটা গরিলা বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে । কয়েকটি কবুতর হুস করে উড়ে গেল । একটা গণ্ডার দুলকি চালে হেঁটে যাচ্ছে । ঠিক যেন একটা যুদ্ধ জাহাজ । নরম দৃষ্টিতে একটি জিরাফ তাদের দিকে একবার তাকিয়ে পাতা খাওয়ায় মন দিল ।
“ওই যে ডোডো । প্রাণীটা দেখতে হয়তো সুন্দর নয় কিন্তু বেশ হাস্যকর এবং খুব অসহায় একটা প্রাণী । চলুন আমি আপনাকে কিভাবে আমরা প্রাণীদের তৈরি করি তা দেখিয়ে আনি ।” বলল জীববিজ্ঞানী ।
বিশাল গবেষণা কেন্দ্রটির হল ঘরের পাশ দিয়ে সারি সারি চৌবাচ্চা রাখা । চৌবাচ্চারা সারির মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় এর ভিতরের থকথকে জেলী দেখা যাচ্ছে ।
একটা চৌবাচ্চার কাছে গিয়ে বিজ্ঞানী বলল “এ হচ্ছে আফ্রিকান হাতির ভ্রূণ । আমরা হাতির বিশাল একটা দল তৈরি করে নতুন সরকারের তৈরি রিজার্ভ ফরেস্টে ছাড়ার পরিকল্পনা করছি ।”
“আপনি সত্যিই জীবজন্তু খুব ভালোবাসের , তাই না ? ” বলল অতিথি ।
“আমি সকল প্রাণীই ভালোবাসি ।”
“আমাকে বলুন তো আপনি এই সকল প্রাণীদের তৈরি করার ফর্মুলা কোথায় পেলেন ? ”
“বেশিরভাগই পুরাতন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত হাড়গোড় আর চমড়া থেকে পাওয়া । আর খনন করে যে সমস্ত বইপত্র এবং ফিল্ম পাওয়া গিয়েছে তার প্রায় সবগুলোই আমরা পুনরুদ্ধার করে অনুবাদ করতে পেরেছি । সেটাও সাহায্য করেছে এই গবেষণায় । ওই যে বিশাল ডিমগুলো দেখছেন ? ওগুলোর ভিতরে মোয়া পাখির বাচ্চারা বড় হচ্ছে । আর ওই যে চৌবাচ্চাটা দেখছেন ওতে আছে বাঘের বাচ্চা । তারা যখন বড় হবে তখন ভয়ঙ্কর বিপদজনক হয়ে উঠবে কিন্ত চিন্তার কোন কারণ নেই । ওদের সংরক্ষিত এলাকায় আটকে রাখা হবে ।”
অতিথি শেষ চৌবাচ্চার সামনে এসে থামলেন । সেখানে একটি প্রাণীর ভ্রূণ দেখতে পেলেন ।
“শুধু একটা ? কি এটা ?” অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি ।
“বেচারা !” বিষণ্ণ গলায় বললেন বিজ্ঞানী । “ও একেবারে একা হয়ে পড়বে । কিন্তু আমি আমার সবটুকু ভালোবাসা উজার করে দিব ওকে ।”
“প্রাণীটা কি খুব বেশি বিপদজনক ?” অতিথি জিজ্ঞেস করলেন । “হাতি, বাঘ কিংবা ভালুক থেকেও বেশি বিপদজনক ?”
“ওকে সৃষ্টি করার জন্য আমাকে বিশেষভাবে অনুমতি নিতে হয়েছে ।” কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললেন জীববিজ্ঞানী ।
অতিথি ছিটকে চৌবাচ্চা থেকে দূরে সরে গেলেন । তারপর বললেন “তাহলে এটা নিশ্চয়............... ? কিন্তু আপনি নিশ্চিয় এই প্রজাতি সৃষ্টি করার দুঃসাহস দেখাবেন না !”
বিজ্ঞানী নীরবে মাথা নাড়লেন । “আপনি ঠিকই ধরেছেন । এটি একটি মানুষ ।”
আজব চিড়িয়াখানা
মূল – ফিলিপ জোসে ফারম্যার
অনুবাদ – নজরুল ইসলাম
“আমাদের বাজেট এতই সীমিত যে , আমাদের জানা সমস্ত বিলুপ্ত প্রজাতিগুলোকে নতুন করে সৃষ্টি করা সম্ভব নয় ।” সে বলল হাঁটতে হাঁটতে । “তাই আমরা উঁচু স্তরের প্রজাতিগুলোর প্রাণ দেওয়ার চেষ্টা করছি । যে সব সুন্দর প্রাণীগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল পৃথিবী থেকে।আমাদের পাশবিকতা এবং নিষ্ঠুরতার ফলে যে বিরাট ক্ষতি হয়েছিল আমি সাধ্যমত চেষ্টা করছি তা পূরণ করার । নিশ্চিতভাবে বলে দেওয়া যায় বোকা মানুষ যখন প্রানীজগতের প্রজাতিগুলোকে একটা একটা করে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল তখনই তারা সৃষ্টিকর্তা মুখে চপেটাঘাত করেছে । ” এই কথা বলে সে থামল ।
তারপর তারা পরিখার ওপাশে চারণভূমির দিকে তাকাল। সেখানে একটি কোয়াগাকে (আফ্রিকান বন্য গাধা) চক্রকারে ঘুরে টগবগ করে দ্রুত অগ্রসর হতে দেখল । জন্তুটার চামড়া সূর্যের আলোয় চকচক করছে । একটা ভোঁদড় পানি থেকে ভুস করে উঠে তার গোঁফ দেখাতে লাগল । একটা গরিলা বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে । কয়েকটি কবুতর হুস করে উড়ে গেল । একটা গণ্ডার দুলকি চালে হেঁটে যাচ্ছে । ঠিক যেন একটা যুদ্ধ জাহাজ । নরম দৃষ্টিতে একটি জিরাফ তাদের দিকে একবার তাকিয়ে পাতা খাওয়ায় মন দিল ।
“ওই যে ডোডো । প্রাণীটা দেখতে হয়তো সুন্দর নয় কিন্তু বেশ হাস্যকর এবং খুব অসহায় একটা প্রাণী । চলুন আমি আপনাকে কিভাবে আমরা প্রাণীদের তৈরি করি তা দেখিয়ে আনি ।” বলল জীববিজ্ঞানী ।
বিশাল গবেষণা কেন্দ্রটির হল ঘরের পাশ দিয়ে সারি সারি চৌবাচ্চা রাখা । চৌবাচ্চারা সারির মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় এর ভিতরের থকথকে জেলী দেখা যাচ্ছে ।
একটা চৌবাচ্চার কাছে গিয়ে বিজ্ঞানী বলল “এ হচ্ছে আফ্রিকান হাতির ভ্রূণ । আমরা হাতির বিশাল একটা দল তৈরি করে নতুন সরকারের তৈরি রিজার্ভ ফরেস্টে ছাড়ার পরিকল্পনা করছি ।”
“আপনি সত্যিই জীবজন্তু খুব ভালোবাসের , তাই না ? ” বলল অতিথি ।
“আমি সকল প্রাণীই ভালোবাসি ।”
“আমাকে বলুন তো আপনি এই সকল প্রাণীদের তৈরি করার ফর্মুলা কোথায় পেলেন ? ”
“বেশিরভাগই পুরাতন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত হাড়গোড় আর চমড়া থেকে পাওয়া । আর খনন করে যে সমস্ত বইপত্র এবং ফিল্ম পাওয়া গিয়েছে তার প্রায় সবগুলোই আমরা পুনরুদ্ধার করে অনুবাদ করতে পেরেছি । সেটাও সাহায্য করেছে এই গবেষণায় । ওই যে বিশাল ডিমগুলো দেখছেন ? ওগুলোর ভিতরে মোয়া পাখির বাচ্চারা বড় হচ্ছে । আর ওই যে চৌবাচ্চাটা দেখছেন ওতে আছে বাঘের বাচ্চা । তারা যখন বড় হবে তখন ভয়ঙ্কর বিপদজনক হয়ে উঠবে কিন্ত চিন্তার কোন কারণ নেই । ওদের সংরক্ষিত এলাকায় আটকে রাখা হবে ।”
অতিথি শেষ চৌবাচ্চার সামনে এসে থামলেন । সেখানে একটি প্রাণীর ভ্রূণ দেখতে পেলেন ।
“শুধু একটা ? কি এটা ?” অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি ।
“বেচারা !” বিষণ্ণ গলায় বললেন বিজ্ঞানী । “ও একেবারে একা হয়ে পড়বে । কিন্তু আমি আমার সবটুকু ভালোবাসা উজার করে দিব ওকে ।”
“প্রাণীটা কি খুব বেশি বিপদজনক ?” অতিথি জিজ্ঞেস করলেন । “হাতি, বাঘ কিংবা ভালুক থেকেও বেশি বিপদজনক ?”
“ওকে সৃষ্টি করার জন্য আমাকে বিশেষভাবে অনুমতি নিতে হয়েছে ।” কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললেন জীববিজ্ঞানী ।
অতিথি ছিটকে চৌবাচ্চা থেকে দূরে সরে গেলেন । তারপর বললেন “তাহলে এটা নিশ্চয়............... ? কিন্তু আপনি নিশ্চিয় এই প্রজাতি সৃষ্টি করার দুঃসাহস দেখাবেন না !”
বিজ্ঞানী নীরবে মাথা নাড়লেন । “আপনি ঠিকই ধরেছেন । এটি একটি মানুষ ।”
আজব চিড়িয়াখানা
মূল – ফিলিপ জোসে ফারম্যার
অনুবাদ – নজরুল ইসলাম
Published on December 22, 2018 10:20
December 19, 2018
ভাগানো ডট কম
১
আমার নাম? আমার নাম আনীশ? পেশা? মানে বলতে চাচ্ছেন রুটি রুজির জন্য কি করি? পেশা আমার ভাগানো। জি হ্যাঁ। ঠিকই শুনেছেন। ভাগানো। না... না...। ভাববেন না আমি গরু,ছাগল আর কুকুর তাড়িয়ে বেড়াই। কি বললেন? জি হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন। মেয়ে ভাগানোই আমার পেশা। অদ্ভুত লাগছে? আরে ভাই আজকাল সব কিছুই পেশা হিসেবে নেওয়া যায়। যে যত বেশী ইনোভেটিভ সে তত বেশী ব্যবসায়িকভাবে সফল। জোকার তো সেই কবেই বলে গিয়েছে "if you're good at something never do it for free"। তো আমি এই কাজে মানে মেয়ে ভাগানোতে এক্সপার্ট তাহলে ফ্রি তে কেন কাজ করবো?কি বললেন? বিনা চালানে লাখপতি হয়ে যাচ্ছি? ভুল মশাই ভুল। ফি আমি অত নেই না। নির্ভর করে মেয়েকে কোথা থেকে কি পরিস্থিতিতে ভাগাতে হয়। ধরুন যদি বিয়ে বাড়ি থেকে ভাগাতে হয় তাহলে ফি একটু বেশি।বুঝেনই তো ধরা খেলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না। আবার যে মেয়ের ভাই এলাকার গুণ্ডা তার ক্ষেত্রেও ফি টা একটু বেশিই নেই। আরে ভাই আমি তো ম্যাঙ্গো পিপল। গুণ্ডা পান্ডার কাছে ধরা খেলে মেরে তক্তা বানিয়ে দিবে। রিস্ক অনেক। তাই ফি টাও......। আবার ধরেন মেয়ের বাবা যদি পুলিশ টুলিশ কিংবা রাজনীতিক হয় তাহলে ওই আরকি।তবে ভাই আমি কিন্তু ফেয়ার জাজমেন্ট করি। সাধারণ কেস হলে নামমাত্র ফি নেই। শুধু খরচপাতি বাদে নিজের জন্য অল্প কিছু নেই। একবার হল কি শুনুন। এক কাপল এল। ছেলে বেকার। মেয়ের বিয়ে ঠিক। দুজনে এমন ভেউ ভেউ করে কান্না শুরু করে দিল যে আমিও ওদের সাথে কান্না শুরু করে দিলাম। শুধু তাই না। বিনা ফি তে মেয়েটাকে বাসা থেকে ভাগিয়ে ছেলেটার সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিলাম। কি বললেন? কিভাবে এই লাইনে আসলাম? আসলে বুঝলেন সব নষ্টের গোঁড়া আমার বন্ধু শাকিল। বছর কয়েক আগের কথা। আমি তখন অনার্স পাস করে বেকার। চাকরির ধান্দায় জুতার তলা ক্ষয় করছি। সকাল বিকাল বাবা মায়ের "অলস, তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। অমুকের ছেলে অত টাকার বেতন পায় ।আর তুই? বসে বসে খাস। লজ্জা করে না?" এই টাইপ কথাবার্তা শুনতে শুনতে কান পচে গেল। বাসায় আত্নিয় আসলে প্রথমেই বলে "ওমা! সেকি অনীশ? তুমি এখনো বেকার?" আরে বেটা আমি বেকার নাকি সকার তাঁতে তোদের কি? এতই যখন দরদ তাহলে দে না একটা চাকরির ব্যবস্থা করে। না বরং যাওয়ার সময় উপদেশ দেয় "আমাদের লুবনা তো অমুকের কাছে কোচিং করে সরকারি চাকরি পেল। অমুক গাইড পরেছে। নীলক্ষেতে পাওয়া যায়। কিনে এনে পড়া শুরু কর।হয়ে যাবে একটা কিছু। " তো এমনই এক দিনে সকালে বাবার বকা শুনছি ।এমন সময় আমার বাল্যবন্ধু শাকিল এসে হাজির। কোন কথা না বলে আমার পায়ে আছড়ে পড়ল "ওরে অনীশরে...............আমার কি হবে রে? আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো? কাকে নিয়ে বাঁচবো? কার জন্য বাঁচবো? তুই বল? কাকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখবো?আমি আর বাঁচতে চাই না রে অনীশ......" ইতোমধ্যে শাকিলের গড়াগড়ি কান্না দেখে পাশের ঘর থেকে আমার বোন ইসরাত এসে হাজির। "শাকিল ভাইয়া। তোমারদের বাসায় কি কেউ মারা গিয়েছে? এমন করে কাঁদছ কেন?" আমি ইসরাতের দিকে চোখ পাকিয়ে বললাম "যা ফুট। বড়দের মাঝে নাক গলাতে আসিস না। তোর না এস এস সি এক্সাম? যা পাঞ্জেরী গাইড মুখস্ত কর গিয়ে।" ইসরাত আমার কথাগুলো ভেঙিয়ে ভেঙিয়ে বলে চলে যেতে যেতে গজ গজ করে বলতে লাগল "তুমি বিসিএস গাইড পড় না কেণ? যেমন বন্ধু সে তেমন তার। অকালকুষ্মাণ্ড......" শাকিলকে ধরে পাশে বসলাম। জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কি? ও বলল তার হল আঁকির বিয়ে।আঁখি হচ্ছে শাকিলের বয়সকালের গার্লফ্রেন্ড। মানে আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই সেই স্কুল কলেজে একটা করে গার্লফ্রেন্ড জুটিয়ে নিয়েও শাকিল ছিল আমাদের মধ্যে প্রেম বিষয়ে একমাত্র ভার্জিন। হ্যাঁ বেচারা শায়লাকে পছন্দ করতো। কিন্তু মেয়েটার সাথে কথা বলতে সাহস করেনি। মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপাকাপি শুরু হয়ে যেত শাকিলের। তারপর একদিন শায়লাও এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে প্রেম করা শুরু করল।বেচারা শাকিল সিঙ্গেলই রয়ে গেল। মিঙ্গেল আর হতে পারল না। অবশেষে প্রেমের বাজারে শাকিল আইবুড়া হয়ে গেল।কেউই তার সাথে প্রেমে আগ্রহী না।অনার্স পাস করে শাকিল মামার জোরে একটা ভালো চাকরি পেয়ে গেল। আর তাতেই যে তার ভাগ্য খুলে গেল। একদিন আমাদের এসে বলল পাসের গলির আখির সাথে প্রেম ভালোবাসা চলছে। আমরা প্রথমে বিশ্বাস করতে চাইনি। কিন্তু যখন আখির নিজে এসে লাজুক লজ্জাবতি হয়ে মাথা নাড়ালো তখন আর বিশ্বাস না করে কি করি? তো ভালোই চলছিল ওদের প্রেম প্রেম খেলা। এখন নাকি আঁখির বিয়ে ঠিক হয়েছে।ছেলে পুলিশে চাকরি করে। দেখতে শুনতে মাশাল্লা। স্যালারি ভালো। আঁখির বাবার মতে হীরের টুকরো ছেলে। হিরের টুকরো ছেলে রেখে শাকিলের কাছে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আখিকে বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শাকিল আমার কাছে এসেছে। সব শুনে ভেবে দেখলাম কিছুক্ষণ। ওদিকে চলছে বাবার "অকাল কুষ্মাণ্ড। বসে বসে অন্ন ধংস করে........." তখনই আইডিয়াটা মাথায় এল।বললাম "দেখ শাকিল, দেখতেই পাচ্ছিল আমি একজন শিক্ষিত বেকার।বাবা মায়ের গঞ্জনা সহ্য করে রয়েছি। আর তুই বেটা একাউন্টে মোটা মোটা স্যালারি নিয়ে নিচ্ছিল মাস শেষে। তোর মুশকিল আমি আসান করে দিবো ।কিন্তু আমি ফ্রি তে করে দিবো না।কিছু মাল পাতি ছাড়তে হবে। বুঝিসই তো ।খরচাপাতি আছে।" আমার কথা শেষ না হয়েই শাকিল চোখ মুছতে মুছতে বলল "তোর যা ইচ্ছা তাই পাবি। আমাকে শুধু আঁখি এনে দে...... অনীশ ।শুধু আঁখি এনেদে.........।আমি ওকে ছাড়া মরে যাবো........." "আরে বেটা রাখ। আমরা আছি না। মরে গেলে টাকা পাবো কি করে তোর কাছ থেকে।"সান্তনা দিয়ে বলল আমি। "আগে পাঁচশ টাকা ছাড় তো।খরচ পাতি করতে হবে।" শাকিল বিনা বাক্যব্যয়ে টাকা বের করে দিল। একেই বলে প্রেম মানুষকে অন্ধ করে দেয়। যেই শাকিলের কাছ থেকে দশ টাকা বের করা কঠিন ছিল সেই শাকিল নগদ ৫০০টাকা বের করে দিল! যাইহোক টাকাটা পকেটে নিয়ে ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। প্রথমে গেলাম বাজারে। দুই কেজি আপেল কিনলাম।সোজা চলে গেলাম আঁখিদের বাসায়।এক কেজি দিলাম আঁখিদের দারোয়ান ছামছু কে। আপেল পেয়ে ছামছুর দাঁত কেলানো বন্ধ হচ্ছিল না। "বললাম তোমার ছেলেকে দিও। আহারে... ছেলেকে তো ভালো মন্দ কিছু খাওয়াও না।এটা তোমার ছেলের জন্য।" ছামছু বলল,"ঠিক কইছেন অনীশ ভাই।পোয়াডারে ভালমন্দ কিছু খাওয়াইতে পারি না।অনেক খুশি হইবো পোলাডা।" আরেক কেজি আপেল নিয়ে গেলাম আঁখিদের বাসায়।আন্টি মানে আঁখির আম্মা প্যাকেটটা হাতে নিয়ে বলল "কি দরকার ছিল বাবা?বাসায় কত এসব পরে থাকে।কেউ ছোঁয় না।" মুখে বললেও উনার চোখের ভাষা সে কথা বলে না। যাইহোক তো আঙ্কেল আমাকে দেখে বলল "কি অনীশ কাহিনী কি? চাকরি হয়েছে নাকি?" বললাম" না আঙ্কেল।যাতে চাকরি হয় তাই মুরুব্বিদের দোয়া নিয়ে আসলাম।" আঁখির বাবা দোয়ার কথায় বেশ খুশি হলেন "বেশ। বেশ । আজকাল তো মুরুব্বির দোয়ার কথা কেউ মনেই করে না। খুশি হলাম। কইগো আঁখির মা অনীশকে মিষ্টি দাও। শুনেছ তো। আমাদের আঁখির বিয়ে ঠিক হয়েছে। ছেলে সোনার টুকরো..." "শুনেছি আঙ্কেল। অনেক নাম শুনেছি ছেলেটার। একেবারে ফাস্টক্লাস চয়েজ।আখির বিয়েতে আমি কবজি ডুবিয়ে খাবো কিন্তুক। তা আঙ্কেল আঁখি কই? ওকে দেখছি না যে?" "আছে হয়তো ওর ঘরে। গিয়ে দেখ।" আঁখির ঘরে গিয়ে দেখলাম বেচারি মন মরা হয়ে শুয়ে আছে। আমাকে দেখে বলল "অনীশ ভাই কি হবে এখন? আমি যে শাকিলকে ছাড়া বাঁচবো না।" বললাম "চল ভেগে যাই।" ও বলল "ছি অনীশ ভাই। আপনি এত খারাপ! আপনাকে ভাই ভাবতাম।তাছাড়া আপনি তো বেকার। আপনার সাথে ভাগবে কে?আর আমি শাকিলকে ভালবাসি।" সবকিছুই সহ্য করে নেওয়া যায়। এমননি সুন্দরী মেয়েদের মুখে "ভাইয়া" ডাকও ।কিন্তুক "বেকার" সহ্য করতে পারা যায় না। তারপর ওকে সব বুঝিয়ে বললাম। শুধু শাকিলের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছি এই ব্যাপারটা ছাড়া। আমার কথা শুনে খাট থেকে লাফ দিয়ে নামল আঁখির। হাত ধরে বলল "সত্যি অনীশ ভাই! সত্যি!" নিজের হাতদুটি আঁখির হাতে অনুভব করে ভগ্ন হৃদয়ে বললাম "সত্যি।"
২
সেদিন রাত ১১ টার দিকে আবার গেলাম আঁখিদের বাসায়। আঁখিদের বাসার দারোয়ান বাসায় নিচে গ্যারেজে কোণে একটা ঘরে পরিবার নিয়ে থাকে।সম্ভবত বেচারা ঘুমিয়ে গিয়েছিল।ডাকাডাকি করে ঘুম ভাঙ্গালাম।আমাকে দেখে অবাক হয়ে গেল।
"অনীশ ভাই?এত রাতে?"
কোন গোপন কথা বলছি এমনভাবে ওর কানে মুখে বললাম "তোমার ভাবীকে নিয়ে ভেগে এসেছি বুঝলাম। আজকের রাতটা আঁখিদের বাসায় থাকবে।তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দাও তো।" পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বোরকা পরা মোহিনীকে দেখিয়ে বললাম।মোহিনীর মুখ নেকাবে ঢাকা থাকলেও যাতে কোন সন্দেহ না থাকে তাই হাত দুটো খোলা রাখতে বলেছি। কেউ যাতে সন্দেহ না করতে পারে বোরকার নিচে মেয়ে বলে ছেলেকে চালিয়ে দিচ্ছি।
আগে মোহিনীর পরিচয় কিছুটা দিয়ে নেই।মোহিনী হচ্ছে আমার দূর সম্পর্কের বোন। দারুণ স্বাধীনচেতা মেয়ে। সারাদিন নারীবাদী আন্দোলন করে বেড়ায়। রাত বিরাতে বেরিয়ে অভ্যাস আছে ওর। তাছাড়া আঁখির ব্যপারটা খুলে বলতেই খুশি মনে রাজি হয়ে গেল। ওর কাছে আঁখির মা বাবা যা করছে তা হচ্ছে অমানুষিক। ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে নারীর স্বাধীনতার খর্ব করে। তাই আমাকে সাহায্য করবে বলে কথা দিল। তাই এখন বোরকা পরিয়ে নিয়ে এসেছি। যদিও বোরকাতে তাঁর দারুণ আপত্তি। তাঁর কথা 'আমি কি কাউকে ভয় পাই নাকি? দরকার হলে ওই মেয়েকে ওর বাবা মায়ের নাকের ডগা থেকে তুলে নিয়ে আসবো।' মোহিনীর কথা আমি অবিশ্বাস করছি না। এই মেয়ের দ্বারা অসম্ভব কিছু নেই। আমি তো গোবেচারা।আখি আর শাকিল ভেগে যাওয়ার পর তো আমাকে এই এলাকাতেই থাকতে হবে। ধরা খেলে চলবে না। তাই বললাম সাহায্য করতে চাইলে আমার মত কাজ করতে হবে। মেয়েটার মনটা পরিষ্কার। রাগে গজ গজ করতে করতে শেষ পর্যন্ত রাজি হল।
তো বোরকার আড়ালে বেরিয়ে থাকা মোহিনীর হাতের দিকে তাকিয়ে দারিয়ান বেচারা কি করবে বুঝল না প্রথমে। এত রাতে একটা মেয়েসহ একটা বেকার ছেলেকে অন্যের বাড়িতে ঢুকতে দেয় কি করে? তবে সম্ভবত সকালের আপেলগুলো তাজা ছিল। স্বাদ এখনো ভুলতে পারেনি। তাই চক্ষু লজ্জার খাতিরে হলেও গেটের দরজা খুলে দিতে রাজি হল।
বোরকা পরা মোহিনীকে নিয়ে গেলাম আঁখিদের ফ্যাটে। দরজা খুলে দিল আঁখির বাবা। আঙ্কেল আমাকে দেখে ভূত দেখার মত চমকে উঠল। কিন্তু সাথে বোরকা পরা একটা মেয়ে দেখে আর বেশী আঁতকে উঠল। তবে বেশীক্ষণ সুযোগ দিলাম না উনাকে। লাফ দিয়ে উনার পায়ে পড়লাম।"আঙ্কেল...... আমাকে বাঁচান।আঙ্কেল......শুধু আজ রাতটা থাকতে দিন।"
এমনশক্তভাবে পায়দুটো চেপে ধরলাম যে নড়ার জো নেই। শব্দ শুনে ভেতর থেকে আঁখির মা আর আঁখির এসে গেল।পুর্বে শিখিয়ে দেওয়া মন্ত্রের মত আঁখির খুশিতে লাফ দিয়ে উঠল। ওর বাবা মাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে মোহিনীর হাত ধরে ঘরে ভেতরে ঢুকিয়ে নিতে নিতে বলল "বাহ অনীশ ভাই। দারুণ একটা ভাবী জুটিয়ে ফেলেছে তো।এস ভাবী ভিতরে এস। "
আঁখির মা এখনো কিছু বুঝে উঠেনি। আঙ্কেলের পা এমনভাবে চেপে ধরে রেখেছি যে উনি নড়তেই পারছেন না। সেই অবস্থাতেই আখিকে বললেন "কিসের ভাবী? কিসের কি?" আমার দিকে তাকিয়ে বললেন "ছি ছি ছি লজ্জা করে না। বেকার ছেলে বিয়ে করে ফেলেছ। তাও আবার বউ নিয়ে নিজের বাসায় না গিয়ে আমার বাসায় এসেছ কোন দুঃখে?"
আমি বললাম "আঙ্কেল একবার ভেবে দেখুন। আজকে যদি আমি ওকে বিয়ে না করতে পেরে নেশ করে বাদলের মত খারাপ হয়ে যেতাম তাহলে কি আপনার খারাপ লাগত না?একবার ভাবুন।আমার মত নাদান মাসুম যদি রাস্তায় রাস্তায় বাদলের মত ঘুরে বেড়ায় তাহলে আপনার কষ্ট হবে না?"
বাদল আমাদের এলাকার সুপরিচিত ছ্যাকা খোর প্রেমিক। তাঁর কাজ হচ্ছে দুই দিন পর পর প্রেম করা।মজার ব্যাপার হচ্ছে সব এলাকার সব মেয়ের বাবা মায়ই চায় তাঁর মেয়ে যেন বাদলের সাথে অল্প কয়েকদিনের জন্য হলেও প্রেম করুক। কারণ যেই মেয়ের সাথেই বাদলের প্রেম হয় সেই মেয়েরই আলৌকিক কিছুর বদৌলতে এক মাসের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যায়।শুধু তাই নয় মেয়ের বাবা মা যে রকম ছেলে চাই সেইরকম ছেলের সাথেই বিয়ে হয়। তাই এলাকার যেসব মেয়েদের বাবা মা মেয়ের বিয়ে নিয়ে টেনশন করে তাদের ত্রানকর্তা হচ্ছে বাদল। মেয়ের বাবা মা নিজেরা বাদলের সাথে মেয়কে প্রেম করতে উৎসাহ দেয়। বলা বাহুল্য মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে বাদল কিছুই মনে করে না। কয়েকদিন ওই মেয়েটির শোকে কান্নাকাটি করে। পৃথ্বীর অমৃত পান করে। গাঁজা সিগারেট খায় । তারপর আবার আরেকটা মেয়ের প্রেমে পড়ে। যতদিন না সেই মেয়েটির বিয়ে না হচ্ছে। তবে অপেক্ষার তাঁর মেয়ার এক মাসের বেশী না।
যখন দেখলাম এই কথায় উনার চেহারায় কিছুটা কমনীয়ভাব দেখা দিয়েছে তখন ভেউ ভেউ করে কেঁদে দিলাম। এবার কাজ হল। আমাদের শুধু এক রাতের জন্য থাকতে দিতে রাজি হলেন। তবে শর্ত হল মোহিনী থাকবে আঁখির সাথে। পারফেক্ট। যা ভাবছিলাম তাই হচ্ছে। ওদিকে মোহিনী টুপ করেই আঁখির রুমে ঢুকে গেল বোরকা না খুলে। বললাম "মোহিনি ভালো মেয়ে। সবার সাথে দেখা দেয় না।আঙ্কেল যাতে কিছু মনে না করে।"
"দেখা দেয় না তো প্রেম করলে কিভাবে?" আঙ্কেল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
"মনে টান আঙ্কেল মনের টান।চেহারা দেখে কি আর প্রেম হয়।আপনিই বলুন।" তারপর রস কস মিশিয়ে একটা আবেগঘন গাল গল্প বলে দিলাম। গল্পের শেষে উনি আবেগে চোখের পানি মুছলেন।আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন "তুমি আমার ছেলের মত।তোমার যা লাগবে আমাকে বলবে ।আমি তো আছি।"
আমার ঘুমানোর ব্যবস্থা হল সোফায়।সকালে আঙ্কেলের ডাকাডাকিতে ঘুম ভেঙে গেল। "এই অনীশ? উঠ উঠ।আখিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।উঠ তাড়াতাড়ি।"
চোখ ঢলতে ঢলতে এমনভাবে তাকালাম যেন ভাঁজা মাছটি উল্টে খেতে পারি না। আন্টি বলল "তোমার স্ত্রী কেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।"
আমি নিরিহভাবে বললাম "আন্টি,আঁখি আমার সাথে ভেগে না হয় একটা কথা ছিল। কিন্তু আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আঁখি আমার স্ত্রীর সাথে ভেগে গিয়েছে? একি করে সম্ভব?"
আঙ্কেল রাগে গজ গজ করতে করতে বলল "আজকাল সবই সম্ভব। ওই আমেরিকায় কি সব চলে...... আমাদের দেশও বা পিছিয়ে যাবে কেন?ছি ছি একটা ছেলের সাথে ভেহে গেলেও তো হত। শেষ পর্যন্ত কিনা একটা মেয়ের সাথে! আর এই অনীশ? ওই মেয়ে কেমন স্ত্রী তোমার?ছি ছি......স্বামী রেখে ছি... ছি..."
মুখটা কৃত্রিম বেজার করে বললাম "ওকে পেলে আমি জিজ্ঞেস করতাম।"
সারাদিন অনেক খোঁজা খুঁজি চলল। থানায় জিডি করা হল। আমি নাদানের মত সারাদিন উনাদের সাথেই থাকলাম। আর সব কিছুতে সায় দিতে লাগলাম। পুরো এলাকায় ছিঃ ছিঃ রব ওরে গেল। আমাকে নিয়ে চলল ধিক্কার। পাড়ার পোংটা ছেলেরা বলল "অনীশ ভাই শেষ পর্যন্ত কিনা বিয়ে করলেন ওইসব কে? হেহেহহেহে......হেহেহহেহে......"
তবে দুইদিন পড়ে পরিস্থিত শান্ত হতেই আঁখির হাজির। সাথে শাকিল। আঁখির বাবা মাকে কদমমুছি করে "আব্বা... আব্বা বলে জড়িয়ে ধরল।"
এই নিয়ে আর কোন উচ্চবাচ্য করল না উনারা। শেষ পর্যন্ত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ।মেয়ে তাঁদের ঠিকই আছে। অন্তত একটা ছেলেকেই বিয়ে করেছে। উনারা এতেই বেজায় খুসি।
তো বিকালে শাকিলের পকেট থেকে পাওনা বুঝেবাসায় যাচ্ছিলাম। পথে আঙ্কেলের সাথে দেখা। আমাকে বললেন "মেয়ে আমার ঠিকই আছে। কোন ঘাপলা নেই। তিমার জন্য আফসোস হয়।" বলেই জিহ্বা দিয়ে চুক চুক করলেন। আমি তখন বললাম "আঙ্কেল চিন্তা করবেন না। আমি চাকরি পেয়েছি।সব নতুন করে শুরু করবো। " তারপর পকেট থেকে টাকাটা অনুভব করলাম। হিসাব করছি মোহিনীকে ওর % দেওয়ার পর আমার কত থাকবে।
৩
তো সেদিন থেকেই শুরু হল আমার নতুন বিজনেস।মেয়ে ভাগানো।পর পর বেশ কয়েকটি সফল অপারেশন করলাম এলাকায়।এরপর থেকে এলাকায় আমি বেশ পরচিত হয়ে গেলাম। সবাই জেনে গেল আমার উদ্দেশ্য আর কাজের ধরণ।তাই সুযোগ মত একটা অফিস নিয়ে নিলাম এলাকার বাইরে। নাম দিলাম “ভাগানো ডট কম” । আমিই মালিক। আমিই একমাত্র কর্মচারি। প্রথম দিকে আমার কাস্টমার ছিল লিমিটেড। যারা আমার কাছ থেকে সার্ভিস নিয়েছে তাঁদের বন্ধু বান্ধরাই ছিল আমার কাস্টমার। নিজেরা আমার সার্ভিসে উপকার পেয়ে আমার কাছে রেফার করে দিত। আমি আবার গ্যারান্টি ছাড়া কাজ নেই না। বিফলে মূল্য ফেরত।
একশো ভাগ সফলতা নিয়ে আস্তে আস্তে ব্যবসাটা এগিয়ে গেল।ভাববেন না সবকছু এত সোজা। প্রতিদিন নিত্য নতুনভাবে মেয়ে ভাগানোর প্ল্যান বানাতে হয়। নতুন নতুন উপায় বের করতে হয়।তো দিনে দিনে বন্ধু বান্ধব মহল এবং এলাকা ছাড়িয়ে চারদিকে আমার নাম ছড়িয়ে গেল। না মানে ইয়ে সবার মাঝে না। ইয়াং এইজ বিশেষ করে যুবক যুবতীদের মাঝে আরকি।মুরুব্বিরা যদি কোনভাবে আমার এই বিজনেসের কথা জানে তো আমি একশো ভাগ শিউর নিখিল বাবা-মা সমিতি আমার নামে মামলা করে দিবে নতুবা আমার ব্যবসার দফারফা করে দিবে। তো যত প্রসার তত বেশী যন্ত্রনা। একবার তো এক জোড়া কিশোর কিশোরী আসল। তারা ভেগে যেতে চায়। খেয়াল করে দেখলাম ছেলেটার এখনো মোছই উঠেনি। আর মেয়েটা তো এখনো ফ্রগ পরাই ছাড়েনি। দিলাম এক রাম ধমক। ছেলে ম্যে দুটো ভেউ ভেউ করে উঠল। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে মায়া দয়া রাখা চলে না। ঝেটিয়ে বিদায় করলাম। আরেকদিনের কাহিনী শুনেন। এক গুণ্ডা টাইপের লোক আসল। ছয় ফিট উচ্চতা আর পেল্লাই বুকের ছাতি। দুই হাতের বাইসেপের কথা নাই বলি। আমি তো গেলাম ভয় পেয়ে। না জানি কোন মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে এসছিলাম তাঁর ভাই টাই হবে। কিন্তু লোকটা এসে সোজা আমার পায়ের তলায় বসল। আর কাকুতি মুনতি করতে লাগল। তারপর একতাড়া নোট আমার হাতে গুঁজে দিল। আমার দুই মাসে ইনকাম। ঘটনা কি জানতে চাইলাম।বলল পাড়ার পাতি মাস্তান হয়েও যে মেয়েটাকে উনি পছন্দ করে সেই মেয়েটা উনাকে পাত্তা দেয় না।অথচ অন্য একটা ছেলের সাথে দিব্যি প্রেম করে যাচ্ছে। এখন উনি চাচ্ছে মেয়েটাকে জোর করে ভাগিয়ে নিতে।শুনে তো আঁতকে উঠলাম। বললাম এই কাজ আমার দ্বারা হবে না। আপনি অন্য রাস্তা দেখেন। যখন বুঝল কাজ হবে না।তাঁর চ্যালা পেলারা এসে হাজির। শেষে দিল কিছু উত্তম মাধ্যম। এখনো মাঝে মাঝে মার খাওয়া জায়গাগুলো ব্যাথায় চিনচিন করে উঠে। তবে আমার এই ব্যবসায়িক জীবনের মোড় ঘুরে গেল যেদিন আফিফা এসে আমার দরজায় কড়া নাড়ল। দিনটির কতা স্পষ্ট মনে আছে। সেদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি পড়ছিল।হাতে কোন কাজ ছিল না। কারণ মাত্রই দিন দুই আগে পর পর দুটো সফল অপারেশন করে এসেছি।হাতে এখন টাকা আছে ভালোই।কোন টেনশন নাই। আপাতত কিছুদিনের জন্য রিলাক্স। তাই সকাল থেকে পড়া বৃষ্টিটা উপভোগ করছিলাম। কফির চুমুক সাথে বৃষ্টি পড়ার শব্দ ।এক অসাধারণ কম্বিনেশন। ঠিক এমন সময় দরজা খুলে একটা এয়ে ঢুকল। মেয়েটা বৃষ্টিতে ভিজে সারা। সেইসাথে পায়ের জুতোতে আমার মেঝে পানিতে মাখামাখি অবস্থা।বলার অপেক্ষা রাখে না মেয়েটা বেসম্ভব সুন্দরী।মেয়েটা কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা আমার সামনে এসে দাঁড়াল, “এটা কী ভাগানো ডট কম?” মেয়েটার দেখে আমি এতই বিমোহিত হয়ে গিয়েছি সে মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না। শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলাম।তবে দ্রুত নিজেকে সামলে নিলাম। যে লাইনে কাজ করি সেই লাইনে নিত্যদিন এমন হাজারো সুন্দরীর সাথে কাজ করতে হয়।এখানে পথ হালারে চলে না। একটু বিপথে গেলেই মামলা খতম।
আমি যথা সম্ভব মোলায়েম স্বরে উত্তর দিলাম,”জি ।ঠিকই ধরেছেন। বলুন কিভাবে সাহায্য করতে পারি?”বলেই পিছনে ইতিউতি তাকালাম।আমি আশ করছিলাম সাথে বয়ফ্রেন্ড আসেব। সাধারণত ক্লায়েন্টরা আসে কাপল হয়ে। ক্ষেত্রে বিশেষে প্রাথমিক অবস্থায় ছেলেটা এসে কাজ দিয়ে যায়। পড়ে জোড়ের অন্য জনের সাথে দেখা হয়। আর অবস্থা বেশী সিরিয়াস হলে ফোন কথা বলে নেই। মেয়েটার সাথে কেউ আসেনি। একা এসেছে। আমার পুরো অফিসটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। তারপর বলল “অফিস তো ভালোই সাজিয়েছেন। কিন্তু একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে কি সমস্যা? আপনি জানেন কত সমস্যায় পড়েছি আপনার অফিস খুজেতে গিয়ে? তাও আবার এই বৃষ্টিতে।”
“ইয়ে মাদক ব্যবসায়ী যদি অফিস খুলে মাদক সেল করে তাহলে তো মাদকসেবীদের সাথে পুলিশও এসে হাজির হয়। তাই না?তেমনি আমার এই বিজনেসে ওপেনলি কিছ করা মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়ল মারা।আপনার অতিরিক্ত কষ্টের জন্য দুঃখিত।” বিনয়ের অবতার হয়ে উত্তর দিলাম।
“হয়েছে হয়েছে।এখন রুমাল টুমাল কিছু দিন ।ঠাণ্ডা লেগে যাবে আমার। আমার আবার ঠাণ্ডার প্রবলেম আছে।”
আমি ‘কাস্টমার সার্ভিস সবার আগে’ নীতিতে বিশ্বাসী।দ্রিত তোয়ালে বের করে দিলাম। মাথা মুছে আলুথালু চুল নিয়েই সামনের চেয়ারে বসল। আমি খাতা কলম নিয়ে বসলাম।
“আপনার নাম?”
“আফিফা।”
“পেশা?”
“চাকুরীজীবী”
“বাবা কি করেন?”
“ব্যবসায়ী।”
“আপনাকে কোথা থেকে ভাগাতে হবে? বাসাত থেকে নাকি কোন বন্ধী কারাগার থেকে।”
“আমাকে দেখে কি মনে হয় আমি বন্ধি কারাগারে আছি?বন্ধি থাকলে কি আমি এখানে আসতে পারতাম?”
“নাহ। মানে আনেকেই মিথ্যা বলে বের হয়। কিত্নু ভাগতে প্রিপারেশন লাগে ।সাথে কিছু নিয়ে ভাগতে হয়। ওসবের জন্য বলা আরক…”
“ঠিক আছে ঠিক আছে।”
“আচ্ছা আপনার বয়ফ্রেন্ড কোথায়? পেমেন্ট কি উনি করবে ? আমি কিন্ত অগ্রিম নেই টাকা।”
“কেন আমাকে দেখে কি মনে হয় আমি ফকির মিসকিন?আমার কাছে টাকা নেই?”
“নাহ , আসলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলেরাই টাকা দেয় কি না…”
আমার মুখের কথা কেঁড়ে নিয়ে মেয়েটা বলল “হ্যালো… এটা ২০১৮। ১৯ কট কটি না। আর শুনে রাখুন আমাকে ভাগাতে হবে না।ভাগাতে হবে আমার বয়ফ্রেন্ডকে। যা করার দ্রুত করতে হবে। ওর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।কত দিবে হবে আপনাকে?” ভ্যানিটি ব্যাগ খুলতে খুলতে প্রশ্ন করল আফিফা।
কথাটা শুনে হাত থেকে কলম পড়ে গেল। ভুল শুনলাম না তো? মেয়েটা সম্ভবত আমার মনের কথা পড়তে পারল। মুখটা বেকিয়ে উত্তর দিল “জি ঠিকই শুনেছেন। আমার বয়ফ্রেন্ডকে ভাগাতে হবে। এতে অবাক হওয়ার কি আছে?”
মুখটা ভ্যাংচাতে মেয়েটাকে আরও সুন্দর লাগল। ধুর কি যা তা ভাবছি। ফোকাস অনীশ ফোকাস।কাজে সময় ন টাল্টি ফাল্টি । উত্তর দিলাম “না আসলে এরকম কেস এই প্রথম তো তাই…”
“সব কিছুরই প্রথম থাকে। আজকের পড়ে আর প্রথম থাকবে না। ভিক্টিমের নাম লিখুন সালাউদ্দিন মইন।পেশা ডাক্তার।বাবার নাম………”
মেয়েটা একেরপর এক ইনফরমেশন দিয়ে যাচ্ছে আমি খস খস করে নোটবুকে লিখেই যাচ্ছি ।
৪
আফিফার কাছ থেকে ঘটনা যা শুনলাম তা নতুন কিছু না।যুগ যুগ ধরে আমরা যা দেখে আসছি তাই আবার নতুন করে শুনতে হল। সেই চৌধুরী আর খানদের ইতিহাস। আফিফার পরিবার ওদের এলাকায় ডাকাবুকো ফ্যামিলির মধ্যে অন্যতম। আফিফার বাবার কথায় দশ ঘাটের লোক এক ঘাটে জল খায়। এককালে তাদের জমিদারি ছিল। এখন জমিদারি না থাকলেও সেই ঠাটবাট ঠিকই রয়ে গিয়েছে। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল।
ওদিকে আফিফার প্রেমিক মইনদের ফ্যামিলি নয়া বড়লোক হয়েছে। বংশ পরস্পরায় ওরা বড়লোক ছিল না। মইনের পূর্ব পুরুষ এক সময় আফিফাদের জমিদারিতে চাকরি করতো। আফিফার পূর্বপুরুষদের জমিদারি গিয়ে দুর্দিন শুরু হল আর তা শাপে বর হয়ে মইনদের পূর্বপুরুষদের ভাগ্য খুলে গেল। ব্যবসা করে বিস্তর কাঁচা পয়সা গড়ে দুই পুরুষের মাথায় এলাকার গণ্যমান্য হয়ে গেল। ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখল না আফিফাদের পরিবার। প্রথম প্রথম ছোট খাটো কনফ্লিক্ট। কিন্তু বংশ পরিক্রমায় তাই রূপ নিল সাপে নেউড়ে সম্পর্কে। এর মধ্যে ওদের দুজনের প্রেম হল। দুই পরিবারের কেউই মেনে নিতে পারল না। আফিফাদের বাসায় এসে নিজের ছেলেকে ৪৮ ঘন্টায় বিয়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে গিয়েছেন মইনের বাবা। মইন ছুটি উপলক্ষ্যে বাড়িতেই ছিল। আর যায় কোথায়। সাথের সাথে ঘরে বন্দী।
সব শোনার পড় জিজ্ঞেস করলাম।
"তা মইনের বাবা ৭২ ঘন্টার আন্টিমেটাম দিয়ে দিল আর তোমার বাবা তা সহ্য করলেন!"
"আরে নাহ। বাবা।এত বোকা না। তিনি ১ সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।তবে এই নিয়ে আমি চিন্তিত না।আমি ঠিকই নিজের হিল্লে করতে পারবো কিন্তু হাঁদারামটার বিয়ে হয়ে গেলে তো সমস্যা।" ভেজা চুলে বিলি কাটতে কাটতে বল আফিফা।
"তা কীভাবে শুরু করা যায়? ভেবেছ কিছু?" জিজ্ঞেস করলাম কলম নাচাতে নাচাতে।
চোখমুখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করল "ওই মিয়া!আমিই যদি ভাবতাম তাহলে আপনার কাছে আসছি কেন? দেন দেন টাকা ফেরত দেন।যত্তসব ভণ্ডামি।"
দেখলাম অবস্থা বেগতিক। পাগল কিসিমের কাস্টমার। যদিও সুন্দরী। তাতে কি পাগলের কি আর জাত পাত আছে? সুন্দরী হইলেই বা কি?
"আরে ম্যাডাম। এত রেগে যান কেন?কলিকাতা হারবালে গিয়ে কি কেউ এক শট টেস্ট না ফেরত আসে? বললাম না বিফলে মূল্য ফেরত। আপনার বয়ফ্রেন্ড কে আপনার পায়ে যদি হাজির না করেছি তবে আমান নাম অনীশ না।"
"মনে থাকে যেন।আমার পায়ে এনে ফেলবেন বলেছেন।"
"ইয়ে... বুকে এনে ফেললেও তো হবে?" কাঁচুমাচু হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
আমার লেইম জোকসে একটুও ইম্প্রেস না হয়ে বলল "ননসেন্স। ইডিয়ট।"
যাই হোক সব প্রয়োজনীয় জিনিসপাতি জোগাড় করে আল্লাহ্ নাম নিয়ে রওনা দিলাম। আফিফা বাস স্ট্যান্ড থেকে ওর বাসায় চলে গেল আর আমি সোজা গেলাম মইনদের বাসায়। ওর বাসায় গিয়ে দেখলাম সে এক এলাহি কাণ্ড। নিজের যে মালকড়ি আছে সেটা বোঝানোর জন্য মইনের বাবা কোন কার্পন্য করেন নাই। ওদের বাড়িতে আমি উঠলাম মইনের বন্ধু হিসাবে। বেচারা মইনের নিচে আসাও বারণ। ওর বাবার লাল টকটকে চেহারা। ঝাড়া ছয় ফিট। মুখের পেল্লাই গোঁফ উনার ব্যক্তিত্বেও বহিঃপ্রকাশ।
আমাকে দেখে ঝাড়া পাঁচ মিনিট আমার দিকে তাকিয়ে রইল কোন কথা না বলে। আমি নিরীহ গোবেচারা মত যতটা পারা যায় মুখে শিশুর সারল্য নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। যেন দুনিয়ার কোথায় কি হচ্ছে তার কিচ্ছুটি জানি না।
মেয়ে দেখতে আসা পাত্র পক্ষের মত আমাকে দেখে টেখে রাশভারী কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন "তোমাকে দেখে তো মইনের বন্ধু বলে মনে হয় না। কেমন চোর চোর ভাব তোমার চেহারায়।"
আমি বিনয়ের অবতার হয়ে বললাম "আমার সব বন্ধুর বাবা আমি এই কথা বলে।তবে বিশ্বাস করেন আংকেল আমি দেখতে কিউট না হলেও চোর না। এখানে দুই দিন থাকলে আমাকে সারাজীবন মনে রাখবেন। আমি যেখানে যাই নিজের ছাপ ফেলে আসতে চেষ্টা করি।"
"হুম। তা কি কাজ করো?"
"জি আংকেল।ভাগাই। ভাগানো আমার পেশা?"
কথাটা বলেই জিভে কামড় দিলাম। ভুলে করে ফেললাম।
"ভাগানো? কি ভাগাও তুমি?" অবাক হয়ে উনি প্রশ্ন করলেন।
"মানে ওই গরু ছাগল ভাগাই আরকি।মানে রাখাল বলতে পারেন।"
"রাখাল!"
"ডিজিটাল রাখাল আংকেল।গরু ছাগলের ফার্ম আছে আমার।নিজের ফার্মেই গরু ছাগল ভাগিয়ে বেড়াই মানে ঘাস খাইয়ে বেড়াই ওদের।"
"ও আচ্ছা। তাই বল। কিন্তু যাই বলো তোমাকে আমার চোর মনে হয়।যাও মইন উপরে আছে।"
উনাকে আট কিছু বলতে সুযোগ না দিয়ে সুড়ুৎ করে দোতলায় উঠে এলাম।
হিসাব করে দেখলাম এক হিসাবে তো আমিই চোরই। চোরের সাথে আমার বিশেষ পার্থক্য নেই। চোর রাতের বেলা মানুষের বাড়িতে হামলা করে। আমি তাই করি। তবে পার্থক্য আমি আসবার পত্র না নিয়ে বাড়ির মেয়েদের চুরি করে বেড়াই।থুক্কু ভাগিয়ে বেড়াই।তাহলে কি রাতে বেলা চোরের মত চলাফেলা করতে করতে চেহারায় চোর চোর ভাব চলে এসেছে? হতে পারে।
দরজার দুই পালোয়ান গার্ড হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে দরজার তালা খুলে দিল। কোনমতে ভিতরে ঢুকতেই পেছন থেকে দরজা বন্ধের আওয়াজ পেলাম।
ভিতরে ঢুকে দেখি একটা ছেলে বুকে বালিশ নিয়ে উপুড় হয়ে গুন গুন করে কাঁদছে। গলা খাকারি দিয়েই ফিরে তাকাল। ছেলেটার চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত কান্নার ফল। টকটকে ফর্সা চেহারায় তা আরও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। আমাকে দেখে কোলের বালইশ ফেলে সিনেমার নায়িকাদের মত দোউে এল। ভয় পেয়ে গেলাম। আজকালকার যুগে সব চলে। কে যে বাইসেক্সুয়াল আর যে নরলাম বুঝা মুশকিল। বিপদে পড়ে গেলাম নাকি?তবে আমার সব জল্পপা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মইন আমার পায়ে এসে পড়ল।
"ভাই আমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে চলুন। আমি আফিফাকে ছাড়া বাঁচবো না।আমি শেষ হয়ে যাবো।"
"আরে ভাই রাখেন রাখেন। আপনাকে বাঁচানোর জন্যই তো আমি এসেছি। উঠেন ভাই উঠেন।তবে আগে একটা কথা বলেন তো। আফিফাকে প্রপোজ কে করেছিল?"
মইন চোখ মুছতে মুছতে বলল "আফিফাই করেছিল।"
আমি গাল চুলকে বললাম "হুম।এটাই ধারণা করেছিলাম।আপনি সেই ম্যাটারিয়াল না।"
"কোন ম্যাটারিয়াল ভাই?"ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল মইন
"কিছু না।আসেন কাজে নামি।" বলেই বাক্স পেটরা খুলতে শুরু করলাম।
চলবে..............................
আমার নাম? আমার নাম আনীশ? পেশা? মানে বলতে চাচ্ছেন রুটি রুজির জন্য কি করি? পেশা আমার ভাগানো। জি হ্যাঁ। ঠিকই শুনেছেন। ভাগানো। না... না...। ভাববেন না আমি গরু,ছাগল আর কুকুর তাড়িয়ে বেড়াই। কি বললেন? জি হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন। মেয়ে ভাগানোই আমার পেশা। অদ্ভুত লাগছে? আরে ভাই আজকাল সব কিছুই পেশা হিসেবে নেওয়া যায়। যে যত বেশী ইনোভেটিভ সে তত বেশী ব্যবসায়িকভাবে সফল। জোকার তো সেই কবেই বলে গিয়েছে "if you're good at something never do it for free"। তো আমি এই কাজে মানে মেয়ে ভাগানোতে এক্সপার্ট তাহলে ফ্রি তে কেন কাজ করবো?কি বললেন? বিনা চালানে লাখপতি হয়ে যাচ্ছি? ভুল মশাই ভুল। ফি আমি অত নেই না। নির্ভর করে মেয়েকে কোথা থেকে কি পরিস্থিতিতে ভাগাতে হয়। ধরুন যদি বিয়ে বাড়ি থেকে ভাগাতে হয় তাহলে ফি একটু বেশি।বুঝেনই তো ধরা খেলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না। আবার যে মেয়ের ভাই এলাকার গুণ্ডা তার ক্ষেত্রেও ফি টা একটু বেশিই নেই। আরে ভাই আমি তো ম্যাঙ্গো পিপল। গুণ্ডা পান্ডার কাছে ধরা খেলে মেরে তক্তা বানিয়ে দিবে। রিস্ক অনেক। তাই ফি টাও......। আবার ধরেন মেয়ের বাবা যদি পুলিশ টুলিশ কিংবা রাজনীতিক হয় তাহলে ওই আরকি।তবে ভাই আমি কিন্তু ফেয়ার জাজমেন্ট করি। সাধারণ কেস হলে নামমাত্র ফি নেই। শুধু খরচপাতি বাদে নিজের জন্য অল্প কিছু নেই। একবার হল কি শুনুন। এক কাপল এল। ছেলে বেকার। মেয়ের বিয়ে ঠিক। দুজনে এমন ভেউ ভেউ করে কান্না শুরু করে দিল যে আমিও ওদের সাথে কান্না শুরু করে দিলাম। শুধু তাই না। বিনা ফি তে মেয়েটাকে বাসা থেকে ভাগিয়ে ছেলেটার সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিলাম। কি বললেন? কিভাবে এই লাইনে আসলাম? আসলে বুঝলেন সব নষ্টের গোঁড়া আমার বন্ধু শাকিল। বছর কয়েক আগের কথা। আমি তখন অনার্স পাস করে বেকার। চাকরির ধান্দায় জুতার তলা ক্ষয় করছি। সকাল বিকাল বাবা মায়ের "অলস, তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। অমুকের ছেলে অত টাকার বেতন পায় ।আর তুই? বসে বসে খাস। লজ্জা করে না?" এই টাইপ কথাবার্তা শুনতে শুনতে কান পচে গেল। বাসায় আত্নিয় আসলে প্রথমেই বলে "ওমা! সেকি অনীশ? তুমি এখনো বেকার?" আরে বেটা আমি বেকার নাকি সকার তাঁতে তোদের কি? এতই যখন দরদ তাহলে দে না একটা চাকরির ব্যবস্থা করে। না বরং যাওয়ার সময় উপদেশ দেয় "আমাদের লুবনা তো অমুকের কাছে কোচিং করে সরকারি চাকরি পেল। অমুক গাইড পরেছে। নীলক্ষেতে পাওয়া যায়। কিনে এনে পড়া শুরু কর।হয়ে যাবে একটা কিছু। " তো এমনই এক দিনে সকালে বাবার বকা শুনছি ।এমন সময় আমার বাল্যবন্ধু শাকিল এসে হাজির। কোন কথা না বলে আমার পায়ে আছড়ে পড়ল "ওরে অনীশরে...............আমার কি হবে রে? আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো? কাকে নিয়ে বাঁচবো? কার জন্য বাঁচবো? তুই বল? কাকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখবো?আমি আর বাঁচতে চাই না রে অনীশ......" ইতোমধ্যে শাকিলের গড়াগড়ি কান্না দেখে পাশের ঘর থেকে আমার বোন ইসরাত এসে হাজির। "শাকিল ভাইয়া। তোমারদের বাসায় কি কেউ মারা গিয়েছে? এমন করে কাঁদছ কেন?" আমি ইসরাতের দিকে চোখ পাকিয়ে বললাম "যা ফুট। বড়দের মাঝে নাক গলাতে আসিস না। তোর না এস এস সি এক্সাম? যা পাঞ্জেরী গাইড মুখস্ত কর গিয়ে।" ইসরাত আমার কথাগুলো ভেঙিয়ে ভেঙিয়ে বলে চলে যেতে যেতে গজ গজ করে বলতে লাগল "তুমি বিসিএস গাইড পড় না কেণ? যেমন বন্ধু সে তেমন তার। অকালকুষ্মাণ্ড......" শাকিলকে ধরে পাশে বসলাম। জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কি? ও বলল তার হল আঁকির বিয়ে।আঁখি হচ্ছে শাকিলের বয়সকালের গার্লফ্রেন্ড। মানে আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই সেই স্কুল কলেজে একটা করে গার্লফ্রেন্ড জুটিয়ে নিয়েও শাকিল ছিল আমাদের মধ্যে প্রেম বিষয়ে একমাত্র ভার্জিন। হ্যাঁ বেচারা শায়লাকে পছন্দ করতো। কিন্তু মেয়েটার সাথে কথা বলতে সাহস করেনি। মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপাকাপি শুরু হয়ে যেত শাকিলের। তারপর একদিন শায়লাও এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে প্রেম করা শুরু করল।বেচারা শাকিল সিঙ্গেলই রয়ে গেল। মিঙ্গেল আর হতে পারল না। অবশেষে প্রেমের বাজারে শাকিল আইবুড়া হয়ে গেল।কেউই তার সাথে প্রেমে আগ্রহী না।অনার্স পাস করে শাকিল মামার জোরে একটা ভালো চাকরি পেয়ে গেল। আর তাতেই যে তার ভাগ্য খুলে গেল। একদিন আমাদের এসে বলল পাসের গলির আখির সাথে প্রেম ভালোবাসা চলছে। আমরা প্রথমে বিশ্বাস করতে চাইনি। কিন্তু যখন আখির নিজে এসে লাজুক লজ্জাবতি হয়ে মাথা নাড়ালো তখন আর বিশ্বাস না করে কি করি? তো ভালোই চলছিল ওদের প্রেম প্রেম খেলা। এখন নাকি আঁখির বিয়ে ঠিক হয়েছে।ছেলে পুলিশে চাকরি করে। দেখতে শুনতে মাশাল্লা। স্যালারি ভালো। আঁখির বাবার মতে হীরের টুকরো ছেলে। হিরের টুকরো ছেলে রেখে শাকিলের কাছে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আখিকে বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শাকিল আমার কাছে এসেছে। সব শুনে ভেবে দেখলাম কিছুক্ষণ। ওদিকে চলছে বাবার "অকাল কুষ্মাণ্ড। বসে বসে অন্ন ধংস করে........." তখনই আইডিয়াটা মাথায় এল।বললাম "দেখ শাকিল, দেখতেই পাচ্ছিল আমি একজন শিক্ষিত বেকার।বাবা মায়ের গঞ্জনা সহ্য করে রয়েছি। আর তুই বেটা একাউন্টে মোটা মোটা স্যালারি নিয়ে নিচ্ছিল মাস শেষে। তোর মুশকিল আমি আসান করে দিবো ।কিন্তু আমি ফ্রি তে করে দিবো না।কিছু মাল পাতি ছাড়তে হবে। বুঝিসই তো ।খরচাপাতি আছে।" আমার কথা শেষ না হয়েই শাকিল চোখ মুছতে মুছতে বলল "তোর যা ইচ্ছা তাই পাবি। আমাকে শুধু আঁখি এনে দে...... অনীশ ।শুধু আঁখি এনেদে.........।আমি ওকে ছাড়া মরে যাবো........." "আরে বেটা রাখ। আমরা আছি না। মরে গেলে টাকা পাবো কি করে তোর কাছ থেকে।"সান্তনা দিয়ে বলল আমি। "আগে পাঁচশ টাকা ছাড় তো।খরচ পাতি করতে হবে।" শাকিল বিনা বাক্যব্যয়ে টাকা বের করে দিল। একেই বলে প্রেম মানুষকে অন্ধ করে দেয়। যেই শাকিলের কাছ থেকে দশ টাকা বের করা কঠিন ছিল সেই শাকিল নগদ ৫০০টাকা বের করে দিল! যাইহোক টাকাটা পকেটে নিয়ে ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। প্রথমে গেলাম বাজারে। দুই কেজি আপেল কিনলাম।সোজা চলে গেলাম আঁখিদের বাসায়।এক কেজি দিলাম আঁখিদের দারোয়ান ছামছু কে। আপেল পেয়ে ছামছুর দাঁত কেলানো বন্ধ হচ্ছিল না। "বললাম তোমার ছেলেকে দিও। আহারে... ছেলেকে তো ভালো মন্দ কিছু খাওয়াও না।এটা তোমার ছেলের জন্য।" ছামছু বলল,"ঠিক কইছেন অনীশ ভাই।পোয়াডারে ভালমন্দ কিছু খাওয়াইতে পারি না।অনেক খুশি হইবো পোলাডা।" আরেক কেজি আপেল নিয়ে গেলাম আঁখিদের বাসায়।আন্টি মানে আঁখির আম্মা প্যাকেটটা হাতে নিয়ে বলল "কি দরকার ছিল বাবা?বাসায় কত এসব পরে থাকে।কেউ ছোঁয় না।" মুখে বললেও উনার চোখের ভাষা সে কথা বলে না। যাইহোক তো আঙ্কেল আমাকে দেখে বলল "কি অনীশ কাহিনী কি? চাকরি হয়েছে নাকি?" বললাম" না আঙ্কেল।যাতে চাকরি হয় তাই মুরুব্বিদের দোয়া নিয়ে আসলাম।" আঁখির বাবা দোয়ার কথায় বেশ খুশি হলেন "বেশ। বেশ । আজকাল তো মুরুব্বির দোয়ার কথা কেউ মনেই করে না। খুশি হলাম। কইগো আঁখির মা অনীশকে মিষ্টি দাও। শুনেছ তো। আমাদের আঁখির বিয়ে ঠিক হয়েছে। ছেলে সোনার টুকরো..." "শুনেছি আঙ্কেল। অনেক নাম শুনেছি ছেলেটার। একেবারে ফাস্টক্লাস চয়েজ।আখির বিয়েতে আমি কবজি ডুবিয়ে খাবো কিন্তুক। তা আঙ্কেল আঁখি কই? ওকে দেখছি না যে?" "আছে হয়তো ওর ঘরে। গিয়ে দেখ।" আঁখির ঘরে গিয়ে দেখলাম বেচারি মন মরা হয়ে শুয়ে আছে। আমাকে দেখে বলল "অনীশ ভাই কি হবে এখন? আমি যে শাকিলকে ছাড়া বাঁচবো না।" বললাম "চল ভেগে যাই।" ও বলল "ছি অনীশ ভাই। আপনি এত খারাপ! আপনাকে ভাই ভাবতাম।তাছাড়া আপনি তো বেকার। আপনার সাথে ভাগবে কে?আর আমি শাকিলকে ভালবাসি।" সবকিছুই সহ্য করে নেওয়া যায়। এমননি সুন্দরী মেয়েদের মুখে "ভাইয়া" ডাকও ।কিন্তুক "বেকার" সহ্য করতে পারা যায় না। তারপর ওকে সব বুঝিয়ে বললাম। শুধু শাকিলের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছি এই ব্যাপারটা ছাড়া। আমার কথা শুনে খাট থেকে লাফ দিয়ে নামল আঁখির। হাত ধরে বলল "সত্যি অনীশ ভাই! সত্যি!" নিজের হাতদুটি আঁখির হাতে অনুভব করে ভগ্ন হৃদয়ে বললাম "সত্যি।"
২
সেদিন রাত ১১ টার দিকে আবার গেলাম আঁখিদের বাসায়। আঁখিদের বাসার দারোয়ান বাসায় নিচে গ্যারেজে কোণে একটা ঘরে পরিবার নিয়ে থাকে।সম্ভবত বেচারা ঘুমিয়ে গিয়েছিল।ডাকাডাকি করে ঘুম ভাঙ্গালাম।আমাকে দেখে অবাক হয়ে গেল।
"অনীশ ভাই?এত রাতে?"
কোন গোপন কথা বলছি এমনভাবে ওর কানে মুখে বললাম "তোমার ভাবীকে নিয়ে ভেগে এসেছি বুঝলাম। আজকের রাতটা আঁখিদের বাসায় থাকবে।তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দাও তো।" পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বোরকা পরা মোহিনীকে দেখিয়ে বললাম।মোহিনীর মুখ নেকাবে ঢাকা থাকলেও যাতে কোন সন্দেহ না থাকে তাই হাত দুটো খোলা রাখতে বলেছি। কেউ যাতে সন্দেহ না করতে পারে বোরকার নিচে মেয়ে বলে ছেলেকে চালিয়ে দিচ্ছি।
আগে মোহিনীর পরিচয় কিছুটা দিয়ে নেই।মোহিনী হচ্ছে আমার দূর সম্পর্কের বোন। দারুণ স্বাধীনচেতা মেয়ে। সারাদিন নারীবাদী আন্দোলন করে বেড়ায়। রাত বিরাতে বেরিয়ে অভ্যাস আছে ওর। তাছাড়া আঁখির ব্যপারটা খুলে বলতেই খুশি মনে রাজি হয়ে গেল। ওর কাছে আঁখির মা বাবা যা করছে তা হচ্ছে অমানুষিক। ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে নারীর স্বাধীনতার খর্ব করে। তাই আমাকে সাহায্য করবে বলে কথা দিল। তাই এখন বোরকা পরিয়ে নিয়ে এসেছি। যদিও বোরকাতে তাঁর দারুণ আপত্তি। তাঁর কথা 'আমি কি কাউকে ভয় পাই নাকি? দরকার হলে ওই মেয়েকে ওর বাবা মায়ের নাকের ডগা থেকে তুলে নিয়ে আসবো।' মোহিনীর কথা আমি অবিশ্বাস করছি না। এই মেয়ের দ্বারা অসম্ভব কিছু নেই। আমি তো গোবেচারা।আখি আর শাকিল ভেগে যাওয়ার পর তো আমাকে এই এলাকাতেই থাকতে হবে। ধরা খেলে চলবে না। তাই বললাম সাহায্য করতে চাইলে আমার মত কাজ করতে হবে। মেয়েটার মনটা পরিষ্কার। রাগে গজ গজ করতে করতে শেষ পর্যন্ত রাজি হল।
তো বোরকার আড়ালে বেরিয়ে থাকা মোহিনীর হাতের দিকে তাকিয়ে দারিয়ান বেচারা কি করবে বুঝল না প্রথমে। এত রাতে একটা মেয়েসহ একটা বেকার ছেলেকে অন্যের বাড়িতে ঢুকতে দেয় কি করে? তবে সম্ভবত সকালের আপেলগুলো তাজা ছিল। স্বাদ এখনো ভুলতে পারেনি। তাই চক্ষু লজ্জার খাতিরে হলেও গেটের দরজা খুলে দিতে রাজি হল।
বোরকা পরা মোহিনীকে নিয়ে গেলাম আঁখিদের ফ্যাটে। দরজা খুলে দিল আঁখির বাবা। আঙ্কেল আমাকে দেখে ভূত দেখার মত চমকে উঠল। কিন্তু সাথে বোরকা পরা একটা মেয়ে দেখে আর বেশী আঁতকে উঠল। তবে বেশীক্ষণ সুযোগ দিলাম না উনাকে। লাফ দিয়ে উনার পায়ে পড়লাম।"আঙ্কেল...... আমাকে বাঁচান।আঙ্কেল......শুধু আজ রাতটা থাকতে দিন।"
এমনশক্তভাবে পায়দুটো চেপে ধরলাম যে নড়ার জো নেই। শব্দ শুনে ভেতর থেকে আঁখির মা আর আঁখির এসে গেল।পুর্বে শিখিয়ে দেওয়া মন্ত্রের মত আঁখির খুশিতে লাফ দিয়ে উঠল। ওর বাবা মাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে মোহিনীর হাত ধরে ঘরে ভেতরে ঢুকিয়ে নিতে নিতে বলল "বাহ অনীশ ভাই। দারুণ একটা ভাবী জুটিয়ে ফেলেছে তো।এস ভাবী ভিতরে এস। "
আঁখির মা এখনো কিছু বুঝে উঠেনি। আঙ্কেলের পা এমনভাবে চেপে ধরে রেখেছি যে উনি নড়তেই পারছেন না। সেই অবস্থাতেই আখিকে বললেন "কিসের ভাবী? কিসের কি?" আমার দিকে তাকিয়ে বললেন "ছি ছি ছি লজ্জা করে না। বেকার ছেলে বিয়ে করে ফেলেছ। তাও আবার বউ নিয়ে নিজের বাসায় না গিয়ে আমার বাসায় এসেছ কোন দুঃখে?"
আমি বললাম "আঙ্কেল একবার ভেবে দেখুন। আজকে যদি আমি ওকে বিয়ে না করতে পেরে নেশ করে বাদলের মত খারাপ হয়ে যেতাম তাহলে কি আপনার খারাপ লাগত না?একবার ভাবুন।আমার মত নাদান মাসুম যদি রাস্তায় রাস্তায় বাদলের মত ঘুরে বেড়ায় তাহলে আপনার কষ্ট হবে না?"
বাদল আমাদের এলাকার সুপরিচিত ছ্যাকা খোর প্রেমিক। তাঁর কাজ হচ্ছে দুই দিন পর পর প্রেম করা।মজার ব্যাপার হচ্ছে সব এলাকার সব মেয়ের বাবা মায়ই চায় তাঁর মেয়ে যেন বাদলের সাথে অল্প কয়েকদিনের জন্য হলেও প্রেম করুক। কারণ যেই মেয়ের সাথেই বাদলের প্রেম হয় সেই মেয়েরই আলৌকিক কিছুর বদৌলতে এক মাসের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যায়।শুধু তাই নয় মেয়ের বাবা মা যে রকম ছেলে চাই সেইরকম ছেলের সাথেই বিয়ে হয়। তাই এলাকার যেসব মেয়েদের বাবা মা মেয়ের বিয়ে নিয়ে টেনশন করে তাদের ত্রানকর্তা হচ্ছে বাদল। মেয়ের বাবা মা নিজেরা বাদলের সাথে মেয়কে প্রেম করতে উৎসাহ দেয়। বলা বাহুল্য মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে বাদল কিছুই মনে করে না। কয়েকদিন ওই মেয়েটির শোকে কান্নাকাটি করে। পৃথ্বীর অমৃত পান করে। গাঁজা সিগারেট খায় । তারপর আবার আরেকটা মেয়ের প্রেমে পড়ে। যতদিন না সেই মেয়েটির বিয়ে না হচ্ছে। তবে অপেক্ষার তাঁর মেয়ার এক মাসের বেশী না।
যখন দেখলাম এই কথায় উনার চেহারায় কিছুটা কমনীয়ভাব দেখা দিয়েছে তখন ভেউ ভেউ করে কেঁদে দিলাম। এবার কাজ হল। আমাদের শুধু এক রাতের জন্য থাকতে দিতে রাজি হলেন। তবে শর্ত হল মোহিনী থাকবে আঁখির সাথে। পারফেক্ট। যা ভাবছিলাম তাই হচ্ছে। ওদিকে মোহিনী টুপ করেই আঁখির রুমে ঢুকে গেল বোরকা না খুলে। বললাম "মোহিনি ভালো মেয়ে। সবার সাথে দেখা দেয় না।আঙ্কেল যাতে কিছু মনে না করে।"
"দেখা দেয় না তো প্রেম করলে কিভাবে?" আঙ্কেল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
"মনে টান আঙ্কেল মনের টান।চেহারা দেখে কি আর প্রেম হয়।আপনিই বলুন।" তারপর রস কস মিশিয়ে একটা আবেগঘন গাল গল্প বলে দিলাম। গল্পের শেষে উনি আবেগে চোখের পানি মুছলেন।আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন "তুমি আমার ছেলের মত।তোমার যা লাগবে আমাকে বলবে ।আমি তো আছি।"
আমার ঘুমানোর ব্যবস্থা হল সোফায়।সকালে আঙ্কেলের ডাকাডাকিতে ঘুম ভেঙে গেল। "এই অনীশ? উঠ উঠ।আখিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।উঠ তাড়াতাড়ি।"
চোখ ঢলতে ঢলতে এমনভাবে তাকালাম যেন ভাঁজা মাছটি উল্টে খেতে পারি না। আন্টি বলল "তোমার স্ত্রী কেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।"
আমি নিরিহভাবে বললাম "আন্টি,আঁখি আমার সাথে ভেগে না হয় একটা কথা ছিল। কিন্তু আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আঁখি আমার স্ত্রীর সাথে ভেগে গিয়েছে? একি করে সম্ভব?"
আঙ্কেল রাগে গজ গজ করতে করতে বলল "আজকাল সবই সম্ভব। ওই আমেরিকায় কি সব চলে...... আমাদের দেশও বা পিছিয়ে যাবে কেন?ছি ছি একটা ছেলের সাথে ভেহে গেলেও তো হত। শেষ পর্যন্ত কিনা একটা মেয়ের সাথে! আর এই অনীশ? ওই মেয়ে কেমন স্ত্রী তোমার?ছি ছি......স্বামী রেখে ছি... ছি..."
মুখটা কৃত্রিম বেজার করে বললাম "ওকে পেলে আমি জিজ্ঞেস করতাম।"
সারাদিন অনেক খোঁজা খুঁজি চলল। থানায় জিডি করা হল। আমি নাদানের মত সারাদিন উনাদের সাথেই থাকলাম। আর সব কিছুতে সায় দিতে লাগলাম। পুরো এলাকায় ছিঃ ছিঃ রব ওরে গেল। আমাকে নিয়ে চলল ধিক্কার। পাড়ার পোংটা ছেলেরা বলল "অনীশ ভাই শেষ পর্যন্ত কিনা বিয়ে করলেন ওইসব কে? হেহেহহেহে......হেহেহহেহে......"
তবে দুইদিন পড়ে পরিস্থিত শান্ত হতেই আঁখির হাজির। সাথে শাকিল। আঁখির বাবা মাকে কদমমুছি করে "আব্বা... আব্বা বলে জড়িয়ে ধরল।"
এই নিয়ে আর কোন উচ্চবাচ্য করল না উনারা। শেষ পর্যন্ত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ।মেয়ে তাঁদের ঠিকই আছে। অন্তত একটা ছেলেকেই বিয়ে করেছে। উনারা এতেই বেজায় খুসি।
তো বিকালে শাকিলের পকেট থেকে পাওনা বুঝেবাসায় যাচ্ছিলাম। পথে আঙ্কেলের সাথে দেখা। আমাকে বললেন "মেয়ে আমার ঠিকই আছে। কোন ঘাপলা নেই। তিমার জন্য আফসোস হয়।" বলেই জিহ্বা দিয়ে চুক চুক করলেন। আমি তখন বললাম "আঙ্কেল চিন্তা করবেন না। আমি চাকরি পেয়েছি।সব নতুন করে শুরু করবো। " তারপর পকেট থেকে টাকাটা অনুভব করলাম। হিসাব করছি মোহিনীকে ওর % দেওয়ার পর আমার কত থাকবে।
৩
তো সেদিন থেকেই শুরু হল আমার নতুন বিজনেস।মেয়ে ভাগানো।পর পর বেশ কয়েকটি সফল অপারেশন করলাম এলাকায়।এরপর থেকে এলাকায় আমি বেশ পরচিত হয়ে গেলাম। সবাই জেনে গেল আমার উদ্দেশ্য আর কাজের ধরণ।তাই সুযোগ মত একটা অফিস নিয়ে নিলাম এলাকার বাইরে। নাম দিলাম “ভাগানো ডট কম” । আমিই মালিক। আমিই একমাত্র কর্মচারি। প্রথম দিকে আমার কাস্টমার ছিল লিমিটেড। যারা আমার কাছ থেকে সার্ভিস নিয়েছে তাঁদের বন্ধু বান্ধরাই ছিল আমার কাস্টমার। নিজেরা আমার সার্ভিসে উপকার পেয়ে আমার কাছে রেফার করে দিত। আমি আবার গ্যারান্টি ছাড়া কাজ নেই না। বিফলে মূল্য ফেরত।
একশো ভাগ সফলতা নিয়ে আস্তে আস্তে ব্যবসাটা এগিয়ে গেল।ভাববেন না সবকছু এত সোজা। প্রতিদিন নিত্য নতুনভাবে মেয়ে ভাগানোর প্ল্যান বানাতে হয়। নতুন নতুন উপায় বের করতে হয়।তো দিনে দিনে বন্ধু বান্ধব মহল এবং এলাকা ছাড়িয়ে চারদিকে আমার নাম ছড়িয়ে গেল। না মানে ইয়ে সবার মাঝে না। ইয়াং এইজ বিশেষ করে যুবক যুবতীদের মাঝে আরকি।মুরুব্বিরা যদি কোনভাবে আমার এই বিজনেসের কথা জানে তো আমি একশো ভাগ শিউর নিখিল বাবা-মা সমিতি আমার নামে মামলা করে দিবে নতুবা আমার ব্যবসার দফারফা করে দিবে। তো যত প্রসার তত বেশী যন্ত্রনা। একবার তো এক জোড়া কিশোর কিশোরী আসল। তারা ভেগে যেতে চায়। খেয়াল করে দেখলাম ছেলেটার এখনো মোছই উঠেনি। আর মেয়েটা তো এখনো ফ্রগ পরাই ছাড়েনি। দিলাম এক রাম ধমক। ছেলে ম্যে দুটো ভেউ ভেউ করে উঠল। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে মায়া দয়া রাখা চলে না। ঝেটিয়ে বিদায় করলাম। আরেকদিনের কাহিনী শুনেন। এক গুণ্ডা টাইপের লোক আসল। ছয় ফিট উচ্চতা আর পেল্লাই বুকের ছাতি। দুই হাতের বাইসেপের কথা নাই বলি। আমি তো গেলাম ভয় পেয়ে। না জানি কোন মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে এসছিলাম তাঁর ভাই টাই হবে। কিন্তু লোকটা এসে সোজা আমার পায়ের তলায় বসল। আর কাকুতি মুনতি করতে লাগল। তারপর একতাড়া নোট আমার হাতে গুঁজে দিল। আমার দুই মাসে ইনকাম। ঘটনা কি জানতে চাইলাম।বলল পাড়ার পাতি মাস্তান হয়েও যে মেয়েটাকে উনি পছন্দ করে সেই মেয়েটা উনাকে পাত্তা দেয় না।অথচ অন্য একটা ছেলের সাথে দিব্যি প্রেম করে যাচ্ছে। এখন উনি চাচ্ছে মেয়েটাকে জোর করে ভাগিয়ে নিতে।শুনে তো আঁতকে উঠলাম। বললাম এই কাজ আমার দ্বারা হবে না। আপনি অন্য রাস্তা দেখেন। যখন বুঝল কাজ হবে না।তাঁর চ্যালা পেলারা এসে হাজির। শেষে দিল কিছু উত্তম মাধ্যম। এখনো মাঝে মাঝে মার খাওয়া জায়গাগুলো ব্যাথায় চিনচিন করে উঠে। তবে আমার এই ব্যবসায়িক জীবনের মোড় ঘুরে গেল যেদিন আফিফা এসে আমার দরজায় কড়া নাড়ল। দিনটির কতা স্পষ্ট মনে আছে। সেদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি পড়ছিল।হাতে কোন কাজ ছিল না। কারণ মাত্রই দিন দুই আগে পর পর দুটো সফল অপারেশন করে এসেছি।হাতে এখন টাকা আছে ভালোই।কোন টেনশন নাই। আপাতত কিছুদিনের জন্য রিলাক্স। তাই সকাল থেকে পড়া বৃষ্টিটা উপভোগ করছিলাম। কফির চুমুক সাথে বৃষ্টি পড়ার শব্দ ।এক অসাধারণ কম্বিনেশন। ঠিক এমন সময় দরজা খুলে একটা এয়ে ঢুকল। মেয়েটা বৃষ্টিতে ভিজে সারা। সেইসাথে পায়ের জুতোতে আমার মেঝে পানিতে মাখামাখি অবস্থা।বলার অপেক্ষা রাখে না মেয়েটা বেসম্ভব সুন্দরী।মেয়েটা কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা আমার সামনে এসে দাঁড়াল, “এটা কী ভাগানো ডট কম?” মেয়েটার দেখে আমি এতই বিমোহিত হয়ে গিয়েছি সে মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না। শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলাম।তবে দ্রুত নিজেকে সামলে নিলাম। যে লাইনে কাজ করি সেই লাইনে নিত্যদিন এমন হাজারো সুন্দরীর সাথে কাজ করতে হয়।এখানে পথ হালারে চলে না। একটু বিপথে গেলেই মামলা খতম।
আমি যথা সম্ভব মোলায়েম স্বরে উত্তর দিলাম,”জি ।ঠিকই ধরেছেন। বলুন কিভাবে সাহায্য করতে পারি?”বলেই পিছনে ইতিউতি তাকালাম।আমি আশ করছিলাম সাথে বয়ফ্রেন্ড আসেব। সাধারণত ক্লায়েন্টরা আসে কাপল হয়ে। ক্ষেত্রে বিশেষে প্রাথমিক অবস্থায় ছেলেটা এসে কাজ দিয়ে যায়। পড়ে জোড়ের অন্য জনের সাথে দেখা হয়। আর অবস্থা বেশী সিরিয়াস হলে ফোন কথা বলে নেই। মেয়েটার সাথে কেউ আসেনি। একা এসেছে। আমার পুরো অফিসটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। তারপর বলল “অফিস তো ভালোই সাজিয়েছেন। কিন্তু একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে কি সমস্যা? আপনি জানেন কত সমস্যায় পড়েছি আপনার অফিস খুজেতে গিয়ে? তাও আবার এই বৃষ্টিতে।”
“ইয়ে মাদক ব্যবসায়ী যদি অফিস খুলে মাদক সেল করে তাহলে তো মাদকসেবীদের সাথে পুলিশও এসে হাজির হয়। তাই না?তেমনি আমার এই বিজনেসে ওপেনলি কিছ করা মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়ল মারা।আপনার অতিরিক্ত কষ্টের জন্য দুঃখিত।” বিনয়ের অবতার হয়ে উত্তর দিলাম।
“হয়েছে হয়েছে।এখন রুমাল টুমাল কিছু দিন ।ঠাণ্ডা লেগে যাবে আমার। আমার আবার ঠাণ্ডার প্রবলেম আছে।”
আমি ‘কাস্টমার সার্ভিস সবার আগে’ নীতিতে বিশ্বাসী।দ্রিত তোয়ালে বের করে দিলাম। মাথা মুছে আলুথালু চুল নিয়েই সামনের চেয়ারে বসল। আমি খাতা কলম নিয়ে বসলাম।
“আপনার নাম?”
“আফিফা।”
“পেশা?”
“চাকুরীজীবী”
“বাবা কি করেন?”
“ব্যবসায়ী।”
“আপনাকে কোথা থেকে ভাগাতে হবে? বাসাত থেকে নাকি কোন বন্ধী কারাগার থেকে।”
“আমাকে দেখে কি মনে হয় আমি বন্ধি কারাগারে আছি?বন্ধি থাকলে কি আমি এখানে আসতে পারতাম?”
“নাহ। মানে আনেকেই মিথ্যা বলে বের হয়। কিত্নু ভাগতে প্রিপারেশন লাগে ।সাথে কিছু নিয়ে ভাগতে হয়। ওসবের জন্য বলা আরক…”
“ঠিক আছে ঠিক আছে।”
“আচ্ছা আপনার বয়ফ্রেন্ড কোথায়? পেমেন্ট কি উনি করবে ? আমি কিন্ত অগ্রিম নেই টাকা।”
“কেন আমাকে দেখে কি মনে হয় আমি ফকির মিসকিন?আমার কাছে টাকা নেই?”
“নাহ , আসলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলেরাই টাকা দেয় কি না…”
আমার মুখের কথা কেঁড়ে নিয়ে মেয়েটা বলল “হ্যালো… এটা ২০১৮। ১৯ কট কটি না। আর শুনে রাখুন আমাকে ভাগাতে হবে না।ভাগাতে হবে আমার বয়ফ্রেন্ডকে। যা করার দ্রুত করতে হবে। ওর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।কত দিবে হবে আপনাকে?” ভ্যানিটি ব্যাগ খুলতে খুলতে প্রশ্ন করল আফিফা।
কথাটা শুনে হাত থেকে কলম পড়ে গেল। ভুল শুনলাম না তো? মেয়েটা সম্ভবত আমার মনের কথা পড়তে পারল। মুখটা বেকিয়ে উত্তর দিল “জি ঠিকই শুনেছেন। আমার বয়ফ্রেন্ডকে ভাগাতে হবে। এতে অবাক হওয়ার কি আছে?”
মুখটা ভ্যাংচাতে মেয়েটাকে আরও সুন্দর লাগল। ধুর কি যা তা ভাবছি। ফোকাস অনীশ ফোকাস।কাজে সময় ন টাল্টি ফাল্টি । উত্তর দিলাম “না আসলে এরকম কেস এই প্রথম তো তাই…”
“সব কিছুরই প্রথম থাকে। আজকের পড়ে আর প্রথম থাকবে না। ভিক্টিমের নাম লিখুন সালাউদ্দিন মইন।পেশা ডাক্তার।বাবার নাম………”
মেয়েটা একেরপর এক ইনফরমেশন দিয়ে যাচ্ছে আমি খস খস করে নোটবুকে লিখেই যাচ্ছি ।
৪
আফিফার কাছ থেকে ঘটনা যা শুনলাম তা নতুন কিছু না।যুগ যুগ ধরে আমরা যা দেখে আসছি তাই আবার নতুন করে শুনতে হল। সেই চৌধুরী আর খানদের ইতিহাস। আফিফার পরিবার ওদের এলাকায় ডাকাবুকো ফ্যামিলির মধ্যে অন্যতম। আফিফার বাবার কথায় দশ ঘাটের লোক এক ঘাটে জল খায়। এককালে তাদের জমিদারি ছিল। এখন জমিদারি না থাকলেও সেই ঠাটবাট ঠিকই রয়ে গিয়েছে। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল।
ওদিকে আফিফার প্রেমিক মইনদের ফ্যামিলি নয়া বড়লোক হয়েছে। বংশ পরস্পরায় ওরা বড়লোক ছিল না। মইনের পূর্ব পুরুষ এক সময় আফিফাদের জমিদারিতে চাকরি করতো। আফিফার পূর্বপুরুষদের জমিদারি গিয়ে দুর্দিন শুরু হল আর তা শাপে বর হয়ে মইনদের পূর্বপুরুষদের ভাগ্য খুলে গেল। ব্যবসা করে বিস্তর কাঁচা পয়সা গড়ে দুই পুরুষের মাথায় এলাকার গণ্যমান্য হয়ে গেল। ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখল না আফিফাদের পরিবার। প্রথম প্রথম ছোট খাটো কনফ্লিক্ট। কিন্তু বংশ পরিক্রমায় তাই রূপ নিল সাপে নেউড়ে সম্পর্কে। এর মধ্যে ওদের দুজনের প্রেম হল। দুই পরিবারের কেউই মেনে নিতে পারল না। আফিফাদের বাসায় এসে নিজের ছেলেকে ৪৮ ঘন্টায় বিয়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে গিয়েছেন মইনের বাবা। মইন ছুটি উপলক্ষ্যে বাড়িতেই ছিল। আর যায় কোথায়। সাথের সাথে ঘরে বন্দী।
সব শোনার পড় জিজ্ঞেস করলাম।
"তা মইনের বাবা ৭২ ঘন্টার আন্টিমেটাম দিয়ে দিল আর তোমার বাবা তা সহ্য করলেন!"
"আরে নাহ। বাবা।এত বোকা না। তিনি ১ সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।তবে এই নিয়ে আমি চিন্তিত না।আমি ঠিকই নিজের হিল্লে করতে পারবো কিন্তু হাঁদারামটার বিয়ে হয়ে গেলে তো সমস্যা।" ভেজা চুলে বিলি কাটতে কাটতে বল আফিফা।
"তা কীভাবে শুরু করা যায়? ভেবেছ কিছু?" জিজ্ঞেস করলাম কলম নাচাতে নাচাতে।
চোখমুখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করল "ওই মিয়া!আমিই যদি ভাবতাম তাহলে আপনার কাছে আসছি কেন? দেন দেন টাকা ফেরত দেন।যত্তসব ভণ্ডামি।"
দেখলাম অবস্থা বেগতিক। পাগল কিসিমের কাস্টমার। যদিও সুন্দরী। তাতে কি পাগলের কি আর জাত পাত আছে? সুন্দরী হইলেই বা কি?
"আরে ম্যাডাম। এত রেগে যান কেন?কলিকাতা হারবালে গিয়ে কি কেউ এক শট টেস্ট না ফেরত আসে? বললাম না বিফলে মূল্য ফেরত। আপনার বয়ফ্রেন্ড কে আপনার পায়ে যদি হাজির না করেছি তবে আমান নাম অনীশ না।"
"মনে থাকে যেন।আমার পায়ে এনে ফেলবেন বলেছেন।"
"ইয়ে... বুকে এনে ফেললেও তো হবে?" কাঁচুমাচু হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
আমার লেইম জোকসে একটুও ইম্প্রেস না হয়ে বলল "ননসেন্স। ইডিয়ট।"
যাই হোক সব প্রয়োজনীয় জিনিসপাতি জোগাড় করে আল্লাহ্ নাম নিয়ে রওনা দিলাম। আফিফা বাস স্ট্যান্ড থেকে ওর বাসায় চলে গেল আর আমি সোজা গেলাম মইনদের বাসায়। ওর বাসায় গিয়ে দেখলাম সে এক এলাহি কাণ্ড। নিজের যে মালকড়ি আছে সেটা বোঝানোর জন্য মইনের বাবা কোন কার্পন্য করেন নাই। ওদের বাড়িতে আমি উঠলাম মইনের বন্ধু হিসাবে। বেচারা মইনের নিচে আসাও বারণ। ওর বাবার লাল টকটকে চেহারা। ঝাড়া ছয় ফিট। মুখের পেল্লাই গোঁফ উনার ব্যক্তিত্বেও বহিঃপ্রকাশ।
আমাকে দেখে ঝাড়া পাঁচ মিনিট আমার দিকে তাকিয়ে রইল কোন কথা না বলে। আমি নিরীহ গোবেচারা মত যতটা পারা যায় মুখে শিশুর সারল্য নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। যেন দুনিয়ার কোথায় কি হচ্ছে তার কিচ্ছুটি জানি না।
মেয়ে দেখতে আসা পাত্র পক্ষের মত আমাকে দেখে টেখে রাশভারী কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন "তোমাকে দেখে তো মইনের বন্ধু বলে মনে হয় না। কেমন চোর চোর ভাব তোমার চেহারায়।"
আমি বিনয়ের অবতার হয়ে বললাম "আমার সব বন্ধুর বাবা আমি এই কথা বলে।তবে বিশ্বাস করেন আংকেল আমি দেখতে কিউট না হলেও চোর না। এখানে দুই দিন থাকলে আমাকে সারাজীবন মনে রাখবেন। আমি যেখানে যাই নিজের ছাপ ফেলে আসতে চেষ্টা করি।"
"হুম। তা কি কাজ করো?"
"জি আংকেল।ভাগাই। ভাগানো আমার পেশা?"
কথাটা বলেই জিভে কামড় দিলাম। ভুলে করে ফেললাম।
"ভাগানো? কি ভাগাও তুমি?" অবাক হয়ে উনি প্রশ্ন করলেন।
"মানে ওই গরু ছাগল ভাগাই আরকি।মানে রাখাল বলতে পারেন।"
"রাখাল!"
"ডিজিটাল রাখাল আংকেল।গরু ছাগলের ফার্ম আছে আমার।নিজের ফার্মেই গরু ছাগল ভাগিয়ে বেড়াই মানে ঘাস খাইয়ে বেড়াই ওদের।"
"ও আচ্ছা। তাই বল। কিন্তু যাই বলো তোমাকে আমার চোর মনে হয়।যাও মইন উপরে আছে।"
উনাকে আট কিছু বলতে সুযোগ না দিয়ে সুড়ুৎ করে দোতলায় উঠে এলাম।
হিসাব করে দেখলাম এক হিসাবে তো আমিই চোরই। চোরের সাথে আমার বিশেষ পার্থক্য নেই। চোর রাতের বেলা মানুষের বাড়িতে হামলা করে। আমি তাই করি। তবে পার্থক্য আমি আসবার পত্র না নিয়ে বাড়ির মেয়েদের চুরি করে বেড়াই।থুক্কু ভাগিয়ে বেড়াই।তাহলে কি রাতে বেলা চোরের মত চলাফেলা করতে করতে চেহারায় চোর চোর ভাব চলে এসেছে? হতে পারে।
দরজার দুই পালোয়ান গার্ড হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে দরজার তালা খুলে দিল। কোনমতে ভিতরে ঢুকতেই পেছন থেকে দরজা বন্ধের আওয়াজ পেলাম।
ভিতরে ঢুকে দেখি একটা ছেলে বুকে বালিশ নিয়ে উপুড় হয়ে গুন গুন করে কাঁদছে। গলা খাকারি দিয়েই ফিরে তাকাল। ছেলেটার চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত কান্নার ফল। টকটকে ফর্সা চেহারায় তা আরও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। আমাকে দেখে কোলের বালইশ ফেলে সিনেমার নায়িকাদের মত দোউে এল। ভয় পেয়ে গেলাম। আজকালকার যুগে সব চলে। কে যে বাইসেক্সুয়াল আর যে নরলাম বুঝা মুশকিল। বিপদে পড়ে গেলাম নাকি?তবে আমার সব জল্পপা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মইন আমার পায়ে এসে পড়ল।
"ভাই আমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে চলুন। আমি আফিফাকে ছাড়া বাঁচবো না।আমি শেষ হয়ে যাবো।"
"আরে ভাই রাখেন রাখেন। আপনাকে বাঁচানোর জন্যই তো আমি এসেছি। উঠেন ভাই উঠেন।তবে আগে একটা কথা বলেন তো। আফিফাকে প্রপোজ কে করেছিল?"
মইন চোখ মুছতে মুছতে বলল "আফিফাই করেছিল।"
আমি গাল চুলকে বললাম "হুম।এটাই ধারণা করেছিলাম।আপনি সেই ম্যাটারিয়াল না।"
"কোন ম্যাটারিয়াল ভাই?"ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল মইন
"কিছু না।আসেন কাজে নামি।" বলেই বাক্স পেটরা খুলতে শুরু করলাম।
চলবে..............................
Published on December 19, 2018 01:46
•
Tags:
short-story-ছ-ট-গল-প


