প্রিয় সমরেশ...

তখন ক্লাস সেভেনের ফাইনাল শেষ। হাতে এলো বেশ স্বাস্থ্যবান একটা বই। তাও আবার দুই খন্ডে। স্বপ্নের একটা চরিত্রের সাথে পরিচয় হলো বইটার সাথে। দীপাবলি, ডাকনাম দীপা! সেই থেকে শুরু। ছোট্ট দীপার আমিষ খেতে মানা ছিলো সমাজের নিয়মে। তাই নিয়ে তার বাহানা। আমরা এ্কটু করে শিখি কিভাবে নিজের জন্য আদায় করে নিতে শিখলো ছোট্ট একটা এক রত্তি মেয়ে। জলপাইগুঁড়িচে কাটানো নিজের ছোটবেলা মেলে ধরলেন লেখক সাতকাহনে।

একে একে পড়ে নেয়া উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ। অপার মুগ্ধতার বুঁদ হই একটু একটু করে।

বন্ধুত্ব নিয়ে তার লেখা উক্তির গুরুত্ব সময়ের সাথে সাথে টের পাই, যখন সিংহবাহিনীতে তিনি লিখেন-

“বন্ধুত্ব ব্যাপারটা যত নিরাসক্ত করা যায়, ততো ভালো।তার মাঝে কোন দাবি থাকলেই কষ্ট পেতে হয়।”

অথবা তেতো একটা কথা-

উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে সাময়িক আনন্দ হয়তো আছে কিন্তু কোনও ভবিষ্যৎ নেই । সময় থাকতে এটাই বুঝতে পারে না মানুষ।”

এক জীবনে অনেক জীবন বইয়ে লিখলেন আরেক সত্যি-

“শুনেছি, বিখ্যাত, অতিবিখ্যাত মানুষেরা নাকি সমালোচনা মেনে নিতে সবসময় পারেন না ।ত্রুটির উল্লেখ করলে ভাবেন আক্রান্ত হচ্ছেন।”

তনু অতনু সংবাদ পড়ে হেসে কুটিপাটি হই।উনিশ বিশ বইটা শেষ করে হতভম্ব হয়ে বসে থাকা সেই বিকেল আমার আজও মনে পড়ে। আমাকে চাই পড়ার পর মানবমনের অলিগলি নিয়ে আবার ভাবতে বসতে হয়। নিজের সংগে খেলা বইয়ে যখন পড়ি-

ভয় করলেই ভয়, নইলে কিছু নয়” জীবনের এ পর্যায়ে এসে মনে হয় আহারে কি সত্যি কথাটা।

উত্তরাধিকারে সমরেশ লিখে গিয়েছিলেন
বেঁচে থেকে বোধহয় সুখ পাওয়া যায় না।

তাই রাতের উজ্জ্বল তারার সাথে আজ মিশে গেছেন প্রিয় সমরেশ। তবে তাকে ভুলে যাওয়া তাও কি সম্ভব?

- নূহা চৌধুরী
 •  0 comments  •  flag
Share on Twitter
Published on May 10, 2023 09:56
No comments have been added yet.