চায়না টাউনে

 মিতু আর অনু ছাড়া আজ ১১ দিন। ইন ফ্যাক্ট একেবারে একা বিদেশে পড়ে আছি সেটাও এই প্রথমবার। কমিকস এর মাস্টার্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্যালিফোর্নিয়া কলেজ অফ আর্টস এর ফাউন্ডার্স হলে গাট্টি বোচকা নিয়ে উঠেছি এবারে। পুরো হল ভোঁ ভোঁ। সামারে হাতে গোণা কিছু সিনিয়র স্টুডেন্ট ছাড়া সব রুম ই খালি। সবচেয়ে সস্তা ডাবল স্টুডিও শেয়ারিং রুম নিলাম, ঢুকে দেখি আমি একাই। মানে হাঁফ দামে পুরোটা পেয়ে গেলাম, খাওয়ার ব্যবস্থাও খারাপ না। একটা মিল প্ল্যানেই লাঞ্চ আর ডিনার। প্যাঁচ হয় উইকেন্ডে। শনি আর রবি সেই ক্যাফেটাও বন্ধ থাকে। আজ যেমন প্রথম শনিবার সকাল উঠেই তাই হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম ফোরটিন্থ স্ট্রিট ধরে সোজা পিট'স কফি তে। এখানে দারুণ একটা চিকেন বুরিতো পাওয়া যায় কমের মধ্যে, আর এদের কফিও দুর্দান্ত। এরপর কী মনে করে বইয়ের দোকান কী কী আছে ঘাঁটতে গিয়ে পেলাম ফরেস্ট বুকস, আর কমিকস এর জন্যে জাপানিজ চেইন কিনোকুনিয়া, যেটা অতি সম্প্রতি ঢাকায় খুলেছে। যাই ভাবা সেই কাজ, বের হয়ে এদের মিউনি সার্ভিসের পাবলিক বাসে চেপে সোজা প্রথমে কিনোকুনিয়া।

 ঢুকে যাকে বলে আক্কেলগুড়ুম। এত এত মাঙ্গা, কমিকস আর কালেক্টিবলস  আইটেম যে বুঝতে পারলাম বেশিক্ষণ থাকলে এবারে ক্রেডিট কার্ডের একটা বড় অংশ এখানেই পুড়িয়ে আসবো। অনেকটা ছুটে বের হয়ে এলাম কিছু না কিনেই। মিতু আর অনু আসলে ওদের নিয়ে আবার আসা হবে, তখন দেখা যাবে।


বের হয়ে এবারে আশে পাশে হেঁটে দেখি দারুণ ব্যাপার। না বুঝেই সান ফ্রান্সিসকোর দারুণ একটা জায়গা জাপান টাউন এসেছি। ফরেস্ট বুকস টা জাপান টাউনেই। তবে ঢোকার আগেই পেটপূজোর দায়ে আশেপাশে তাকালাম। যা দেখতে পাচ্ছি ভালই খরুচে। কী আর করা, খেতে তো হবেই। মনে মনে হিসাব কষে দেখলাম গতকাল আমার একটা ডলার ও খরচ হয়নি। ব্রেকফাস্ট করেছি আগের কিনে রাখা স্ন্যাকস দিয়ে, দুপুরে সবাইকে পিজ্জা ট্রিট দিয়েছে আমাদের শিক্ষক জিবি ট্র্যান। আর রাতে ছিলো কমিকস লেকচার। সেখানে লেকচার শেষে বাইরে রাখা ছিল বুফে নাস্তা। তাই আজ একটু ভালো খাওয়াই যায়। চোখে পড়লো ইয়ামাদা রামেন। রামেন ই সই। 

ঢুকেই বুঝলাম কী ভালো একটা সিদ্ধান্ত ছিল। এটা যথেষ্ট নামকরা রামেন শপ জাপান টাউনের। আর রামেনের স্বাদ ও দুর্দান্ত। এই রামেন খাবার সময়েই ইউটিউব দেখে শেখা চপ্সটিক ধরাটা কাজে লাগে আমার মাঝে মাঝে। 

এক নিঃশ্বাসে সবটুকু খেয়ে এদের সার্ভার লোকটাকে স্কেচবুকে এঁকে ফেললাম। খুব ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার।  বিল দিয়ে বের হবার আগে মনে হল ব্যাটাকে দিয়ে যাই। ডেকে যেই হাতে ধরিয়ে দিলাম, পুরো রেস্তোরাঁর সব স্টাফ এসে হাসিতে ভেঙে পড়লো। এই একটা জিনিস আমার বেশ ভালো লাগে। একটা গম্ভীর মানুষ ও যখন তার কার্টুন দেখে হেসে ফেলে।

আমার চোখে মানুষ দুই ধরনের, একদল নিজের ক্যারিকেচার দেখে হাসে, আরেকদল হাসে না। যারা হাসে না তাদের থেকে সাবধান থাকাই ভালো। যাই হোক, জাপানিজ-আমেরিকানএর নাম আর্নল্ড (ন্যাচারালি)। সে সাথে সাথে আমার ইন্সটা একাউন্ট খুঁজে বের করে ফলো দিয়ে দিলো। বলে আসলাম, আবার দেখা হচ্ছে শিগগরই।




[image error]


[image error]
জাপান-টাউন, সান ফ্রান্সিসকো



কিনোকুনিয়ার সামনে





আর্নল্ড আর আমি, পেট পুরে রামেন সাঁটার পরে।

  প্রথম দিন, মিতুর ঢাকা ভার্সিটির জুনিয়র হ্যাভেন, যে না থাকলে সান-ফ্রান্সিসকোতে সার্ভাইভ করাই কঠিন হত। খুব ই উপকারী ছেলে।
রুমের ইলেকট্রনিক চাবি নিয়ে আমার প্রথম ও সম্ভবত শেষ হল এর রুমের সামনে।

ফাউন্ডার্স হল।

এবারে ভুলকরে আমার আইডিটাই ফেলে এসেছি, এসে আবার প্রিন্ট নিলাম। লাভের লাভ হল, ছবিটা আপডেট করা গেছে।

এডোবির সামনে, এইটা ঠিক আমাদের পাশের বিল্ডিংটাই!
সাওর চেরি কমিকস শপে একটা কমিকস গ্যাদারিং ছিল শুরুতেই। সেখানে আমার চাইনিজ-আমেরিকান ক্লাসমেট সিউংহো। সে বেশ নাটুকে, নিজের কমিকস এর নাম ফোবিয়া। যেখানে যার যা ফোবিয়া, মৃত্যুর পরে সে পুনর্জন্ম নিয়ে তা-ই হয়ে ফেরে। সে নিজে সেরকম একটা পোকা ক্যারেক্টারের হাতে বানানো মুখোশ পরে কমিকস নিয়ে বসেছে বিক্রির জন্যে।


ল্যাবে আমার কর্নার। এপলের কমান্ড কী আর মাউসের উলটা স্ক্রলিং গ্রিপেআসতে আসতেই সপ্তা পার হয়ে যায়।

 •  0 comments  •  flag
Share on Twitter
Published on July 11, 2026 20:57
No comments have been added yet.


Mehedi Haque's Blog

Mehedi Haque
Mehedi Haque isn't a Goodreads Author (yet), but they do have a blog, so here are some recent posts imported from their feed.
Follow Mehedi Haque's blog with rss.