আমার শয্যাসঙ্গী পাল্টালাম
কাবেরী দত্ত চট্টোপাধ্যায় । ক্যানাডা
অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর অবশেষে আমার শয্যাসঙ্গী পেলাম!
প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হত । পিঠে, ঘাড়ে, কোমড়ে, খুব ব্যাথা, সকালে উঠতে পারতামনা ।
ঘুম ভাল হতোনা, সারাদিন হাই উঠত।
তারপর শয্যাসঙ্গী বদলাতে লাগলাম। কখনো এদেশি, কখনো বিদেশী। কখনো নরম, কখনো শক্ত ।
কোনটাই ভরসাযোগ্য পেলামনা । রাতের পর রাত জাগা, নতুন দেশে এসে, এ কি হাল হল আমার! আমি তো প্রায় ফিরে যাওয়ার টিকিট কেটে ফেলি!
তারপর একদিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, আমার একান্ত বিবাহের শয্যাসঙ্গীকেই আমার চাই। তাঁকেই পুনরায় আবার আদর, আপ্যায়ন করে আনতে হবে ।
আমার বাবা এই সিদ্ধান্তে আমার সাথে সহমত ছিল । আর কাউকে জানাইনি। বাবা বললেন, “নিশ্চই, আমি তোকে হেল্প করবো । আমার অফিস থেকে ব্যাবস্থা করছি । “
সেই শুরু হল ।
অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে, অনেক কাগজপত্র তৈরি করে, জাহাজে করে আমার শয্যাসঙ্গী পাড়ি দিলেন । ছেলে জিগ্যেস করল, “মা, শোবার ঘরে যায়গা হবে?” আমি বললাম, “মেপে দেখেছি, জাস্ট হয়ে যাবে ।”
তিন মাস পরে তিনি আমার বিদেশের বাড়িতে যখন ক্লান্ত দেহে পৌঁছলেন, তখন তাঁকে আমি আরতি করে, আহ্বান করে আমার শোবার ঘরে, আমার খালি হৃদয়ে জায়গা করে দিলাম। সেই থেকে আজ অবধি ১৫ বছর হয়ে গেলো, আমার বিয়েতে, আমার বাবার দেওয়া ছয়-আট সেগুন কাঠের খাট আমার সাথে ।
কি যে আরাম তার কোলে ঘুমিয়ে, তা বলে বোঝাতে পারবোনা! কোনো বিদেশি খাটে সে আরাম পাওয়া ভার।
এখন আমি রাজকন্যার মতোন ঘুমোই, আর রানীর মতোন উঠি ।
© 2026 Kaberi Dutta Chatterjee
All rights reserved.


