বড়বাবু Quotes
বড়বাবু
by
Syed Mujtaba Ali45 ratings, 3.76 average rating, 5 reviews
বড়বাবু Quotes
Showing 1-3 of 3
“...যখনই কোনো জাতি বৈদেশিক কোন ভিন্নধর্মাবলম্বীদ্বারা পরাজিত হয় তখন নূতন রাজা এঁদের পণ্ডিতমণ্ডলীকে কোনো প্রধানকর্মে আমন্ত্রণ জানান না বলে এঁদের এক মানসিক পরিবর্তন হয়। এঁদের চিন্তাধারা তখন মোটামুটি এই: "আমাদের ধর্ম সত্য, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরা ম্লেচ্ছ বা যবন কর্তৃক পরাজিত হলুম কেন? এর একমাত্র কারণ এই হতে পারে যে, আমার আমাদের ধর্মের প্রকৃতরূপ বুঝতে পারিনি। ধর্মের অর্থকরণে (ইন্টারপ্রিটেশনে) নিশ্চয়ই আমাদের ভুল রয়ে গিয়েছে। আমরা তাহলে নূতন করে ব্যাখ্যা করে দেখি, ত্রুটি কোন স্থলে হয়েছে।" ফলে পরাজয়ের পরবর্তী যুগে তাবৎ সৃষ্টিশক্তি টীকাটীপ্পনী রচনায় ব্যয় হয়।”
― বড়বাবু
― বড়বাবু
“আসলে আমি বুঝতে পারতুম না, কর্তারা, দাদারা এমন কি মা পর্যন্ত অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলেন, আমার ভাইটি বাঁচবে না।
তাঁরা আমাকে সে খবরটি দিতে চাননি। আমার জন্মের পূর্বে আমার এক দাদা আর দিদিও ঐ ব্যামােতে যায়।
ডাক্তার-কবরেজরাও আমার দিকে এমন ভাবে তাকাতেন যে তার অর্থটা আজ আমার কাছে পরিষ্কার—তখন বুঝতে পারিনি। তবু তাদের এই চৌদ্দ বছরের ছেলেটির প্রতি দরদ ছিল বলে আসতেন, নাড়ী টিপতেন, ওষুধ দিতেন।
ঐ দুই বছরের ভাইটি কিন্তু আমাকে চিনত সবচেয়ে বেশী -- কি করে বলতে পারবাে না। আমাকে দেখা মাত্রই তার রােগজীৰ্ণ শুকনাে মুখে ফুটে উঠতে ম্লান হাসি।
সে হাসি একদিন আর রইল না। আমাকে সে ডরাতে আরম্ভ করলাে। আমাকে দেখলেই মাকে সে আঁকড়ে ধরে রইত। আমার কোলে আসতে চাইতাে না। আমার দোষ, আমি কবরেজের আদেশ মত তার নাক টিপে, তাকে জোর করে তেতাে ওষুধ খাইয়েছিলুম।
ঐ ভয় নিয়েই সে ওপারে চলে যায়।
তার সেই ভীত মুখের ছবি আমি বয়ে বেড়াচ্ছি, বাকি জীবন ধরে।”
― বড়বাবু
তাঁরা আমাকে সে খবরটি দিতে চাননি। আমার জন্মের পূর্বে আমার এক দাদা আর দিদিও ঐ ব্যামােতে যায়।
ডাক্তার-কবরেজরাও আমার দিকে এমন ভাবে তাকাতেন যে তার অর্থটা আজ আমার কাছে পরিষ্কার—তখন বুঝতে পারিনি। তবু তাদের এই চৌদ্দ বছরের ছেলেটির প্রতি দরদ ছিল বলে আসতেন, নাড়ী টিপতেন, ওষুধ দিতেন।
ঐ দুই বছরের ভাইটি কিন্তু আমাকে চিনত সবচেয়ে বেশী -- কি করে বলতে পারবাে না। আমাকে দেখা মাত্রই তার রােগজীৰ্ণ শুকনাে মুখে ফুটে উঠতে ম্লান হাসি।
সে হাসি একদিন আর রইল না। আমাকে সে ডরাতে আরম্ভ করলাে। আমাকে দেখলেই মাকে সে আঁকড়ে ধরে রইত। আমার কোলে আসতে চাইতাে না। আমার দোষ, আমি কবরেজের আদেশ মত তার নাক টিপে, তাকে জোর করে তেতাে ওষুধ খাইয়েছিলুম।
ঐ ভয় নিয়েই সে ওপারে চলে যায়।
তার সেই ভীত মুখের ছবি আমি বয়ে বেড়াচ্ছি, বাকি জীবন ধরে।”
― বড়বাবু
“কোনো দেশ জয় করা এক কর্ম, সে দেশ শাসন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন শিরঃপীড়া। বাদশা ইরান-তুরান থেকে দিগ্বিজয় করার সময় রাজকর্মচারী সঙ্গে আনেন নি। আর আনবেনই বা কি ? তারা এ-দেশের ভাষা জানে না, রাজস্বব্যবস্থা বোঝে না, কোন দণ্ডনীতি কঠোর আর কোনটাই বা অতি সদয় বলে দেশের লোকের মনে হবে—এ সম্বন্ধে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বখশী ( চীফ পে-মাস্টার, অ্যাকাউন্টেনট-কম-অডিটার জেনারেল ), কানুনগো ( লিগেল রিমেমব্রেনসার), সরকার ( চীফ সেক্রেটারি), মুনশী (হুজুরের ফরমান লিখনেওলা, নূতন আইন নির্মাণের খসড়া প্ৰস্তুতকারী), ওয়াকে’-নওয়ীস ( যার থেকে Waqnis), পর্চানওয়ীস ( রাজকর্মচারীর আচরণ তথা দেশের জনসাধারণ সম্বন্ধে রিপোর্ট তৈরী করনেওলা ) এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্ৰহণ করবে। কারা ? আমরা জানি, কায়স্থর স্মরণাতীত কাল থেকে এসব কাজ করে। আসছেন। এরাই এগিয়ে এলেন। মুসলমানপ্ৰাধান্য প্ৰায় দুশ বৎসর হল লোপ পেয়েছে, কিন্তু আজও এসব পদবী-প্ৰধানতঃ কায়স্থদের ভিতর-সম্পূর্ণ লোপ পায় নি।”
― বড়বাবু
― বড়বাবু
