জার্নাল-০২

বেশ কিছুদিন ধরে ঘাঁটছি বাংলাদেশের একটি বিশেষ জনপদ নিয়ে।

যখন আমি হাঁটি, অথবা জ্যামে আটকে থাকি রিকশায়, অথবা খেয়ালে চাপি সিএনজি- এই অপ্রকৃতস্থ শহর, তার ইলেক্ট্রিক পোলের কেবলে ঝুলতে ঝুলতে, নিজের সমস্ত ক্ষুদ্রতা নিয়ে- সে টারজানের মতো আমার পিছু নেয় কেবল। তাকে আমি হারাতে পারি না রাস্তায়, জিতবো বলে রাজধানী শহরকে তাই আমি টেনে নিয়ে আসি নিজের ঘরে। আমার ধূলোয় মলিন বুকশেলফে হাত রাখলে পরে, অথবা বিছানায় শুয়ে কী খাটে হেলান দিয়ে মাটিতে বসলে আমার প্রতিপক্ষ বারান্দায় গিয়ে ডানা ঝাপটে পালিয়ে বাঁচে। ওই সাদাকালো ছোট ছোট অক্ষরসব, একটা দামড়া রাজধানী শহরের কি ওদের সাথে পেরে ওঠার কথা কখনো?

সেই সাদার মাঝে কালো হাতড়াতে হাতড়াতে ইতিহাস ঘাঁটা, এমন কি প্রেমের চেয়ে রোমাঞ্চের আমার কাছে প্রায়ই। রবার্ট রেডফোর্ড আর ডাস্টিন হফম্যানের ‘অল দা প্রেসিডেন্টস ম্যান’ অথবা হালের ‘স্পটলাইট’, পেপার ট্রেইল অনুসরণ করে তথ্য আবিষ্কারের সেই আনন্দ দেখেও সুখ। আমি অনুসন্ধান চালাই। আর পুরোনো খবরের কাগজ, স্মৃতিকথা, অথবা প্রবন্ধ পড়ে একটি জনপদকে আবিষ্কার করি ভিন্ন চোখে।

আমরা বলতে গেলে, ছোটখাটো যুধিষ্ঠিরের বাচ্চা একেকজন, ‘মিরর মিরর অন দা ওয়াল’ বলে প্রশ্ন করলে আমাদের চেয়ে সফেদ মানুষ তো দুনিয়ায় পাবো না একটাও। রক্তপাত আর যুদ্ধের,রাষ্ট্রীয় পীড়ন আর আন্দোলন মিশে থাকা, এক পরাবাস্তব বর্তমান আর ইতিহাসের ছায়া একটি জনপদের ওপর আবিষ্কার করে, আমি তাই বিবশ হই।

পোকায় কাটা শহর আবার আমায় চেপে ধরে। পুঁজিবাদের পোলিওতে পঙ্গু হয়ে থাকা একবিংশ শতাব্দীর কিছু যুবক আর রক্তের ইতিহাস সম্বল করা এক বিপন্ন জনপদকে কীবোর্ডে নামানো যায় না।

“মনে হয় এর চেয়ে ডুবে যাওয়া ভালো।
এইখানে,
পৃথিবীর এই ক্লান্ত এ অশান্ত কিনারার দেশে,
এখানে আশ্চর্য সব মানুষ রয়েছে।”
10 likes ·   •  0 comments  •  flag
Share on Twitter
Published on July 29, 2016 09:58
No comments have been added yet.