জার্নাল-০৪
[Justify]
মাসুদ মাহমুদ চলে গেছেন। ১৯ মে, ২০১৭। হার্ট অ্যাটাক।
তার সাথে কখনো দেখা হয়নি। আমার সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় খুঁজলে ব্লগের খুচরো দুয়েকটা কথা বিনিময়ের বেশি কিছু পাওয়া দুস্কর। কখন যেন, কী একটা লেখার সূত্র ধরে রাশিয়ান কিছু নামের উচ্চারণ বের করবার ঝোঁক চেপেছিলো। সাহায্য এলো তার কাছ থেকে, ই-মাধ্যমে। প্রথম উপন্যাসের পাণ্ডুলিপির কিছু অংশের ওপর আলোচনাও হয়েছিলো ইনবক্সে। এর বাইরে তার সাথে আর কোনো স্মৃতি ভাগাভাগি করি না। তবু, অস্বস্তি নিয়ে আবিষ্কার করলাম আজ সকালে, তাঁর প্রয়াণে স্বজন বিয়োগের মতো ব্যথা পেলাম বেশ।
সত্যিকারের শিল্পীর জীবন লোকটার। সবকিছু ছেড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইউক্রেনে চলে গেছিলেন, তারপরে রাজধানী শহর কিয়েভ থেকে আরেকটু দূরে, উপকণ্ঠে। তাতেও তার নির্জনতাপ্রিয় প্রাণ অসন্তুষ্ট থাকায় চলে গিয়েছিলেন আরো ভেতরের পল্লীতে। এসবই জানা হলো তার অগ্রজ আনিস মাহমুদের ফেসবুক দেয়াল থেকে।
সেবা প্রকাশনীর স্বর্ণযুগের লেখকদের একজন ছিলেন মাসুদ মাহমুদ। ক্রিকেটরঙ্গ বা ফুটবলরঙ্গের মতো বই এসেছে তার হাত ধরে। এখনো মাঝে মাঝে রুশরস নামের একটা ছোট্ট সেগমেন্ট লিখতেন দৈনিক প্রথম আলোর রস-আলোয়। সোভিয়েতস্কি কৌতুকভ নামের জবরদস্ত রসগল্প সংকলনটিরও অনুবাদকও তিনি। অসামান্য রসবোধ বা ছড়ার কারিকুরি মেলানোতে তার জুড়ি পাওয়া কষ্টের ব্যাপার, অনলাইনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সেগুলোর বিবিধ উদাহরণ।
বোদলেয়ার কোথাও বলেছিলেন, শৈশবকে পুনরুদ্ধার করার ক্ষমতাই প্রতিভা। আমার শৈশবে মাসুদ মাহমুদ তাই শুধু প্রতিভাবান নন, জাদুকর বিশেষ। তার অনুবাদের থ্রি কমরেডস-এর সেবা সংস্করণ জানিয়েছিলো বন্ধুত্বের স্বাদ।
আমি তাই প্রয়াত মানুষটিকে মনে রাখতে চাই রবার্ট, গটফ্রীড আর অটোকে দিয়ে। তাকে মনে রাখবো প্যাট্রিসিয়ায়, মনে রাখবো কার্ল নামের মোটরগাড়িতে।
ভালো থাকবেন মাসুদ মাহমুদ।
[/Justify]
মাসুদ মাহমুদ চলে গেছেন। ১৯ মে, ২০১৭। হার্ট অ্যাটাক।
তার সাথে কখনো দেখা হয়নি। আমার সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় খুঁজলে ব্লগের খুচরো দুয়েকটা কথা বিনিময়ের বেশি কিছু পাওয়া দুস্কর। কখন যেন, কী একটা লেখার সূত্র ধরে রাশিয়ান কিছু নামের উচ্চারণ বের করবার ঝোঁক চেপেছিলো। সাহায্য এলো তার কাছ থেকে, ই-মাধ্যমে। প্রথম উপন্যাসের পাণ্ডুলিপির কিছু অংশের ওপর আলোচনাও হয়েছিলো ইনবক্সে। এর বাইরে তার সাথে আর কোনো স্মৃতি ভাগাভাগি করি না। তবু, অস্বস্তি নিয়ে আবিষ্কার করলাম আজ সকালে, তাঁর প্রয়াণে স্বজন বিয়োগের মতো ব্যথা পেলাম বেশ।
সত্যিকারের শিল্পীর জীবন লোকটার। সবকিছু ছেড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইউক্রেনে চলে গেছিলেন, তারপরে রাজধানী শহর কিয়েভ থেকে আরেকটু দূরে, উপকণ্ঠে। তাতেও তার নির্জনতাপ্রিয় প্রাণ অসন্তুষ্ট থাকায় চলে গিয়েছিলেন আরো ভেতরের পল্লীতে। এসবই জানা হলো তার অগ্রজ আনিস মাহমুদের ফেসবুক দেয়াল থেকে।
সেবা প্রকাশনীর স্বর্ণযুগের লেখকদের একজন ছিলেন মাসুদ মাহমুদ। ক্রিকেটরঙ্গ বা ফুটবলরঙ্গের মতো বই এসেছে তার হাত ধরে। এখনো মাঝে মাঝে রুশরস নামের একটা ছোট্ট সেগমেন্ট লিখতেন দৈনিক প্রথম আলোর রস-আলোয়। সোভিয়েতস্কি কৌতুকভ নামের জবরদস্ত রসগল্প সংকলনটিরও অনুবাদকও তিনি। অসামান্য রসবোধ বা ছড়ার কারিকুরি মেলানোতে তার জুড়ি পাওয়া কষ্টের ব্যাপার, অনলাইনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সেগুলোর বিবিধ উদাহরণ।
বোদলেয়ার কোথাও বলেছিলেন, শৈশবকে পুনরুদ্ধার করার ক্ষমতাই প্রতিভা। আমার শৈশবে মাসুদ মাহমুদ তাই শুধু প্রতিভাবান নন, জাদুকর বিশেষ। তার অনুবাদের থ্রি কমরেডস-এর সেবা সংস্করণ জানিয়েছিলো বন্ধুত্বের স্বাদ।
আমি তাই প্রয়াত মানুষটিকে মনে রাখতে চাই রবার্ট, গটফ্রীড আর অটোকে দিয়ে। তাকে মনে রাখবো প্যাট্রিসিয়ায়, মনে রাখবো কার্ল নামের মোটরগাড়িতে।
ভালো থাকবেন মাসুদ মাহমুদ।
[/Justify]
Published on May 24, 2017 11:41
No comments have been added yet.


