[justify]
প্রথম উপন্যাস নিয়ে যখন কাজ শুরু করি, তখনও আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র। আবেগের ঠেলায় ভেসে গিয়ে গল্প বলা ছাড়া অন্য কিছু আমায় যেমন ভর করেনি, তেমন আবার ক্ষণজন্মা পূর্বপুরুষদের নিয়ে উচ্চকিত হতেও আটকায়নি। নানা ধরনের স্মৃতিকথা বা দলিলের কালো অক্ষরগুলোর মাঝে অনুসন্ধান করাটা ছিলো গোয়েন্দাগিরির মতোই রোমাঞ্চকর। তখনই প্রথম টের পাই, জাতীয় জীবনের যে সমস্ত ঘটনা আমাদের আলোড়িত করে- তা নিয়ে অন্য কারো সাথে আলোচনা চালাতে গেলে দুজনের অবস্থান প্রায়ই এক সমতলে থাকে না। একই বিষয়ে দুজন সমঘরানার মানুষের অবস্থানও তাই যথেষ্ট দূরবর্তী হয়, ফলে বকা দেয়া ছাড়া অন্য কিছু করাটাও তখন খুব মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়।
এই আবিষ্কার ঠিক না ভুল, তা বুঝে উঠতে না পারায় দ্বিতীয় প্রচেষ্টায়ও আমি কাম্বারব্যাচ না সেজে পারি না এবং পাহাড়ঘেরা একটি জনপদের ইতিহাস ঘাঁটা শুরু করি। করোটির মাঝে খুঁড়তে গিয়ে দেখি, গেরিলা-গণহত্যা- বিদ্রোহ-অভ্যুত্থানেরা মাটিতে মিশে থকথক করছে সেই জনপদে। আবার ফসিল তুলতে জোরে হাত চালানোও যায় না, উচ্চ ফলনশীল এমপ্যাথিহীন জাতীয়তাবাদের অনলাইন চাষাবাদের এ যুগে ওসব মহেঞ্জাদারো নিয়ে কাজ ভালোই রিস্কি।
ইদানিং জীবনযাপনের জঞ্জাল খুব ক্লান্ত করে দিচ্ছে। এই অনর্থক মাটিকাটার দাম কী? তুমুল উন্মুক্ত অনলাইন, বিধিবদ্ধ মূলধারা আর ছুটতে থাকা সবার দিকে তাকালে মাথা ঘোরে। বছর দুয়েক ধরে চলা মাটিকাটা তাই থামাতেই হয়।
এ শহরের গৌরব নেই, ইতিহাস ছিলো কি না- বোঝা যায় না। এই শহরজুড়ে ধবধবে ও মেকআপ সমৃদ্ধ পুতুলনাচ, তার মাঝে ফাঁপা বুলির শব্দসমষ্টিরা নিতান্ত আগন্তুক, বিনা আমন্ত্রণে ফাও খেতে আসা সিন্ডারেলা।
[/justify]
Published on June 08, 2017 10:54