জার্নাল-১০
২০২৩ এর প্রথম সকালটা কেটেছিলো হাসপাতালের কৃত্রিম আলোর করিডোরে; কাকতালীয়ভাবে, ২০২৩ এর শেষ সন্ধ্যাটার কিছু অংশও কাটলো সেই একই জায়গায়। বাকি বছর জের টানতে হয়েছে ওই হাসপাতালেরই।
এক-একবার ভাবি, পড়ার টেবিলে স্তূপ করে থাকা সমস্ত বইয়ের দফারফা করে ফেলবো ২০২৪-এ। কিন্তু গত বছরে জেনেছি মানুষ ভীষণ ভঙ্গুর, এমনকি চিবুকের চাইতেও। কখনও তাই এমনও মনে হয়, কিছুই না করে এলোমেলো বসে থাকি ছাদে উঠে। মাথার ভেতরের ছায়াশহরে ঘোরাফেরা করতে করতে গান গাইঃ লক্ষ্যশুন্য লক্ষ বাসনা ছুটিছে গহীনে আঁধারে...
সাধ হয় কতকিছু লিখি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ওই হরর উপন্যাসটা, কিংবা ছোট্ট একটা মেয়েকে নিয়ে ওই জাদুবাস্তব যাত্রাটা, দ্বীপবাসী মানুষদের কেন্দ্র করে ওই বিশালায়তন গল্পটা অথবা একাকী মানুষদের নিয়ে টুকরো গল্পগুলো। কিন্তু নটরডেমের ব্যবহারিক ক্লাসের মতো আজও আমি অঙ্ক মেলাতে চাই পেছন থেকে, কিছুই তাই করা হয় না। শৈত্যপ্রবাহের মৃদু রোদ ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে, এই কী জীবন কালীদা?
গত শতকের শুরুর দিকে, পুরোন ঢাকার তরুণ ব্যবসায়ীরা যখন বেশ্যাবাড়িতে যেতেন – সুগন্ধীর সাথে সাথে আরও একটি অনুষঙ্গ তারা যোগ করতেন সাজপোশাকে। নবাবপুরের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু লোক, সেই সুরাবিলাসী সাহেবদের পকেটে সেলাই করে দিতেন জোনাকি পোকা। তখনও গ্যাসের আলো সর্বত্র বিরাজ করে না ঢাকা নামের শহরে। চোখ বুঝলেই দেখতে পাই, অন্ধকার রাস্তায় বুকপকেটে জোনাকি পোকা নিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে কামনায় থরথর কাঁপতে থাকা কোনো যুবক। ভাবি, তথ্যের ভারে অন্ধকার হয়ে থাকা এই দুনিয়ায় কেবল অক্ষরের সাধনায় অতটা কামুক কি হয়ে উঠতে পেরেছি আদৌ? যদি না পারি, তবে কেন লেখালখি নামের এসব অর্থহীন কুতকুত খেলার আয়োজন?
এক-একবার ভাবি, পড়ার টেবিলে স্তূপ করে থাকা সমস্ত বইয়ের দফারফা করে ফেলবো ২০২৪-এ। কিন্তু গত বছরে জেনেছি মানুষ ভীষণ ভঙ্গুর, এমনকি চিবুকের চাইতেও। কখনও তাই এমনও মনে হয়, কিছুই না করে এলোমেলো বসে থাকি ছাদে উঠে। মাথার ভেতরের ছায়াশহরে ঘোরাফেরা করতে করতে গান গাইঃ লক্ষ্যশুন্য লক্ষ বাসনা ছুটিছে গহীনে আঁধারে...
সাধ হয় কতকিছু লিখি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ওই হরর উপন্যাসটা, কিংবা ছোট্ট একটা মেয়েকে নিয়ে ওই জাদুবাস্তব যাত্রাটা, দ্বীপবাসী মানুষদের কেন্দ্র করে ওই বিশালায়তন গল্পটা অথবা একাকী মানুষদের নিয়ে টুকরো গল্পগুলো। কিন্তু নটরডেমের ব্যবহারিক ক্লাসের মতো আজও আমি অঙ্ক মেলাতে চাই পেছন থেকে, কিছুই তাই করা হয় না। শৈত্যপ্রবাহের মৃদু রোদ ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে, এই কী জীবন কালীদা?
গত শতকের শুরুর দিকে, পুরোন ঢাকার তরুণ ব্যবসায়ীরা যখন বেশ্যাবাড়িতে যেতেন – সুগন্ধীর সাথে সাথে আরও একটি অনুষঙ্গ তারা যোগ করতেন সাজপোশাকে। নবাবপুরের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু লোক, সেই সুরাবিলাসী সাহেবদের পকেটে সেলাই করে দিতেন জোনাকি পোকা। তখনও গ্যাসের আলো সর্বত্র বিরাজ করে না ঢাকা নামের শহরে। চোখ বুঝলেই দেখতে পাই, অন্ধকার রাস্তায় বুকপকেটে জোনাকি পোকা নিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে কামনায় থরথর কাঁপতে থাকা কোনো যুবক। ভাবি, তথ্যের ভারে অন্ধকার হয়ে থাকা এই দুনিয়ায় কেবল অক্ষরের সাধনায় অতটা কামুক কি হয়ে উঠতে পেরেছি আদৌ? যদি না পারি, তবে কেন লেখালখি নামের এসব অর্থহীন কুতকুত খেলার আয়োজন?
Published on January 01, 2024 21:15
No comments have been added yet.


