জার্নাল-০৯
চলতি উপন্যাসের প্রথম খসড়া শেষ হলো আজ, সকাল তখন দশটা বারো।
পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালে বাইরে উজ্জ্বল রোদ। তার মাঝে পান্ডুলিপির জন্য খরচ হয়ে যাওয়া প্রায় দুই বছরের দিকে ফিরে চাইলে মেরিন ড্রাইভের গুলির আওয়াজ, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় আর জর্জ ফ্লয়েডের গোঙানি; একে অন্যকে ছাড়িয়ে যেতে তারা তর্ক করে অ্যাডাম ড্রাইভার আর স্কার্লেট জোহানসনের মতোই।
আর থাকে মহামারী, কোহেনের মতো আমরাও জানি নৌকা ডুবে গেছে, সকলেই জানে ক্যাপ্টেন মিথ্যা বলেছিলো।
ভাবি, কেন লিখি? অম্লজানের অভাবে ধুঁকতে থাকা দুনিয়ায় যখন আগামী সাতদিন বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নাই; সেখানে উপন্যাস লিখে কী হয়?
মনোযোগের দৈর্ঘ্য যখন একশো চল্লিশ ক্যারেক্টার, হ্যাশট্যাগময় প্রচারণার ইতরপনা যখন অবিরাম জন্ম দিচ্ছে প্যারাডক্সের; উপন্যাসের লেখক তো তখন ডেভিড মালুফের গল্পের সেই নিজভাষার শেষ বক্তা মানুষটার মতোই সংযোগহীন। আবার হাত বাড়ালেই যেখানে ডন ডি লিলো, জুলিয়ান বার্নেস আর কোয়েটজি; ল্যাংড়া এবং ক্যারিকেচারের মতো উপন্যাস নিয়ে সেখানে দাঁড়ানোর ঔদ্ধত্য কেউ আজও কেন দেখাবে?
উত্তর দেওয়া দুরুহ। এবং উপন্যাস যে লেখে, সে সম্ভবত প্রশ্নটাই জানে, উত্তর জানে না কখনোই। লেখা তাই নিজের কাছেই নিজের পরীক্ষা; মহারাজ বিক্রমাদিত্যর মতোই, বেতালের লাশের বদলে বেঁচে থাকার ভারকে কাঁধে ফেলে হেঁটে যাওয়া, যাত্রার শেষে থাকে কেবলই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়ে ধূর্ত বেতালের পুনরায় আদিবিন্দুতে ফিরে যাওয়া।
‘To write is human, to edit is divine!’ বলেছিলেন ওস্তাদ স্টিফেন কিং।
মানুষী কাজের শেষে সকালের তিক্ত রোদেও তাই স্বর্গীয় এক ফুরফুরে ভাব মনে বলি, বেশ, ধরা যাক দুয়েকটা ইঁদুর এবার!
পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালে বাইরে উজ্জ্বল রোদ। তার মাঝে পান্ডুলিপির জন্য খরচ হয়ে যাওয়া প্রায় দুই বছরের দিকে ফিরে চাইলে মেরিন ড্রাইভের গুলির আওয়াজ, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় আর জর্জ ফ্লয়েডের গোঙানি; একে অন্যকে ছাড়িয়ে যেতে তারা তর্ক করে অ্যাডাম ড্রাইভার আর স্কার্লেট জোহানসনের মতোই।
আর থাকে মহামারী, কোহেনের মতো আমরাও জানি নৌকা ডুবে গেছে, সকলেই জানে ক্যাপ্টেন মিথ্যা বলেছিলো।
ভাবি, কেন লিখি? অম্লজানের অভাবে ধুঁকতে থাকা দুনিয়ায় যখন আগামী সাতদিন বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নাই; সেখানে উপন্যাস লিখে কী হয়?
মনোযোগের দৈর্ঘ্য যখন একশো চল্লিশ ক্যারেক্টার, হ্যাশট্যাগময় প্রচারণার ইতরপনা যখন অবিরাম জন্ম দিচ্ছে প্যারাডক্সের; উপন্যাসের লেখক তো তখন ডেভিড মালুফের গল্পের সেই নিজভাষার শেষ বক্তা মানুষটার মতোই সংযোগহীন। আবার হাত বাড়ালেই যেখানে ডন ডি লিলো, জুলিয়ান বার্নেস আর কোয়েটজি; ল্যাংড়া এবং ক্যারিকেচারের মতো উপন্যাস নিয়ে সেখানে দাঁড়ানোর ঔদ্ধত্য কেউ আজও কেন দেখাবে?
উত্তর দেওয়া দুরুহ। এবং উপন্যাস যে লেখে, সে সম্ভবত প্রশ্নটাই জানে, উত্তর জানে না কখনোই। লেখা তাই নিজের কাছেই নিজের পরীক্ষা; মহারাজ বিক্রমাদিত্যর মতোই, বেতালের লাশের বদলে বেঁচে থাকার ভারকে কাঁধে ফেলে হেঁটে যাওয়া, যাত্রার শেষে থাকে কেবলই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়ে ধূর্ত বেতালের পুনরায় আদিবিন্দুতে ফিরে যাওয়া।
‘To write is human, to edit is divine!’ বলেছিলেন ওস্তাদ স্টিফেন কিং।
মানুষী কাজের শেষে সকালের তিক্ত রোদেও তাই স্বর্গীয় এক ফুরফুরে ভাব মনে বলি, বেশ, ধরা যাক দুয়েকটা ইঁদুর এবার!
Published on April 28, 2021 10:33
No comments have been added yet.


