“Rothschild & Co-এর ওয়েবসাইট অনুসারে, তাদের কাছে ৪২০০ ফাইনান্সিয়াল এক্সপার্ট (অর্থ বিশেষজ্ঞ) রয়েছে। এরা বিশ্বের চল্লিশটি দেশে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রথচাইল্ডরা আজও অনেক ধনী। তবে তারা আগের মতো একক ধনী নয়। বিশ্বের হাজার হাজার পুঁজিপতির একজন।
অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে তাদের পরিবার ব্যাংকিং ও সুদ থেকে যে সম্পদ উপার্জন করেছিল, পরিমাণে তা অবিশ্বাস্য হলেও সেটা অনেক উত্তরাধিকারীর মাঝে বণ্টিত হয়ে গেছে। তাছাড়া পরিবারটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। আগের মতো একার হাতে ব্যবসা পরিচালিত হয় না। কয়েক প্রজন্ম ধরে সম্পদ বণ্টনের পর পারিবারিক সম্পদ এখন অনেক কম। কত কম? এটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। রথচাইল্ড সবসময় নিজের ও গ্রাহকদের যাবতীয় ব্যবসায়িক তথ্য গোপন রাখে। এটাই তাদের ব্যবসায়িক পলিসি।
বর্তমানে রথচাইল্ডদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী সদস্য ডেভিড মায়ার ডি রথচাইল্ড। তার সম্পদের পরিমাণ দশ বিলিয়ন ডলার। তার এই সম্পদ বিশ্বের ১০০তম ধনী নারী 'ভিকি সাফরা' ও তার পরিবারের চেয়েও কম। গ্রিক বংশোদ্ভূত ভিকি সাফরার ষোল বিলিয়ন সত্তর মিলিয়ন ডলারের সম্পদ আছে। অর্থাৎ, রথচাইল্ডদের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিও বিশ্বের শততম ধনীর ব্যক্তির চেয়ে পিছিয়ে।...
...মোদ্দাকথা, রথচাইল্ডরা এখনো গরিব নয়; আবার এ কথাও সত্য, আজ তারা কোনো ধনী-নেতৃস্থানীয় দেশকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো অবস্থায় নেই। বিশ্বব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষমতা তাদের আর নেই। এখন তারা কোনো ব্যক্তি বা দেশকে ব্ল্যাকমেইল করে ব্যবসা বাগাতে পারে না।
যারা রথচাইল্ড সম্পর্কে আজগুবি গালগল্প তৈরি করে, তারা আসলে কন্সফিরেসি ওয়েবসাইটের পোকা। তাদের জানাশোনাতেও কোনো আপডেট নেই। বিশ্বে আজ কার একচেটিয়া আধিপত্য? কে আজ পৃথিবী চালাচ্ছে? আমাদের গ্রেট গেইম লেখায় এর উত্তর মিলবে।
পৃষ্ঠা : ১২৯-১৩০”
―
মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ,
দ্য গ্রেট গেইম