Shubhoroy Quotes

Quotes tagged as "shubhoroy" Showing 1-13 of 13
“রাতে যখন শিরশিরে হাওয়া দেয়, মনে হয় টেনে টেনে শ্বাস নিচ্ছে ধানক্ষেত। সেই থেকে শীতেরও প্রস্তুতি শুরু। বলে, রাতে কান পাতলে শোনা যাবে – মাটিতে ইঁদুরের গর্ত খোঁড়ার ব্যস্ততা, খুদে শ্বাসযন্ত্রের সত্বর হাঁসফাঁস। চুরি করে ধান জমাবে গর্তে শীতের জন্য। রাতের অন্ধকারে ঝুপ করে নামে পেঁচা। তারপর শিকারের খোঁজে হারিয়ে যায় ধানের বনে। ধানে অল্প রূপ এলেই মাঠে হানা দেয় সহস্র বাবুই, খুদে খুদে উড়ন্ত দস্যুর দল।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“বিশ্বাসের উপর ভর করে চললে হবে?" চার্বাক বলে। "সন্দেহই আমার দেউলের সোপান।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“লোকের মনে বিশ্বাস না ফিরলেও,” চার্বাক বলল, “ভয় তো নিঃসন্দেহে জন্মেছে। আর ভয় আর বিশ্বাসের অভিব্যক্তিগুলো খানিকটা একরকম।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“আলতো হাতে পাতা সরিয়ে ফাঁক করতেই জটপাকানো ঝোপের গভীরে একটা গোপন জগৎ খুলে গেল। যেন কোনো দক্ষ কারিগর লতার ডালে বুনেছে একটা শুকনো ঘাস-কুটোর ঘূর্ণি—পাখির বাসা! ইন্দুসুধার শ্বাসরোধ হবার জোগাড়—তিনটে, ঠিক আঙুরফলের মত, ছিটেছিটে নীল, প্রায় ঘষা ফিরোজা রঙের ডিম।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“অন্নদাচরণের মাঝে মাঝে মনে হয়, হয়তো ভালোবাসা, হিংসা, মায়া, এসব মনে নয়, হৃদয়ে নয়, মানুষের চোখে থাকে। এটা যেন একরকমের দেখার প্রক্রিয়া।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“এককালে নিজে পুজোয় আধ-মণি রামদার এক-এক ঝটকায় পাঁঠার মাথা নামাত। তারপর হঠাৎ একদিন ওই পাঁঠাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কী হল, বলিকারের উপরেই সব দায়িত্ব ছেড়ে দিল। আজ ঠিক লাগছে না, অন্নদাচরণ বলেছিল শিবসুন্দর পুরোহিতকে। পুরুত শুধোয়, অসুস্থ লাগছে? না, উত্তর দেয় অন্নদাচরণ, নিজেকে অশুচি লাগছে। কী বলতে চেয়েছিল অন্নদাচরণ সেদিন? বোঝানো কঠিন – ঠিক অপবিত্র নয়, কিন্তু কিসের যেন অভাব দেহে, মনে, চোখে, হয়তো শুদ্ধতার। ঠিক বিশুদ্ধ নির্মমতা উঠছিল না চোখে। যা দেখার নয়, তা দেখছিল চোখ – অসহায়তা, দুর্বলতা, প্রাণ।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“মানে উ হরা ঘাঁস বনাইচে,” লখু বিড়িতে লম্বা টান মারে। “ফের হরা ঘাঁসে পিঁমড়া বনাইচে, ফিড়িং বনাইচে, গবুরে পঁকা বনাইচে – পঁকাটো গবুরের গুটা গুটা গড়িং‌ গড়িং‌ লি যায়। কেনে? উ জানে।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“লখু হেমব্রম বলেছিল – ফলনের ধান বাড়ুক না বাড়ুক, দেনার ধান বাড়ে নিজে নিজেই। সে ধানে না লাগে জল, না লাগে জোত। চৈত্রমাস আসতে আসতে চাষির নিজের ভাঁড়ার আবার খালি। সে কী করে? পাইকার, মহাজন, জমিদার, এরাই সহায়।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“কতবার তার রাজবাড়ির নিয়ন্ত্রিত অনিশ্চয়তায়, রাতের অনির্দিষ্ট প্রসারণে পাগলের মত সে খুঁজে বেরিয়েছে এসবেরই উত্তর। রাতের পর রাত ঘুম হারিয়ে রাজবাড়ির সিঁড়ি বা করিডর দিয়ে, অথবা সারি সারি বদ্ধ ঘরের পাশ দিয়ে যেতে যেতে, বা কখনো জ্যৈষ্ঠের মাঝরাতে ঠাণ্ডা চৌবাচ্চার জলে শুয়ে, কোনো দূর থেকে ভেসে আসা জুড়িগাড়ির ঘণ্টার শব্দ শুনতে শুনতে, অথবা শিকার করতে গিয়ে কোনোদিন জঙ্গলে, অচেনা ঘাসজমিতে, বা ক্ষেতে, প্রাণ নেওয়ার বিষণ্ণতায় লেগে থাকা বারুদের গন্ধে, বারবার সেই প্রশ্নই তাকে ঠেলা মেরেছে।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“সারজমে কলি পাতা এলে কী হয়?” লখু শুধোয়। “চঁটুই পাখি সাঁঘা করে। বঁইসাখ-ঝেঠের ঝালায় পিচিক পারা ছানা ফোটে। শিমইল বিচি পঁকার মুতুন ফুতুর ফুতুর বাতাইসে উড়ে। আড়ায় হরা হরা শাগ এলে বালিহাঁসের জোড় লাগে। চাষি যখুন তিল বুনে, তখুন খুরিশের লাচন লাগে।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“এটাই কি মৃত্যু? মৃত্যু মানে কি তাহলে চিরস্থায়ী অবশতা বা অসাড়তা নয়, এক চির-সজাগ অতি-সংবেদনশীলতা? এই ভাবেই কি সম্পূর্ণ সজাগ অবস্থাতে তার দেহ, দেহের মৌলগুলো ধীরে ধীরে প্রাণের বাঁধন হারিয়ে আদিম আণবিক অবস্থায় ফিরে যাবে?”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“এই দুর্বোধ্য নকশার কি আদৌ কোনো মানে আছে? নাকি কেবলই খেলার ছলে করা কিছু অর্থহীন চিহ্ন? অথচ, মন নিজে থেকেই নানা অদৃশ্য সম্পর্ক টানে, ছবি গড়ে তোলে। কী সেই শক্তি যা রাতের জড় আকাশে মৃত তারাদের বিচ্ছিন্নতায় ছবি দেখে, গল্প ফাঁদে – ধনু, বৃশ্চিক, কালপুরুষ, মিথুন?”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা

“সে অনেকবার ভেবেছিল – কী ভাবে পড়েছিল পাখিটা? সে কখনো পাখিদের পড়তে দেখেনি, উড়ন্ত গতিপথ থেকে ভাঙা তারার মত কক্ষচ্যুত হয়ে, বা অসমাপ্ত গানের মাঝে কোনো জৈব-যান্ত্রিক বিকলতা বা আচমকা হৃদরোগে কাতরিয়ে—প্রথমে উষ্ণ হৃৎকলে খিঁচ, ডানায় টান, প্রান্ত-পালকের মরিয়া প্রসারণ, খিঁচ ধরে সটান খাড়া-নখর—ঠিক মরে যাওয়ার আগে।”
Shubho Roy, ভুসোকালির নকশা