Find & Share Quotes with Friends
আশাকর্পূর Quotes
আশাকর্পূর
by
মাহবুব আজাদ48 ratings, 4.38 average rating, 18 reviews
আশাকর্পূর Quotes
Showing 1-2 of 2
“তবুও বৃন্ত যেমন ফুলকে ধরে রাখে, আশা ধরে রাখে জীবনকে। বার্ন ইউনিটের ডাক্তারদের দেখে রমজান ভেবেছিলো, ছেলেকে নিয়েই বাড়ি ফিরতে পারবে সে। ছেলেটা তিন দিন ধরে শুধু গোঙাচ্ছিলো, ডাকছিল আল্লাহকে, প্রত্যুত্তর শোনার ফুরসতও তার ছিলো না। ভোরের দিকে বাবাকে বলেছিলো, আব্বা, বাসায় যামু, বাসায় নিয়া চলো আব্বা, বাসায় যামু, মার কাছে যামু আব্বা। রমজানের মনের ভেতরে সামান্য একটু আশা বিশাল নিরাশাকে গলা টিপে ধরে বলছিলো, ছেলেটা ভালো হয়ে যাবে, ওকে একটা ক্রিকেট ব্যাট কিনে দিও, ভালো হয়ে যাবে ছেলে। কিন্তু ভোর যখন আরো পরিস্ফূট হয়, হাসপাতালের পাশে গাছের শাখায় মদকল পাখির গান শোনা যায়, তখন শেষবারের মত খিঁচুনি দিয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যান্ডেজে মোড়া বাচ্চা ছেলেটা নিথর হয়ে যায়। [বিএনপি নেতা] ইলিয়াসের খোঁজ না জানার অপরাধেই কি জাতীয়তাবাদ আর ইসলামের বরকান্দাজরা পুড়িয়ে মারলো তাকে? নাকি নির্দলীয় সরকারের জন্য একটাও নিরপেক্ষ লোকের নাম না জানার পাপে? অথবা সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়ে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে দূরে সন্ধ্যা পর্যন্ত কালৈয়াকৈরের গহীনে শালবন কেটে বানানো চকে ক্রিকেট খেলার স্পর্ধার শাস্তি দেওয়া হলো ওকে? ওর বেলায় অজুহাতটা কী ছিলো আসলে?”
― আশাকর্পূর
― আশাকর্পূর
“কয়েকদিন আগেও এটা ছিলো একটা স্কুল। এর মাঠে সকালে ঘুমঘুম চোখে সারি বাঁধা চলেহেমেয়েদের সামনে দপ্তরীর হাতের দায়সারা টানে আকাশে এক মন্থর ভূবনচিলের মতো ডানা মেলতো সবুজের মাঝে লাল একটি বৃত্ত, সহকারী প্রধান শিক্ষকের গম্ভীর আদেশের পর অনেক বিপথগামী কণ্ঠের মাঝে পাশের আমগাছের পাতায় কাঁপন ধরাতো কী শোভা কী ছায়া গো কী স্নেহ কী মায়া গো।
কী আঁচল মৃত্যু এসে বিছিয়ে দিয়ে গেলো স্কুলের মাঠে। এখন আর এটি মাঠ নেই, শবাগারে পরিণত হয়েছে। একটু পর পর সেনাবাহিনীর ছাপ্পড় মারা চটের বড় ব্যাগে বাহিত হয়ে মাঠে এসে যোগ হচ্ছে গলিত শব।
মৃত্যু এসে স্কুলের ঘণ্টায় সশব্দ টোকা দিয়ে জানিয়েছে, ছুটি। আগামী কয়েকদিন আর আসতে হবে না স্কুলে।”
― আশাকর্পূর
কী আঁচল মৃত্যু এসে বিছিয়ে দিয়ে গেলো স্কুলের মাঠে। এখন আর এটি মাঠ নেই, শবাগারে পরিণত হয়েছে। একটু পর পর সেনাবাহিনীর ছাপ্পড় মারা চটের বড় ব্যাগে বাহিত হয়ে মাঠে এসে যোগ হচ্ছে গলিত শব।
মৃত্যু এসে স্কুলের ঘণ্টায় সশব্দ টোকা দিয়ে জানিয়েছে, ছুটি। আগামী কয়েকদিন আর আসতে হবে না স্কুলে।”
― আশাকর্পূর
