নির্বাচিত গল্প Quotes
নির্বাচিত গল্প
by
Hasan Azizul Huq1 rating, 2.00 average rating, 0 reviews
নির্বাচিত গল্প Quotes
Showing 1-2 of 2
“আই- কর্কশ ধমক দিল করমালি, কি হইছে, আ? হইছে কি- এই কথা বলতে বলতেই করমালি গোয়ালঘরে পৌঁছয় এবং মানুষ তাকে পথ করে দেয় পরম সহানুভূতিতে। সে ভিতরে ঢুকে দেখল, প্রায় সমস্ত গোয়াল জুড়ে দীঘল তরণ ধলা পুরুষ্ট বলদটা চার পা মেলে নিথর শুয়ে আছে। সে তার সজল কালো চোখ মেলে আছে। তা থেকে পানি গড়িয়ে চোয়াল পর্যন্ত এসেছে আর ধপধপে ফেনা জমে আছে তার মুখের এক পাশে। সামনের একটা পা হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে বড় টানটান করুণ ভাবে শুয়ে আছে। করমালি সেদিকে অর্থহীন চোখে চেয়ে থাকে। বুড়ো খোঁড়া গাইটা সরসর শব্দে লেজ নাড়ে। নীল রঙের বিরাট একটা মাছি এসে ধলা গরুটার নিষ্প্রাণতার উপরে বসে বসে পা ঘষে, করমালির কাঁধের উপর দিয়ে, বগলের ফাঁকে, তার সামনে, পিছনে, আশেপাশে, উঠোনে অনেক মানুষ নিঃশ্বাস ফেলে। তাদের চোখের তারা কাপে, পাঁজর জির জির করে। ......অন্যের ক্ষেতে দিনমজুরি থেকে ফিরে তারা ক্লান্ত- বড় ক্লান্ত, বড় বেশি সহানুভূতিতে আচ্ছন্ন এবং চোখ অন্ধকার খিদেয় তাড়িত। ............্দ্যাহো তো, লোম টানলি উঠে আসে নাহি। ......দেহিছ- ঠিক কইছি, সাপেই কাটিছে। আহারে- কি বলবানে কি করবানে কও দিনি। তারপর মানুষটা ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। আর যেহেতু কান্না জিনিসটা ভয়ঙ্কর সংক্রামক, কাজেই যাদের সঙ্গে করমালির সম্পর্কমাত্র নেই শুধু এই ছাড়া যে সকালে উঠে কাস্তে হাতে কাজের খোঁজে একসঙ্গে বের হতে হয় এবং কাজ পেলে চাচা ভাইপো ইত্যাদি সম্বোধনে একসঙ্গে বেড়া বাঁধার বা জমি তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হয় বা নিজেদের এক ছটাক জমি নেই বলে অন্যের জমি ভাগে করবার জন্যে উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে হয়- এক কথায় বেঁচে থাকার তিক্ত সংগ্রাম ছাড়া অন্য কোন ঐক্যসূত্র নেই তারাও করমালির দূর-সম্পর্কের ভাইকে কাঁদতে দেখে চোখ মুছতে থাকে।"
হাসান আজিজুল হক, আমৃত্যু আজীবন”
― নির্বাচিত গল্প
হাসান আজিজুল হক, আমৃত্যু আজীবন”
― নির্বাচিত গল্প
“বুড়ো মানুষকে কাঁদতে দেখলে অম্বুজাক্ষের আশ্চর্য লাগে যদিও সে জানে একমাত্র বুড়োরাই কাঁদতে পারে ছেলেদের মতো। কিন্তু শিশুদের কান্নার চেয়ে বৃদ্ধের কান্না অসহ, কারণ সে তার কান্নার মধ্যে সারাজীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা ঢেলে দিতে পারে। কালীপ্রসন্ন সেই তেতো কান্না কাঁদে।"
"খাঁচা", হাসান আজিজুল হক”
― নির্বাচিত গল্প
"খাঁচা", হাসান আজিজুল হক”
― নির্বাচিত গল্প
