Goodreads helps you follow your favorite authors. Be the first to learn about new releases!
Start by following Hasan Azizul Huq.
Showing 1-9 of 9
“আমাকে কেউ বোঝাইতে পারলে না যি সেই দ্যাশটো আমি মোসলমান বলেই আমার দ্যাশ আর এই দ্যাশটি আমার লয় । আমাকে আরো বোঝাইতে পারলে না যি ছেলেমেয়ে আর জায়গায় গেয়েছে বলে আমাকেও সিখানে যেতে হবে । আমার সোয়ামি গেলে আর আমি কি করব ? আমি আর আমার সোয়ামী তো একটি মানুষ লয় , আলেদা মানুষ। খুবই আপন মানুষ, জানের মানুষ , কিন্তুক আলেদা মানুষ ।”
― আগুনপাখি
― আগুনপাখি
“বুড়ো গল্প করছে, ভীষণ শীত করছে ওর, চাদরটা আগাগোড়া জড়িয়েও লাভ নেই। শীত তবু মানে, শ্লেষ্মা কিছুতেই কথা বলতে দেবে না তাকে। আমি যখন এখানে এলাম, আমি যখন এখানে এলাম, হাঁপাতে হাঁপাতে, কাঁপতে কাঁপতে সে বলছে, বুঝলে যখন এখানে এলাম ... তার এখানে আসার কথা আর কিছুতেই ফুরোচ্ছে না - সারারাত ধরে সে বলছে, এখানে যখন এলাম - আমি প্রথম একটা করবী গাছ লাগাই ...”
― আত্মজা ও একটি করবী গাছ
― আত্মজা ও একটি করবী গাছ
“অনেকদিন ধরে জীবন কাটিয়ে গেছে এভাবে রহিম বখশ। কেমন ছিল এই জীবন? বড়ই কঠিন কি? তা জানে না সে। খুব কি কাজের জীবন? তাতেও আপত্তি রয়েছে তার। যে তরুণ বলদটিকে শিং-এ তেল মাখিয়ে চকচকে করে তোলা হলো, লাঙ্গলে তোলা হলো, গোজন্মের শেষে এসে যখন সে ভাগাড়ে নিক্ষিপ্ত হয়, ছুরি শানাতে শানাতে চলে আসে মুচি - সেই বলদটির জীবন কি খুবই কর্মবহুল? বুড়ো তার বাঁকাচোরা গাঁটউঠা আঙ্গুলগুলোর দিকে তাকায়। কি সাংঘাতিক খাটুনি গেছে সারা জীবন অথচ বছরের পর বছরের সারিবদ্ধ মিছিল কি নোংরাভাবেই না একঘেয়ে! এই একই জীবন ঈশ্বর অনুগ্রহ করে আবার তাকে গোড়া থেকে ফিরিয়ে দিলে সে ঈশ্বরকে নিজেই উক্ত অনুগ্রহ উপভোগ করার অনুরোধ জানাবে।”
― দেশভাগের গল্প
― দেশভাগের গল্প
“মানুষ কেমন করে মরে যায় তা সে জানে না। কিন্তু সে জানে মরার ঠিক আগে মানুষ তার সমস্ত জীবনের ছবি একবারে দেখতে পায়।”
― আত্মজা ও একটি করবী গাছ
― আত্মজা ও একটি করবী গাছ
“বুড়ো মানুষকে কাঁদতে দেখলে অম্বুজাক্ষের আশ্চর্য লাগে যদিও সে জানে একমাত্র বুড়োরাই কাঁদতে পারে ছেলেদের মতো। কিন্তু শিশুদের কান্নার চেয়ে বৃদ্ধের কান্না অসহ, কারণ সে তার কান্নার মধ্যে সারাজীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা ঢেলে দিতে পারে। কালীপ্রসন্ন সেই তেতো কান্না কাঁদে।"
"খাঁচা", হাসান আজিজুল হক”
― নির্বাচিত গল্প
"খাঁচা", হাসান আজিজুল হক”
― নির্বাচিত গল্প
“কলকেতার রাস্তায় ডেরেন দিয়ে কলকল করে মানুষের রক্ত বয়ে যেছে। মোসলমানের রক্ত, হিঁদুর রক্ত। আলেদা কিছুই লয়, একই রক্ত। ঐ ডেরেনে হিন্দু-মোসলমান এক।”
― আগুনপাখি
― আগুনপাখি
“আই- কর্কশ ধমক দিল করমালি, কি হইছে, আ? হইছে কি- এই কথা বলতে বলতেই করমালি গোয়ালঘরে পৌঁছয় এবং মানুষ তাকে পথ করে দেয় পরম সহানুভূতিতে। সে ভিতরে ঢুকে দেখল, প্রায় সমস্ত গোয়াল জুড়ে দীঘল তরণ ধলা পুরুষ্ট বলদটা চার পা মেলে নিথর শুয়ে আছে। সে তার সজল কালো চোখ মেলে আছে। তা থেকে পানি গড়িয়ে চোয়াল পর্যন্ত এসেছে আর ধপধপে ফেনা জমে আছে তার মুখের এক পাশে। সামনের একটা পা হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে বড় টানটান করুণ ভাবে শুয়ে আছে। করমালি সেদিকে অর্থহীন চোখে চেয়ে থাকে। বুড়ো খোঁড়া গাইটা সরসর শব্দে লেজ নাড়ে। নীল রঙের বিরাট একটা মাছি এসে ধলা গরুটার নিষ্প্রাণতার উপরে বসে বসে পা ঘষে, করমালির কাঁধের উপর দিয়ে, বগলের ফাঁকে, তার সামনে, পিছনে, আশেপাশে, উঠোনে অনেক মানুষ নিঃশ্বাস ফেলে। তাদের চোখের তারা কাপে, পাঁজর জির জির করে। ......অন্যের ক্ষেতে দিনমজুরি থেকে ফিরে তারা ক্লান্ত- বড় ক্লান্ত, বড় বেশি সহানুভূতিতে আচ্ছন্ন এবং চোখ অন্ধকার খিদেয় তাড়িত। ............্দ্যাহো তো, লোম টানলি উঠে আসে নাহি। ......দেহিছ- ঠিক কইছি, সাপেই কাটিছে। আহারে- কি বলবানে কি করবানে কও দিনি। তারপর মানুষটা ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। আর যেহেতু কান্না জিনিসটা ভয়ঙ্কর সংক্রামক, কাজেই যাদের সঙ্গে করমালির সম্পর্কমাত্র নেই শুধু এই ছাড়া যে সকালে উঠে কাস্তে হাতে কাজের খোঁজে একসঙ্গে বের হতে হয় এবং কাজ পেলে চাচা ভাইপো ইত্যাদি সম্বোধনে একসঙ্গে বেড়া বাঁধার বা জমি তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হয় বা নিজেদের এক ছটাক জমি নেই বলে অন্যের জমি ভাগে করবার জন্যে উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে হয়- এক কথায় বেঁচে থাকার তিক্ত সংগ্রাম ছাড়া অন্য কোন ঐক্যসূত্র নেই তারাও করমালির দূর-সম্পর্কের ভাইকে কাঁদতে দেখে চোখ মুছতে থাকে।"
হাসান আজিজুল হক, আমৃত্যু আজীবন”
― নির্বাচিত গল্প
হাসান আজিজুল হক, আমৃত্যু আজীবন”
― নির্বাচিত গল্প
“গাঁয়ের আদ্দেকের বেশি মানুষ অ্যাকন ন্যংটো থাকছে, দিনের বেলায় বেরুইতে পারছে না। যারা বেরুইচে, ভাগ্যিস তাদের শরম নাই- বুড়ো-বুড়ি, রোগে-শোকে মরা মানুষ— তাদের ইজ্জত থাকল, না থাকল না, কে সি কথা ভাবছে? কিছুই নাই, কিছুই নাই! যুদ্ধতেই এই!”
― আগুনপাখি
― আগুনপাখি
“হাসান আজিজুল হকের অনেক গুলো অসাধারণ কিছু বইয়ের মধ্যে একটি বই হল (অতলের আঁধি) । এই বইয়ের ধরন সমকালীন গল্প। ২০১৫ সালের প্রথমের দিকে এই বইটি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশ করা হয় ইত্যাদি গ্রন্ধ প্রকাশনী থেকে বাংলা ভাষায় ।”
―
―




