Goodreads helps you follow your favorite authors. Be the first to learn about new releases!
Start by following Joy Goswami.
Showing 1-8 of 8
“অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে
হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে....”
―
হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে....”
―
“আমরা তো অল্পে খুশি
আমরা তো অল্পে খুশি, কী হবে দু:খ করে?
আমাদের দিন চলে যায় সাধারণ ভাতকাপড়ে।
চলে যায় দিন আমাদের অসুখে ধারদেনাতে
রাত্তিরে দুভায়ে মিলে টান দিই গঞ্জিকাতে।
সবদিন হয়না বাজার, হলে হয় মাত্রাছাড়া -
বাড়িতে ফেরার পথে কিনে আনি গোলাপচারা।
কিন্তু পুঁতব কোথায়? ফুল কি হবেই তাতে?
সে অনেক পরের কথা টান দিই গঞ্জিকাতে।
আমরা তো অল্পে খুশি, কী হবে দু:খ করে?
আমাদের দিন চলে যায় সাধারণ ভাতকাপড়ে।
মাঝে মাঝে চলেও না দিন বাড়ি ফিরি দুপুররাতে ;
খেতে বসে রাগ চড়ে যায় নুন নেই ঠান্ডা ভাতে।
রাগ চড়ে মাথায় আমার আমি তার মাথায় চড়ি,
বাপব্যাটা দুভায়ে মিলে সারা পাড়া মাথায় করি।
করি তো কার তাতে কী? আমরা তো সামান্য লোক।
আমাদের ভাতের পাতে লবণের ব্যবস্থা হোক।”
―
আমরা তো অল্পে খুশি, কী হবে দু:খ করে?
আমাদের দিন চলে যায় সাধারণ ভাতকাপড়ে।
চলে যায় দিন আমাদের অসুখে ধারদেনাতে
রাত্তিরে দুভায়ে মিলে টান দিই গঞ্জিকাতে।
সবদিন হয়না বাজার, হলে হয় মাত্রাছাড়া -
বাড়িতে ফেরার পথে কিনে আনি গোলাপচারা।
কিন্তু পুঁতব কোথায়? ফুল কি হবেই তাতে?
সে অনেক পরের কথা টান দিই গঞ্জিকাতে।
আমরা তো অল্পে খুশি, কী হবে দু:খ করে?
আমাদের দিন চলে যায় সাধারণ ভাতকাপড়ে।
মাঝে মাঝে চলেও না দিন বাড়ি ফিরি দুপুররাতে ;
খেতে বসে রাগ চড়ে যায় নুন নেই ঠান্ডা ভাতে।
রাগ চড়ে মাথায় আমার আমি তার মাথায় চড়ি,
বাপব্যাটা দুভায়ে মিলে সারা পাড়া মাথায় করি।
করি তো কার তাতে কী? আমরা তো সামান্য লোক।
আমাদের ভাতের পাতে লবণের ব্যবস্থা হোক।”
―
“সেদিন সকালে খবর এল বিনয় মজুমদার আর নেই। সেটা ছিল ১১ ডিসেম্বর। এর মাত্র কয়েকদিন আগে, এই ডিসেম্বরেরই এক সকালে বাইশ বছরের এক বিজ্ঞানছাত্রী আমাকে জানিয়েছে, আগের রাত্রে একটি বই সে পড়ে শেষ করেছে। তার আগে কয়েকদিন সারাক্ষণ ব্যাগের মধ্যে এই বইটি নিয়ে ইউনিভার্সিটি যাওয়া-আসা করছিল সে। বাসের জানলার ধারে বসে আবার আর একবার খুলে দেখছিল কোনও কোন বিশেষ পৃষ্ঠা। কী বই ছিল সেটি?
সে জানায়ঃ ফিরে এসো, চাকা। আছন্নতা কাটছে না তার। সে আজ বাড়িতে বইটি রেখে এসেছে, কিন্ত সারাক্ষণ তার ইচ্ছে করছে বইটির কাছে ফিরে যেতে। এই কবি কোথায় থাকেন? কিছুই প্রায় জানে না এই নতুন পাঠিকা। তাই আমার কাছে জানতে চায় কবির বিষয়ে।
আমার মনে পড়ল, এই ‘ফিরে এসো,চাকা’র শেষ কবিতাটির তলায় লেখা তারিখটিকে। ২৯ শে জুন ১৯৬২। ৪৪ বছর আগে বইটি লেখা হয়েছিল। অর্থাৎ বইটির বয়স মেয়েটির দিগুণ। তা-ই তো হওয়ার কথা। যেসব বইয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হয়, তারা তো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অসমবয়সি সম্পর্কের অংশীদার।”
―
সে জানায়ঃ ফিরে এসো, চাকা। আছন্নতা কাটছে না তার। সে আজ বাড়িতে বইটি রেখে এসেছে, কিন্ত সারাক্ষণ তার ইচ্ছে করছে বইটির কাছে ফিরে যেতে। এই কবি কোথায় থাকেন? কিছুই প্রায় জানে না এই নতুন পাঠিকা। তাই আমার কাছে জানতে চায় কবির বিষয়ে।
আমার মনে পড়ল, এই ‘ফিরে এসো,চাকা’র শেষ কবিতাটির তলায় লেখা তারিখটিকে। ২৯ শে জুন ১৯৬২। ৪৪ বছর আগে বইটি লেখা হয়েছিল। অর্থাৎ বইটির বয়স মেয়েটির দিগুণ। তা-ই তো হওয়ার কথা। যেসব বইয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হয়, তারা তো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অসমবয়সি সম্পর্কের অংশীদার।”
―
“– ‘সে যদি তোমাকে অগ্নিতে ফেলে মারে?’
বিনা চেষ্টায় মরে যাব একেবারে
— ‘সে যদি তোমাকে মেঘে দেয় উত্থান?’
বৃষ্টিতে, আমি বৃষ্টিতে খানখান
— ‘সে যদি তোমাকে পিষে করে ধুলোবালি?’
পথ থেকে পথে উড়ে উড়ে যাব খালি
— ‘উড়বে?– আচ্ছা, ছিঁড়ে দেয় যদি পাখা?’
পড়তে পড়তে ধরে নেব ওর শাখা
— ‘যদি শাখা থেকে নীচে ফেলে দেয় তোকে?’
কী আর করব? জড়িয়ে ধরব ওকেই
বলো কী বলব, আদালত, কিছু বলবে কি এরপরও?
— ‘যাও, আজীবন অশান্তি ভোগ করো!”
― আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো
বিনা চেষ্টায় মরে যাব একেবারে
— ‘সে যদি তোমাকে মেঘে দেয় উত্থান?’
বৃষ্টিতে, আমি বৃষ্টিতে খানখান
— ‘সে যদি তোমাকে পিষে করে ধুলোবালি?’
পথ থেকে পথে উড়ে উড়ে যাব খালি
— ‘উড়বে?– আচ্ছা, ছিঁড়ে দেয় যদি পাখা?’
পড়তে পড়তে ধরে নেব ওর শাখা
— ‘যদি শাখা থেকে নীচে ফেলে দেয় তোকে?’
কী আর করব? জড়িয়ে ধরব ওকেই
বলো কী বলব, আদালত, কিছু বলবে কি এরপরও?
— ‘যাও, আজীবন অশান্তি ভোগ করো!”
― আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো
“কবে কবে কোথায় কোথায়
এসব কথার কি প্রয়োজন?
সামলে চলো, সামলে চলো
বার্তা দিচ্ছে প্রহরীজন।
সামলে চলার প্রশ্নই নেই
প্রেমের কাছে শাসন তুচ্ছ,
এনে দিচ্ছি প্রহরীদের
মারের মুখের উপর দিয়ে-
তোমাকে এই ফুলের গুচ্ছ।”
― ঘুমিয়েছো, ঝাউপাতা?
এসব কথার কি প্রয়োজন?
সামলে চলো, সামলে চলো
বার্তা দিচ্ছে প্রহরীজন।
সামলে চলার প্রশ্নই নেই
প্রেমের কাছে শাসন তুচ্ছ,
এনে দিচ্ছি প্রহরীদের
মারের মুখের উপর দিয়ে-
তোমাকে এই ফুলের গুচ্ছ।”
― ঘুমিয়েছো, ঝাউপাতা?
“কিন্তু মানুষ তো কেবল নিজের লেখা সম্পর্কে "ভালো" শুনতেই চায়! আমিও তো সেরকমই চাইতাম। কেবলই নিজের সম্পর্কে ভালো কথা শুনতে চাইবার মনটাকে নিভিয়ে ফেলবার জন্য প্রত্যেকদিন একটা কঠোর রেওয়াজ করে চলতে হয়। তার পরিশ্রমও আছে। নিজের সম্পর্কে সেই "ভালো" কথা শুনবার ইচ্ছেটাকে সত্যি-সত্যি যদি নিভিয়ে ফেলা যায়, তবে যা বাকি থাকে তা আনন্দ। অপরিসীম আনন্দ। সেই সঙ্গে খুব ফ্রি লাগে নিজেকে। একটা মুক্তি। লেখার মধ্যে থাকার আনন্দটা তখন পাওয়া যায় বেশি করে। সেই ইচ্ছেটাকে অবশ্য চিরতরে নিভিয়ে ফেলা যায় না। কয়েকদিন পরেই সে আবার কোথা থেকে এসে হাজির হয়। তখন বোঝা যায়, রেওয়াজে ফাঁকি পড়েছে।”
― গোঁসাইবাগান ৩
― গোঁসাইবাগান ৩
“পরমুখাপেক্ষী দিন, কালো সূত্রপাত, মুখনাড়া—
হয়তো প্রকাশ্য নয়, ভিক্ষা তবু, হাতপাতা তবু
একদিন একদিন ক'রে ঋণ যায় দানের মকুবে
অমানী অক্রোধী দিন, অপ্রবাসী ভাড়ার বাড়িতে
পিছনে উচ্ছেদপত্র, দুয়ারে প্রস্তুত ঠেলাগাড়ি
তবুও ছপ্পড় ফুঁড়ে প্রেম আসে গরিবের বাড়ি”
― আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো
হয়তো প্রকাশ্য নয়, ভিক্ষা তবু, হাতপাতা তবু
একদিন একদিন ক'রে ঋণ যায় দানের মকুবে
অমানী অক্রোধী দিন, অপ্রবাসী ভাড়ার বাড়িতে
পিছনে উচ্ছেদপত্র, দুয়ারে প্রস্তুত ঠেলাগাড়ি
তবুও ছপ্পড় ফুঁড়ে প্রেম আসে গরিবের বাড়ি”
― আজ যদি আমাকে জিগ্যেস করো
“এমন অন্ধ গর্তে পড়ে যাই সময় সময়। বাতাস থেকে শুধু ছাই ঝরছে মনে হয়। তখন কবিতাও যেন সান্ত্বনা দেয় না। কালো হয়ে থাকে মন। তবু আমার মন কালো হয়ে গিয়েছে বলেই তো আর কবিতাগুলো মলিন হয়ে যেতে পারে না। তাদের মধ্যে দ্বিপ্রহরের রৌদ্রালোক তেমনই জ্বলতে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে একদিন সেই অন্ধকার গুহা থেকে হয়তো বেরিয়ে আসার শক্তি পাই আমি। আলো পড়ে মনে। আবার লোক চলাচল শুরু হয় আমার মধ্যে। সেই গুহার বাইরে এসে দেখি, কবিরা ঠিকই দাঁড়িয়ে আছেন এই চরাচরের চারিদিকে। তাঁদের গান, কবিতা নিয়ে। আমি অন্ধকারে ছিলাম বলেই তো আর জগতের জ্যোতির্ময় কবিতা সমুদয় নষ্ট হয়ে যায়নি।”
―
―




