জার্নাল-০৭
গুডরিডসের পাতায় পাতায় সময় কাটানো কমে গেছে আজকাল।
ব্যক্তিগত অজস্র কারণে সামনের দিনে বহুবার ফিরে দেখতে হবে প্রয়াত ২০১৮-কে। কিন্তু সে সব স্মৃতির মার্বেল আর বিস্মৃতির রুক্ষ পাথরের সামনে থেকে ম্যাট্রিক্সের নিও’র মতো লাফঝাঁপ মেরে সরে গিয়ে, বিগত বছরটিকে আমি মনে রাখতে চাই অন্য একটি কারণে। উপন্যাসকে নতুন করে চিনতে শেখানোয়।
প্রাণিজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব স্থাপন করে পৃথিবীটাকে নিজেদের করে নেওয়ার অভিযানে স্বার্থপর মানুষকে সাহায্য করেছে তার মুখ নিঃসৃত ভাষার দুটি আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য। প্রথমটি হচ্ছে তার ভাষার সুবিশাল শব্দ সম্ভার; আর দ্বিতীয়টি, তার মিথ্যা বলার ক্ষমতা। নিয়েন্ডারথলের পরাজয় থেকে শুরু করে সাদাত মান্টোর বাটোয়ারা পর্যন্ত, মানুষের অসভ্যতার অগ্রযাত্রা এগিয়েছে শব্দ আর কল্পনায় ভর করে। এবং ব্যাপারটা মোটেই কাকতালীয় নয়,যে উপন্যাস নিজে শব্দ আর কল্পনার সবচেয়ে বড় সম্মিলন।
কাহিনীর প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরকালের,গল্প তাই মানুষ শুনে এসেছে উপন্যাসের বহু আগে থেকেই। কবিরা শ্লোক বেঁধেছেন,গীতিকাব্য ছড়িয়ে পড়েছে জনপদ থেকে জনপদে, নাটকের অভিনয়ের মধ্যে দিয়েও প্রবাহিত হয়েছে মানুষের গল্প। কিন্তু সার্ভান্তেসের হাত ধরে ডন কুইক্সোট যেদিন চেপে বসলেন রোজিন্যান্টের পিঠে, আধুনিক মানুষ আবিষ্কার করলো কথাসাহিত্যের এই প্রকরণে তার দুই আদিমতম বন্ধু, শব্দ এবং কল্পনা, হাজির হয়েছে চূড়ান্ত উৎকর্ষ নিয়ে। নাটকের পূর্ণস্বাদ পেতে হলে সঙ্গত দিতে হয় অভিনয়কে, গীতিকাব্যে প্রয়োজন হয় গাতকের উপস্থাপন, গানের ক্ষেত্রে সঙ্গে থাকতে হয় সুরের মূর্ছনা। কিন্তু উপন্যাস? তার প্রয়োজন শুধু শব্দ আর কল্পনা। শুধুই পাঠক আর লেখক, মাঝখানে আর কাউকে প্রয়োজন নেই। আর সত্যিকারের এক একটা উপন্যাসের সামনে পাঠক যখন বসে, তার অস্তিত্বের সমস্ত ফাঁক-ফোকর দিয়ে তখন ঢুকে পড়ে শব্দ আর কল্পনা। পাঠক তখন মানুষ হিসেবে আরেকটু ভরাট হয়ে ওঠে।
নানা রকমের উপযোগিতা আছে উপন্যাসের। কিন্তু একটা, মাত্র একটা সাধারণ উপায়েই চিহ্নিত করা যায় উপন্যাসের কাছে মানুষের চাহিদা। মানুষ শুনতে চায় এমন কোনো গল্প, যে গল্পে সে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারে; অথচ সেখানে কাহিনির পরিণতি তার ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে ভিন্ন।
নেটফ্লিক্স আর ফলোয়ার প্রতিযোগিতার এই রেসিং ট্র্যাক সময়ে দাঁড়িয়ে আজ তাই কেবলই মনে হয়, উপন্যাসকে একটু বুঝবার জন্য আমায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আরো অনেকক্ষণ। গুডরিডসের পাতায় ঝোলানো প্রতিজ্ঞাকে ইদানিং তাই খুব অহেতুক লাগে।
ব্যক্তিগত অজস্র কারণে সামনের দিনে বহুবার ফিরে দেখতে হবে প্রয়াত ২০১৮-কে। কিন্তু সে সব স্মৃতির মার্বেল আর বিস্মৃতির রুক্ষ পাথরের সামনে থেকে ম্যাট্রিক্সের নিও’র মতো লাফঝাঁপ মেরে সরে গিয়ে, বিগত বছরটিকে আমি মনে রাখতে চাই অন্য একটি কারণে। উপন্যাসকে নতুন করে চিনতে শেখানোয়।
প্রাণিজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব স্থাপন করে পৃথিবীটাকে নিজেদের করে নেওয়ার অভিযানে স্বার্থপর মানুষকে সাহায্য করেছে তার মুখ নিঃসৃত ভাষার দুটি আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য। প্রথমটি হচ্ছে তার ভাষার সুবিশাল শব্দ সম্ভার; আর দ্বিতীয়টি, তার মিথ্যা বলার ক্ষমতা। নিয়েন্ডারথলের পরাজয় থেকে শুরু করে সাদাত মান্টোর বাটোয়ারা পর্যন্ত, মানুষের অসভ্যতার অগ্রযাত্রা এগিয়েছে শব্দ আর কল্পনায় ভর করে। এবং ব্যাপারটা মোটেই কাকতালীয় নয়,যে উপন্যাস নিজে শব্দ আর কল্পনার সবচেয়ে বড় সম্মিলন।
কাহিনীর প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরকালের,গল্প তাই মানুষ শুনে এসেছে উপন্যাসের বহু আগে থেকেই। কবিরা শ্লোক বেঁধেছেন,গীতিকাব্য ছড়িয়ে পড়েছে জনপদ থেকে জনপদে, নাটকের অভিনয়ের মধ্যে দিয়েও প্রবাহিত হয়েছে মানুষের গল্প। কিন্তু সার্ভান্তেসের হাত ধরে ডন কুইক্সোট যেদিন চেপে বসলেন রোজিন্যান্টের পিঠে, আধুনিক মানুষ আবিষ্কার করলো কথাসাহিত্যের এই প্রকরণে তার দুই আদিমতম বন্ধু, শব্দ এবং কল্পনা, হাজির হয়েছে চূড়ান্ত উৎকর্ষ নিয়ে। নাটকের পূর্ণস্বাদ পেতে হলে সঙ্গত দিতে হয় অভিনয়কে, গীতিকাব্যে প্রয়োজন হয় গাতকের উপস্থাপন, গানের ক্ষেত্রে সঙ্গে থাকতে হয় সুরের মূর্ছনা। কিন্তু উপন্যাস? তার প্রয়োজন শুধু শব্দ আর কল্পনা। শুধুই পাঠক আর লেখক, মাঝখানে আর কাউকে প্রয়োজন নেই। আর সত্যিকারের এক একটা উপন্যাসের সামনে পাঠক যখন বসে, তার অস্তিত্বের সমস্ত ফাঁক-ফোকর দিয়ে তখন ঢুকে পড়ে শব্দ আর কল্পনা। পাঠক তখন মানুষ হিসেবে আরেকটু ভরাট হয়ে ওঠে।
নানা রকমের উপযোগিতা আছে উপন্যাসের। কিন্তু একটা, মাত্র একটা সাধারণ উপায়েই চিহ্নিত করা যায় উপন্যাসের কাছে মানুষের চাহিদা। মানুষ শুনতে চায় এমন কোনো গল্প, যে গল্পে সে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারে; অথচ সেখানে কাহিনির পরিণতি তার ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে ভিন্ন।
নেটফ্লিক্স আর ফলোয়ার প্রতিযোগিতার এই রেসিং ট্র্যাক সময়ে দাঁড়িয়ে আজ তাই কেবলই মনে হয়, উপন্যাসকে একটু বুঝবার জন্য আমায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আরো অনেকক্ষণ। গুডরিডসের পাতায় ঝোলানো প্রতিজ্ঞাকে ইদানিং তাই খুব অহেতুক লাগে।
Published on January 06, 2019 02:53
No comments have been added yet.


