Goodreads helps you follow your favorite authors. Be the first to learn about new releases!
Start by following সৈয়দ শামসুল হক.
Showing 1-13 of 13
“বাক্যটি আজ পর্যন্ত ভুলতে পারে নি বাবর। যে লিখেছে জগৎ সে চিনে। যে লিখেছে সে নিজে প্রতারিত। পৃথিবী সম্পর্কে তার একটিমাত্র মন্তব্য বাথরুমের দেয়ালে সে উৎকীর্ণ করে রেখেছে- খেলারাম খেলে যা।
কতদিন বাবর কানে স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে কথাটা।”
― খেলারাম খেলে যা
কতদিন বাবর কানে স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে কথাটা।”
― খেলারাম খেলে যা
“তবুও ভালোবেসে ভীষণ সুখ আছে, পতনে আছে তবু সিদ্ধি,
তবুও ক্ষত নেই পায়ের গোড়ালিতে তোমার কাঁটাবনে হাঁটলেও ;
তোমারই কীর্তি এ, তুমিই দিতে পারো দু'হাতে বিপরীত অর্জন—
বিষাদ ও পূর্ণিমা, তুষার ও পলিমাটি, নশ্বরতা আর নির্বাণ।”
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
তবুও ক্ষত নেই পায়ের গোড়ালিতে তোমার কাঁটাবনে হাঁটলেও ;
তোমারই কীর্তি এ, তুমিই দিতে পারো দু'হাতে বিপরীত অর্জন—
বিষাদ ও পূর্ণিমা, তুষার ও পলিমাটি, নশ্বরতা আর নির্বাণ।”
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
“ভরসা দিতে পারি, তুমি আমাকে পছন্দ করবে । কেন করবে না? আমার বীজ ভালো। আমার রক্ত শুদ্ধ। রমণী স্বয়ং উদ্যোগী হলে অবশ্যই আমাতে তৃপ্ত হতে পারবে। আমি কি তোমাকে আকৃষ্ট করি? আমি তোমোয় সন্তান দিতে পারব। উত্তম বীজ উত্তম ফসল। তোমার সন্তান খাঁটি মুসলমান হবে, খোদার ওপর ঈমান রাখবে, আন্তরিক পাকিস্তানি হবে, চাও না সেই সন্তান? আমরা সেই সন্তান তোমাদের দেব, তোমাকে দেব, তোমার বোনকে দেব, তোমার মাকে দেব, যারা হিন্দু নয়, বিশ্বাসঘাতক নয়, অবাধ্য নয়, আন্দোলন করে না, শ্লোগান দেয় না, কমিউনিস্ট হয় না। জাতির এই খেদমত আমরা করতে এসেছি। তোমাদের রক্ত শুদ্ধ করে দিয়ে যাব, তোমাদের গর্ভে খাঁটি পাকিস্তানি রেখে যাব, ইসলামের নিশান উড়িয়ে যাব। তোমরা কৃতজ্ঞ থাকবে, তোমরা আমাদের পথের দিকে তাকিয়ে থাকবে, তোমরা আমাদের সুললিত গান শোনাবে।”
―
―
“আমি তো দেখিনি চাঁদ কুয়াশায় অবিশ্বাস্য ফানুসের মতো,
ছিঁড়েও আনিনি কোনো লোকশ্রুত দর্শনের ফল,
অথবা যাইনি কারো ঘুমের সংসারে
অনন্তর ঘুম যাবো বলে—
অধিকন্তু পিতৃপুরুষের
অলৌকিক সমর্পণে রাখিনি বিশ্বাস,
আমি কি বিবিক্ত শব জীবিতের মন্দ্র কোলাহলে?”
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
ছিঁড়েও আনিনি কোনো লোকশ্রুত দর্শনের ফল,
অথবা যাইনি কারো ঘুমের সংসারে
অনন্তর ঘুম যাবো বলে—
অধিকন্তু পিতৃপুরুষের
অলৌকিক সমর্পণে রাখিনি বিশ্বাস,
আমি কি বিবিক্ত শব জীবিতের মন্দ্র কোলাহলে?”
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
“কিছু নেই বিস্ময়ের, গ্রন্থ যদি কাটে শুধু কীটে।”
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
“বস্তুতপক্ষে আঘাত বিনা প্রতিরোধ একটি অসম্ভব প্ৰস্তাব। বীভৎস বাস্তবের বিপরীতে গীতময় স্বপ্ন অথবা বধির দুঃস্বপ্নের বিপরীতে রৌদ্র ঝলসিত বাস্তব; মানুষকে এই বিপরীত ধারণ করতেই হয় এবং তার ভূমিকা, অন্তত এতে আর সন্দেহ থাকার কথা নয়, এক ব্যায়াম প্রদর্শকের, যে আয়নায় আপনারই প্ৰতিবিম্বের সমুখে একটি ইস্পাত খণ্ডকে বাকিয়ে তার দুই বিপরীত প্ৰান্ত নিকটতর করে আনবার পর অবসর কিংবা করতালি পায় না, অচিরে দ্বিতীয় ইস্পাত খণ্ড তার হাতে পৌঁছে যায়।”
―
―
“অবলম্বনহীন দ্বিতলের মতো, অসংলগ্ন মেঘ ও চিত্রকণার মতো, অসম আকার ও গতিবেগের মতো এই বর্তমান অন্তঃস্থলে স্থির কিন্তু ভবিষ্যতের দিকে স্থাপিত। মানুষ তার নিগঢ় শক্তির সংবাদ রাখে না। যে সারল্য সে লালন করে তা কাচের মতো ভংগুর এবং একমাত্র হীরক, কঠিনতম পদার্থই তাকে দ্বিখণ্ডিত করতে পারে। তখন সারল্যের অংশগুলো বিস্মৃতির ভেতরে দ্রবীভূত হয়ে যায়।”
―
―
“মানুষ এমন ভাবে বদলায়া যায়, ক্যান যায়?
পুন্নিমার চান হয় অমাবস্যা কিভাবে আবার?
সাধের পিনিস ক্যান রঙচটা রদ্দুরে শুকায়?
সিন্দুরমতির মেলা হয় ক্যান বিরান পাথার?
মানুষ এমন তয়, একবার পাইবার পর
নিতান্ত মাটির মনে হয় তার সোনার মোহর।”
―
পুন্নিমার চান হয় অমাবস্যা কিভাবে আবার?
সাধের পিনিস ক্যান রঙচটা রদ্দুরে শুকায়?
সিন্দুরমতির মেলা হয় ক্যান বিরান পাথার?
মানুষ এমন তয়, একবার পাইবার পর
নিতান্ত মাটির মনে হয় তার সোনার মোহর।”
―
“কেউ কারো মতো হয় না। আমরা নিজের মতো
কাউকে অনবরত খুঁজি বলেই
অপ্রমেয় দুঃখের সমুদ্র
চতুর্দিকে ফোঁপায়
আর আমরা সারাদিন সারারাত নারকোল পাতায়
কান্নার বাতাস বাজিয়ে দ্বীপের মতো জেগে থাকি।”
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
কাউকে অনবরত খুঁজি বলেই
অপ্রমেয় দুঃখের সমুদ্র
চতুর্দিকে ফোঁপায়
আর আমরা সারাদিন সারারাত নারকোল পাতায়
কান্নার বাতাস বাজিয়ে দ্বীপের মতো জেগে থাকি।”
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
“কবিতার জন্যে সত্যিই যদি কারো টান থাকে তো, কবিতা সে কেবল পড়তেই চাইবে না, কবিতার ভেতরে সে নিঃশ্বাস নিতে চাইবে। কবিতা যাকে স্পর্শ করে সে আসলে জীবনেরই স্পর্শ পায়। কবিতায় যে বাঁচে, জীবনেও সে বাঁচে। দুঃখময় কবিতাও আমাদের গভীর অর্থে সুখী করে।”
― মার্জিনে মন্তব্য
― মার্জিনে মন্তব্য
“স্মৃতির চেয়ে সম্পদ আর কী আছে? জনপদে এখন কণ্টিকারী ও গুল্মলতার বিস্তার, শস্য অকালমৃত, ফল কীটদষ্ট, ইদারা জলশূন্য। সড়কগুলো শ্বাপদেরা ব্যবহার করে এবং মানুষ অরণ্যে লুকোয়। দিন এখন ভীত করে, রাত আশ্বস্ত করে। বাতাস এখনো গন্ধবাহ, তবে কুসুমের নয়, মৃত মাংসের। তবু, স্মৃতি বিনষ্ট অথবা নিঃশেষে ধৌত নয়। রমণীর গর্ভ বন্ধ্যা নয়। পুরুষের বীর্য ব্যৰ্থ নয়। গ্রন্থগুলো দগ্ধ নয়। প্ৰতিভা অন্তর্হিত নয়। মানুষ সেই লুষ্ঠিত জনপদেই স্মৃতি বীজের বাগান আবার করে।”
―
―
“একদা দালান ভাঙে, দেহ ভাঙে, রাষ্ট্র ভাঙে,
বিষদাঁত— তাও ভেঙে যায়—
মানুষ, যে মানুষ এতটা আপনার কাছে বাসা নিয়েছিল
সেই মানুষের কাছে আপনার মুখের ছবিটি একদিন নিঃশব্দে মিলায়।”
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
বিষদাঁত— তাও ভেঙে যায়—
মানুষ, যে মানুষ এতটা আপনার কাছে বাসা নিয়েছিল
সেই মানুষের কাছে আপনার মুখের ছবিটি একদিন নিঃশব্দে মিলায়।”
― শ্রেষ্ঠ কবিতা
“নিশ্চয় আমি মাটি থেকে মানুষকে উৎপন্ন করেছি। মাটি ভিন্ন মানুষের মৌলিক কোনো অভিজ্ঞতা নয়। এবং প্রত্যাবর্তনের সুদূরতম সম্ভাবনা নেই জেনেও মানুষ মাটির সঙ্গেই তার শ্রেষ্ঠতম সংলাপগুলো উচ্চারণ করে যায়। বস্তৃত উচ্চারণও মাটির তীব্র আকর্ষণ থেকেই কাতর কিংবা সুখের, যোগ অথবা বিয়োগ ধ্বনির–নামান্তর। জননীর কাছে পুত্ৰশোকও কালক্রমে সহনীয় হয়ে যায়, ইউলেসিস অমরত্ব লাভের প্ৰস্তাব হেলায় উপেক্ষা করে ফিরে আসে অনুর্বর ইথাকার।
মৃতদেহ আমরা সেই মাটিতে ফিরিয়ে দেব, নতজানু হয়ে মুঠো মুঠো মাটিতে ঢেকে দেব তাদের দেহ, আমরা কেশ মার্জনা করব না, আমরা মুখ সংস্কার করব না, জীবিত এই দেহে মাটির প্রলেপ ধারণ করে আমরা বিপন্ন বাস্তবের ভেতর দিয়ে জনপদের দিকে ফিরে যাব।”
―
মৃতদেহ আমরা সেই মাটিতে ফিরিয়ে দেব, নতজানু হয়ে মুঠো মুঠো মাটিতে ঢেকে দেব তাদের দেহ, আমরা কেশ মার্জনা করব না, আমরা মুখ সংস্কার করব না, জীবিত এই দেহে মাটির প্রলেপ ধারণ করে আমরা বিপন্ন বাস্তবের ভেতর দিয়ে জনপদের দিকে ফিরে যাব।”
―




