Shankar Sen > Shankar's Quotes

Showing 1-30 of 136
« previous 1 3 4 5
sort by

  • #1
    Malay Roy Choudhury
    “Shubha let me sleep for a few moments in your violent silvery uterus

    Give me peace, Shubha, let me have peace

    Let my sin-driven skeleton be washed anew in your seasonal bloodstream

    Let me create myself in your womb with my own sperm

    Would I have been like this if I had different parents?

    Was Malay alias me possible from an absolutely different sperm?

    Would I have been Malay in the womb of other women of my father?

    Would I have made a professional gentleman of me like my dead brother without Shubha?

    Oh, answer, let somebody answer these

    Shubha, ah, Shubha

    Let me see the earth through your cellophane hymen

    Come back on the green mattress again

    As cathode rays are sucked up with the warmth of magnet's brilliance

    I remember the letter of the final decesion of 1956

    The surroundings of your clitoris were being embellished with coon at that time

    Fine rib-smashing roots were descending into your bosom

    Stupid relationship inflted in the bypass of senseless neglect

    Aaaaaaaaaaaaaaaaaaaah

    I do not know whether I am going to die

    Squandering was roaring within heart's exhaustive impatience

    I'll disrupt and destroy

    I'll split all into pieces for the sake of Art

    There isn't any other way out for poetry except suicide

    Shubha

    Let me enter into the immemorial incontinence of your labia majora

    Into the absurdity of woeless effort

    In the golden chlorophyll of the drunken heart

    Why wasn't I lost in my mother's urethra?

    Why wasn't I driven away in my father's urine after his self-coition?

    Why wasn't I mixed in the ovum-flux or in the phlegm?

    With her eyes shut supine beneath me

    I felt terribly distressed when I saw comfort seize Shubha

    Women could be treacherous even after unfolding a helpless appeareance

    Today it seems there is nothing so treacherous as Women and Art

    Now my ferocious heart is rinning towards an impossible death

    Vertigoes of water are coming up to my neck from the pierced earth

    I will die

    Oh what are these happening within me?

    I am failing to fetch out my hand and my palm

    From the dried sperms on my trousers spreading wings

    300000 children are gliding toward the district of Shubha's bosom

    Millions of needles are now running from my blood into Poetry

    Now the smuggling of my obstinate leg is trying to plunge

    Into the death killer sex-wig entangled in the hypnotic kingdom of words

    In violent mirrors on each wall of the room I am observing

    After letting loose a few naked Malay, his unestablished scramblings.”
    Malay Roy Choudhury, Selected Poems

  • #2
    “আমি যে কিনা উচ্চিংড়ের স্বরলিপিতে গাওয়া ফুসফাসুরে গান
    বেড়াজালের হাজার যোনি মেলে ধরে রেখেছি ইলশেঝাঁকের বর্ণালী
    স্বদেশী আন্দোলনের লাশঝোলা স্মৃতির গাবগাছের পাশের ঝোপে শুকপোকায় কুরে খাওয়া লেবুপাতার পারফিউমড কিনার বরাবর
    পাথরকুচি কারখানা-মালিকের ঘাড়-কামানো পাহাড় থেকে উড়ছি”
    মলয় রায়চৌধুরী ( Malay Roychoudhury )

  • #3
    Malay Roy Choudhury
    “God will come barefoot
    looking for his lost shoe
    eaten up by pseudo sons
    waiting with charts of Obituary
    at every unreal heart-scope
    while volcanoes gather around me
    ( Selected Poems of Malay Roychoudhury )”
    Malay Roychoudhury

  • #4
    Malay Roy Choudhury
    “Who claims I am ruined ? Because I am without fangs & claws ?
    Are they necessary ? How do you forget the knife
    plunged in abdomen up to the hilt ? Green Cardamom leaves for the buck, art of hatred & anger
    and of war !”
    Malay Roy Choudhury, Selected Poems

  • #5
    Malay Roy Choudhury
    “MANIFESTO OF THE HUNGRY GENERATION

    Poetry is no more a civilizing maneuver, a replanting of the bamboozled gardens; it is a holocaust, a violent and somnambulistic jazzing of the hymning five, a sowing of the tempestual Hunger.

    Poetry is an activity of the narcissistic spirit. Naturally, we have discarded the blankety-blank school of modern poetry, the darling of the press, where poetry does not resurrect itself in an orgasmic flow, but words come out bubbling in an artificial muddle. In the prosed- rhyme of those born-old half-literates, you must fail to find that scream of desperation of a thing wanting to be man, the man wanting to be spirit.

    Poetry of the younger generation too has died in the dressing room, as most of the younger prosed -rhyme writers, afraid of the Satanism, the vomitous horror, the self-elected crucifixion of the artist that makes a man a poet, fled away to hide in the hairs.

    Poetry from Achintya to Ananda and from Alokeranjan to Indraneel, has been cryptic, short-hand, cautiously glamorous, flattered by own sensitivity like a public school prodigy. Saturated with self-consciousness, poems have begun to appear from the tomb of logic or the bier of unsexed rhetoric.

    Published by Haradhon Dhara from 269 Netaji Subhas Road, Howrah, West Beng”
    Malay Roychoudhury

  • #6
    Malay Roy Choudhury
    “হাংরি আন্দোলনের প্রথম বাংলা ইশতাহার
    -----------------------------------------------
    “কবিতা এখন জীবনের বৈপরীত্যে আত্মস্হ । সে আর জীবনের সামঞ্জস্যকারক নয়, অতিপ্রজ অন্ধ বল্মীক নয়, নিরলস যুক্তিগ্রন্হন নয় । এখন, এই সময়ে, অনিবার্য গভীরতার সন্তৃস্তদৃক ক্ষুধায় মানবিক প্রয়োজন এমনভাবে আবির্ভূত যে, জীবনের কোনো অর্থ বের করার প্রয়োজন শেষ । এখন প্রয়োজন অনর্থ বের করা, প্রয়োজন মেরু বিপর্যয়, প্রয়োজন নৈরাত্মসিদ্ধি । প্রাগুক্ত ক্ষুধা কেবল পৃথিবীবিরোধিতার নয়, তা মানবিক, দৈহিক এবং শারীরিক । এ ক্ষুধার একমাত্র লালনকর্তা কবিতা, কারণ কবিতা ব্যতীত আর কী আছে জীবনে ! মানুষ, ঈশ্বর, গণতন্ত্র এবং বিজ্ঞান পরাজিত হয়ে গেছে । কবিতা এখন একমাত্র আশ্রয় ।

    কবিতা থাকা সত্বেও, অসহ্য মানবজীবনের সমস্ত প্রকার অসম্বদ্ধতা । অন্তরজগতের নিষ্কুন্ঠ বিদ্রোহে, অন্তরাত্মার নিদারুণ বিরক্তিতে, রক্তের প্রতিটি বিন্দুতে রচিত হয় কবিতা — উঃ, তবু মানবজীবন কেন এমন নিষ্প্রভ ! হয়তো, কবিতা এবং জীবনকে ভিন্নভাবে দেখতে যারা অভ্যস্ত, তাদের অপ্রয়োজনীয় অস্তিত্ব এই সংকটের নিয়ন্ত্রক ।

    কবিতা বলে যাকে আমরা মনে করি, জীবনের থেকে মোহমুক্তির প্রতি ভয়ংকর আকর্ষণের ফলাফল তা কেবল নয় । ফর্মের খাঁচায় বিশ্বপ্রকৃতির ফাঁদ পেতে রাখাকে আর কবিতা বলা হয় না । এমন কি, প্রত্যাখ্যাত পৃথিবী থেকে পরিত্রাণের পথরূপেও কবিতার ব্যবহার এখন হাস্যকর । ইচ্ছে করে, সচেতনতায়, সম্পূর্ণরূপে আরণ্যকতার বর্বরতার মধ্যে মুক্ত কাব্যিক প্রজ্ঞার নিষ্ঠুরতার দাবির কাছে আত্মসমর্পণই কবিতা । সমস্ত প্রকার নিষিদ্ধতার মধ্যে তাই পাওয়া যাবে অন্তর্জগতের গুপ্তধন । কেবল, কেবল কবিতা থাকবে আত্মায় ।
    ( মলয় রায়চৌধুরী লিখিত )”
    Malay Roy Choudhury

  • #7
    “কবিতার বিষয়বস্তু আমি, আমিই ভাঙাচোরা খেতখামার, আমিই সিসমোগ্রাফ, বলেছেন মলয় রায়চৌধুরী । তাঁকে আমার ঋষি বলেই মনে হয় --- সুবোধ সরকার”
    মলয় রায়চৌধুরী ( Malay Roychoudhury )

  • #8
    “And then, I met him , Malay Roychoudhury, and a strange fear gripped me. Frankly, I am dead scared of such people. There is a community of artists who’re too real in their artistry. This class that charts names like, Allen Ginsberg, Amy Winehouse, Kurt Cobain and many others are Art Extremists, a term I’ve coined for them. They exert an irresistible attraction towards the opposite sex, who’re drawn to the edgy and dangerous involvement they have with their art and times. Pablo Picasso is often compared to the Minataur, the half man-half monster. Like the Minataur he demanded women to be ‘sacrificed’ to him, a view that is corroborated in his tumultuous personal life, that left behind a trail of agonized wives, mistresses and children. Malay Roychoudhury told me of a woman who was 20 years his junior and who had threatened him with suicide if he didn’t marry her. She kept her promise and drank toilet-acid.”
    Sreemanti Sengupta, First Person

  • #9
    “মানুষের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই


    না, মানুষের সঙ্গে আমার আর বিরোধ নেই কোন–
    এখন পাওনাদার দুর্ঘটনায় পড়লে তাকে নিয়ে যেতে পারি হাসপাতালে
    প্রাক্তন প্রেমিকার স্বামীর কাছ থেকে অনায়াসে চাইতে পারি চার্মিনার
    দাড়ি গজানোর মতো অনায়াস এ জীবনে আমি
    রামকৃষ্ণের কালিপ্রেমে দেখি সার্বভৌম যৌনশান্তি
    বাবলিদের স্বামীপ্রেমে দেখি সার্বজনীন যৌনসুখ
    একটা চটি হারিয়ে গেলে আমি কিনে ফেলি এক জোড়া নতুন চপ্পল
    না, মানুষের সঙ্গে আমার আর বিরোধ নেই কোন
    বোনোর বুকের থেকে সরে যায় আমার অস্বস্তিময় চোখ
    আমি ভাইফোঁটার দিন হেঁটে বেড়াই বেশ্যাপাড়ায়
    আমি মরে গেলে দেখতে পাব জন্মান্তরের করিডোর
    আমি জন্মাবার আগের মুহূর্তে আমি জানতে পারিনি আমি জন্মাচ্ছি
    আমি এক পরিত্রাণহীন নিয়তিলিপ্ত মানুষ
    আমি এক নিয়তিহীন সন্ত্রাসলিপ্ত মানুষ
    আমি দেখেছি আমার ভিতর এক কুকুর কেঁদে চলে অবিরাম
    তার কুকুরীর জন্যে এক সন্ন্যাসী তার সন্ন্যাসিনীর স্বেচ্ছাকৌমার্য
    নষ্ট করতে হয়ে ওঠে তৎপর লম্পট আর সেই লাম্পট্যের কাছে
    গুঁড়ো হয়ে যায় এমনকী স্বর্গীয় প্রেম– শেষ পর্যন্ত আমি
    কবিতার ভেতর ছন্দের বদলে জীবনের আনন্দ খোঁজার পক্ষপাতী
    তাই জীবনের সঙ্গে আমার কোন বিরোধ নেই– মানুষের সঙ্গে
    আমার কোন বিরোধ নেই”
    ফালগুনী রায় ( Falguni Roy )

  • #10
    “ভ্রমর বিহীন কিছু ফুল
    ভ্রমর বিহীন কিছু ফুল এখানেই ঝরেছিল রক্তের ভেতর
    আম্র রাজহাঁস স্বর্ণডিম্বপ্রসু রাজহাঁস এখানেই
    কাটা হয়েছিল- সুস্বাদু মাংসের গন্ধে পরিতৃপ্ত উনুন
    দেখেছিল আকাশের অন্তহীন উনুনের তাপে শীতের কার্ডিগান
    খুলে এক বালিকা দুই বুকে তার রেখেছে উত্তাপ
    তার পিকনিক পার্ডেনের কাছেই কাটা হয়েছিল রাজহাঁস আমার
    রক্তের ফুলগুলি ভ্রমর বিহীন ঝরে পড়েছিল সেদিন
    রাজহাঁস ও ফুল বিষয়ক কবিতাগুলি আমি
    মাংস রাঁধার জন্যই দিয়েছিলুম উনুনে
    সাধ ছিল সে বালিকা পাবে বটে মাংসের সুঘ্রাণ
    কারণ অনেক মাংস ঘেটেছি আমি
    আমি দেখেছি মাংসের বায়ু পিত্ত কফ দেখেছি
    এমনকি সত্ত্ব তম রজ এই তিনপ্রকার গুনও থাকে মাংসাশী শরীরে
    তবু আমি এক জরায়ু থেকে বেরিয়ে আরেক জঠরে
    খুঁজেছিলাম আমার সন্তানের মুখ-
    আমার মৃত পিতার শরীর দেখে আমি বুঝেছিলুম
    বেঁচে থাকা জরুরী আমার মা-র হতাশা দেখে
    বুঝেছিলাম মৃত্যুও দরকারী হতে পারে জীবনের
    তবু সকল জ্ঞানের পর কাঁটা ও কম্পাস বিহীন- আমি
    আমি এক বালিকার জন্যে কেটে ফেলি আমার রাজহাঁস
    কবিতার খাতা ঠেলে দিয়েছিলুম উনুনে এক বালিকার
    জন্যে আমার চৈতন্যের ক্রন্দন আমি দেখে ফেলি
    বীর্যরসে- তৎক্ষনাৎ আর দেরী নয় বলে
    আমি জড়িয়ে ধরি অশোক-ষষ্ঠীর দিন সেই বালিকার শরীর
    রক্তের ভেতর ভ্রমর বিহীন ফুলগুলি ফুটে ওঠে”
    ফালগুনী রায় ( Falguni Roy ), নষ্ট আত্মার টেলিভিসন

  • #11
    “এইখানে

    এইখানে সমুদ্র ঢুকে যায় নদীতে নক্ষত্র মেশে রৌদ্রে
    এইখানে ট্রামের ঘন্টীতে বাজে চলা ও থামার নির্দেশ
    এইখানে দাঁড়িয়ে চার্মিনার ঠোঁটে আমি রক্তের হিম ও ঊষ্ণতা
    ছুঁয়ে উঠে আসা কবিতার রহস্যময় পদধ্বনি শুনি-শুনি
    কবিতার পাশে আত্মার খিস্তি ও চীৎকার এইখানে
    অস্পষ্ট কু-আশার চাঁদ এইখানে ঝরে পড়ে গনিকার ঋতুস্রাবে

    এইখানে ৩২৩ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের কোন গ্রীকবীর রমন বা ধর্ষণের
    সাধ ভুলে ইতিহাসে গেঁথে দ্যায় শৌর্য ও বীর্য এইখানে
    বিষ্ণুপ্রিয়ার শরীরের নরম স্বাদ ভুলে একটি মানবী থেকে মানবজাতির দিকে
    চলে যায় চৈতন্যের উর্ধ্ববাহু প্রেম-সর্বোপরি
    ইতিহাস ধর্মচেতনার ওপর জেগে থাকে মানুষের উত্থিত পুরুষাঙ্গ এইখানে

    এইখানে কবর থেকে উঠে আসা অতৃপ্ত প্রেমিকের কামদগ্ধ
    কয়েকলক্ষ উপহাসের মুখোমুখি বেড়ে ওঠে আমার উচ্চাশা এইখানে
    প্রকৃত প্রশ্নিল চোখে চোখ পড়লে কুঁকড়ে যায় আমার হৃদপিণ্ড এইখানে
    এইখানে সশ্রদ্ধ দৃষ্টির আড়ালে যাবার জন্য পা বাড়াতে হয়

    আমি নারী মুখ দ্যাখার ইচ্ছায় মাইলের পর মাইল হেঁটে দেখি
    শুধু মাগীদের ভিড়
    সাতাশ বছর-একা একা সাতাশ বছর বেক্তিগত বিছানায় শুয়ে দেখি
    মেধাহীন ভবিষ্যৎ জরাগ্রস্ত স্নায়ুমণ্ডলীর পাশে কবিদের কবির কবিতা
    চারিধারে ঢিবি দেওয়ালের নীরেট নিঃশক্ত অন্ধকার।”
    ফালগুনী রায় ( Falguni Roy ), নষ্ট আত্মার টেলিভিসন

  • #12
    “ভালোবাসা এক অলঙ্কৃত অসুখের নাম...”
    Kripa Basu, দ্রাঘিমা ও প্রত্নবালিকা

  • #13
    “ছেড়ে যাওয়ার জন্য জড়িয়ে ধরাটা প্রয়োজন। যারা জড়ায়নি কখনো, তাদের একটা সময়ের পর ভুলে যাওয়াটা খুব সহজ, সাবানের গ্যাজার মতো। থিতিয়ে পড়লেই বুদবুদ শেষ, কিসসা খতম...

    যে গাছের উদ্ভাবনী ক্ষমতা কমে আসে, সে গাছের ডালে চিরকাল কাঠুরিয়া ঘর করে...

    আর যারা কসমসে জাপটে ধরে, তারা নির্মোহ ঘুমের ভেতর প্রচ্ছন্ন যন্ত্রনা হয়ে জেগে থাকে গোটা জীবন। যে ব্যথাটাকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করা যায়, অবসরে নখ দিয়ে খুঁটে ক্ষতটাকে গভীর করা যায়...

    আউলবাউল প্রেমের নেশায় ডুবতে থাকে শরীর,
    তোমরা ভাবো জ্বর,

    বুকের পারদ গললে পরেই,
    বুঝবে সবাই কেই বা আপন, কেই বা পর!

    ঘাড়ের ঠিক দুই ইঞ্চি নীচে গুণে গুণে পাঁচ মিনিট ধরে ফেলা কয়েকটা মুহূর্তের উষ্ণ নিঃশ্বাস, এই মরে মরে বেঁচে থাকা তুচ্ছ বেকার লাইফটাকে চির শ্বাশত করে দিয়ে যায়...

    কৃপা বসু”
    Kripa Basu, দ্রাঘিমা ও প্রত্নবালিকা

  • #14
    “গায়ে বুনোমাটির গন্ধওয়ালা বয়সে বেশ খানিক ছোট বা বড় ছেলেগুলো ভীষণ শান্ত, অথচ রাগী প্রকৃতির হয়, আদ্যোপান্ত সিগারেটে ডুবে থাকে সারাক্ষণ। কপালের প্রতিটা ভাঁজে ছেলেবেলায় ফেলে আসা কাঠের উনুন, ভাতের থালা, মায়ের সবজি কাটার বঁটি, স্টুডিওতে তোলা পাসপোর্ট ছবি ও বাবার হাওয়া ভরা সাইকেল রাখা থাকে।

    নিজের কথাটুকু গুছিয়ে বলতে পারেনা, মেয়েদের সাথে কথা বলতে গেলেই তোতলায়, হাত কাঁপে, বারবার ঢোক গেলে...

    ওদের বুকের কাছে মাথা রাখলে খুব সস্তার একটা পারফিউমের স্মেল পাই, ব্র্যান্ডেড নয় কোনো, এভেলেবেল সবার কাছেই। স্রেফ তার চমৎকার কার্যকরী ক্ষমতা সম্পর্কে অনেকেই ওয়াকিবহাল নয়..

    ঝিমধরানো নেশার দিঘি গোটা শরীরটা। আমাদের শুধু ডুবে যাওয়ার রাস্তা জানা, উঠে আসার নয়...”
    Kripa Basu, দ্রাঘিমা ও প্রত্নবালিকা

  • #15
    “একটা চেয়ার নিয়ে বসে আছি মাঝরাস্তায়, মাকালী বলছি চেয়ারটাকে কিছুতেই সরাতে পারছিনা, শালা হেব্বি হারামি, মালিকের কথা শোনেইনা মালটা।

    ঝুঁকে পড়া সন্ধের যেমন রং হয়, ঠিক...ঠিক সেই রঙের ড্রেস পরে বাচ্চাগুলো রাস্তা পার হচ্ছে, প্রত্যেকের পিঠেই ব্যাগ নয় একটা মস্ত বড় ঘড়ি টাঙানো। টিকটিক কাঁটাগুলো সমানে ঘুরে চলেছে, নিশ্চই কোনো দৈব শক্তি ভর করেছে বা দূর থেকে আঙ্গুল নাড়িয়ে কোনো জাদুকর ম্যাজিক করছে, জানিনা, বুঝতে পারছিনা।

    একটা লক্ষ্যনীয় ব্যাপার ওদের প্রত্যেকের গাল ঝুলে গেছে, চোখের তলা কোঁচকানো, সব্বার নাকে অক্সিজেন মাস্ক পরানো, কথা বলতে গিয়ে হাঁপাচ্ছে। ওরা জুতোর তলায় মাড়িয়ে দিচ্ছে ইচ্ছে করেই নিরীহ ঘাস...”
    Kripa Basu, দ্রাঘিমা ও প্রত্নবালিকা

  • #16
    Malay Roy Choudhury
    “Sex is metaphor. Love is catastrophe”
    মলয় রায়চৌধুরী, শ্রীমরা রচিত কথন

  • #17
    Malay Roy Choudhury
    “Discovery of death is love ; discovery of love is poetry ; discovery of poetry is death”
    মলয় রায়চৌধুরী, শ্রীমরা রচিত কথন

  • #18
    Malay Roy Choudhury
    “One can convert the sound of a conch in groaning. That groan is of dead conch”
    মলয় রায়চৌধুরী, শ্রীমরা রচিত কথন

  • #19
    Tristan Corbière
    “বিপরীত কবি
    আরমোরিকার সাগরতীরে । একটি নির্জন মঠ ।
    ভেতরে : বাতাস অভিযোগ করছিল : আরেকটা হাওয়াকল ।
    এলাকার সমস্ত গাধা বীজসুদ্ধ আইভিলতায় তাদের দাঁত ঘষতে এসেছিল
    ফুটোয় ভরা এমনই এক দেয়াল থেকে যা কোনও জীবন্ত মানুষ
    দরোজার ভেতর দিয়ে ঢোকেনি।

    একা--- তবু নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, ভরসাম্য বজায় রেখে,
    একজন বুড়ির থুতনির মতন ঢেউখালানো
    তার ছাদ কানের পাশে চোট দিয়েছিল,
    হাবাগবা মানুযের মতন হাঁ করে, মিনারটা দাঁড়িয়েছিল ।”
    Tristan Corbière, Oeuvre de Tristan Corbière

  • #20
    Paul Éluard
    “প্রিয়তমা
    যুবতীটি আমার চোখের পাতায় দাঁড়িয়ে আছে
    আর ওর চুল জড়িয়ে আছে আমার চুলে,
    ওর আঙ্গিক আমার হাতের মতন
    ওর গায়ের রঙ আমার চোখের মতন
    আমার ছায়া ওকে গিলে ফ্যালে
    আকাশে ছোঁড়া পাথরের মতন ।
    ওর চোখ সবসময়ে খোলা
    আর আমাকে ঘুমোতে দেয় না ।
    প্রকাশয় দিনের বেলায় ওর স্বপ্নেরা
    সূর্যকে বাষ্পে পরিণত করে
    আমাকে হাসায়, কাঁদায় আর হাসায়,
    কিছু বলার না থাকলেও কথা বলে ।”
    Paul Éluard, Anthologie Eluard

  • #21
    Nicanor Parra
    “আমি যা-কিছু বলেছি সব ফিরিয়ে নিচ্ছি
    যাবার আগে
    আমার একটা শেষ ইচ্ছা প্রাপ্য মনে করা হয়
    দয়ালু পাঠক
    এই বইটা পুড়িয়ে ফেলুন
    আমি যা বলতে চেয়েছিলুম তা এটা মোটেই নয়
    যদিও এটা রক্ত দিয়ে লেখা
    আমি যা বলতে চেয়েছিলুম তা এটা নয়
    আমার চেয়ে দুঃখি আর কেউ হতে পারে না
    আমি আমার ছায়ার কাছে পরাজিত হয়েছিলুম :
    আমার শব্দেরা আমার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিলো ।
    ক্ষমা করে দিন, পাঠক, প্রিয় পাঠক
    যদি আমি আপনাকে ছেড়ে যেতে না পারি
    উষ্ণ আলিঙ্গন দিয়ে, আপনাকে ছেড়ে যাচ্ছে
    জোর করে আর দুঃখি হাসি হেসে ।
    হতে পারে যে আমি কেবল এইটুকুই
    কিন্তু আমার শেষ কথাটা শুনুন :
    আমি যা বলেছি তা সমস্ত ফিরিয়ে নিচ্ছি :
    জগতের সমস্ত তিক্ততা নিয়ে
    আমি যা বলেছি তার সব কিছু ফিরিয়ে নিচ্ছি ।”
    Nicanor Parra, Nicanor Parra. Un puñado de cenizas Antología 1937-2001

  • #22
    “তিনটি ভেঁপুর রহস্য
    সমতলভূমিতে এক ভেঁপু
    শ্বাস না ফুরোনো অব্দি বাজানো
    আরেকটা, জঙ্গলের হৃদয় থেকে,
    জবাব দেয় ;
    একটা নিজের গানের মন্ত্র
    পাশের বনানীকে শোনায়,
    অন্যটা জবাবি গান শোনায়
    প্রতিধ্বনির পাহাড়গুলোকে ।
    যে ভেঁপু সমতলভূমিতে
    নিজের কপালের শিরাকে অনুভব করলো
    ফুলে রয়েছে ;
    বনানীতে অন্যজন
    নিজের ক্ষমতাকে সঞ্চয় করে রাখলো
    পরে কোনো সময়ের জন্য ।
    ---কোথায় লুকিয়ে আছো,
    আমার সুন্দর ভেঁপু ?
    তুমি সত্যিই বজ্জাত !
    ---আমি আমার প্রেমিকাকে খুঁজছি,
    নীচে ওইখানে, আমাকে ডাকছে
    সূর্যাস্ত দেখার জন্য ।
    ---আমি তোমায় শুনতে পাচ্ছি ! আমি তোমায় ভালোবাসি !
    হে রঁসেভু পর্বতমালা !
    ---প্রেমে পড়া, হ্যাঁ, বেশ মিষ্টি ব্যাপার ;
    কিন্তু দ্যাখো : সূর্য তো নিজেকে মেরে ফেলছে, ঠিক তোমার সামনে !
    সূর্য ওর যাজকীয় উত্তরীয় নামিয়ে রাখছে,
    চুল খুলে ফেলেছে,
    আর হাজার নদী
    জ্বলন্ত সোনা
    আকাশের তলা দিয়ে বইছে,
    জাগিয়ে তুলছে জানলাগুলোকে
    শৈল্পিক মদ-বিক্রেতাদের
    একশো বোতল বিদেশি গন্ধকবিষে!...
    আর পুকুরটা, রক্তরঙা, হঠাৎ খুলে গেছে, ছড়িয়ে দিয়েছে,
    আর সূর্যের রথের ঘোটকিগুলো তাতে ডুবছে,
    পেছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াচ্ছে, জলে খেলছে, শেষে স্হির হয়েছে
    কারখানাগুলোর ছাই আর সুরাসারের কাদায় !...
    দিগন্তের কঠিন বালিয়াড়ি আর কাঠের স্ফূলিঙ্গ
    দ্রুত শুষে ফেলছে বিষের প্রদর্শনী ।
    হ্যাঁ ঠিক তাই,
    ওনাদের শৌর্যের গান গান গান !...
    হঠাৎ আতঙ্কিত ভেঁপুগুলো
    নাকে নাক ঠেকানো অবস্হায় নিজেদের আবিষ্কার করে ;
    ওরা তিনজন !
    বাতাস বইতে থাকে, হঠাৎই ঠাণ্ডা লাগে ।
    তুমি কি গান শুনতে পাচ্ছো, ওনাদের শৌর্যের গান !
    হাতে হাত জড়িয়ে সবাই চলে যাচ্ছে
    তাদের বাড়িতে ফিরছে,
    ---”আমরা কি কোথাও বিশ্রাম নিতে পারি না
    একটি গলা ভেজাবার জন্য ?”
    বেচারা ভেঁপু ! বেচারা ভেঁপু !
    কতো তিক্ত হয়ে উঠলো ওদের হাসি ।
    ( আমি এখনও শুনতে পাচ্ছি )।
    পরের দিন, গ্রঁ-স-য়ুবার-এর বাড়িউলি
    ওদের খুঁজে পেলেন, তিনজনকেই, মৃত ।
    তাই কয়েকজন গিয়ে কর্তৃপক্ষকে নিয়ে এলো
    যাঁরা সেই অঞ্চলের
    যাঁরা এদের ইতিহাস খুঁজতে লাগলেন
    এই অনৈতিক রহস্য জানার জন্য ।”
    Jules Lafourge

  • #23
    Sylvia Plath
    “টিউলিপ ফুলগুলো বেশ উত্তেজক, এখন এখানে শীতকাল ।
    দ্যাখো সবকিছু কেমন ধবধবে, কতো শান্ত, কতো তুষার ঝরেছে ।
    আমি শান্তিময়তা শিখছি, নিজের পাশে শুয়ে আছি চুপচাপ
    আলো যেমন ছেয়ে আছে দেয়ালের গায়ে, এই বিছানায়, দুই হাতে ।
    আমি কেউ নই ; বিস্ফোরণ নিয়ে আমার কিছু করবার নেই ।
    আমি আমার নাম আর রোজকার পোশাক নার্সদের বিলিয়ে দিয়েছি
    আর আমার ইতিহাস দিয়েছি অনুভূতি-নাশককে দেহ শল্যচিকিৎসকদের ।

    ওরা আমার মাথা বালিশ আর চাদরের মাঝে তুলে রেখেছে
    দুই শাদা পাতার তলায় একটা চোখের মতো যা বন্ধ হবে না ।
    মূর্খ চোখের তারা, ওকে সবকিছু নিজের ভেতরে পুরে নিতে হবে
    নার্সরা পাশ দিয়ে যায় আর যায়, তারা সমস্যা নয় কোনো,
    শাদা টুপি-পরা শঙ্খচিলের মতো ডাঙায় উড়ে চলে যায় তারা
    হাত দিয়ে নিজেদের কাজ করে, একজন হুবহু আরেকজনের মতন,
    তাই বলা অসম্ভব ওরা সবসুদ্ধ মিলে কতোজন ।

    ওদের কাছে আমার দেহ একটা নুড়ি, জলের মতন শুশ্রুষা করে
    ওপর দিয়ে বয়ে যাবে এমন ভাবে শুশ্রুষা করে, আস্তে পালিশ করে ।
    ওদের উজ্বল ছুঁচ আমায় অসাড়তা এনে দেয়, ঘুমও পাড়িয়ে দেয় ।
    এখন আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি ভার সামাল দিতে বিরক্ত----
    আমার রাতভরের পালিশ-করা চামড়ার বাক্স যেন ওষুধের গুলি রাখার ডিবে,
    পারিবারিক ফোটো থেকে আমার স্বামী আর বাচ্চা হাসছে ;
    ওদের হাসি আমার ত্বকে বসে যায়, ছোটোছোটো হাসিমুখ বঁড়শি ।

    আমি সবকিছু ফসকে যেতে দিয়েছি, তিরিশ বছরের মালটানা নৌকা
    আমার নাম আর ঠিকানায় একগুঁয়ে হয়ে ঝুলছে ।
    আমার স্নেহের সম্পর্কগুলোকে ওরা ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে ।
    ভীত আর নগ্ন সবুজ প্লা্টিক-বালিশ ট্রলি থেকে
    আমি আমার টি-সেট, লিনেনের থাক, আমার বইগুলোকে দেখলুম
    দৃষ্টির বাইরে উধাও হয়ে যাচ্ছে, আর জল আমার মাথার ওপর দিয়ে বয়ে গেলো ।
    আমি এখন একজন নান, এর আগে আমি এতো পবিত্র হইনি ।

    আমি কোনো রকমের ফুল চাইনি, কেবল চেয়েছিলাম
    দুই হাত ছড়িয়ে শুয়ে থাকতে আর পুরো নিরুদ্বেগ ।
    এটা কতো স্বাধীন, তোমার ধারণা নেই কতোটা স্বাধীন---
    শান্তিময়তা এতো বিশাল যে তা তোমায় হতবুদ্ধি করে দেবে,
    আর তা কোনো প্রশ্ন তোলে না, একটা নামের ট্যাগ, কয়েকটা তুচ্ছ গয়না ।
    এটাই মৃতদের কাছাকাছি পৌঁছোয়, শেষ পর্যন্ত ; আমি তাদের কল্পনা করি
    এর ওপরে তাদের মুখ বন্ধ করে দিই, খ্রিস্টদীক্ষার বড়ির মতন ।

    প্রথমত টিউলিপফুল বড়ো বেশি লাল, আমাকে বিক্ষত করে ওরা।
    এমনকি উপহারের কাগজের ভেতর থেকে ওদের শ্বাস শুনতে পাই
    মৃদুমন্দ, তাদের বাঁধা শাদা ফিতে থেকে বেরিয়ে, এক বিরক্তিকর শিশুর মতন ।
    ওদের লালরঙ আমার জখমের সঙ্গে কথা বলে, আলাপ করে ।
    তারা বেশ তনুকৃত : যেন ভেসে যায়, তবু আমাকে বিদ্ধস্ত রাখে ওরা,
    তাদের আকস্মিক জিভ আর রঙ দিয়ে আমাকে বিপর্যস্ত করে,
    আমার গলাকে ঘিরে ছিপের সুতায় বাঁধা লালরঙ সীসার সীতাহার ।

    আমায় লক্ষ করেনি কেউ আগে, এখন লক্ষ রাখা হচ্ছে আমাকে ।
    টিউলিপগুলো তাকায় আমার দিকে, আমার পেছনে জানালার দিকে
    যেখানে দিনে একবার আলো মন্হরভাবে নিজেকে ছড়ায় আর ক্ষীণ হয়ে যায়,
    এবং নিজেকে চেয়ে দেখি আমি, হাস্যকর, এক কাগজ-কাটা ছায়া
    সূর্যের চোখ আর টিউলিপের চোখগুলোর মাঝে,
    আর আমার মুখশ্রী তো নেই, আমি নিজেকে মুছে ফেলতে চেয়েছি ।
    প্রাণবন্ত টিউলিপগুলো আমার অক্সিজেন শুষে নেয় ।

    ওদের আসার আগে বাতাস যথেষ্ট শান্ত ছিল,
    আসা আর যাওয়া, শ্বাসের পর শ্বাসে, হইচইহীন ।
    তারপর টিউলিপগুলো তাদের ভরে তুললো তীব্র আওয়াজে ।
    এখন তাদের চারিপাশে বাতাস থম মেরে থাকে আর ঘুরে-ঘুরে চলে যেন কোনো নদী
    জলের তলায় মরচে পড়া লালরঙা ইঞ্জিন ঘিরে থম মারে ঘিরে পাক খায় ।
    ওরা আমার মনোযোগ একাগ্র করে, তা ছিল বেশ সুখের
    খেলছিল বিশ্রাম নিচ্ছিল আত্মসমর্পণহীন ।

    দেয়ালগুলোও, নিজেদের উষ্ণ করে নিচ্ছে মনে হয় ।
    টিউলিপগুলোকে খাঁচায় পোরা দরকার ছিল ভয়ঙ্কর জন্তুর মতো ;
    আফ্রিকার বিশাল সিংহের মতো মুখ খুলছে ওরা,
    আর আমি আমার হৃদয় সম্পর্কে সচেতন : তা খোলে আর বন্ধ হয়
    স্রেফ আমাকে ভালোবাসার জন্যই তার লালরঙা পাত্র মঞ্জরিত হয় ।
    যে জলের স্বাদ নিই তা গরম ও নোনতা, সমুদ্রের মতন,
    আর স্বাস্হ্যের মতন এক বহুদূর দেশ থেকে আসে ।”
    Sylvia Plath, The Poems of Sylvia Plath 1960-61

  • #24
    “মর্মপীড়া
    আজ রাতে তোমার মাংস জয় করতে আসিনি, হে জানোয়ার
    জাতির পাপ যার রয়েছে, ঘাঁটাতেও আসিনি
    তোমার নোংরা বিনুনির তলাকার শোকাবহ ঝড়কে
    মারাত্মক অবসাদের তলায় আমার চুমুগুলো ঝরে পড়ে :
    স্বপ্নহীন এক গভীর ঘুম গুঁড়ি মেরে ঢোকে
    অজানা আত্মগ্লানির পর্দার পেছনে, আমি তোমার বিছানার কথা জিগ্যেস করি,
    তোমার কালো জোচ্চুরির পর যে ঘুমের তুমি মজা নাও,
    তুমি যে মৃতের চেয়ে শূন্যতার বিষয়ে কিছুই জানো না ।
    কেননা কলঙ্ক, আমার জন্মগত আভিজাত্যকে খেয়ে ফেলছে
    আমাকে চিহ্ণিত করেছে, তোমার মতন, নিজের নপুংসকতা দিয়ে,
    কিন্তু শবাচ্ছাদনের ভুতে-পাওয়া, ফ্যাকাশে, বিধ্বস্ত, আমি পালাই
    যখন সেই হৃদয় যা কোনো অপরাধের কাঁটা নয়
    তোমার পাষাণ বুকের ভেতরে জীবনকে গুটিয়ে নিতে পারে
    একা ঘুমোবার সময়ে আমি মৃত্যুর ভয়ে আতঙ্কিত হই ।”
    Stephen Malarme

  • #25
    Arthur Rimbaud
    “বানভাসির পর
    ইল্যুমিনেশান ১
    বানভাসির ধারনা শেষ হবার পরই, একটা খোরগোশ গোরুর গোয়ালে আর দুলতেথাকা ফুলগাছের কাছে থমকে দাঁড়িয়ে, মাকড়সার জালের ভেতর দিয়ে রামধনুকে প্রার্থনা শোনালো।
    ওহ ! যে দামি পাথরগুলো লুকিয়ে রেখেছিল, -- ফুলগুলো নিজেদের চারিধারে তাকিয়ে দেখছিল। নোংরা রাজপথে দোকান বসেছিল, তারা নৌকোগুলোকে টেনে নিয়ে গেল পরতে-পরতে ফুলে ওঠা সমুদ্রের ঢেউয়ে ঠিক যেমন পুরোনো ছবিগুলোতে দেখা যায় ।
    যে নীলদাড়ি লোকটা নিজের বউগুলোকে একের পর এক মেরে ফেলতো, তার বাড়িতে রক্ত বইতে লাগল --- সারকাসের কসাইখানায় ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা শাদা করে তুলছিল জানালাগুলোকে। রক্ত আর দুধ বইছিল ।
    ভোঁদোড়েরা গড়েছিল । শুঁড়িখানায় কফির পেয়ালায় উঠছিল ধোঁয়া ।
    চারাগাছের বিশাল কাচঘরে জলফোঁটা ঝরছিল তখনও, সুন্দর ছবিগুলোর দিকে চেয়েছিল শোকাতুর শিশুরা ।
    দরোজার পাল্লার আওয়াজ, আর, গ্রামের সবুজে, এক খোকা দুই হাত নাড়ালো, বেগবান ঝর্ণার তলায়, সব জায়গাকার ঘণ্টাঘরের হাওয়ামোরগ আর আবহাওয়া নির্দেশকগুলো তা টের পাচ্ছিল।
    ম্যাডাম অমুক আল্পস পাহাড়ে একটা পিয়ানো বসালেন । গির্জার একশো হাজার বেদির ওপরে উদযাপন করা হচ্ছিল খ্রিস্টের নৈশভোজনোৎসব-পর্ব আর প্রথম ধর্মসংস্কার ।
    চলে গেল মরুযাত্রীদল । আর বরফ ও মেরুরাত্রির বিশৃঙ্খলায় তৈরি করা হলো দীপ্তিশীল হোটেল।
    তারপর থেকে, সুগন্ধগুল্মের মরুভূমিতে শেয়ালের ডাক শুনতে পেল চাঁদ -- আর ফলবাগানে কাঠের জুতো পরে চারণকবিতাদের অসন্তুষ্ট বিড়বিড়ানি । তারপর, থইথই বেগনি জঙ্গলে, বনানীর উপদেবী আমাকে বললো যে এটা বসন্তঋতু ।
    ঝিলপুকুর, ফুলে ওঠো : ফেনায়িত হও, সাঁকোর ওপর আর গাছের তলা দিয়ে গড়িয়ে চলে যাও: -- কালো ঝালর আর অবয়ব -- বজ্র ও বিদ্যুৎ উঠে দাঁড়াও আর ঝাঁপাও : -- জল এবং দুঃখ ওঠো আর আরেকবার বানভাসিকে তুলে আনো ।
    জল নেমে গিয়েছিল বলে -- ওহ, দামি পাথরগুলো নিজেরা চাপা পড়ে গিয়েছিল আর ফুটে ওঠা ফুলের দল ! -- তা বড়োই ক্লান্তিকর ! আর সেই ডাকিনী রানি, যিনি পৃথিবীর মাটি দিয়ে তৈরি পাত্রে আগুন জ্বালান, কখনও বলবেন না তিনি যা জানেন, আর আমরা কোন ব্যাপারে অবিদিত।”
    Arthur Rimbaud, Illuminations

  • #26
    Blaise Cendrars
    “তখন আমি বেশ তরুণ ছিলুম
    আমি সবে ষোলো বছরের হবো হয়তো কিন্তু ছেলেবেলার স্মৃতি মুছে গিয়েছিল
    যেখানে জন্মেছিলুম সেখান থেকে ৪৮,০০০ মাইল দূরে
    আমি ছিলুম মসকোতে, তিনঘণ্টির হাজার মিনার
    আর সাতটা রেলস্টেশান
    আর ওই হাজার আর তিন মিনার আর সাতটা রেলস্টেশান
    আমার জন্যে যথেষ্ট ছিল না
    কারণ আমি ছিলুম গরমমেজাজ আর পাগল তরুণ
    আমার হৃদয় ইফিসিয়াসের মন্দির কিংবা
    মসকোর রেড স্কোয়ারের মতন ছিল তপ্ত
    সূর্যাস্তের সময়ে
    আর আমার দুই চোখ ওই পুরোনো রাস্তা-ধরে চলার সময়ে জ্বলজ্বল করতো
    আর আমি আগেই এমন খারাপ কবি ছিলুম
    যে আমি জানতুম না তা কেমন করে নিজের সঙ্গে বয়ে নিয়ে যাই”
    Blaise Cendrars

  • #27
    Malay Roy Choudhury
    “Then set out after repeated warning the grizzly
    Afghan Duryodhan
    in blazing sun
    removed sandal-wood blooded stone-attired guards
    spearing gloom brought out a substitute of dawn
    crude hell’s profuse experience
    Huh
    a night-waken drug addict beside head of feeble earth
    from the cruciform The Clapper could not descend due to lockdown
    wet-eyed babies were smiling
    .
    in a bouquet of darkness in forced dreams
    The Clapper wept when learnt about red-linen boat’s drowned passengers
    in famished yellow winter
    white lilies bloomed in hot coal tar
    when in chiseled breeze
    nickel glazed seed-kernel
    moss layered skull which had moon on its shoulder scolded whole night
    non-weeping male praying mantis in grass
    bronze muscled he-men of Barbadoz
    pressed their fevered forehead on her furry navel
    .
    in comb-flowing rain
    floated on frowning waves
    diesel sheet shadow whipped oceans
    all wings had been removed from the sky
    funeral procession of newspaperman’s freshly printed dawn
    lifelong jailed convict’s eye in the keyhole
    outside
    in autumnal rice pounding pink ankle
    Lalung ladies”
    Malay Roychoudhury, Selected Poems

  • #28
    Charles Baudelaire
    “স্যামুয়েল ক্র্যামার, যিনি প্রথম দিকে ম্যানুয়েলা দে মঁতেভেরদে বেনামে কয়েকটা রোমান্টিক বোকামি সই করেছিলেন -- রোমান্টিসিজমের সোনালি দিনগুলোয় -- তিনি ফ্যাকাশে এক জার্মান বাবা এবং ময়লা এক চিলে মায়ের পরস্পরবিরোধী ফসল । এই দ্বৈত শুরুর সঙ্গে যোগ করুন ফরাসি শিক্ষা আর সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট, আর আপনি অবাক হবেন -- কিংবা, হয়তো, পরিতুষ্ট ও মানসিকভাবে তৃপ্ত -- তাঁর চরিত্রের অদ্ভুত জটিলতার কথা শুনে । স্যামুয়েলের আছে বিশুদ্ধ, ভ্রূকোঁচকানো, কালোকফির ফোঁটার মতন চকচকে দুই চোখ, উদ্ধত ও অবজ্ঞাছাপ নাক, বেহায়া কামুক ঠোঁট, চৌকো স্বৈরাচারী থুতনি, আর রাফায়েলকে নকল-করা মাথাভর্তি চুল । --- লোকটা একইসঙ্গে ভীষণ অলস, করুণা-জাগানো উচ্চাকাঙ্খী, এবং খ্যাতি-পাওয়া অভাগা ; কেননা সারাজীবনে উনি আধখ্যাঁচড়া ধ্যানধারণা ছাড়া আর কিছুই বড়ো একটা ভাবতে পারেননি । কুঁড়েমির যে সূর্য ওনার চারিপাশে চোপোরদিন রোদ ছড়ায় তা ওনাকে ক্ষইয়ে দিয়েছিল, আর খেয়ে ফেলেছিল ওনাকে দেয়া স্বর্গের যৎসামান্য প্রতিভার খোরাক । প্যারিসের এই ভয়ঙ্কর জীবনে আমি যে সমস্ত আদ্দেক-বিশাল মানুষদের দেখেছি, স্যামুয়েল সেইসব জমঘটিয়া চালু চিজের চেয়ে বেশি-কিছু ছিলেন -- দুনিয়ার বাইরে একজন , খেয়ালি জীব, যাঁর কবিতা ওনার রচনার চেয়ে চেহারায় বেশি খোলতাই হতো, এমনই একজন যিনি, দুপুর একটা নাগাদ, তাপ পোয়াবার কয়লার আগুনের ঝলক আর ঘড়ির টিকটকের মাঝে, সব সময় মনে হতো যেন নপুংসকতার একজন দেবতা -- একজন আধুনিক, উভলৈঙ্গিক দেবতা --- নপুংসকতায় এমন বিশাল, এমন নিদারুণ যে তাঁকে মনে হতো মহাকাব্যিক !”
    Charles Baudelaire, La Fanfarlo, suivi de Conseils aux jeunes littérateurs

  • #29
    Amiri Baraka
    “কারা গড়েছে সবকিছু
    কারা সবচেয়ে চতুর
    কারা সবচেয়ে বড়ো
    কারা সবচেয়ে ধনী
    কারা বলে তোমরা কুৎসিত আর তাদের দেখতে সবচেয়ে সুন্দর
    কারা শিল্পের সংজ্ঞা বানায়
    কারা বিজ্ঞানের সংজ্ঞা বানায়
    কারা বোমা তৈরি করেছে
    কারা বন্দুক তৈরি করেছে
    কারা ক্রীতদাস কিনেছে, আর তাদের বেচেছে
    কারা তাদের নাম দিয়েছে
    কে বলেছে ডাহমার পাগল ছিল না

    কারা ? কারা ? কারা ?”
    Amiri Baraka, Somebody Blew Up America and Other Poems

  • #30
    Hettie Jones
    “আমার কবিতার ফোলডার
    লেবেল দেয়া “আবহাওয়া” তাতে
    আবহাওয়া সম্পর্কে কোনো সূত্র নেই
    কিংবা তাতে থাকবেও না

    আবহাওয়া সম্পর্কে বলতে হলে, ধরো,
    কঠিন বৃষ্টি যেমন “ছোটো পেরেক”, কিংবা
    সেই বানভাসি “ঝাঁপদেয়া ঔজ্বল্য”

    এখন যেহেতু আমরা যুদ্ধ করতে ঝাঁপিয়েছি
    আর যুদ্ধ কখনও থামে না বৃষ্টি-ফোঁটার মতন

    সেই আগের বারের ঝিরঝিরে বৃষ্টির মতন
    পুরোনো টিনের স্নানঘরের ফোকরে

    বেড়ে ওঠার মিষ্টি ইশারা
    নরম ভিজে উত্তরে ভাসমান”
    Hettie Jones



Rss
« previous 1 3 4 5